📄 দীর্ঘমেয়াদি সমস্যায় করণীয়
হতে পারে ওষুধ ও কাউন্সেলিং নিয়ে আপনি সাময়িক সুস্থতা লাভ করলেন, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে আপনার ব্যক্তিত্বের ওপর কাজ না করা হলে অনেক সময় আবার বিষণ্নতা ফিরে আসতে পারে। আমাদের প্রত্যেকের ব্যক্তিগতই কিছু শক্তিশালী দিক থাকে, তেমনি থাকে কিছু দুর্বল দিকও। সে দুর্বল দিকগুলোকে আমরা কীভাবে কাটিয়ে তুলতে পারি এবং শক্তিশালী দিকগুলোকে নিয়ে জীবনে কীভাবে এগিয়ে যেতে পারি, এগুলো সাইকোথেরাপির প্রধান বিষয়।
আমাদের অনেকেরই ব্যক্তিত্বজনিত কিছু সমস্যা থাকে, যা রোগ থেকে উঠে আসার পথে অন্তরায়। এজন্য বলা হয়, একজন থেরাপিস্টের কাজ কখনোই ক্লায়েন্টের মন রক্ষা করা নয়; বরং কিসে ক্লায়েন্টের উপকার হবে এবং ক্লায়েন্টের সর্বোচ্চ ভালো হবে কোন জিনিসটি পরিবর্তন করলে তা দেখিয়ে দেওয়া। কাউন্সেলিংয়ের ক্ষেত্রে আমরা সব সময় একটা কথা বলি, আমরা আপনাকে তখনই সাহায্য করতে পারব, যদি আপনি পরিবর্তন ও সাহায্য চান।
আমার মতে জীবন একটি গাড়ির মতন, যার একটি নির্দিষ্ট রাস্তা আছে। কখনোই সম্পূর্ণ রাস্তা আপনার মনের মতো করা সম্ভব নয়, রাস্তায় ভাঙা থাকতে পারে, গর্ত থাকতে পারে, কিন্তু যতক্ষণ আপনার গাড়িটি ঠিক আছে, ততক্ষণ রাস্তা যেমনই হোক না কেন, আপনি পাড়ি দিতে পারবেন। যদি আপনার গাড়িতে সমস্যা হয়, তখন দেখা যাবে, ছোটোখাটো গর্তেও আপনার গাড়িটি আটকে থাকবে। আমাদের জীবনেও তেমনি চলার পথ কখনো বন্ধুর, কখনো মসৃণ। কিন্তু আমরা যদি নিজেদেরকে ঠিক রাখতে পারি, তবে জীবনের সবকিছু পার হয়ে যেতে পারব। যদি আমার নিজের মধ্যেই সমস্যা থাকে, তাহলে পথচলা শুধু কষ্টকর নয়, কখনো কখনো অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়। তাই আপনি সমস্যা অনুভব করলে অবশ্যই একজন মনোরোগবিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন। কারণ, আপনার সমস্যা নির্ধারণ করার দায়িত্ব একজন সাইকিয়াট্রিস্টের এবং তিনি সিদ্ধান্ত নিতে পারেন আপনার কী ধরনের চিকিৎসা প্রয়োজন। আপনার পছন্দ অনুযায়ী আপনি অবশ্যই চিকিৎসক বেছে নিতে পারেন, তবে যাকে বেছে নেন না কেন, তাকে সম্পূর্ণ বিশ্বাস করবেন। কারণ, রোগ নিরাময়ের জন্য বিশ্বাস খুবই গুরুত্বপূর্ণ।