📘 ওভারকামিং ডিপ্রেশন > 📄 কাঙ্ক্ষিত ফলাফল না পাওয়ার কারণ

📄 কাঙ্ক্ষিত ফলাফল না পাওয়ার কারণ


আমাদের কাছে এসে অনেকেই বলেন, ওষুধ বা কাউন্সেলিং গ্রহণের পরেও তারা কাঙ্ক্ষিত ফলাফল পাচ্ছেন না। ওষুধের ক্ষেত্রে যে সমস্যাগুলো হতে পারে, তা আমরা পরের অধ্যায়ে আলোচনা করব। কিন্তু আমরা এখানে বলব আপনি কেন কাউন্সেলিং নেওয়া সত্ত্বেও আপনার কাঙ্ক্ষিত ফলাফল না পেতে পারেন। এখানে কয়েকটি বিষয়ে উল্লেখ্য — আমরা অনেকেই মনে করি কাউন্সেলিং বলতে শুধু কথা বলা বোঝায়, আসলে বিষয়টি এমন নয়। সাইকোথেরাপি বা কাউন্সেলিং আসলে এমন একটি শিল্প, যার জন্য একজন থেরাপিস্টকে অনেক পরিশ্রম করতে হয় এবং প্রয়োজনীয় শিক্ষা অর্জন করতে হয়।

আবার প্রতিটি ক্লায়েন্টের কাউন্সেলিং, তার জাতি-ধর্ম-সংস্কৃতি, মানসিকতা, পারিবারিক ও সামাজিক অবস্থান এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ভিন্ন। একজন কাউন্সেলরকে অবশ্যই বুঝতে হবে কার কী ধরনের সাইকোথেরাপি প্রয়োজন।

একদিকে যেমন হতে পারে কাউন্সেলরের পক্ষপাতদুষ্টতার কারণে ক্লায়েন্টের সমস্যার সমাধান হচ্ছে না, অপরদিকে রোগীর নিজের অবহেলাও এর জন্য দায়ী হতে পারে। তাত্ত্বিকভাবে আমরা বলে থাকি, সাইকোথেরাপির ক্ষেত্রে (যেমন, কগনিটিভ বিহেভিয়ার থেরাপি) একজন মানুষের ১০ থেকে ১২টি সেশনের প্রয়োজন, কিন্তু আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে রোগীর জন্য কখনো এটা প্রায় অসম্ভব, কখনোবা ব্যক্তি নিজেই সেশন চালিয়ে নিতে চান না, আবার কাউন্সেলিংয়ের ক্ষেত্রে কোন ধরনের সাইকোথেরাপি আপনার প্রয়োজন সেটিও জরুরি বিষয়। যেমন, আপনার কগনিটিভ বিহেভিয়ার থেরাপির কোনো প্রয়োজন নেই, সেক্ষেত্রে যদি আপনাকে চিন্তা শনাক্ত করতে বলা হয়, হয়তোবা আপনার খুব একটা কাজে লাগবে না; আবার যখন আপনার সমস্যার সমাধান প্রয়োজন, তখন প্রবলেম ফোকাসড থেরাপি (Problem Focused Therapy) না করলে কাঙ্ক্ষিত ফলাফল আসবে না।

📘 ওভারকামিং ডিপ্রেশন > 📄 দীর্ঘমেয়াদি সমস্যায় করণীয়

📄 দীর্ঘমেয়াদি সমস্যায় করণীয়


হতে পারে ওষুধ ও কাউন্সেলিং নিয়ে আপনি সাময়িক সুস্থতা লাভ করলেন, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে আপনার ব্যক্তিত্বের ওপর কাজ না করা হলে অনেক সময় আবার বিষণ্নতা ফিরে আসতে পারে। আমাদের প্রত্যেকের ব্যক্তিগতই কিছু শক্তিশালী দিক থাকে, তেমনি থাকে কিছু দুর্বল দিকও। সে দুর্বল দিকগুলোকে আমরা কীভাবে কাটিয়ে তুলতে পারি এবং শক্তিশালী দিকগুলোকে নিয়ে জীবনে কীভাবে এগিয়ে যেতে পারি, এগুলো সাইকোথেরাপির প্রধান বিষয়।

আমাদের অনেকেরই ব্যক্তিত্বজনিত কিছু সমস্যা থাকে, যা রোগ থেকে উঠে আসার পথে অন্তরায়। এজন্য বলা হয়, একজন থেরাপিস্টের কাজ কখনোই ক্লায়েন্টের মন রক্ষা করা নয়; বরং কিসে ক্লায়েন্টের উপকার হবে এবং ক্লায়েন্টের সর্বোচ্চ ভালো হবে কোন জিনিসটি পরিবর্তন করলে তা দেখিয়ে দেওয়া। কাউন্সেলিংয়ের ক্ষেত্রে আমরা সব সময় একটা কথা বলি, আমরা আপনাকে তখনই সাহায্য করতে পারব, যদি আপনি পরিবর্তন ও সাহায্য চান।

আমার মতে জীবন একটি গাড়ির মতন, যার একটি নির্দিষ্ট রাস্তা আছে। কখনোই সম্পূর্ণ রাস্তা আপনার মনের মতো করা সম্ভব নয়, রাস্তায় ভাঙা থাকতে পারে, গর্ত থাকতে পারে, কিন্তু যতক্ষণ আপনার গাড়িটি ঠিক আছে, ততক্ষণ রাস্তা যেমনই হোক না কেন, আপনি পাড়ি দিতে পারবেন। যদি আপনার গাড়িতে সমস্যা হয়, তখন দেখা যাবে, ছোটোখাটো গর্তেও আপনার গাড়িটি আটকে থাকবে। আমাদের জীবনেও তেমনি চলার পথ কখনো বন্ধুর, কখনো মসৃণ। কিন্তু আমরা যদি নিজেদেরকে ঠিক রাখতে পারি, তবে জীবনের সবকিছু পার হয়ে যেতে পারব। যদি আমার নিজের মধ্যেই সমস্যা থাকে, তাহলে পথচলা শুধু কষ্টকর নয়, কখনো কখনো অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়। তাই আপনি সমস্যা অনুভব করলে অবশ্যই একজন মনোরোগবিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন। কারণ, আপনার সমস্যা নির্ধারণ করার দায়িত্ব একজন সাইকিয়াট্রিস্টের এবং তিনি সিদ্ধান্ত নিতে পারেন আপনার কী ধরনের চিকিৎসা প্রয়োজন। আপনার পছন্দ অনুযায়ী আপনি অবশ্যই চিকিৎসক বেছে নিতে পারেন, তবে যাকে বেছে নেন না কেন, তাকে সম্পূর্ণ বিশ্বাস করবেন। কারণ, রোগ নিরাময়ের জন্য বিশ্বাস খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00