📘 ওভারকামিং ডিপ্রেশন > 📄 বিষণ্ণতার কারণসমূহ

📄 বিষণ্ণতার কারণসমূহ


একজন মানুষ হঠাৎ করেই বিষণ্ণতায় আক্রান্ত হয়ে যায় না। তাদের জীবনকে বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, কখনো কখনো এর পেছনে লুকিয়ে থাকে কয়েক বছরের হতাশা, কখনোবা এর বীজ তার মনে বপন করা হয়েছিল শৈশবে। এই বিষয়গুলোর ওপর ভিত্তি করে আমরা বিষণ্ণতার কারণসমূহকে তিনটি মূল ভাগে আলোচনায় আনতে পারি।

১. প্রডিসপোজিং ফ্যাক্টর (Predisposing Factors)
অতীতের যে ঘটনাগুলো একজন ব্যক্তির বর্তমান বিষণ্ণতার ভিত্তি তৈরি করে, সেগুলোকে বলা হয় প্রডিসপোজিং ফ্যাক্টর। অবশ্যই উল্লেখ্য যে, প্রডিসপোজিং ফ্যাক্টর থাকলেই সবার বিষণ্ণতা হবে ব্যাপারটা এমন নয়। শুধু বিষণ্ণতা হওয়ার সম্ভাবনা বৃদ্ধি পাবে। যে বিষয়গুলো অতীতে ঘটে থাকলে, বিষণ্নতার জন্য সেই ব্যক্তি, বিশেষে ঝুঁকিপূর্ণ—
ক. বাবা-মায়ের বিষণ্ণতা থাকলে।
খ. ১০ বছরের আগে বাবা বা মায়ের মৃত্যু ঘটলে, বিশেষত মায়ের মৃত্যুর পর মেয়েদের বিষণ্ণতা হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।
গ. সিজোফ্রেনিয়া হলো।
ঘ. শারীরিক রোগ থাকলে।
ঙ. অতীতে বিষণ্নতার ইতিহাস থাকলে।

২. প্রিসিপিটেন্ট ফ্যাক্টর (Precipitating Factors)
অতীতের ভিত্তির ওপর বর্তমানের যে কষ্টকর ঘটনাগুলো একজন ব্যক্তির বিষণ্নতা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে বলা হয় প্রিসিপিটেন্ট ফ্যাক্টর; যদিও একই প্রিসিপিটেন্ট ফ্যাক্টর সবার ক্ষেত্রে বিষণ্নতা সৃষ্টি করে না। যদি প্রিসিপিটেন্ট ফ্যাক্টর এবং প্রডিসপোজিং ফ্যাক্টরগুলো একই বা কাছাকাছি হয়, তাহলে বিষণ্নতার সম্ভাবনা বেশি। যেমন, মিসেস সালেহার ক্ষেত্রে বাবা-মায়ের মৃত্যু ও স্বামীর মৃত্যু-উভয়ই কাছের কাউকে হারানোর অনুভূতি দেওয়ায় তার কষ্ট আরও বেড়ে গিয়েছে।

৩. পারপেচুয়েটিং ফ্যাক্টর (Perpetuating Factors)
যে বিষয়গুলোর জন্য একজন ব্যক্তির বিষণ্নতা দীর্ঘস্থায়ী হয়ে যায়, সেগুলোকে পারপেচুয়েটিং ফ্যাক্টর বা মেইনটেইনিং ফ্যাক্টর (Maintaining Factors) বলা হয়ে থাকে। এখন, বিষণ্নতার সমাধান করতে হলে তাই কখনোই শুধু প্রিসিপিটেন্ট ফ্যাক্টর বা বর্তমান সমস্যা সমাধান করলে হবে না। যদি আমরা তার পারপেচুয়েটিং ফ্যাক্টর বা মেইনটেইনিং ফ্যাক্টরের ওপর কাজ না করি, অর্থাৎ সেগুলোকে জীবন থেকে না সরাতে পারি, তাহলে বিষণ্নতা আবার ফিরে আসতে পারে। আবার একজন বিষণ্ন ব্যক্তি যদি তার অতীতের যন্ত্রণাদায়ক ঘটনাগুলোর কারণে নিজেকে দোষারোপ করতে থাকেন, তবে তার জন্য বিষণ্নতা থেকে বের হয়ে আসা কষ্টকর হবে। তাই, বিষণ্নতার দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের জন্য তিন রকম ফ্যাক্টরের ওপরেই কাজ করতে হবে—

| প্রডিসপোজিং ফ্যাক্টর | প্রিসিপিটেন্ট ফ্যাক্টর | পারপেচুয়েটিং ফ্যাক্টর |
| :--- | :--- | :--- |
| পিতা-মাতার মৃত্যু | স্বামীর মৃত্যু | বিষণ্নতা ও এর চিকিৎসা সম্পর্কে অজ্ঞতা |
| মায়ের বিষণ্নতা ও আত্মহত্যা | চাকরি হারানো | ওষুধ সেবনে অনীহা |
| হাইপোথাইরয়েডিজম | | ব্যক্তিত্ব ও মানসিকতা |
| পূর্বের বিষণ্নতা | | |

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00