📄 অপরাধ দমনে শরীয়তসম্মত শাস্তি প্রয়োগের প্রতিক্রিয়া
प्रत्यেকটি জিনিসেরই সঠিক মূল্যায়ন সম্ভব হতে পারে তার ফলাফলের দৃষ্টিতে। এ এক স্থায়ী ও শাশ্বত মৌলনীতি। সর্বকালে ও সর্বক্ষেত্রেই তা প্রযোজ্য। আমাদের প্রাচীন ও আধুনিক ইতিহাস অপরাধ প্রতিরোধে শরীয়ত উপস্থাপিত শাস্তিসমূহ বাস্তবায়নের সাফল্যের নির্ভুল সাক্ষী। ইসলাম-পূর্বকালে মানুষ উদ্দেশ্যহীন ও আদর্শহীনভাবে জীবন যাপন করত। জনজীবনে তখন ছিল চরম অশান্তি, উচ্ছৃঙ্খলতা, অরাজকতা। লুটতরাজ, হত্যা ও ছিনতাই ছিল তখন নিত্যনৈমিত্তিক এবং অতি সাধারণ ব্যাপার। একটি গোত্র অপর গোত্রের উপর প্রায় অকারণে ঝাঁপিয়ে পড়ত, তাদের লোকজনকে মারধর করত, হত্যা করত, তাদের জান-প্রাণ ও মান-সম্মান হরণ করত। পরে আল্লাহ্ তা'আলা অনুগ্রহ করে বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (সা)-কে সর্বশেষ জীবন বিধান উপস্থাপকরূপে প্রেরণ করলেন। তাঁর মাধ্যমে জনমনে এক অপূর্ব ঐক্য ও একাত্মতার সঞ্চার করলেন। তাদের বানিয়ে দিলেন এক ঐক্যবদ্ধ ও সুসংগঠিত জাতি-জনসমষ্টি বা উম্মত। লোকেরা পরস্পরের প্রতি পরম ভালোবাসা ও সৌভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ হলো। এই সমাজে ইসলামী শিক্ষার ব্যাপক প্রচার ও বিস্তার এবং উচ্চমানের শরীয়তের আইনসমূহ বাস্তবায়নের মাধ্যমে তাঁরা বিশ্বমানবের অগ্রনেতা ও আস্থাভাজন হয়ে উঠলেন। তারা হয়েছিলেন নৈতিকতা ও বুদ্ধিমত্তার দিক দিয়ে আদর্শ মানুষ। তাদের এই মর্যাদা দীর্ঘদিন ধরে স্থায়ী থাকলো। দুনিয়ার কোথাও তাদের প্রতিদ্বন্দ্বী ছিল না। তাদের দৃষ্টান্ত খুঁজে পাওয়া যেত না কুত্রাপি। তারা সমগ্র সভ্যজগতে তওহীদী আদর্শ ও সুবিচার-ন্যায়পরতার ঝাণ্ডা উন্নত করে ধরেছিলেন। শাস্তি ও নিরাপত্তা ছিল তখনকার জন-জীবনের পরম সত্য। তাঁরা ছিলেন বিপন্ন নিপীড়িত মানবতার আশ্রয়।
সমাজে ও সাধারণভাবে সমগ্র জনমনে তার শুভ প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা যাচ্ছিল। লোকেরা দলে দলে দীন ইসলামে প্রবেশ করতে শুরু করে দিয়েছিল। তাতে ইসলামী শরীয়তেই শ্রেষ্ঠত্ব, বৈশিষ্ট্য ও শুভ কল্যাণ পরিলক্ষিত হচ্ছিল। সত্য কথা, মুসলমানদের বিশ্ব বিজয়ের মূলে ইসলামী শরীয়তের পূর্ণ বাস্তবায়নই অনস্বীকার্য সত্য এবং একমাত্র তত্ত্বরূপে নিহিত। আজও যেখানে-সেখানে শরীয়তের শাসন কার্যকর, সাধারণ শান্তি, নিরাপত্তা ও নিশ্চিন্ততার দিক দিয়ে তা বিকল্পহীন।