📘 অপরাধ প্রতিরোধে ইসলাম 📄 তা’যীর হিসাবে আর্থিক দণ্ড

📄 তা’যীর হিসাবে আর্থিক দণ্ড


ইসলামী শরীয়ত-বিশেষজ্ঞগণ তা'যীরী শাস্তি হিসাবে আর্থিক দণ্ডে দণ্ডিত করাকে সঙ্গত বলে ঘোষণা করেছেন। তার কয়েকটি দলীল এখানে উদ্ধৃত করা যাচ্ছে:
১. বহজ ইবনে হুকায়ম বর্ণনা করেছেন, রাসূলে করীম (সা) ইরশাদ করেছেন: প্রত্যেক মুক্ত ভাবে মাঠে গিয়ে আহার গ্রহণকারী উটেরই যাকাত দিতে হবে। যে তা সওয়াবের আশায় দিবে, সে তার সওয়াব পাবে। আর যে তা দিতে অস্বীকার করবে, আমি তা অবশ্যই আদায় করব এবং তার সাথে উটের একটি অংশও; এটি আমাদের মহান আল্লাহর নির্দেশ।
২. হযরত আবূ তালহা (রা) বলেন: হে আল্লাহর নবী! মদ্য আমার নিকট রক্ষিত ইয়াতীমদের সম্পদে রয়েছে। তিনি বলেন: তুমি তা প্রবাহিত করে দাও ও পাত্রগুলো ভেঙে ফেল।
৩. গাছে ঝুলন্ত ফল সম্পর্কে নবী করীম (সা)-কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বললেন: যে অভাবগ্রস্ত ব্যক্তি তা মুখের কাছে পেয়ে যায়, কোন উপায়ে তা পাড়ে না, তা খেলে তাতে কোন অপরাধ হবে না। আর যে ব্যক্তি সেখান থেকে কিছু নিয়ে বের হবে, তাকে তার দ্বিগুণ জরিমানা স্বরূপ দিতে হবে এবং তাকে শাস্তিও ভোগ করতে হবে।

আল্লামা ইবনুল কাইয়্যিম লিখেছেন: যারা বলেন, অর্থ জরিমানার শাস্তি নাকচ হয়ে গেছে—তারা ভুল বলেন। এই পর্যায়ে নবী করীম (সা) থেকে কোন কথা পাওয়া যায়নি যে এটি নিষিদ্ধ। বরং সত্য কথা এই যে, তাঁর ইন্তেকালের পরও খুলাফায়ে রাশেদিন এবং বড় বড় সাহাবায়ে কিরাম আর্থিক দণ্ডের শাস্তি প্রয়োগ করেছেন। তাঁদের এই কাজ এই ব্যবস্থার পক্ষে অকাট্য দলীল, তা বাতিল হয়ে যায়নি।

পূর্বোদ্ধৃত আলোচনা থেকে একথা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে যে, তা'যীর পর্যায়ের শাস্তি সমূহের বিশাল ক্ষেত্র রয়েছে। প্রশাসক এই পন্থায় অপরাধীদের যেকোনো শাস্তি দেওয়ার অধিকারী। অবশ্য তা অপরাধের স্বরূপের সহিত সামঞ্জস্য সম্পন্ন হতে হবে এবং স্বয়ং অপরাধীর অবস্থার সহিতও তা হতে হবে সংগতি সম্পন্ন। কোন বিশেষ ধরনের শাস্তি দানের জন্য তাকে বেঁধে দেয়া হয়নি, তার মাত্রা ও স্বরূপও নির্দিষ্ট নয়। তবে তার লক্ষ্য হতে হবে সামষ্টিক কল্যাণ, সত্যকে প্রতিষ্ঠিত করা, সুবিচার ও ন্যায়পরতা কায়েম করা এবং সর্বপ্রকারের যুলুম প্রতিহত করা।

টিকাঃ
১. আ'লামুল মুয়াক্কিঈন জ. ২ পৃ. ৩০; ফতহুল বারী জ. ১২ পৃ. ১৭৮
১. আল-হিসবাহ্ পৃ. ৫০

ফন্ট সাইজ
15px
17px