📄 তওবা করলে কি শাস্তি রহিত হবে
সাধারণভাবে ফিকাহবিদগণ মত পোষণ করেন যে, সশস্ত্র আক্রমণকারী বিপর্যয়কারী লোকেরা প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষের হাতে ধরা পড়ার পূর্বেই যদি এই পাপ কাজ থেকে তওবা করে, তাহলে তাদের এই তওবা তাদের জন্য নির্দিষ্ট শাস্তি থেকে তাদের নিষ্কৃতি দিবে। হত্যা, শূলবিদ্ধকরণ, হাত-পা কর্তন বা নির্বাসন—এর যে কোন দণ্ডই কারোর জন্য সাব্যস্ত হলে এই তওবার দরুন তা রহিত হয়ে যাবে। কেননা আল্লাহ্ বলেছেন:
إِلَّا الَّذِينَ تَابُوا مِنْ قَبْلِ أَنْ تَقْدِرُوا عَلَيْهِمْ ، فَاعْلَمُوا أَنَّ اللَّهَ غَفُورٌ رَّحِيمٌ
(কিন্তু তাদের উপর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার পূর্বেই যারা তওবা করলো, তাদের জন্য এই শাস্তি নয়; তোমরা অবশ্যই জানবে যে, আল্লাহ্ অতীব ক্ষমাশীল, সবিশেষ দয়াবান। —সূরা মায়িদা: ৩৪)। আয়াতে যে ক্ষমার কথা বলা হয়েছে তা হচ্ছে, ঐ অপরাধের দরুন আল্লাহর নাফরমানী যতটা করেছে, তার জন্য। কিন্তু তার সহিত জনগণের অধিকার পর্যায়ের যা কিছু সংশ্লিষ্ট—প্রাণ নাশ, যখম ও ধন-মাল লুট ইত্যাদি—তা কখনই ক্ষমা পাবে না।
সশস্ত্র হামলার অপরাধ ছাড়া অন্যান্য কোন অপরাধে কারোর উপর 'হদ্দ' হওয়া সাব্যস্ত হলে তওবা তা রহিত করে কিনা, সে বিষয়ে ফিকাহবিদদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। জমহুর ফিকাহবিদগণ বলেছেন, এই পর্যায়ের 'হদ্দ' রহিতকরণে তওবার কোন ক্রিয়া বা প্রভাব নেই। ইমাম শাফেয়ীর প্রখ্যাত মত এবং ইমাম আহমাদের বর্ণিত মতে আল্লাহর হক্ হিসাবে ওয়াজিব 'হদ্দ' তওবার কারণে রহিত হতে পারে। এ পর্যায়ে তাঁরা কয়েকটি দলীল পেশ করেছেন :
১. আল্লাহ্ তা'আলা ইরশাদ করেছেন: وَ الْذَانِ يَاتِيَانِهَا مِنْكُمْ فَاذُوْهُمَا جَ فَإِنْ تَابَا وَ أَصْلَحَا فَأَعْرِضُوا عَنْهُمَا (আর তোমাদের মধ্য থেকে যে দুইজন এই পাপ কাজটি করবে, সেই দুইজনকে কষ্ট দাও। তারা দুইজন তওবা ও সংশোধন করে নিলে তাদের দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নাও। —সূরা নিসা : ৬)।
২. চোরের 'হদ্দ' বলার পরই আল্লাহ্ বলেছেন: فَمَنْ تَابَ مِنْ بَعْدِ ظُلْمِهِ وَ اصْلَحَ فَإِنَّ اللَّهَ يَتُوْبُ عَلَيْهِ (কোন লোক যুলুম করার পর যদি তওবা করে ও সংশোধন করে নেয়, তা হলে আল্লাহ্ তার তওবা কবুল করবেন। —সূরা মায়িদা : ৩৯)।
শায়খুল ইসলাম ইমাম ইবনে তাইমিয়া লিখেছেন: প্রকাল্পত কথা হচ্ছে, তার উপর ধার্য 'হদ্দ' রহিত হয়ে যাবে, যেমন সর্বসম্মতভাবে 'মুহারিবের' 'হদ্দ' রহিত হয়ে যায় গ্রেফতার হওয়ার পূর্বে তওবা করলে। ইমাম কুরতুবী লিখেছেন: মদ্যপায়ী, ব্যভিচারী ও চোর লোকেরা যদি তওবা করে ও সংশোধিত হয়ে যায়, আর তা সকলে জানতে পারে, তারপর যদি তার মামলা প্রশাসন কর্তৃপক্ষের নিকট দায়ের হয়, তাহলে তখন তাদের উপর 'হদ্দ' জারী হওয়া বাঞ্ছনীয় নয়।
টিকাঃ
১. আল মুগনী আশ-শারহুল কবীর জ ১০ পৃ ৩১৪
১. আল জামে' লা-আহকামিল কুরআন জ ৬ পৃ ১৫৮
২. আ'লামুল মুয়াক্কিঈন জ ৩ পৃ ১৯
সাধারণভাবে ফিকাহবিদগণ মত পোষণ করেন যে, সশস্ত্র আক্রমণকারী বিপর্যয়কারী লোকেরা প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষের হাতে ধরা পড়ার পূর্বেই যদি এই পাপ কাজ থেকে তওবা করে, তাহলে তাদের এই তওবা তাদের জন্য নির্দিষ্ট শাস্তি থেকে তাদের নিষ্কৃতি দিবে। হত্যা, শূলবিদ্ধকরণ, হাত-পা কর্তন বা নির্বাসন—এর যে কোন দণ্ডই কারোর জন্য সাব্যস্ত হলে এই তওবার দরুন তা রহিত হয়ে যাবে। কেননা আল্লাহ্ বলেছেন:
إِلَّا الَّذِينَ تَابُوا مِنْ قَبْلِ أَنْ تَقْدِرُوا عَلَيْهِمْ ، فَاعْلَمُوا أَنَّ اللَّهَ غَفُورٌ رَّحِيمٌ
(কিন্তু তাদের উপর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার পূর্বেই যারা তওবা করলো, তাদের জন্য এই শাস্তি নয়; তোমরা অবশ্যই জানবে যে, আল্লাহ্ অতীব ক্ষমাশীল, সবিশেষ দয়াবান। —সূরা মায়িদা: ৩৪)। আয়াতে যে ক্ষমার কথা বলা হয়েছে তা হচ্ছে, ঐ অপরাধের দরুন আল্লাহর নাফরমানী যতটা করেছে, তার জন্য। কিন্তু তার সহিত জনগণের অধিকার পর্যায়ের যা কিছু সংশ্লিষ্ট—প্রাণ নাশ, যখম ও ধন-মাল লুট ইত্যাদি—তা কখনই ক্ষমা পাবে না।
সশস্ত্র হামলার অপরাধ ছাড়া অন্যান্য কোন অপরাধে কারোর উপর 'হদ্দ' হওয়া সাব্যস্ত হলে তওবা তা রহিত করে কিনা, সে বিষয়ে ফিকাহবিদদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। জমহুর ফিকাহবিদগণ বলেছেন, এই পর্যায়ের 'হদ্দ' রহিতকরণে তওবার কোন ক্রিয়া বা প্রভাব নেই। ইমাম শাফেয়ীর প্রখ্যাত মত এবং ইমাম আহমাদের বর্ণিত মতে আল্লাহর হক্ হিসাবে ওয়াজিব 'হদ্দ' তওবার কারণে রহিত হতে পারে। এ পর্যায়ে তাঁরা কয়েকটি দলীল পেশ করেছেন :
১. আল্লাহ্ তা'আলা ইরশাদ করেছেন: وَ الْذَانِ يَاتِيَانِهَا مِنْكُمْ فَاذُوْهُمَا جَ فَإِنْ تَابَا وَ أَصْلَحَا فَأَعْرِضُوا عَنْهُمَا (আর তোমাদের মধ্য থেকে যে দুইজন এই পাপ কাজটি করবে, সেই দুইজনকে কষ্ট দাও। তারা দুইজন তওবা ও সংশোধন করে নিলে তাদের দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নাও। —সূরা নিসা : ৬)।
২. চোরের 'হদ্দ' বলার পরই আল্লাহ্ বলেছেন: فَمَنْ تَابَ مِنْ بَعْدِ ظُلْمِهِ وَ اصْلَحَ فَإِنَّ اللَّهَ يَتُوْبُ عَلَيْهِ (কোন লোক যুলুম করার পর যদি তওবা করে ও সংশোধন করে নেয়, তা হলে আল্লাহ্ তার তওবা কবুল করবেন। —সূরা মায়িদা : ৩৯)।
শায়খুল ইসলাম ইমাম ইবনে তাইমিয়া লিখেছেন: প্রকাল্পত কথা হচ্ছে, তার উপর ধার্য 'হদ্দ' রহিত হয়ে যাবে, যেমন সর্বসম্মতভাবে 'মুহারিবের' 'হদ্দ' রহিত হয়ে যায় গ্রেফতার হওয়ার পূর্বে তওবা করলে। ইমাম কুরতুবী লিখেছেন: মদ্যপায়ী, ব্যভিচারী ও চোর লোকেরা যদি তওবা করে ও সংশোধিত হয়ে যায়, আর তা সকলে জানতে পারে, তারপর যদি তার মামলা প্রশাসন কর্তৃপক্ষের নিকট দায়ের হয়, তাহলে তখন তাদের উপর 'হদ্দ' জারী হওয়া বাঞ্ছনীয় নয়।
টিকাঃ
১. আল মুগনী আশ-শারহুল কবীর জ ১০ পৃ ৩১৪
১. আল জামে' লা-আহকামিল কুরআন জ ৬ পৃ ১৫৮
২. আ'লামুল মুয়াক্কিঈন জ ৩ পৃ ১৯