📘 অপরাধ প্রতিরোধে ইসলাম 📄 মুহারিবের শাস্তি

📄 মুহারিবের শাস্তি


ইসলামী শরীয়তে 'মুহারিব' বা 'সশস্ত্র' আক্রমণকারীর জন্য চার পর্যায়ের শাস্তি নির্দিষ্ট করা হয়েছে। তা হচ্ছে, হত্যা বা শূলবিদ্ধকরণ অথবা হাত ও পা বিপরীত পরস্পরায় কেটে ফেলা, কিংবা দেশ থেকে চির নির্বাসন। এই পর্যায়ের মূল দলীল হচ্ছে এই আয়াত:

إِنَّمَا جَزَاهُ الَّذِينَ يُحَارِبُونَ اللهَ وَرَسُولَهُ وَ يَسْعَوْنَ فِي الْأَرْضِ فَسَادًا أَنْ يُقَتَّلُوا أَوْ يُصَلِّبُوا أَوْ تُقَطَّعَ أَيْدِيهِمْ وَأَرْجُلُهُمْ مِّنْ خِلافٍ أَوْ يُনْفَوْا مِنَ الْأَرْضِ ، ذَلِكَ لَهُمْ خِزْيٌ فِي الدُّنْيَا وَ لَهُمْ فِي الْآخِرَةِ عَذَابٌ عَظِيمٌ

(যেসব লোক আল্লাহ্ ও রাসূলের বিরুদ্ধে সশস্ত্র আক্রমণ চালায় এবং পৃথিবী-জনসমাজে বিপর্যয় সৃষ্টির লক্ষ্যে চেষ্টা ও তৎপরতা চালায়, তাদের শাস্তি হচ্ছে—তাদের হত্যা করা হবে বা শূলে চড়ানো হবে অথবা তাদের হাত ও পা বিপরীত পরস্পরায় কেটে ফেলা হবে কিংবা তাদের নির্বাসিত করা হবে। এই লাঞ্ছনা ও অপমান তো তাদের জন্য এই দুনিয়ায়। আর পরকালে তাদের জন্য তা থেকেও অনেক বড় শাস্তি রয়েছে। —সূরা মায়িদা: ৩৩)।

আয়াতে চার প্রকারের শাস্তির ব্যবস্থা ঘোষিত হয়েছে সেসব লোকের বিরুদ্ধে, যারা আল্লাহ্ ও রাসূলের বিরুদ্ধে মুহারিবা করে। আল্লাহ্ ও রাসূলের বিরুদ্ধে 'মুহারিবা' অর্থ আল্লাহ্ সার্বভৌমত্ব ও রাসূলের আদর্শে প্রতিষ্ঠিত সমাজ ও রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে মুহারিবা। আয়াতে যে চারটি শাস্তির উল্লেখ হয়েছে, তা অপরাধ অনুপাতে প্রয়োগ করা হবে, না এর যেকোনো একটা প্রয়োগ করার ইখতিয়ার দেওয়া হয়েছে, এই বিষয়ে ফিকাহবিদগণ বিভিন্ন মত পোষণ করেন। জমহুর আলিমগণ মনে করেন, অপরাধ অনুপাতে এই শাস্তিসমূহের কোন একটি প্রয়োগ করতে হবে। যে হত্যা করল, ধন-মাল অপহরণ করলো না, তাকে হত্যা করা হবে। আর যে ধন-মাল অপহরণ করল, কিন্তু হত্যাকাণ্ড ঘটালো না, তার ডান হাত ও বাম পা কেটে ফেলা হবে। যে লোক হত্যাকাণ্ড ঘটালো ও ধন-মালও অপহরণ করলো, তাকে শূলে চড়িয়ে হত্যা করা হবে, যেন সব লোক ভালোভাবে জানতে পারে। আর যে লোক শুধু ভয় প্রদর্শন করলো, কিন্তু হত্যা বা ধন-মাল অপহরণের কিছুই করলো না, তাকে নির্বাসিত করা হবে।

ইমাম মালেক (র) রায় দিয়েছেন, যে হত্যা করেছে, শাস্তিস্বরূপ তাকে হত্যাই করতে হবে। তবে তাকে হত্যা করা ও শূলে চড়ানোর মধ্যে কোন একটি করার ইখতিয়ার রাষ্ট্র প্রধানের রয়েছে। আর যদি শুধু ধন-মাল অপহরণ করে, হত্যা না করে, তাহলে তাকে নির্বাসিত করার ইখতিয়ার নেই। তখন উক্ত চারটি দণ্ডের মধ্যে যেকোনো একটি প্রয়োগ করার ইখতিয়ার থাকবে। তবে যদি শুধু ভয় প্রদর্শনের কাজ করে তাহলে তাকে হত্যা করা বা শূলবিদ্ধ করা; কিংবা হাত-পা কাটা বা নির্বাসিত করা—এর যেকোনো একটি করার ইখতিয়ার রাষ্ট্রপ্রধানের থাকবে। এই ইখতিয়ার থাকার তাৎপর্য হচ্ছে, এই পর্যায়ে রাষ্ট্র প্রধান (আইন পরিষদ)-কে ইজতিহাদ করতে হবে। আয়াতটি বর্ণনা পদ্ধতির কারণেই এই মত পার্থক্য। কাজেই এ পর্যায়ে ইজতিহাদ করার অবকাশ চিরন্তন।

টিকাঃ
১. المغنى ج ১০ ص ৩০৪
২. بداية المجتهد ج ২ ص ৪৫৫

ইসলামী শরীয়তে 'মুহারিব' বা 'সশস্ত্র' আক্রমণকারীর জন্য চার পর্যায়ের শাস্তি নির্দিষ্ট করা হয়েছে। তা হচ্ছে, হত্যা বা শূলবিদ্ধকরণ অথবা হাত ও পা বিপরীত পরস্পরায় কেটে ফেলা, কিংবা দেশ থেকে চির নির্বাসন। এই পর্যায়ের মূল দলীল হচ্ছে এই আয়াত:

إِنَّمَا جَزَاهُ الَّذِينَ يُحَارِبُونَ اللهَ وَرَسُولَهُ وَ يَسْعَوْنَ فِي الْأَرْضِ فَسَادًا أَنْ يُقَتَّلُوا أَوْ يُصَلِّبُوا أَوْ تُقَطَّعَ أَيْدِيهِمْ وَأَرْجُلُهُمْ مِّنْ خِلافٍ أَوْ يُনْفَوْا مِنَ الْأَرْضِ ، ذَلِكَ لَهُمْ خِزْيٌ فِي الدُّنْيَا وَ لَهُمْ فِي الْآخِرَةِ عَذَابٌ عَظِيمٌ

(যেসব লোক আল্লাহ্ ও রাসূলের বিরুদ্ধে সশস্ত্র আক্রমণ চালায় এবং পৃথিবী-জনসমাজে বিপর্যয় সৃষ্টির লক্ষ্যে চেষ্টা ও তৎপরতা চালায়, তাদের শাস্তি হচ্ছে—তাদের হত্যা করা হবে বা শূলে চড়ানো হবে অথবা তাদের হাত ও পা বিপরীত পরস্পরায় কেটে ফেলা হবে কিংবা তাদের নির্বাসিত করা হবে। এই লাঞ্ছনা ও অপমান তো তাদের জন্য এই দুনিয়ায়। আর পরকালে তাদের জন্য তা থেকেও অনেক বড় শাস্তি রয়েছে। —সূরা মায়িদা: ৩৩)।

আয়াতে চার প্রকারের শাস্তির ব্যবস্থা ঘোষিত হয়েছে সেসব লোকের বিরুদ্ধে, যারা আল্লাহ্ ও রাসূলের বিরুদ্ধে মুহারিবা করে। আল্লাহ্ ও রাসূলের বিরুদ্ধে 'মুহারিবা' অর্থ আল্লাহ্ সার্বভৌমত্ব ও রাসূলের আদর্শে প্রতিষ্ঠিত সমাজ ও রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে মুহারিবা। আয়াতে যে চারটি শাস্তির উল্লেখ হয়েছে, তা অপরাধ অনুপাতে প্রয়োগ করা হবে, না এর যেকোনো একটা প্রয়োগ করার ইখতিয়ার দেওয়া হয়েছে, এই বিষয়ে ফিকাহবিদগণ বিভিন্ন মত পোষণ করেন। জমহুর আলিমগণ মনে করেন, অপরাধ অনুপাতে এই শাস্তিসমূহের কোন একটি প্রয়োগ করতে হবে। যে হত্যা করল, ধন-মাল অপহরণ করলো না, তাকে হত্যা করা হবে। আর যে ধন-মাল অপহরণ করল, কিন্তু হত্যাকাণ্ড ঘটালো না, তার ডান হাত ও বাম পা কেটে ফেলা হবে। যে লোক হত্যাকাণ্ড ঘটালো ও ধন-মালও অপহরণ করলো, তাকে শূলে চড়িয়ে হত্যা করা হবে, যেন সব লোক ভালোভাবে জানতে পারে। আর যে লোক শুধু ভয় প্রদর্শন করলো, কিন্তু হত্যা বা ধন-মাল অপহরণের কিছুই করলো না, তাকে নির্বাসিত করা হবে।

ইমাম মালেক (র) রায় দিয়েছেন, যে হত্যা করেছে, শাস্তিস্বরূপ তাকে হত্যাই করতে হবে। তবে তাকে হত্যা করা ও শূলে চড়ানোর মধ্যে কোন একটি করার ইখতিয়ার রাষ্ট্র প্রধানের রয়েছে। আর যদি শুধু ধন-মাল অপহরণ করে, হত্যা না করে, তাহলে তাকে নির্বাসিত করার ইখতিয়ার নেই। তখন উক্ত চারটি দণ্ডের মধ্যে যেকোনো একটি প্রয়োগ করার ইখতিয়ার থাকবে। তবে যদি শুধু ভয় প্রদর্শনের কাজ করে তাহলে তাকে হত্যা করা বা শূলবিদ্ধ করা; কিংবা হাত-পা কাটা বা নির্বাসিত করা—এর যেকোনো একটি করার ইখতিয়ার রাষ্ট্রপ্রধানের থাকবে। এই ইখতিয়ার থাকার তাৎপর্য হচ্ছে, এই পর্যায়ে রাষ্ট্র প্রধান (আইন পরিষদ)-কে ইজতিহাদ করতে হবে। আয়াতটি বর্ণনা পদ্ধতির কারণেই এই মত পার্থক্য। কাজেই এ পর্যায়ে ইজতিহাদ করার অবকাশ চিরন্তন।

টিকাঃ
১. المغنى ج ১০ ص ৩০৪
২. بداية المجتهد ج ২ ص ৪৫৫

📘 অপরাধ প্রতিরোধে ইসলাম 📄 তওবা করলে কি শাস্তি রহিত হবে

📄 তওবা করলে কি শাস্তি রহিত হবে


সাধারণভাবে ফিকাহবিদগণ মত পোষণ করেন যে, সশস্ত্র আক্রমণকারী বিপর্যয়কারী লোকেরা প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষের হাতে ধরা পড়ার পূর্বেই যদি এই পাপ কাজ থেকে তওবা করে, তাহলে তাদের এই তওবা তাদের জন্য নির্দিষ্ট শাস্তি থেকে তাদের নিষ্কৃতি দিবে। হত্যা, শূলবিদ্ধকরণ, হাত-পা কর্তন বা নির্বাসন—এর যে কোন দণ্ডই কারোর জন্য সাব্যস্ত হলে এই তওবার দরুন তা রহিত হয়ে যাবে। কেননা আল্লাহ্ বলেছেন:

إِلَّا الَّذِينَ تَابُوا مِنْ قَبْلِ أَنْ تَقْدِرُوا عَلَيْهِمْ ، فَاعْلَمُوا أَنَّ اللَّهَ غَفُورٌ رَّحِيمٌ

(কিন্তু তাদের উপর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার পূর্বেই যারা তওবা করলো, তাদের জন্য এই শাস্তি নয়; তোমরা অবশ্যই জানবে যে, আল্লাহ্ অতীব ক্ষমাশীল, সবিশেষ দয়াবান। —সূরা মায়িদা: ৩৪)। আয়াতে যে ক্ষমার কথা বলা হয়েছে তা হচ্ছে, ঐ অপরাধের দরুন আল্লাহর নাফরমানী যতটা করেছে, তার জন্য। কিন্তু তার সহিত জনগণের অধিকার পর্যায়ের যা কিছু সংশ্লিষ্ট—প্রাণ নাশ, যখম ও ধন-মাল লুট ইত্যাদি—তা কখনই ক্ষমা পাবে না।

সশস্ত্র হামলার অপরাধ ছাড়া অন্যান্য কোন অপরাধে কারোর উপর 'হদ্দ' হওয়া সাব্যস্ত হলে তওবা তা রহিত করে কিনা, সে বিষয়ে ফিকাহবিদদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। জমহুর ফিকাহবিদগণ বলেছেন, এই পর্যায়ের 'হদ্দ' রহিতকরণে তওবার কোন ক্রিয়া বা প্রভাব নেই। ইমাম শাফেয়ীর প্রখ্যাত মত এবং ইমাম আহমাদের বর্ণিত মতে আল্লাহর হক্ হিসাবে ওয়াজিব 'হদ্দ' তওবার কারণে রহিত হতে পারে। এ পর্যায়ে তাঁরা কয়েকটি দলীল পেশ করেছেন :

১. আল্লাহ্ তা'আলা ইরশাদ করেছেন: وَ الْذَانِ يَاتِيَانِهَا مِنْكُمْ فَاذُوْهُمَا جَ فَإِنْ تَابَا وَ أَصْلَحَا فَأَعْرِضُوا عَنْهُمَا (আর তোমাদের মধ্য থেকে যে দুইজন এই পাপ কাজটি করবে, সেই দুইজনকে কষ্ট দাও। তারা দুইজন তওবা ও সংশোধন করে নিলে তাদের দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নাও। —সূরা নিসা : ৬)।

২. চোরের 'হদ্দ' বলার পরই আল্লাহ্ বলেছেন: فَمَنْ تَابَ مِنْ بَعْدِ ظُلْمِهِ وَ اصْلَحَ فَإِنَّ اللَّهَ يَتُوْبُ عَلَيْهِ (কোন লোক যুলুম করার পর যদি তওবা করে ও সংশোধন করে নেয়, তা হলে আল্লাহ্ তার তওবা কবুল করবেন। —সূরা মায়িদা : ৩৯)।

শায়খুল ইসলাম ইমাম ইবনে তাইমিয়া লিখেছেন: প্রকাল্পত কথা হচ্ছে, তার উপর ধার্য 'হদ্দ' রহিত হয়ে যাবে, যেমন সর্বসম্মতভাবে 'মুহারিবের' 'হদ্দ' রহিত হয়ে যায় গ্রেফতার হওয়ার পূর্বে তওবা করলে। ইমাম কুরতুবী লিখেছেন: মদ্যপায়ী, ব্যভিচারী ও চোর লোকেরা যদি তওবা করে ও সংশোধিত হয়ে যায়, আর তা সকলে জানতে পারে, তারপর যদি তার মামলা প্রশাসন কর্তৃপক্ষের নিকট দায়ের হয়, তাহলে তখন তাদের উপর 'হদ্দ' জারী হওয়া বাঞ্ছনীয় নয়।

টিকাঃ
১. আল মুগনী আশ-শারহুল কবীর জ ১০ পৃ ৩১৪
১. আল জামে' লা-আহকামিল কুরআন জ ৬ পৃ ১৫৮
২. আ'লামুল মুয়াক্কিঈন জ ৩ পৃ ১৯

সাধারণভাবে ফিকাহবিদগণ মত পোষণ করেন যে, সশস্ত্র আক্রমণকারী বিপর্যয়কারী লোকেরা প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষের হাতে ধরা পড়ার পূর্বেই যদি এই পাপ কাজ থেকে তওবা করে, তাহলে তাদের এই তওবা তাদের জন্য নির্দিষ্ট শাস্তি থেকে তাদের নিষ্কৃতি দিবে। হত্যা, শূলবিদ্ধকরণ, হাত-পা কর্তন বা নির্বাসন—এর যে কোন দণ্ডই কারোর জন্য সাব্যস্ত হলে এই তওবার দরুন তা রহিত হয়ে যাবে। কেননা আল্লাহ্ বলেছেন:

إِلَّا الَّذِينَ تَابُوا مِنْ قَبْلِ أَنْ تَقْدِرُوا عَلَيْهِمْ ، فَاعْلَمُوا أَنَّ اللَّهَ غَفُورٌ رَّحِيمٌ

(কিন্তু তাদের উপর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার পূর্বেই যারা তওবা করলো, তাদের জন্য এই শাস্তি নয়; তোমরা অবশ্যই জানবে যে, আল্লাহ্ অতীব ক্ষমাশীল, সবিশেষ দয়াবান। —সূরা মায়িদা: ৩৪)। আয়াতে যে ক্ষমার কথা বলা হয়েছে তা হচ্ছে, ঐ অপরাধের দরুন আল্লাহর নাফরমানী যতটা করেছে, তার জন্য। কিন্তু তার সহিত জনগণের অধিকার পর্যায়ের যা কিছু সংশ্লিষ্ট—প্রাণ নাশ, যখম ও ধন-মাল লুট ইত্যাদি—তা কখনই ক্ষমা পাবে না।

সশস্ত্র হামলার অপরাধ ছাড়া অন্যান্য কোন অপরাধে কারোর উপর 'হদ্দ' হওয়া সাব্যস্ত হলে তওবা তা রহিত করে কিনা, সে বিষয়ে ফিকাহবিদদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। জমহুর ফিকাহবিদগণ বলেছেন, এই পর্যায়ের 'হদ্দ' রহিতকরণে তওবার কোন ক্রিয়া বা প্রভাব নেই। ইমাম শাফেয়ীর প্রখ্যাত মত এবং ইমাম আহমাদের বর্ণিত মতে আল্লাহর হক্ হিসাবে ওয়াজিব 'হদ্দ' তওবার কারণে রহিত হতে পারে। এ পর্যায়ে তাঁরা কয়েকটি দলীল পেশ করেছেন :

১. আল্লাহ্ তা'আলা ইরশাদ করেছেন: وَ الْذَانِ يَاتِيَانِهَا مِنْكُمْ فَاذُوْهُمَا جَ فَإِنْ تَابَا وَ أَصْلَحَا فَأَعْرِضُوا عَنْهُمَا (আর তোমাদের মধ্য থেকে যে দুইজন এই পাপ কাজটি করবে, সেই দুইজনকে কষ্ট দাও। তারা দুইজন তওবা ও সংশোধন করে নিলে তাদের দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নাও। —সূরা নিসা : ৬)।

২. চোরের 'হদ্দ' বলার পরই আল্লাহ্ বলেছেন: فَمَنْ تَابَ مِنْ بَعْدِ ظُلْمِهِ وَ اصْلَحَ فَإِنَّ اللَّهَ يَتُوْبُ عَلَيْهِ (কোন লোক যুলুম করার পর যদি তওবা করে ও সংশোধন করে নেয়, তা হলে আল্লাহ্ তার তওবা কবুল করবেন। —সূরা মায়িদা : ৩৯)।

শায়খুল ইসলাম ইমাম ইবনে তাইমিয়া লিখেছেন: প্রকাল্পত কথা হচ্ছে, তার উপর ধার্য 'হদ্দ' রহিত হয়ে যাবে, যেমন সর্বসম্মতভাবে 'মুহারিবের' 'হদ্দ' রহিত হয়ে যায় গ্রেফতার হওয়ার পূর্বে তওবা করলে। ইমাম কুরতুবী লিখেছেন: মদ্যপায়ী, ব্যভিচারী ও চোর লোকেরা যদি তওবা করে ও সংশোধিত হয়ে যায়, আর তা সকলে জানতে পারে, তারপর যদি তার মামলা প্রশাসন কর্তৃপক্ষের নিকট দায়ের হয়, তাহলে তখন তাদের উপর 'হদ্দ' জারী হওয়া বাঞ্ছনীয় নয়।

টিকাঃ
১. আল মুগনী আশ-শারহুল কবীর জ ১০ পৃ ৩১৪
১. আল জামে' লা-আহকামিল কুরআন জ ৬ পৃ ১৫৮
২. আ'লামুল মুয়াক্কিঈন জ ৩ পৃ ১৯

ফন্ট সাইজ
15px
17px