📘 অপরাধ প্রতিরোধে ইসলাম 📄 সমস্যার সমাধান

📄 সমস্যার সমাধান


উপরের আলোচনা থেকে স্পষ্ট হয়েছে যে, চুরির শাস্তি হাত কাটা; কিন্তু অপহরণকারী বা আত্মসাৎকারীর জন্য কোন শাস্তি নেই। এটা একটা দুর্বোধ্য ব্যাপার। এর জওয়াবে বলা যায়, চুরি ও অপহরণ বা বল প্রয়োগে আয়ত্তকরণের মধ্যে সুস্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে। অপহরণ ও আত্মসাৎকরণের ব্যাপারটি প্রায়ই প্রকাশ্যে সংঘটিত হয়। তা থেকে বিরত রাখা অনেকটা সহজ হয় এবং তার প্রমাণ উপস্থিত করাও তেমন কঠিন ব্যাপার হয় না। কিন্তু চুরি হয় গোপনে, লোক চক্ষুর আড়ালে। ফলে তা প্রমাণ করা অত্যন্ত কঠিন ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায়। এই গোপনে সংঘটিত অপরাধটি যদি অকাট্যভাবে প্রমাণ করা যায়, তাহলে তার শাস্তি কঠিনতর হওয়াই বাঞ্ছনীয়। যেন তা দেখে অন্যরা শিক্ষা পায়, সতর্ক হওয়ার প্রয়োজন বোধ করে। সাধারণত অপহরণের ব্যাপারটি ঘটে মালিকের অসতর্কতা বা জনসাবধানতার কারণে ও সুযোগে। ফলে তা আমানত আত্মসাৎকারীর সদৃশ হয়।

ইবনুল কাইয়্যেম লিখেছেন: তিন দিরহাম মূল্যের সম্পদ চুরি করলে তার জন্য হাত কাটার শাস্তি নির্দিষ্ট করা হয়েছে; কিন্তু অপহরণ, আত্মসাৎকরণ ও বল প্রয়োগে করায়ত্তকরণ অপরাধে হাত কাটার শাস্তির ব্যবস্থা না করায় ইসলামী শরীয়তে নিহিত পরম যৌক্তিকতা অনস্বীকার্য। কেননা চোর থেকে বেঁচে থাকা অসম্ভব। সে ঘরে সিঁদ কাটে, সর্বপ্রকার রক্ষামূলক ব্যবস্থাকে বানচাল করে, তালা ভাঙ্গে। ধন-সম্পদের মালিকরা তা থেকে প্রায়ই বাঁচতে পারে না। এরূপ অবস্থায় চুরির অপরাধে হাত কাটার দণ্ড না দিলে লোকেরা পরস্পরের ধন-মাল চুরি করে বিরাট ক্ষতি সাধান করতে পারে। চুরির দরুন লোকেরা কঠিন বিপদে পড়ে যেতে পারে। অপহরণকারী ও আত্মসাৎকারী এরূপ হয় না। কেননা লুটকারী জনগণের চোখের সম্মুখে প্রকাশ্যভাবে কার্য সম্পন্ন করে। ফলে তাকে হাতে-নাতে ধরা সম্ভব এবং যার সম্পদ লুণ্ঠিত হয়, তার হক্ আদায় করে দেয়া যায়। অথবা লুটকারীর বিরুদ্ধে সরকারের নিকট মামলাও দায়ের করা যায়। কিন্তু ছিনতাইকারী সম্পদের মালিকের নিকট থেকে তার অসতর্কতার মুহূর্তে হঠাৎ করে সম্পদ নিয়ে নেয়, তাতে মালিকের অসতর্কতাও অনেকটা দায়ী বলে ধরে নিতে হয়। অন্যথায় পূর্ণ সতর্কতা ও সংরক্ষণের নীতি অবলম্বন করা হলে ছিনতাই ধরনের ঘটনা সংঘটিত হওয়া সম্ভব হয় না। কিন্তু চোরের বাপারটি সে রকমের নয়। সে তো আত্মসাৎকারীর সদৃশ। আত্মসাৎকারী ধন-মাল আয়ত্তাধীন করে অরক্ষিত অবস্থায় থাকে বলে। কেউ যদি তোমাকে অসতর্ক করে ও আত্মসাৎ করে, তাহলে সে ব্যাপারটিতে কোন কিছুই অস্পষ্টতা থাকে না। লুটকারী অপেক্ষা তার হাত কাটাই যুক্তিযুক্ত। তাকে মারধর করা, দৈহিক শাস্তি দান, দীর্ঘকালীন কারারুদ্ধকরণ ও জরিমানার শাস্তি দানে সমাজের এসব শত্রুদের হাতকে আরও শক্তিশালী করা হয়।

টিকাঃ
১. اعلام الموقعين ج ২ ص ৬২

উপরের আলোচনা থেকে স্পষ্ট হয়েছে যে, চুরির শাস্তি হাত কাটা; কিন্তু অপহরণকারী বা আত্মসাৎকারীর জন্য কোন শাস্তি নেই। এটা একটা দুর্বোধ্য ব্যাপার। এর জওয়াবে বলা যায়, চুরি ও অপহরণ বা বল প্রয়োগে আয়ত্তকরণের মধ্যে সুস্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে। অপহরণ ও আত্মসাৎকরণের ব্যাপারটি প্রায়ই প্রকাশ্যে সংঘটিত হয়। তা থেকে বিরত রাখা অনেকটা সহজ হয় এবং তার প্রমাণ উপস্থিত করাও তেমন কঠিন ব্যাপার হয় না। কিন্তু চুরি হয় গোপনে, লোক চক্ষুর আড়ালে। ফলে তা প্রমাণ করা অত্যন্ত কঠিন ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায়। এই গোপনে সংঘটিত অপরাধটি যদি অকাট্যভাবে প্রমাণ করা যায়, তাহলে তার শাস্তি কঠিনতর হওয়াই বাঞ্ছনীয়। যেন তা দেখে অন্যরা শিক্ষা পায়, সতর্ক হওয়ার প্রয়োজন বোধ করে। সাধারণত অপহরণের ব্যাপারটি ঘটে মালিকের অসতর্কতা বা জনসাবধানতার কারণে ও সুযোগে। ফলে তা আমানত আত্মসাৎকারীর সদৃশ হয়।

ইবনুল কাইয়্যেম লিখেছেন: তিন দিরহাম মূল্যের সম্পদ চুরি করলে তার জন্য হাত কাটার শাস্তি নির্দিষ্ট করা হয়েছে; কিন্তু অপহরণ, আত্মসাৎকরণ ও বল প্রয়োগে করায়ত্তকরণ অপরাধে হাত কাটার শাস্তির ব্যবস্থা না করায় ইসলামী শরীয়তে নিহিত পরম যৌক্তিকতা অনস্বীকার্য। কেননা চোর থেকে বেঁচে থাকা অসম্ভব। সে ঘরে সিঁদ কাটে, সর্বপ্রকার রক্ষামূলক ব্যবস্থাকে বানচাল করে, তালা ভাঙ্গে। ধন-সম্পদের মালিকরা তা থেকে প্রায়ই বাঁচতে পারে না। এরূপ অবস্থায় চুরির অপরাধে হাত কাটার দণ্ড না দিলে লোকেরা পরস্পরের ধন-মাল চুরি করে বিরাট ক্ষতি সাধান করতে পারে। চুরির দরুন লোকেরা কঠিন বিপদে পড়ে যেতে পারে। অপহরণকারী ও আত্মসাৎকারী এরূপ হয় না। কেননা লুটকারী জনগণের চোখের সম্মুখে প্রকাশ্যভাবে কার্য সম্পন্ন করে। ফলে তাকে হাতে-নাতে ধরা সম্ভব এবং যার সম্পদ লুণ্ঠিত হয়, তার হক্ আদায় করে দেয়া যায়। অথবা লুটকারীর বিরুদ্ধে সরকারের নিকট মামলাও দায়ের করা যায়। কিন্তু ছিনতাইকারী সম্পদের মালিকের নিকট থেকে তার অসতর্কতার মুহূর্তে হঠাৎ করে সম্পদ নিয়ে নেয়, তাতে মালিকের অসতর্কতাও অনেকটা দায়ী বলে ধরে নিতে হয়। অন্যথায় পূর্ণ সতর্কতা ও সংরক্ষণের নীতি অবলম্বন করা হলে ছিনতাই ধরনের ঘটনা সংঘটিত হওয়া সম্ভব হয় না। কিন্তু চোরের বাপারটি সে রকমের নয়। সে তো আত্মসাৎকারীর সদৃশ। আত্মসাৎকারী ধন-মাল আয়ত্তাধীন করে অরক্ষিত অবস্থায় থাকে বলে। কেউ যদি তোমাকে অসতর্ক করে ও আত্মসাৎ করে, তাহলে সে ব্যাপারটিতে কোন কিছুই অস্পষ্টতা থাকে না। লুটকারী অপেক্ষা তার হাত কাটাই যুক্তিযুক্ত। তাকে মারধর করা, দৈহিক শাস্তি দান, দীর্ঘকালীন কারারুদ্ধকরণ ও জরিমানার শাস্তি দানে সমাজের এসব শত্রুদের হাতকে আরও শক্তিশালী করা হয়।

টিকাঃ
১. اعلام الموقعين ج ২ ص ৬২

📘 অপরাধ প্রতিরোধে ইসলাম 📄 ইসলাম পূর্ব সমাজে হাত কাটার দণ্ড

📄 ইসলাম পূর্ব সমাজে হাত কাটার দণ্ড


জাহিলিয়তের যুগেও চোরের হাত কেটে দেওয়ার দণ্ড ব্যাপকভাবে পরিচিত ও সর্বজনজ্ঞাতভাবে কার্যকর ছিল। অলীদ ইবনে মুগীরাই সর্ব প্রথম হাত কাটার দণ্ড চালু করে। অতঃপর আল্লাহ্ তা'আলা ইসলামেও এই দণ্ড কার্যকর রাখেন। এই বর্ণনাও রয়েছে যে, জাহিলিয়তের যুগে কুরায়শরাই সর্বপ্রথম হাত কাটার দণ্ড কার্যকর করে। তারা বনু মলীহ ইবনে আরবী ইবনে খুযায়ার মুক্ত দাস দুবক নামক ব্যক্তির হাত কেটে দিয়েছিল। সে কা'বার সঞ্চিত সম্পদ চুরি করেছিল।

টিকাঃ
১. আল জামে' লা-আহকামিল কুরআন আল কুরতুবী জ ১ পৃ ১৬
২. তাফসীর ইবনে কাসীর জ ২ পৃ ৫৫

জাহিলিয়তের যুগেও চোরের হাত কেটে দেওয়ার দণ্ড ব্যাপকভাবে পরিচিত ও সর্বজনজ্ঞাতভাবে কার্যকর ছিল। অলীদ ইবনে মুগীরাই সর্ব প্রথম হাত কাটার দণ্ড চালু করে। অতঃপর আল্লাহ্ তা'আলা ইসলামেও এই দণ্ড কার্যকর রাখেন। এই বর্ণনাও রয়েছে যে, জাহিলিয়তের যুগে কুরায়শরাই সর্বপ্রথম হাত কাটার দণ্ড কার্যকর করে। তারা বনু মলীহ ইবনে আরবী ইবনে খুযায়ার মুক্ত দাস দুবক নামক ব্যক্তির হাত কেটে দিয়েছিল। সে কা'বার সঞ্চিত সম্পদ চুরি করেছিল।

টিকাঃ
১. আল জামে' লা-আহকামিল কুরআন আল কুরতুবী জ ১ পৃ ১৬
২. তাফসীর ইবনে কাসীর জ ২ পৃ ৫৫

📘 অপরাধ প্রতিরোধে ইসলাম 📄 হাত কাটার নিয়ম

📄 হাত কাটার নিয়ম


কোন চোরের অপরাধ প্রমাণিত হলে এবং তার হাত কাটার দণ্ডের ফয়সালা হয়ে গেলে তার হাত মনিবদ্ধ বা কব্জি থেকে কেটে ফেলতে হবে। কেননা কুরআন মজীদের আয়াত: فَامْسَحُوا بِوُجُوْحِكُمْ وَ أَيْدِيكُمْ (আল মায়িদা : ৬) 'অতএব তোমরা তোমাদের মুখমণ্ডল ও হাত মসেহ কর'—এর ব্যাখ্যায় নবী করীম (সা) হাতের উক্ত স্থানটিকেই চিহ্নিত করেছেন।

হাতকাটা কাজ সহজ ও সম্ভবমত হালকাভাবে করতে হবে। তাকে বসাতে হবে, চেপে ধরতে হবে—যেন নড়া-চড়া না করে। হাত কাটার পর রক্ত বন্ধ করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা অবিলম্বে গ্রহণ করতে হবে। অন্যথায় লোকটির জীবনই বিপন্ন হয়ে পড়তে পারে। হযরত আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত, রাসূলে করীম (সা)-এর নিকট একজন চোরকে উপস্থিত করা হলো, সে একটি চোগা চুরি করেছিল। সে চুরির অপরাধ স্বীকার করলো। তখন নবী করীম (সা) বললেন:

إِذْهَبُوا بِهِ فَاقْطَعُوْهُ ثُمَّ احْسِمُوْهُ ثُمَّ أُتُونِي بِهِ

(এই লোকটিকে লয়ে যাও, তার হাত কেটে ফেল। পরে তা ব্যান্ডেজ করে রক্তপাত বন্ধ কর এবং অতঃপর আমার নিকট উপস্থিত কর)। আদেশ পালনের পর তাকে রাসূলের সমীপে উপস্থিত করা হলে তিনি বললেন: 'তুমি আল্লাহ্র নিকট তওবা কর'। সে তওবা করল। তখন নবী করীম (সা) বললেনঃ আল্লাহ্ও লোকটির তওবা কবুল করেছেন।

মোটকথা, ইসলামে চোরের শাস্তি হাত কাটা। আধুনিককালের পাশ্চাত্য ধর্ম নিরপেক্ষবাদী ও সমাজতন্ত্রী অন্ধরা অবশ্য এই হাত কাটা আইনকে 'বর্বরতা' বলে বিদ্রূপ করতে কুণ্ঠিত হয় না। সুসভ্য ও সংস্কৃতি সম্পন্ন কোন সমাজের জন্য এই আইনকে তারা উপযুক্ত মনে করে না। তাদের ধারণা, এর ফলে সমাজে ব্যাপক পঙ্গুত্ব, বিকলাঙ্গতা ও কর্মে অক্ষমতা দেখা দিবে। আসলে মহান ও সর্বশ্রেষ্ঠ দয়াবান ও সর্বোন্নত বিধানদাতা আল্লাহর আইনকে যারা-ই বর্বরতা বলে অভিহিত করে, তারাই বর্বর। যেসব অপরাধী সমাজের সাধারণ মানুষের ধন-মাল চুরি করে নিয়ে যায়, সে অপরাধীর প্রতি তাদের দয়া-সহানুভূতির বন্যা বয়ে যায়, আর নিরীহ শান্তি প্রিয় জনগণের জীবনে কঠিন ভীতি, সর্বস্বহীনতা ও শিশুদের কাতর চিৎকারের প্রতি তাদের মনে একবিন্দু দয়ার উদ্রেক হয় না। প্রকৃত বর্বর যে কে বা কারা, তা এ থেকেই স্পষ্ট হয়ে উঠে। তাদের এই মনোভাবের ফলে বরং দুর্বৃত্তরাই আসকারা পেয়ে যায় এবং সাধারণ মানুষের জীবন অতিষ্ঠ ও অসম্ভব করে তোলবার অবাধ সুযোগ পেয়ে যায়। কিন্তু একজন চোরের হাত কাটা হলে গোটা সমাজই সম্পূর্ণরূপে বিপদমুক্ত হতে ও জনগণের ধন-মাল পূর্ণ নিরাপত্তা পেতে পারে। মানুষ নিশ্চিন্তে ঘুমোতে পারে। সমাজের উপর সঠিকভাবে সুবিচার ও ন্যায়পরতার প্রতিষ্ঠা সম্ভব হতে পারে। আসলে মানবতার প্রতি দয়া-অনুগ্রহ-সহানুভূতি থাকলে এই পন্থা ও ব্যবস্থাকে 'বর্বরতা' বলে উড়িয়ে না দিয়ে তা যথাযথরূপে কার্যকর করার জন্য উদ্যোগী হওয়াই বাঞ্ছনীয়।

টিকাঃ
১. বুখারী জ ১ পৃ ৬৩

কোন চোরের অপরাধ প্রমাণিত হলে এবং তার হাত কাটার দণ্ডের ফয়সালা হয়ে গেলে তার হাত মনিবদ্ধ বা কব্জি থেকে কেটে ফেলতে হবে। কেননা কুরআন মজীদের আয়াত: فَامْسَحُوا بِوُجُوْحِكُمْ وَ أَيْدِيكُمْ (আল মায়িদা : ৬) 'অতএব তোমরা তোমাদের মুখমণ্ডল ও হাত মসেহ কর'—এর ব্যাখ্যায় নবী করীম (সা) হাতের উক্ত স্থানটিকেই চিহ্নিত করেছেন।

হাতকাটা কাজ সহজ ও সম্ভবমত হালকাভাবে করতে হবে। তাকে বসাতে হবে, চেপে ধরতে হবে—যেন নড়া-চড়া না করে। হাত কাটার পর রক্ত বন্ধ করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা অবিলম্বে গ্রহণ করতে হবে। অন্যথায় লোকটির জীবনই বিপন্ন হয়ে পড়তে পারে। হযরত আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত, রাসূলে করীম (সা)-এর নিকট একজন চোরকে উপস্থিত করা হলো, সে একটি চোগা চুরি করেছিল। সে চুরির অপরাধ স্বীকার করলো। তখন নবী করীম (সা) বললেন:

إِذْهَبُوا بِهِ فَاقْطَعُوْهُ ثُمَّ احْسِمُوْهُ ثُمَّ أُتُونِي بِهِ

(এই লোকটিকে লয়ে যাও, তার হাত কেটে ফেল। পরে তা ব্যান্ডেজ করে রক্তপাত বন্ধ কর এবং অতঃপর আমার নিকট উপস্থিত কর)। আদেশ পালনের পর তাকে রাসূলের সমীপে উপস্থিত করা হলে তিনি বললেন: 'তুমি আল্লাহ্র নিকট তওবা কর'। সে তওবা করল। তখন নবী করীম (সা) বললেনঃ আল্লাহ্ও লোকটির তওবা কবুল করেছেন।

মোটকথা, ইসলামে চোরের শাস্তি হাত কাটা। আধুনিককালের পাশ্চাত্য ধর্ম নিরপেক্ষবাদী ও সমাজতন্ত্রী অন্ধরা অবশ্য এই হাত কাটা আইনকে 'বর্বরতা' বলে বিদ্রূপ করতে কুণ্ঠিত হয় না। সুসভ্য ও সংস্কৃতি সম্পন্ন কোন সমাজের জন্য এই আইনকে তারা উপযুক্ত মনে করে না। তাদের ধারণা, এর ফলে সমাজে ব্যাপক পঙ্গুত্ব, বিকলাঙ্গতা ও কর্মে অক্ষমতা দেখা দিবে। আসলে মহান ও সর্বশ্রেষ্ঠ দয়াবান ও সর্বোন্নত বিধানদাতা আল্লাহর আইনকে যারা-ই বর্বরতা বলে অভিহিত করে, তারাই বর্বর। যেসব অপরাধী সমাজের সাধারণ মানুষের ধন-মাল চুরি করে নিয়ে যায়, সে অপরাধীর প্রতি তাদের দয়া-সহানুভূতির বন্যা বয়ে যায়, আর নিরীহ শান্তি প্রিয় জনগণের জীবনে কঠিন ভীতি, সর্বস্বহীনতা ও শিশুদের কাতর চিৎকারের প্রতি তাদের মনে একবিন্দু দয়ার উদ্রেক হয় না। প্রকৃত বর্বর যে কে বা কারা, তা এ থেকেই স্পষ্ট হয়ে উঠে। তাদের এই মনোভাবের ফলে বরং দুর্বৃত্তরাই আসকারা পেয়ে যায় এবং সাধারণ মানুষের জীবন অতিষ্ঠ ও অসম্ভব করে তোলবার অবাধ সুযোগ পেয়ে যায়। কিন্তু একজন চোরের হাত কাটা হলে গোটা সমাজই সম্পূর্ণরূপে বিপদমুক্ত হতে ও জনগণের ধন-মাল পূর্ণ নিরাপত্তা পেতে পারে। মানুষ নিশ্চিন্তে ঘুমোতে পারে। সমাজের উপর সঠিকভাবে সুবিচার ও ন্যায়পরতার প্রতিষ্ঠা সম্ভব হতে পারে। আসলে মানবতার প্রতি দয়া-অনুগ্রহ-সহানুভূতি থাকলে এই পন্থা ও ব্যবস্থাকে 'বর্বরতা' বলে উড়িয়ে না দিয়ে তা যথাযথরূপে কার্যকর করার জন্য উদ্যোগী হওয়াই বাঞ্ছনীয়।

টিকাঃ
১. বুখারী জ ১ পৃ ৬৩

📘 অপরাধ প্রতিরোধে ইসলাম 📄 সশস্ত্র ডাকাত ও লুণ্ঠনকারীর শাস্তি

📄 সশস্ত্র ডাকাত ও লুণ্ঠনকারীর শাস্তি


যেসব লোক সশস্ত্র হয়ে পথে-ঘাটে, ঘরে-বাড়িতে, নদীতে-মরুভূমিতে নিরস্ত্র মানুষের উপর হামলা চালায় এবং প্রকাশ্যভাবে জনগণের সম্মুখে জনগণের ধন-মাল হরণ করে লয়ে যায়, কুরআন মজীদের আয়াতে তাদেরই বলা হয়েছে 'মুহারিবুন' (محاربون)। যেসব লোক শহর-নগর-গ্রাম-জনপদের মধ্যে সশস্ত্র লুণ্ঠন করে, তাদের 'মুহারিব' বলা যায়, কি যায় না, এ বিষয়ে বিভিন্ন মত প্রকাশ পেয়েছে। ইমাম আবূ হানীফা (র)-এর মতে এরা 'মুহারিব' নয়। তারা 'গচ্ছিত ধন অপহরণ বা আত্মসাৎকারীর মত। কেননা যারা জনপদের অধিবাসী, তারা আক্রমণকালে প্রায়শই চিৎকার করতে পারে। চিৎকার শুনে খুব কাছাকাছি থেকে জনগণ এসে জড় হতে পারে। তখন স্বাভাবিকভাবে হামলাকারীদের দাপট খতম হয়ে যায়।

কিন্তু জমহুর আলেমগণ মনে করেন, জনপদ ও নদী-ভূমির নির্জন স্থানের মধ্যে মূলত পার্থক্য কিছুই নেই। কেননা কুরআনের আয়াত সকল প্রকারের 'মুহারিব'-সশস্ত্র আক্রমণকারীকেই শামিল করেছে। দ্বিতীয়ত জনপদের মধ্যে এ ধরনের আক্রমণ অধিক ভয়ের কারণ ও বেশি ক্ষতিকর হয়ে দেখা দিতে পারে। কেননা জনপদ হচ্ছে শান্তি-নিরাপত্তা ও নিশ্চিন্ততার ক্ষেত্র। লোকদের সাহায্য সহযোগিতা চাওয়ার ও পাওয়ার পরিবেশ বিরাজমান। এরূপ স্থলে সশস্ত্র আক্রমণ ব্যাপক প্রস্তুতিসহ এবং তীব্র ও প্রচণ্ড হওয়াই স্বাভাবিক। উপরন্তু তারা লোকদের ঘরে বা দোকানে আক্রমণ চালিয়ে যথাসর্বস্ব অপহরণ করে নিয়ে যায়। কিন্তু নদীতে মরুভূমির নির্জন পরিবেশে আক্রমণ খুব প্রচণ্ড হয় না, আর সর্বস্ব হারাবারও ভয় থাকে না। কেননা তথায় লোকেরা পথযাত্রী। আর পথযাত্রী অবস্থায় তার সাথে খুব সামান্য সম্পদ থাকাই কল্পনীয়।

টিকাঃ
১. المغنى الشرح الكبير ج ১০ ص ৩০৩

যেসব লোক সশস্ত্র হয়ে পথে-ঘাটে, ঘরে-বাড়িতে, নদীতে-মরুভূমিতে নিরস্ত্র মানুষের উপর হামলা চালায় এবং প্রকাশ্যভাবে জনগণের সম্মুখে জনগণের ধন-মাল হরণ করে লয়ে যায়, কুরআন মজীদের আয়াতে তাদেরই বলা হয়েছে 'মুহারিবুন' (محاربون)। যেসব লোক শহর-নগর-গ্রাম-জনপদের মধ্যে সশস্ত্র লুণ্ঠন করে, তাদের 'মুহারিব' বলা যায়, কি যায় না, এ বিষয়ে বিভিন্ন মত প্রকাশ পেয়েছে। ইমাম আবূ হানীফা (র)-এর মতে এরা 'মুহারিব' নয়। তারা 'গচ্ছিত ধন অপহরণ বা আত্মসাৎকারীর মত। কেননা যারা জনপদের অধিবাসী, তারা আক্রমণকালে প্রায়শই চিৎকার করতে পারে। চিৎকার শুনে খুব কাছাকাছি থেকে জনগণ এসে জড় হতে পারে। তখন স্বাভাবিকভাবে হামলাকারীদের দাপট খতম হয়ে যায়।

কিন্তু জমহুর আলেমগণ মনে করেন, জনপদ ও নদী-ভূমির নির্জন স্থানের মধ্যে মূলত পার্থক্য কিছুই নেই। কেননা কুরআনের আয়াত সকল প্রকারের 'মুহারিব'-সশস্ত্র আক্রমণকারীকেই শামিল করেছে। দ্বিতীয়ত জনপদের মধ্যে এ ধরনের আক্রমণ অধিক ভয়ের কারণ ও বেশি ক্ষতিকর হয়ে দেখা দিতে পারে। কেননা জনপদ হচ্ছে শান্তি-নিরাপত্তা ও নিশ্চিন্ততার ক্ষেত্র। লোকদের সাহায্য সহযোগিতা চাওয়ার ও পাওয়ার পরিবেশ বিরাজমান। এরূপ স্থলে সশস্ত্র আক্রমণ ব্যাপক প্রস্তুতিসহ এবং তীব্র ও প্রচণ্ড হওয়াই স্বাভাবিক। উপরন্তু তারা লোকদের ঘরে বা দোকানে আক্রমণ চালিয়ে যথাসর্বস্ব অপহরণ করে নিয়ে যায়। কিন্তু নদীতে মরুভূমির নির্জন পরিবেশে আক্রমণ খুব প্রচণ্ড হয় না, আর সর্বস্ব হারাবারও ভয় থাকে না। কেননা তথায় লোকেরা পথযাত্রী। আর পথযাত্রী অবস্থায় তার সাথে খুব সামান্য সম্পদ থাকাই কল্পনীয়।

টিকাঃ
১. المغنى الشرح الكبير ج ১০ ص ৩০৩

ফন্ট সাইজ
15px
17px