📘 অপরাধ প্রতিরোধে ইসলাম 📄 চুরির অপরাধ

📄 চুরির অপরাধ


ধন-মাল মানবজীবনের চালক, মেরুদণ্ড বিশেষ। বৈষয়িক জীবনের চাঞ্চল্য, চাচিক্য ও তৎপরতা ধন-মালের কারণে। মানব দেহে সঞ্জীবিত থাকার জন্য রক্ত যেমন অপরিহার্য, প্রতিটি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে রক্তের প্রবাহ যেমন অনিবার্য, মানবজীবনে অর্থ ও সম্পদ ঠিক ততখানিই গুরুত্বপূর্ণ। ইসলাম এই ধন-সম্পদ অর্জন ও ব্যয় ভোগের জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ বিধান পেশ করেছে। হালাল পথে উপার্জিত ধন-সম্পদকে হালাল ঘোষণা করেছে। আর হারাম পথে—অন্যায় ও যুলুমের মাধ্যমে আহরিত ধন-সম্পদকে সম্পূর্ণ হারাম করে দিয়েছে এবং পরকালে কঠিন ও অত্যন্ত পীড়াদায়ক আযাবে নিক্ষিপ্ত হওয়ার ভয় দেখিয়েছে।

আল্লাহ্ তা'আলা ইরশাদ করেছেন: يَأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَأْكُلُوا أَمْوَالَكُمْ بَيْنَكُمْ بِالْبَاطِلِ إِلَّا أَنْ تَكُونَ تِجَارَةً عَنْ تَرَاضٍ مِّنْكُمْ (হে ঈমানদার লোকেরা! তোমরা তোমাদের ধন-মাল পরস্পরে বাতিল পন্থায় ভক্ষণ করো না। তবে তোমাদের পারস্পরিক সন্তুষ্টি সম্মতিক্রমে ব্যবসায় হলে তা নিষিদ্ধ নয়। —সূরা নিসা: ২৯)।

এই ধন-মাল চুরি করে করায়ত্ত করলে তার জন্য কঠিন শাস্তি নির্দিষ্ট করে দেয়া হয়েছে। তা হচ্ছে চুরি অপরাধের 'হদ্দ'। কুরআন মজীদে বলা হয়েছে: وَالسَّارِقُ وَ السَّارِقَةُ فَاقْটَعُوا أَيْدِيَهُمَا جَزَاءً بِمَا كَسَبَا نَكَالاً مِّنَ اللَّهِ وَ اللَّهُ عَزِيزٌ حَكِيمٌ (পুরুষ চোর ও নারী চোর উভয়ের হাত কেটে দাও। তারা যা উপার্জন করেছে, এটা তারই শাস্তি ও আল্লাহ্র পক্ষ থেকে দৃষ্টান্ত। আর আল্লাহ্ দুর্জয়, সুবিজ্ঞানী। —সূরা মায়িদা : ৩৮)।

সাধারণত ধারণা করা হয় যে, মানুষ চুরি করে দারিদ্র্যের কারণে, ক্ষুধা নিবৃত্তির ব্যবস্থা নেই বলে। কিন্তু ইসলাম তো এই ব্যাপারে পূর্ণ সামাজিক ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছে। ফলে ইসলামী রাষ্ট্রের প্রত্যেকটি নাগরিকই তার জীবিকা পাবে, তার মৌলিক প্রয়োজন পরিপূরিত হবে। কোন লোকই না খেয়ে থাকতে বা অভাব-অনটনে ছটফট করতে থাকতে বাধ্য হবে না। এই কারণে ইসলামী রাষ্ট্রে কারুরই চুরি করার কোন আবশ্যকতা থাকতে পারে না। এইরূপ ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও চুরি কাজে অগ্রসর হতে পারে কেবলমাত্র সেসব লোক যারা ধন-সম্পদের লোভী, যারা অধিক সম্পদ করায়ত্ত করার অভিলাষী, কিংবা যারা অন্যায় অপ্রয়োজনীয় বিলাসিতা অথবা পাপ পথে বেহিসাব অর্থ ব্যয় করার সুযোগের লালায়িত। অতএব তা সুস্থ সমাজ ব্যবস্থার পক্ষে খুবই ক্ষতিকর ও বিপর্যয় সৃষ্টি করতে পারে।

ধন-মাল মানবজীবনের চালক, মেরুদণ্ড বিশেষ। বৈষয়িক জীবনের চাঞ্চল্য, চাচিক্য ও তৎপরতা ধন-মালের কারণে। মানব দেহে সঞ্জীবিত থাকার জন্য রক্ত যেমন অপরিহার্য, প্রতিটি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে রক্তের প্রবাহ যেমন অনিবার্য, মানবজীবনে অর্থ ও সম্পদ ঠিক ততখানিই গুরুত্বপূর্ণ। ইসলাম এই ধন-সম্পদ অর্জন ও ব্যয় ভোগের জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ বিধান পেশ করেছে। হালাল পথে উপার্জিত ধন-সম্পদকে হালাল ঘোষণা করেছে। আর হারাম পথে—অন্যায় ও যুলুমের মাধ্যমে আহরিত ধন-সম্পদকে সম্পূর্ণ হারাম করে দিয়েছে এবং পরকালে কঠিন ও অত্যন্ত পীড়াদায়ক আযাবে নিক্ষিপ্ত হওয়ার ভয় দেখিয়েছে।

আল্লাহ্ তা'আলা ইরশাদ করেছেন: يَأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَأْكُلُوا أَمْوَالَكُمْ بَيْنَكُمْ بِالْبَاطِلِ إِلَّا أَنْ تَكُونَ تِجَارَةً عَنْ تَرَاضٍ مِّنْكُمْ (হে ঈমানদার লোকেরা! তোমরা তোমাদের ধন-মাল পরস্পরে বাতিল পন্থায় ভক্ষণ করো না। তবে তোমাদের পারস্পরিক সন্তুষ্টি সম্মতিক্রমে ব্যবসায় হলে তা নিষিদ্ধ নয়। —সূরা নিসা: ২৯)।

এই ধন-মাল চুরি করে করায়ত্ত করলে তার জন্য কঠিন শাস্তি নির্দিষ্ট করে দেয়া হয়েছে। তা হচ্ছে চুরি অপরাধের 'হদ্দ'। কুরআন মজীদে বলা হয়েছে: وَالسَّارِقُ وَ السَّارِقَةُ فَاقْটَعُوا أَيْدِيَهُمَا جَزَاءً بِمَا كَسَبَا نَكَالاً مِّنَ اللَّهِ وَ اللَّهُ عَزِيزٌ حَكِيمٌ (পুরুষ চোর ও নারী চোর উভয়ের হাত কেটে দাও। তারা যা উপার্জন করেছে, এটা তারই শাস্তি ও আল্লাহ্র পক্ষ থেকে দৃষ্টান্ত। আর আল্লাহ্ দুর্জয়, সুবিজ্ঞানী। —সূরা মায়িদা : ৩৮)।

সাধারণত ধারণা করা হয় যে, মানুষ চুরি করে দারিদ্র্যের কারণে, ক্ষুধা নিবৃত্তির ব্যবস্থা নেই বলে। কিন্তু ইসলাম তো এই ব্যাপারে পূর্ণ সামাজিক ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছে। ফলে ইসলামী রাষ্ট্রের প্রত্যেকটি নাগরিকই তার জীবিকা পাবে, তার মৌলিক প্রয়োজন পরিপূরিত হবে। কোন লোকই না খেয়ে থাকতে বা অভাব-অনটনে ছটফট করতে থাকতে বাধ্য হবে না। এই কারণে ইসলামী রাষ্ট্রে কারুরই চুরি করার কোন আবশ্যকতা থাকতে পারে না। এইরূপ ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও চুরি কাজে অগ্রসর হতে পারে কেবলমাত্র সেসব লোক যারা ধন-সম্পদের লোভী, যারা অধিক সম্পদ করায়ত্ত করার অভিলাষী, কিংবা যারা অন্যায় অপ্রয়োজনীয় বিলাসিতা অথবা পাপ পথে বেহিসাব অর্থ ব্যয় করার সুযোগের লালায়িত। অতএব তা সুস্থ সমাজ ব্যবস্থার পক্ষে খুবই ক্ষতিকর ও বিপর্যয় সৃষ্টি করতে পারে।

📘 অপরাধ প্রতিরোধে ইসলাম 📄 চুরির সংজ্ঞা

📄 চুরির সংজ্ঞা


'চুরি' কাকে বলে? গোপনভাবে, অন্যকে না দেখিয়ে পরের ধন-সম্পদ করায়ত্ত করাই হচ্ছে চুরি। অন্যদের কথা-বার্তা তাদের অজ্ঞাতসারে শ্রবণ করাকে বলা হয় 'চুরি করে শোনা।' অন্যকে না জানিয়ে তাকে দেখা হচ্ছে চুরি করে দেখা। তবে কেড়ে নেওয়া; ছিনিয়ে নেওয়া (Snatching) এবং আত্মসাতকরণ ও গচ্ছিত ধন অপহরণ (Embezzelment) 'চুরি' নয়, হাত কাটা তার শাস্তি নয়। নবী করীম (সা) বলেছেন: لَيْسَ عَلَى الْخَائِنَ وَلَا عَلَى الْمُخْتَلِسِ قِطْعُ (খিয়ানতকারী ও অপহরণকারীর শাস্তি হাত কাটা নয়)। হযরত জাবির (রা) থেকে বর্ণিত, নবী করীম (সা) বলেছেন: لَيْسَ عَلَى الْمُخْتَصِبِ قِطْعُ (জোরপূর্বক অপহরণকারীর শাস্তি হাত কাটা নয়)।

টিকাঃ
১. المغنى الشرح الكبير ج ১০ ص ২৩৯

'চুরি' কাকে বলে? গোপনভাবে, অন্যকে না দেখিয়ে পরের ধন-সম্পদ করায়ত্ত করাই হচ্ছে চুরি। অন্যদের কথা-বার্তা তাদের অজ্ঞাতসারে শ্রবণ করাকে বলা হয় 'চুরি করে শোনা।' অন্যকে না জানিয়ে তাকে দেখা হচ্ছে চুরি করে দেখা। তবে কেড়ে নেওয়া; ছিনিয়ে নেওয়া (Snatching) এবং আত্মসাতকরণ ও গচ্ছিত ধন অপহরণ (Embezzelment) 'চুরি' নয়, হাত কাটা তার শাস্তি নয়। নবী করীম (সা) বলেছেন: لَيْسَ عَلَى الْخَائِنَ وَلَا عَلَى الْمُخْتَلِسِ قِطْعُ (খিয়ানতকারী ও অপহরণকারীর শাস্তি হাত কাটা নয়)। হযরত জাবির (রা) থেকে বর্ণিত, নবী করীম (সা) বলেছেন: لَيْسَ عَلَى الْمُخْتَصِبِ قِطْعُ (জোরপূর্বক অপহরণকারীর শাস্তি হাত কাটা নয়)।

টিকাঃ
১. المغنى الشرح الكبير ج ১০ ص ২৩৯

📘 অপরাধ প্রতিরোধে ইসলাম 📄 চুরির শাস্তি

📄 চুরির শাস্তি


চুরির শাস্তি হচ্ছে ডান হাত কাটা—যেমন পূর্বোদ্ধৃত আয়াতে স্পষ্ট ভাষায় ও অকাট্যভাবে ঘোষণা করা হয়েছে। রাসূলের সুন্নাত এবং সকল ফিকাহবিদ ইমামের ঐকমত্য (ইজমা) থেকেও তা-ই প্রমাণিত। নবী করীম (সা) বলেছেন:

تُقْطَعُ الْيَدُ فِي رُبْعِ دِينَارٍ فَصَاعِدًا

'এক দীনার'-এর এক-চতুর্থাংশ বা তার ঊর্ধ পরিমাণ মূল্যের সম্পদ চুরি করলে তার শাস্তি স্বরূপ হাত কাটা যাবে। তিনি আরও বলেছেন:

إِنَّمَا أَهْلِكَ مَنْ كَانَ قَبْلَكُمْ أَنَّهُمْ إِذَا سَرِقَ فِيهِمُ الشَّرِيفُ تَرَكُوهُ وَ إِذَا سَرَقَ فِيهِمُ الضَّعِيفُ قَطَعُوهُ

(তোমাদের পূর্ববর্তী লোকেরা ধ্বংস হয়েছে এ জন্য যে, তাদের সমাজের ভদ্রব্যক্তি চুরি করলে তাকে তারা ছেড়ে দিত, আর কোন দুর্বল ব্যক্তি চুরি করলে তারা তার হাত কেটে দিত। —বুখারী, মুসলিম)।

মোটকথা চোরের হাত কাটা দণ্ড সম্পর্কে সমগ্র মুসলিম উম্মতই সম্পূর্ণ একমত। এ হচ্ছে প্রথম বারে চুরি করার অপরাধের শাস্তি। দ্বিতীয় বারও চুরি করলে তার বাম পা কেটে ফেলতে হবে। আর তৃতীয় বারে চুরি করলে কি শাস্তি দেওয়া হবে, সাহাবায়ে কিরাম ও তাবেয়ীন্‌ থেকে সে বিষয়ে দুইটি মত পাওয়া গেছে। একটি মত হচ্ছে, তৃতীয় বারের চুরির শাস্তি স্বরূপ তার বাম হাত কাটার পরে কাটা হবে ডান পা। আর দ্বিতীয় মত হচ্ছে, দ্বিতীয়বারের পরবর্তী চুরিতে তাকে আটক করে রাখতে হবে। তবে সেজন্য কয়েকটি শর্ত রয়েছে, যেগুলির অকাট্য ভাবে প্রমাণিত হওয়ার পরই সে দণ্ড কার্যকর করা যেতে পারে। তবে সেই শর্তগুলির মধ্যে কয়েকটির ব্যাপারে পূর্ণ ঐকমত্য রয়েছে এবং কয়েকটির ব্যাপারে রয়েছে মতপার্থক্য। এই শর্তগুলির একটি হচ্ছে, চোরকে 'পূর্ণ বয়স্ক, সুস্থ বিবেক-বুদ্ধি সম্পন্ন ও শরীয়ত পালনে বাধ্য হওয়ার যোগ্য হতে হবে। চুরিকৃত মাল-সম্পদের কারুর মালিকানাধীন সংরক্ষিত থাকা অবস্থায় চুরি হতে হবে। আর চুরিকৃত ধন-মালের মূল্য পরিমাণ হতে হবে তিন দিরহাম কিংবা এক দীনারের এক-চতুর্থাংশ বা তদূর্ধ্ব। এইসব কয়টি শর্ত এক সাথে পূর্ণ না হলে 'হদ্দ' দণ্ড জারী হতে পারবে না। তখন 'তা'যীর' হিসাবে শাস্তি নির্ধারণের প্রয়োজন হবে।

চুরির শাস্তি হচ্ছে ডান হাত কাটা—যেমন পূর্বোদ্ধৃত আয়াতে স্পষ্ট ভাষায় ও অকাট্যভাবে ঘোষণা করা হয়েছে। রাসূলের সুন্নাত এবং সকল ফিকাহবিদ ইমামের ঐকমত্য (ইজমা) থেকেও তা-ই প্রমাণিত। নবী করীম (সা) বলেছেন:

تُقْطَعُ الْيَدُ فِي رُبْعِ دِينَارٍ فَصَاعِدًا

'এক দীনার'-এর এক-চতুর্থাংশ বা তার ঊর্ধ পরিমাণ মূল্যের সম্পদ চুরি করলে তার শাস্তি স্বরূপ হাত কাটা যাবে। তিনি আরও বলেছেন:

إِنَّمَا أَهْلِكَ مَنْ كَانَ قَبْلَكُمْ أَنَّهُمْ إِذَا سَرِقَ فِيهِمُ الشَّرِيفُ تَرَكُوهُ وَ إِذَا سَرَقَ فِيهِمُ الضَّعِيفُ قَطَعُوهُ

(তোমাদের পূর্ববর্তী লোকেরা ধ্বংস হয়েছে এ জন্য যে, তাদের সমাজের ভদ্রব্যক্তি চুরি করলে তাকে তারা ছেড়ে দিত, আর কোন দুর্বল ব্যক্তি চুরি করলে তারা তার হাত কেটে দিত। —বুখারী, মুসলিম)।

মোটকথা চোরের হাত কাটা দণ্ড সম্পর্কে সমগ্র মুসলিম উম্মতই সম্পূর্ণ একমত। এ হচ্ছে প্রথম বারে চুরি করার অপরাধের শাস্তি। দ্বিতীয় বারও চুরি করলে তার বাম পা কেটে ফেলতে হবে। আর তৃতীয় বারে চুরি করলে কি শাস্তি দেওয়া হবে, সাহাবায়ে কিরাম ও তাবেয়ীন্‌ থেকে সে বিষয়ে দুইটি মত পাওয়া গেছে। একটি মত হচ্ছে, তৃতীয় বারের চুরির শাস্তি স্বরূপ তার বাম হাত কাটার পরে কাটা হবে ডান পা। আর দ্বিতীয় মত হচ্ছে, দ্বিতীয়বারের পরবর্তী চুরিতে তাকে আটক করে রাখতে হবে। তবে সেজন্য কয়েকটি শর্ত রয়েছে, যেগুলির অকাট্য ভাবে প্রমাণিত হওয়ার পরই সে দণ্ড কার্যকর করা যেতে পারে। তবে সেই শর্তগুলির মধ্যে কয়েকটির ব্যাপারে পূর্ণ ঐকমত্য রয়েছে এবং কয়েকটির ব্যাপারে রয়েছে মতপার্থক্য। এই শর্তগুলির একটি হচ্ছে, চোরকে 'পূর্ণ বয়স্ক, সুস্থ বিবেক-বুদ্ধি সম্পন্ন ও শরীয়ত পালনে বাধ্য হওয়ার যোগ্য হতে হবে। চুরিকৃত মাল-সম্পদের কারুর মালিকানাধীন সংরক্ষিত থাকা অবস্থায় চুরি হতে হবে। আর চুরিকৃত ধন-মালের মূল্য পরিমাণ হতে হবে তিন দিরহাম কিংবা এক দীনারের এক-চতুর্থাংশ বা তদূর্ধ্ব। এইসব কয়টি শর্ত এক সাথে পূর্ণ না হলে 'হদ্দ' দণ্ড জারী হতে পারবে না। তখন 'তা'যীর' হিসাবে শাস্তি নির্ধারণের প্রয়োজন হবে।

📘 অপরাধ প্রতিরোধে ইসলাম 📄 সমস্যার সমাধান

📄 সমস্যার সমাধান


উপরের আলোচনা থেকে স্পষ্ট হয়েছে যে, চুরির শাস্তি হাত কাটা; কিন্তু অপহরণকারী বা আত্মসাৎকারীর জন্য কোন শাস্তি নেই। এটা একটা দুর্বোধ্য ব্যাপার। এর জওয়াবে বলা যায়, চুরি ও অপহরণ বা বল প্রয়োগে আয়ত্তকরণের মধ্যে সুস্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে। অপহরণ ও আত্মসাৎকরণের ব্যাপারটি প্রায়ই প্রকাশ্যে সংঘটিত হয়। তা থেকে বিরত রাখা অনেকটা সহজ হয় এবং তার প্রমাণ উপস্থিত করাও তেমন কঠিন ব্যাপার হয় না। কিন্তু চুরি হয় গোপনে, লোক চক্ষুর আড়ালে। ফলে তা প্রমাণ করা অত্যন্ত কঠিন ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায়। এই গোপনে সংঘটিত অপরাধটি যদি অকাট্যভাবে প্রমাণ করা যায়, তাহলে তার শাস্তি কঠিনতর হওয়াই বাঞ্ছনীয়। যেন তা দেখে অন্যরা শিক্ষা পায়, সতর্ক হওয়ার প্রয়োজন বোধ করে। সাধারণত অপহরণের ব্যাপারটি ঘটে মালিকের অসতর্কতা বা জনসাবধানতার কারণে ও সুযোগে। ফলে তা আমানত আত্মসাৎকারীর সদৃশ হয়।

ইবনুল কাইয়্যেম লিখেছেন: তিন দিরহাম মূল্যের সম্পদ চুরি করলে তার জন্য হাত কাটার শাস্তি নির্দিষ্ট করা হয়েছে; কিন্তু অপহরণ, আত্মসাৎকরণ ও বল প্রয়োগে করায়ত্তকরণ অপরাধে হাত কাটার শাস্তির ব্যবস্থা না করায় ইসলামী শরীয়তে নিহিত পরম যৌক্তিকতা অনস্বীকার্য। কেননা চোর থেকে বেঁচে থাকা অসম্ভব। সে ঘরে সিঁদ কাটে, সর্বপ্রকার রক্ষামূলক ব্যবস্থাকে বানচাল করে, তালা ভাঙ্গে। ধন-সম্পদের মালিকরা তা থেকে প্রায়ই বাঁচতে পারে না। এরূপ অবস্থায় চুরির অপরাধে হাত কাটার দণ্ড না দিলে লোকেরা পরস্পরের ধন-মাল চুরি করে বিরাট ক্ষতি সাধান করতে পারে। চুরির দরুন লোকেরা কঠিন বিপদে পড়ে যেতে পারে। অপহরণকারী ও আত্মসাৎকারী এরূপ হয় না। কেননা লুটকারী জনগণের চোখের সম্মুখে প্রকাশ্যভাবে কার্য সম্পন্ন করে। ফলে তাকে হাতে-নাতে ধরা সম্ভব এবং যার সম্পদ লুণ্ঠিত হয়, তার হক্ আদায় করে দেয়া যায়। অথবা লুটকারীর বিরুদ্ধে সরকারের নিকট মামলাও দায়ের করা যায়। কিন্তু ছিনতাইকারী সম্পদের মালিকের নিকট থেকে তার অসতর্কতার মুহূর্তে হঠাৎ করে সম্পদ নিয়ে নেয়, তাতে মালিকের অসতর্কতাও অনেকটা দায়ী বলে ধরে নিতে হয়। অন্যথায় পূর্ণ সতর্কতা ও সংরক্ষণের নীতি অবলম্বন করা হলে ছিনতাই ধরনের ঘটনা সংঘটিত হওয়া সম্ভব হয় না। কিন্তু চোরের বাপারটি সে রকমের নয়। সে তো আত্মসাৎকারীর সদৃশ। আত্মসাৎকারী ধন-মাল আয়ত্তাধীন করে অরক্ষিত অবস্থায় থাকে বলে। কেউ যদি তোমাকে অসতর্ক করে ও আত্মসাৎ করে, তাহলে সে ব্যাপারটিতে কোন কিছুই অস্পষ্টতা থাকে না। লুটকারী অপেক্ষা তার হাত কাটাই যুক্তিযুক্ত। তাকে মারধর করা, দৈহিক শাস্তি দান, দীর্ঘকালীন কারারুদ্ধকরণ ও জরিমানার শাস্তি দানে সমাজের এসব শত্রুদের হাতকে আরও শক্তিশালী করা হয়।

টিকাঃ
১. اعلام الموقعين ج ২ ص ৬২

উপরের আলোচনা থেকে স্পষ্ট হয়েছে যে, চুরির শাস্তি হাত কাটা; কিন্তু অপহরণকারী বা আত্মসাৎকারীর জন্য কোন শাস্তি নেই। এটা একটা দুর্বোধ্য ব্যাপার। এর জওয়াবে বলা যায়, চুরি ও অপহরণ বা বল প্রয়োগে আয়ত্তকরণের মধ্যে সুস্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে। অপহরণ ও আত্মসাৎকরণের ব্যাপারটি প্রায়ই প্রকাশ্যে সংঘটিত হয়। তা থেকে বিরত রাখা অনেকটা সহজ হয় এবং তার প্রমাণ উপস্থিত করাও তেমন কঠিন ব্যাপার হয় না। কিন্তু চুরি হয় গোপনে, লোক চক্ষুর আড়ালে। ফলে তা প্রমাণ করা অত্যন্ত কঠিন ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায়। এই গোপনে সংঘটিত অপরাধটি যদি অকাট্যভাবে প্রমাণ করা যায়, তাহলে তার শাস্তি কঠিনতর হওয়াই বাঞ্ছনীয়। যেন তা দেখে অন্যরা শিক্ষা পায়, সতর্ক হওয়ার প্রয়োজন বোধ করে। সাধারণত অপহরণের ব্যাপারটি ঘটে মালিকের অসতর্কতা বা জনসাবধানতার কারণে ও সুযোগে। ফলে তা আমানত আত্মসাৎকারীর সদৃশ হয়।

ইবনুল কাইয়্যেম লিখেছেন: তিন দিরহাম মূল্যের সম্পদ চুরি করলে তার জন্য হাত কাটার শাস্তি নির্দিষ্ট করা হয়েছে; কিন্তু অপহরণ, আত্মসাৎকরণ ও বল প্রয়োগে করায়ত্তকরণ অপরাধে হাত কাটার শাস্তির ব্যবস্থা না করায় ইসলামী শরীয়তে নিহিত পরম যৌক্তিকতা অনস্বীকার্য। কেননা চোর থেকে বেঁচে থাকা অসম্ভব। সে ঘরে সিঁদ কাটে, সর্বপ্রকার রক্ষামূলক ব্যবস্থাকে বানচাল করে, তালা ভাঙ্গে। ধন-সম্পদের মালিকরা তা থেকে প্রায়ই বাঁচতে পারে না। এরূপ অবস্থায় চুরির অপরাধে হাত কাটার দণ্ড না দিলে লোকেরা পরস্পরের ধন-মাল চুরি করে বিরাট ক্ষতি সাধান করতে পারে। চুরির দরুন লোকেরা কঠিন বিপদে পড়ে যেতে পারে। অপহরণকারী ও আত্মসাৎকারী এরূপ হয় না। কেননা লুটকারী জনগণের চোখের সম্মুখে প্রকাশ্যভাবে কার্য সম্পন্ন করে। ফলে তাকে হাতে-নাতে ধরা সম্ভব এবং যার সম্পদ লুণ্ঠিত হয়, তার হক্ আদায় করে দেয়া যায়। অথবা লুটকারীর বিরুদ্ধে সরকারের নিকট মামলাও দায়ের করা যায়। কিন্তু ছিনতাইকারী সম্পদের মালিকের নিকট থেকে তার অসতর্কতার মুহূর্তে হঠাৎ করে সম্পদ নিয়ে নেয়, তাতে মালিকের অসতর্কতাও অনেকটা দায়ী বলে ধরে নিতে হয়। অন্যথায় পূর্ণ সতর্কতা ও সংরক্ষণের নীতি অবলম্বন করা হলে ছিনতাই ধরনের ঘটনা সংঘটিত হওয়া সম্ভব হয় না। কিন্তু চোরের বাপারটি সে রকমের নয়। সে তো আত্মসাৎকারীর সদৃশ। আত্মসাৎকারী ধন-মাল আয়ত্তাধীন করে অরক্ষিত অবস্থায় থাকে বলে। কেউ যদি তোমাকে অসতর্ক করে ও আত্মসাৎ করে, তাহলে সে ব্যাপারটিতে কোন কিছুই অস্পষ্টতা থাকে না। লুটকারী অপেক্ষা তার হাত কাটাই যুক্তিযুক্ত। তাকে মারধর করা, দৈহিক শাস্তি দান, দীর্ঘকালীন কারারুদ্ধকরণ ও জরিমানার শাস্তি দানে সমাজের এসব শত্রুদের হাতকে আরও শক্তিশালী করা হয়।

টিকাঃ
১. اعلام الموقعين ج ২ ص ৬২

ফন্ট সাইজ
15px
17px