📄 মদ্যপায়ীর শাস্তি
মদ্যপান ইসলামী শরীয়তের দৃষ্টিতে একটি কঠিন গুনাহ্ এবং ফৌজদারী অপরাধরূপে গণ্য। এ জন্য শরীয়ত অনুযায়ী শাস্তি দান একান্তই কর্তব্য। ফিকাহবিদগণ এ ব্যাপারে সম্পূর্ণ একমত যে, মদ্যপায়ীর শাস্তি হচ্ছে দোরা। ইমাম আবু হানীফা, মালিক ও তাঁদের সঙ্গীগণের মতে মদ্যপায়ীর শাস্তি হচ্ছে আশি দোরা। তাঁদের দলীল হচ্ছে হযরত উমর ফারুক (রা) মদ্যপানের শাস্তি পর্যায়ে লোকদের নিকট পরামর্শ চাইলে হযরত আব্দুর রহমান ইবনে আউফ (রা) বললেনঃ হালকাতম শাস্তি হচ্ছে আশি দোরা। পরে হযরত উমর (রা) এই দণ্ডই কার্যকর করার নির্দেশ দিলেন।
ইমাম শাফেয়ী প্রমুখ ফিকাহবিদগণের মতে মদ্যপানের শাস্তি চল্লিশটি দোরা। দলীল হিসাবে তাঁরা উল্লেখ করেছেন যে, রাসূলে করীম (সা) চল্লিশ দোরার শাস্তিই দিয়েছেন। হযরত আবু বকর সিদ্দীক (রা)-ও তা-ই কার্যকর করেছেন।
tটিকাঃ
১. শারহুন্নবী লি-মুসলিম জ ১১ পৃ ২১৫; নিলুল আওতার জ ৭ পৃ ১৪৬
২. বুখারী মাআ ফতহুল বারী জ ১২ পৃ ৬৬
১. নিলুল আওতার, খণ্ড ৭, পৃষ্ঠা ১৫৫
📄 চুরির অপরাধ
ধন-মাল মানবজীবনের চালক, মেরুদণ্ড বিশেষ। বৈষয়িক জীবনের চাঞ্চল্য, চাচিক্য ও তৎপরতা ধন-মালের কারণে। মানব দেহে সঞ্জীবিত থাকার জন্য রক্ত যেমন অপরিহার্য, প্রতিটি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে রক্তের প্রবাহ যেমন অনিবার্য, মানবজীবনে অর্থ ও সম্পদ ঠিক ততখানিই গুরুত্বপূর্ণ। ইসলাম এই ধন-সম্পদ অর্জন ও ব্যয় ভোগের জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ বিধান পেশ করেছে। হালাল পথে উপার্জিত ধন-সম্পদকে হালাল ঘোষণা করেছে। আর হারাম পথে—অন্যায় ও যুলুমের মাধ্যমে আহরিত ধন-সম্পদকে সম্পূর্ণ হারাম করে দিয়েছে এবং পরকালে কঠিন ও অত্যন্ত পীড়াদায়ক আযাবে নিক্ষিপ্ত হওয়ার ভয় দেখিয়েছে।
আল্লাহ্ তা'আলা ইরশাদ করেছেন: يَأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَأْكُلُوا أَمْوَالَكُمْ بَيْنَكُمْ بِالْبَاطِلِ إِلَّا أَنْ تَكُونَ تِجَارَةً عَنْ تَرَاضٍ مِّنْكُمْ (হে ঈমানদার লোকেরা! তোমরা তোমাদের ধন-মাল পরস্পরে বাতিল পন্থায় ভক্ষণ করো না। তবে তোমাদের পারস্পরিক সন্তুষ্টি সম্মতিক্রমে ব্যবসায় হলে তা নিষিদ্ধ নয়। —সূরা নিসা: ২৯)।
এই ধন-মাল চুরি করে করায়ত্ত করলে তার জন্য কঠিন শাস্তি নির্দিষ্ট করে দেয়া হয়েছে। তা হচ্ছে চুরি অপরাধের 'হদ্দ'। কুরআন মজীদে বলা হয়েছে: وَالسَّارِقُ وَ السَّارِقَةُ فَاقْটَعُوا أَيْدِيَهُمَا جَزَاءً بِمَا كَسَبَا نَكَالاً مِّنَ اللَّهِ وَ اللَّهُ عَزِيزٌ حَكِيمٌ (পুরুষ চোর ও নারী চোর উভয়ের হাত কেটে দাও। তারা যা উপার্জন করেছে, এটা তারই শাস্তি ও আল্লাহ্র পক্ষ থেকে দৃষ্টান্ত। আর আল্লাহ্ দুর্জয়, সুবিজ্ঞানী। —সূরা মায়িদা : ৩৮)।
সাধারণত ধারণা করা হয় যে, মানুষ চুরি করে দারিদ্র্যের কারণে, ক্ষুধা নিবৃত্তির ব্যবস্থা নেই বলে। কিন্তু ইসলাম তো এই ব্যাপারে পূর্ণ সামাজিক ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছে। ফলে ইসলামী রাষ্ট্রের প্রত্যেকটি নাগরিকই তার জীবিকা পাবে, তার মৌলিক প্রয়োজন পরিপূরিত হবে। কোন লোকই না খেয়ে থাকতে বা অভাব-অনটনে ছটফট করতে থাকতে বাধ্য হবে না। এই কারণে ইসলামী রাষ্ট্রে কারুরই চুরি করার কোন আবশ্যকতা থাকতে পারে না। এইরূপ ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও চুরি কাজে অগ্রসর হতে পারে কেবলমাত্র সেসব লোক যারা ধন-সম্পদের লোভী, যারা অধিক সম্পদ করায়ত্ত করার অভিলাষী, কিংবা যারা অন্যায় অপ্রয়োজনীয় বিলাসিতা অথবা পাপ পথে বেহিসাব অর্থ ব্যয় করার সুযোগের লালায়িত। অতএব তা সুস্থ সমাজ ব্যবস্থার পক্ষে খুবই ক্ষতিকর ও বিপর্যয় সৃষ্টি করতে পারে।
ধন-মাল মানবজীবনের চালক, মেরুদণ্ড বিশেষ। বৈষয়িক জীবনের চাঞ্চল্য, চাচিক্য ও তৎপরতা ধন-মালের কারণে। মানব দেহে সঞ্জীবিত থাকার জন্য রক্ত যেমন অপরিহার্য, প্রতিটি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে রক্তের প্রবাহ যেমন অনিবার্য, মানবজীবনে অর্থ ও সম্পদ ঠিক ততখানিই গুরুত্বপূর্ণ। ইসলাম এই ধন-সম্পদ অর্জন ও ব্যয় ভোগের জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ বিধান পেশ করেছে। হালাল পথে উপার্জিত ধন-সম্পদকে হালাল ঘোষণা করেছে। আর হারাম পথে—অন্যায় ও যুলুমের মাধ্যমে আহরিত ধন-সম্পদকে সম্পূর্ণ হারাম করে দিয়েছে এবং পরকালে কঠিন ও অত্যন্ত পীড়াদায়ক আযাবে নিক্ষিপ্ত হওয়ার ভয় দেখিয়েছে।
আল্লাহ্ তা'আলা ইরশাদ করেছেন: يَأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَأْكُلُوا أَمْوَالَكُمْ بَيْنَكُمْ بِالْبَاطِلِ إِلَّا أَنْ تَكُونَ تِجَارَةً عَنْ تَرَاضٍ مِّنْكُمْ (হে ঈমানদার লোকেরা! তোমরা তোমাদের ধন-মাল পরস্পরে বাতিল পন্থায় ভক্ষণ করো না। তবে তোমাদের পারস্পরিক সন্তুষ্টি সম্মতিক্রমে ব্যবসায় হলে তা নিষিদ্ধ নয়। —সূরা নিসা: ২৯)।
এই ধন-মাল চুরি করে করায়ত্ত করলে তার জন্য কঠিন শাস্তি নির্দিষ্ট করে দেয়া হয়েছে। তা হচ্ছে চুরি অপরাধের 'হদ্দ'। কুরআন মজীদে বলা হয়েছে: وَالسَّارِقُ وَ السَّارِقَةُ فَاقْটَعُوا أَيْدِيَهُمَا جَزَاءً بِمَا كَسَبَا نَكَالاً مِّنَ اللَّهِ وَ اللَّهُ عَزِيزٌ حَكِيمٌ (পুরুষ চোর ও নারী চোর উভয়ের হাত কেটে দাও। তারা যা উপার্জন করেছে, এটা তারই শাস্তি ও আল্লাহ্র পক্ষ থেকে দৃষ্টান্ত। আর আল্লাহ্ দুর্জয়, সুবিজ্ঞানী। —সূরা মায়িদা : ৩৮)।
সাধারণত ধারণা করা হয় যে, মানুষ চুরি করে দারিদ্র্যের কারণে, ক্ষুধা নিবৃত্তির ব্যবস্থা নেই বলে। কিন্তু ইসলাম তো এই ব্যাপারে পূর্ণ সামাজিক ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছে। ফলে ইসলামী রাষ্ট্রের প্রত্যেকটি নাগরিকই তার জীবিকা পাবে, তার মৌলিক প্রয়োজন পরিপূরিত হবে। কোন লোকই না খেয়ে থাকতে বা অভাব-অনটনে ছটফট করতে থাকতে বাধ্য হবে না। এই কারণে ইসলামী রাষ্ট্রে কারুরই চুরি করার কোন আবশ্যকতা থাকতে পারে না। এইরূপ ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও চুরি কাজে অগ্রসর হতে পারে কেবলমাত্র সেসব লোক যারা ধন-সম্পদের লোভী, যারা অধিক সম্পদ করায়ত্ত করার অভিলাষী, কিংবা যারা অন্যায় অপ্রয়োজনীয় বিলাসিতা অথবা পাপ পথে বেহিসাব অর্থ ব্যয় করার সুযোগের লালায়িত। অতএব তা সুস্থ সমাজ ব্যবস্থার পক্ষে খুবই ক্ষতিকর ও বিপর্যয় সৃষ্টি করতে পারে।
📄 চুরির সংজ্ঞা
'চুরি' কাকে বলে? গোপনভাবে, অন্যকে না দেখিয়ে পরের ধন-সম্পদ করায়ত্ত করাই হচ্ছে চুরি। অন্যদের কথা-বার্তা তাদের অজ্ঞাতসারে শ্রবণ করাকে বলা হয় 'চুরি করে শোনা।' অন্যকে না জানিয়ে তাকে দেখা হচ্ছে চুরি করে দেখা। তবে কেড়ে নেওয়া; ছিনিয়ে নেওয়া (Snatching) এবং আত্মসাতকরণ ও গচ্ছিত ধন অপহরণ (Embezzelment) 'চুরি' নয়, হাত কাটা তার শাস্তি নয়। নবী করীম (সা) বলেছেন: لَيْسَ عَلَى الْخَائِنَ وَلَا عَلَى الْمُخْتَلِسِ قِطْعُ (খিয়ানতকারী ও অপহরণকারীর শাস্তি হাত কাটা নয়)। হযরত জাবির (রা) থেকে বর্ণিত, নবী করীম (সা) বলেছেন: لَيْسَ عَلَى الْمُخْتَصِبِ قِطْعُ (জোরপূর্বক অপহরণকারীর শাস্তি হাত কাটা নয়)।
টিকাঃ
১. المغنى الشرح الكبير ج ১০ ص ২৩৯
'চুরি' কাকে বলে? গোপনভাবে, অন্যকে না দেখিয়ে পরের ধন-সম্পদ করায়ত্ত করাই হচ্ছে চুরি। অন্যদের কথা-বার্তা তাদের অজ্ঞাতসারে শ্রবণ করাকে বলা হয় 'চুরি করে শোনা।' অন্যকে না জানিয়ে তাকে দেখা হচ্ছে চুরি করে দেখা। তবে কেড়ে নেওয়া; ছিনিয়ে নেওয়া (Snatching) এবং আত্মসাতকরণ ও গচ্ছিত ধন অপহরণ (Embezzelment) 'চুরি' নয়, হাত কাটা তার শাস্তি নয়। নবী করীম (সা) বলেছেন: لَيْسَ عَلَى الْخَائِنَ وَلَا عَلَى الْمُخْتَلِسِ قِطْعُ (খিয়ানতকারী ও অপহরণকারীর শাস্তি হাত কাটা নয়)। হযরত জাবির (রা) থেকে বর্ণিত, নবী করীম (সা) বলেছেন: لَيْسَ عَلَى الْمُخْتَصِبِ قِطْعُ (জোরপূর্বক অপহরণকারীর শাস্তি হাত কাটা নয়)।
টিকাঃ
১. المغنى الشرح الكبير ج ১০ ص ২৩৯
📄 চুরির শাস্তি
চুরির শাস্তি হচ্ছে ডান হাত কাটা—যেমন পূর্বোদ্ধৃত আয়াতে স্পষ্ট ভাষায় ও অকাট্যভাবে ঘোষণা করা হয়েছে। রাসূলের সুন্নাত এবং সকল ফিকাহবিদ ইমামের ঐকমত্য (ইজমা) থেকেও তা-ই প্রমাণিত। নবী করীম (সা) বলেছেন:
تُقْطَعُ الْيَدُ فِي رُبْعِ دِينَارٍ فَصَاعِدًا
'এক দীনার'-এর এক-চতুর্থাংশ বা তার ঊর্ধ পরিমাণ মূল্যের সম্পদ চুরি করলে তার শাস্তি স্বরূপ হাত কাটা যাবে। তিনি আরও বলেছেন:
إِنَّمَا أَهْلِكَ مَنْ كَانَ قَبْلَكُمْ أَنَّهُمْ إِذَا سَرِقَ فِيهِمُ الشَّرِيفُ تَرَكُوهُ وَ إِذَا سَرَقَ فِيهِمُ الضَّعِيفُ قَطَعُوهُ
(তোমাদের পূর্ববর্তী লোকেরা ধ্বংস হয়েছে এ জন্য যে, তাদের সমাজের ভদ্রব্যক্তি চুরি করলে তাকে তারা ছেড়ে দিত, আর কোন দুর্বল ব্যক্তি চুরি করলে তারা তার হাত কেটে দিত। —বুখারী, মুসলিম)।
মোটকথা চোরের হাত কাটা দণ্ড সম্পর্কে সমগ্র মুসলিম উম্মতই সম্পূর্ণ একমত। এ হচ্ছে প্রথম বারে চুরি করার অপরাধের শাস্তি। দ্বিতীয় বারও চুরি করলে তার বাম পা কেটে ফেলতে হবে। আর তৃতীয় বারে চুরি করলে কি শাস্তি দেওয়া হবে, সাহাবায়ে কিরাম ও তাবেয়ীন্ থেকে সে বিষয়ে দুইটি মত পাওয়া গেছে। একটি মত হচ্ছে, তৃতীয় বারের চুরির শাস্তি স্বরূপ তার বাম হাত কাটার পরে কাটা হবে ডান পা। আর দ্বিতীয় মত হচ্ছে, দ্বিতীয়বারের পরবর্তী চুরিতে তাকে আটক করে রাখতে হবে। তবে সেজন্য কয়েকটি শর্ত রয়েছে, যেগুলির অকাট্য ভাবে প্রমাণিত হওয়ার পরই সে দণ্ড কার্যকর করা যেতে পারে। তবে সেই শর্তগুলির মধ্যে কয়েকটির ব্যাপারে পূর্ণ ঐকমত্য রয়েছে এবং কয়েকটির ব্যাপারে রয়েছে মতপার্থক্য। এই শর্তগুলির একটি হচ্ছে, চোরকে 'পূর্ণ বয়স্ক, সুস্থ বিবেক-বুদ্ধি সম্পন্ন ও শরীয়ত পালনে বাধ্য হওয়ার যোগ্য হতে হবে। চুরিকৃত মাল-সম্পদের কারুর মালিকানাধীন সংরক্ষিত থাকা অবস্থায় চুরি হতে হবে। আর চুরিকৃত ধন-মালের মূল্য পরিমাণ হতে হবে তিন দিরহাম কিংবা এক দীনারের এক-চতুর্থাংশ বা তদূর্ধ্ব। এইসব কয়টি শর্ত এক সাথে পূর্ণ না হলে 'হদ্দ' দণ্ড জারী হতে পারবে না। তখন 'তা'যীর' হিসাবে শাস্তি নির্ধারণের প্রয়োজন হবে।
চুরির শাস্তি হচ্ছে ডান হাত কাটা—যেমন পূর্বোদ্ধৃত আয়াতে স্পষ্ট ভাষায় ও অকাট্যভাবে ঘোষণা করা হয়েছে। রাসূলের সুন্নাত এবং সকল ফিকাহবিদ ইমামের ঐকমত্য (ইজমা) থেকেও তা-ই প্রমাণিত। নবী করীম (সা) বলেছেন:
تُقْطَعُ الْيَدُ فِي رُبْعِ دِينَارٍ فَصَاعِدًا
'এক দীনার'-এর এক-চতুর্থাংশ বা তার ঊর্ধ পরিমাণ মূল্যের সম্পদ চুরি করলে তার শাস্তি স্বরূপ হাত কাটা যাবে। তিনি আরও বলেছেন:
إِنَّمَا أَهْلِكَ مَنْ كَانَ قَبْلَكُمْ أَنَّهُمْ إِذَا سَرِقَ فِيهِمُ الشَّرِيفُ تَرَكُوهُ وَ إِذَا سَرَقَ فِيهِمُ الضَّعِيفُ قَطَعُوهُ
(তোমাদের পূর্ববর্তী লোকেরা ধ্বংস হয়েছে এ জন্য যে, তাদের সমাজের ভদ্রব্যক্তি চুরি করলে তাকে তারা ছেড়ে দিত, আর কোন দুর্বল ব্যক্তি চুরি করলে তারা তার হাত কেটে দিত। —বুখারী, মুসলিম)।
মোটকথা চোরের হাত কাটা দণ্ড সম্পর্কে সমগ্র মুসলিম উম্মতই সম্পূর্ণ একমত। এ হচ্ছে প্রথম বারে চুরি করার অপরাধের শাস্তি। দ্বিতীয় বারও চুরি করলে তার বাম পা কেটে ফেলতে হবে। আর তৃতীয় বারে চুরি করলে কি শাস্তি দেওয়া হবে, সাহাবায়ে কিরাম ও তাবেয়ীন্ থেকে সে বিষয়ে দুইটি মত পাওয়া গেছে। একটি মত হচ্ছে, তৃতীয় বারের চুরির শাস্তি স্বরূপ তার বাম হাত কাটার পরে কাটা হবে ডান পা। আর দ্বিতীয় মত হচ্ছে, দ্বিতীয়বারের পরবর্তী চুরিতে তাকে আটক করে রাখতে হবে। তবে সেজন্য কয়েকটি শর্ত রয়েছে, যেগুলির অকাট্য ভাবে প্রমাণিত হওয়ার পরই সে দণ্ড কার্যকর করা যেতে পারে। তবে সেই শর্তগুলির মধ্যে কয়েকটির ব্যাপারে পূর্ণ ঐকমত্য রয়েছে এবং কয়েকটির ব্যাপারে রয়েছে মতপার্থক্য। এই শর্তগুলির একটি হচ্ছে, চোরকে 'পূর্ণ বয়স্ক, সুস্থ বিবেক-বুদ্ধি সম্পন্ন ও শরীয়ত পালনে বাধ্য হওয়ার যোগ্য হতে হবে। চুরিকৃত মাল-সম্পদের কারুর মালিকানাধীন সংরক্ষিত থাকা অবস্থায় চুরি হতে হবে। আর চুরিকৃত ধন-মালের মূল্য পরিমাণ হতে হবে তিন দিরহাম কিংবা এক দীনারের এক-চতুর্থাংশ বা তদূর্ধ্ব। এইসব কয়টি শর্ত এক সাথে পূর্ণ না হলে 'হদ্দ' দণ্ড জারী হতে পারবে না। তখন 'তা'যীর' হিসাবে শাস্তি নির্ধারণের প্রয়োজন হবে।