📄 মদ্য নিষেধে ক্রমিক পদ্ধতি অবলম্বন
কোন কোন তাফসীর লেখক লিখেছেন, আল্লাহ্ তা'আলা মুসলিম উম্মতের উপর সকল প্রকারের অনুগ্রহ দান করেছেন। তাঁর বড় অনুগ্রহ ও কল্যাণ দানের একটি উল্লেখযোগ্য নিদর্শন হচ্ছে, তিনি মুসলিম উম্মতের জন্য যে মহান শরীয়ত নাযিল করেছেন তার সমগ্র বিধানটি একযোগে নাযিল করেন নি। বরং ক্রমাগতভাবে শরীয়তের আইন জারী করেছেন। মদ্য সংক্রান্ত নিষেধবাণী বা তার হারামকরণও একই দিনে অবতীর্ণ হয়ে যায়নি।
দীন ইসলাম যখন নাযিল হচ্ছিল, তখন সমস্ত মানুষ মদ্যপানের জন্য পাগল হয়েছিল। ফলে এই মারাত্মক জিনিসটিকে সম্পূর্ণরূপে হারাম ঘোষণা করতে বিজ্ঞানসম্মত ক্রমিক নিয়ম অবলম্বন করতে হয়েছে।
মদের প্রতি ঘৃণার বীজ লোকদের মনে বপন করাই ছিল এই প্রথমবারে অবতীর্ণ আয়াতটির মূল উদ্দেশ্য (সূরা নাহল: ৬৭)। অতঃপর মদীনায় অবতীর্ণ আয়াতে (সূরা বাকারা: ২১৯) বলা হলো—মদ্য ও জুয়াতে বড় গুনাহ রয়েছে, যদিও কিছু উপকার আছে কিন্তু গুনাহ উপকারের তুলনায় অনেক বড়। অতঃপর তৃতীয় পর্যায়ে আয়াত নাযিল হয় (সূরা নিসা: ৪৩)—মদ্য পানে মাতাল অবস্থায় সালাতের নিকটেও যাবে না। পরিশেষে মদ্যপান চিরতরে হারাম করার আয়াত নাযিল হয় (সূরা মায়িদা: ৯০-৯১)।
tটিকাঃ
১. আল জামে' লা-আহকামিল কুরআন আল কুরতুবী জ ৩ পৃ ৫২
২. তাফসীর আহকামুল কুরআন লিস-সাবুনী জ ১ পৃ ২৭৩
২. তাফসীর আহকামুল কুরআন লিস-সাবুনী জ ১ পৃ ২৭৩
📄 মদ্যপায়ীর শাস্তি
মদ্যপান ইসলামী শরীয়তের দৃষ্টিতে একটি কঠিন গুনাহ্ এবং ফৌজদারী অপরাধরূপে গণ্য। এ জন্য শরীয়ত অনুযায়ী শাস্তি দান একান্তই কর্তব্য। ফিকাহবিদগণ এ ব্যাপারে সম্পূর্ণ একমত যে, মদ্যপায়ীর শাস্তি হচ্ছে দোরা। ইমাম আবু হানীফা, মালিক ও তাঁদের সঙ্গীগণের মতে মদ্যপায়ীর শাস্তি হচ্ছে আশি দোরা। তাঁদের দলীল হচ্ছে হযরত উমর ফারুক (রা) মদ্যপানের শাস্তি পর্যায়ে লোকদের নিকট পরামর্শ চাইলে হযরত আব্দুর রহমান ইবনে আউফ (রা) বললেনঃ হালকাতম শাস্তি হচ্ছে আশি দোরা। পরে হযরত উমর (রা) এই দণ্ডই কার্যকর করার নির্দেশ দিলেন।
ইমাম শাফেয়ী প্রমুখ ফিকাহবিদগণের মতে মদ্যপানের শাস্তি চল্লিশটি দোরা। দলীল হিসাবে তাঁরা উল্লেখ করেছেন যে, রাসূলে করীম (সা) চল্লিশ দোরার শাস্তিই দিয়েছেন। হযরত আবু বকর সিদ্দীক (রা)-ও তা-ই কার্যকর করেছেন।
tটিকাঃ
১. শারহুন্নবী লি-মুসলিম জ ১১ পৃ ২১৫; নিলুল আওতার জ ৭ পৃ ১৪৬
২. বুখারী মাআ ফতহুল বারী জ ১২ পৃ ৬৬
১. নিলুল আওতার, খণ্ড ৭, পৃষ্ঠা ১৫৫
📄 চুরির অপরাধ
ধন-মাল মানবজীবনের চালক, মেরুদণ্ড বিশেষ। বৈষয়িক জীবনের চাঞ্চল্য, চাচিক্য ও তৎপরতা ধন-মালের কারণে। মানব দেহে সঞ্জীবিত থাকার জন্য রক্ত যেমন অপরিহার্য, প্রতিটি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে রক্তের প্রবাহ যেমন অনিবার্য, মানবজীবনে অর্থ ও সম্পদ ঠিক ততখানিই গুরুত্বপূর্ণ। ইসলাম এই ধন-সম্পদ অর্জন ও ব্যয় ভোগের জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ বিধান পেশ করেছে। হালাল পথে উপার্জিত ধন-সম্পদকে হালাল ঘোষণা করেছে। আর হারাম পথে—অন্যায় ও যুলুমের মাধ্যমে আহরিত ধন-সম্পদকে সম্পূর্ণ হারাম করে দিয়েছে এবং পরকালে কঠিন ও অত্যন্ত পীড়াদায়ক আযাবে নিক্ষিপ্ত হওয়ার ভয় দেখিয়েছে।
আল্লাহ্ তা'আলা ইরশাদ করেছেন: يَأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَأْكُلُوا أَمْوَالَكُمْ بَيْنَكُمْ بِالْبَاطِلِ إِلَّا أَنْ تَكُونَ تِجَارَةً عَنْ تَرَاضٍ مِّنْكُمْ (হে ঈমানদার লোকেরা! তোমরা তোমাদের ধন-মাল পরস্পরে বাতিল পন্থায় ভক্ষণ করো না। তবে তোমাদের পারস্পরিক সন্তুষ্টি সম্মতিক্রমে ব্যবসায় হলে তা নিষিদ্ধ নয়। —সূরা নিসা: ২৯)।
এই ধন-মাল চুরি করে করায়ত্ত করলে তার জন্য কঠিন শাস্তি নির্দিষ্ট করে দেয়া হয়েছে। তা হচ্ছে চুরি অপরাধের 'হদ্দ'। কুরআন মজীদে বলা হয়েছে: وَالسَّارِقُ وَ السَّارِقَةُ فَاقْটَعُوا أَيْدِيَهُمَا جَزَاءً بِمَا كَسَبَا نَكَالاً مِّنَ اللَّهِ وَ اللَّهُ عَزِيزٌ حَكِيمٌ (পুরুষ চোর ও নারী চোর উভয়ের হাত কেটে দাও। তারা যা উপার্জন করেছে, এটা তারই শাস্তি ও আল্লাহ্র পক্ষ থেকে দৃষ্টান্ত। আর আল্লাহ্ দুর্জয়, সুবিজ্ঞানী। —সূরা মায়িদা : ৩৮)।
সাধারণত ধারণা করা হয় যে, মানুষ চুরি করে দারিদ্র্যের কারণে, ক্ষুধা নিবৃত্তির ব্যবস্থা নেই বলে। কিন্তু ইসলাম তো এই ব্যাপারে পূর্ণ সামাজিক ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছে। ফলে ইসলামী রাষ্ট্রের প্রত্যেকটি নাগরিকই তার জীবিকা পাবে, তার মৌলিক প্রয়োজন পরিপূরিত হবে। কোন লোকই না খেয়ে থাকতে বা অভাব-অনটনে ছটফট করতে থাকতে বাধ্য হবে না। এই কারণে ইসলামী রাষ্ট্রে কারুরই চুরি করার কোন আবশ্যকতা থাকতে পারে না। এইরূপ ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও চুরি কাজে অগ্রসর হতে পারে কেবলমাত্র সেসব লোক যারা ধন-সম্পদের লোভী, যারা অধিক সম্পদ করায়ত্ত করার অভিলাষী, কিংবা যারা অন্যায় অপ্রয়োজনীয় বিলাসিতা অথবা পাপ পথে বেহিসাব অর্থ ব্যয় করার সুযোগের লালায়িত। অতএব তা সুস্থ সমাজ ব্যবস্থার পক্ষে খুবই ক্ষতিকর ও বিপর্যয় সৃষ্টি করতে পারে।
ধন-মাল মানবজীবনের চালক, মেরুদণ্ড বিশেষ। বৈষয়িক জীবনের চাঞ্চল্য, চাচিক্য ও তৎপরতা ধন-মালের কারণে। মানব দেহে সঞ্জীবিত থাকার জন্য রক্ত যেমন অপরিহার্য, প্রতিটি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে রক্তের প্রবাহ যেমন অনিবার্য, মানবজীবনে অর্থ ও সম্পদ ঠিক ততখানিই গুরুত্বপূর্ণ। ইসলাম এই ধন-সম্পদ অর্জন ও ব্যয় ভোগের জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ বিধান পেশ করেছে। হালাল পথে উপার্জিত ধন-সম্পদকে হালাল ঘোষণা করেছে। আর হারাম পথে—অন্যায় ও যুলুমের মাধ্যমে আহরিত ধন-সম্পদকে সম্পূর্ণ হারাম করে দিয়েছে এবং পরকালে কঠিন ও অত্যন্ত পীড়াদায়ক আযাবে নিক্ষিপ্ত হওয়ার ভয় দেখিয়েছে।
আল্লাহ্ তা'আলা ইরশাদ করেছেন: يَأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَأْكُلُوا أَمْوَالَكُمْ بَيْنَكُمْ بِالْبَاطِلِ إِلَّا أَنْ تَكُونَ تِجَارَةً عَنْ تَرَاضٍ مِّنْكُمْ (হে ঈমানদার লোকেরা! তোমরা তোমাদের ধন-মাল পরস্পরে বাতিল পন্থায় ভক্ষণ করো না। তবে তোমাদের পারস্পরিক সন্তুষ্টি সম্মতিক্রমে ব্যবসায় হলে তা নিষিদ্ধ নয়। —সূরা নিসা: ২৯)।
এই ধন-মাল চুরি করে করায়ত্ত করলে তার জন্য কঠিন শাস্তি নির্দিষ্ট করে দেয়া হয়েছে। তা হচ্ছে চুরি অপরাধের 'হদ্দ'। কুরআন মজীদে বলা হয়েছে: وَالسَّارِقُ وَ السَّارِقَةُ فَاقْটَعُوا أَيْدِيَهُمَا جَزَاءً بِمَا كَسَبَا نَكَالاً مِّنَ اللَّهِ وَ اللَّهُ عَزِيزٌ حَكِيمٌ (পুরুষ চোর ও নারী চোর উভয়ের হাত কেটে দাও। তারা যা উপার্জন করেছে, এটা তারই শাস্তি ও আল্লাহ্র পক্ষ থেকে দৃষ্টান্ত। আর আল্লাহ্ দুর্জয়, সুবিজ্ঞানী। —সূরা মায়িদা : ৩৮)।
সাধারণত ধারণা করা হয় যে, মানুষ চুরি করে দারিদ্র্যের কারণে, ক্ষুধা নিবৃত্তির ব্যবস্থা নেই বলে। কিন্তু ইসলাম তো এই ব্যাপারে পূর্ণ সামাজিক ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছে। ফলে ইসলামী রাষ্ট্রের প্রত্যেকটি নাগরিকই তার জীবিকা পাবে, তার মৌলিক প্রয়োজন পরিপূরিত হবে। কোন লোকই না খেয়ে থাকতে বা অভাব-অনটনে ছটফট করতে থাকতে বাধ্য হবে না। এই কারণে ইসলামী রাষ্ট্রে কারুরই চুরি করার কোন আবশ্যকতা থাকতে পারে না। এইরূপ ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও চুরি কাজে অগ্রসর হতে পারে কেবলমাত্র সেসব লোক যারা ধন-সম্পদের লোভী, যারা অধিক সম্পদ করায়ত্ত করার অভিলাষী, কিংবা যারা অন্যায় অপ্রয়োজনীয় বিলাসিতা অথবা পাপ পথে বেহিসাব অর্থ ব্যয় করার সুযোগের লালায়িত। অতএব তা সুস্থ সমাজ ব্যবস্থার পক্ষে খুবই ক্ষতিকর ও বিপর্যয় সৃষ্টি করতে পারে।
📄 চুরির সংজ্ঞা
'চুরি' কাকে বলে? গোপনভাবে, অন্যকে না দেখিয়ে পরের ধন-সম্পদ করায়ত্ত করাই হচ্ছে চুরি। অন্যদের কথা-বার্তা তাদের অজ্ঞাতসারে শ্রবণ করাকে বলা হয় 'চুরি করে শোনা।' অন্যকে না জানিয়ে তাকে দেখা হচ্ছে চুরি করে দেখা। তবে কেড়ে নেওয়া; ছিনিয়ে নেওয়া (Snatching) এবং আত্মসাতকরণ ও গচ্ছিত ধন অপহরণ (Embezzelment) 'চুরি' নয়, হাত কাটা তার শাস্তি নয়। নবী করীম (সা) বলেছেন: لَيْسَ عَلَى الْخَائِنَ وَلَا عَلَى الْمُخْتَلِسِ قِطْعُ (খিয়ানতকারী ও অপহরণকারীর শাস্তি হাত কাটা নয়)। হযরত জাবির (রা) থেকে বর্ণিত, নবী করীম (সা) বলেছেন: لَيْسَ عَلَى الْمُخْتَصِبِ قِطْعُ (জোরপূর্বক অপহরণকারীর শাস্তি হাত কাটা নয়)।
টিকাঃ
১. المغنى الشرح الكبير ج ১০ ص ২৩৯
'চুরি' কাকে বলে? গোপনভাবে, অন্যকে না দেখিয়ে পরের ধন-সম্পদ করায়ত্ত করাই হচ্ছে চুরি। অন্যদের কথা-বার্তা তাদের অজ্ঞাতসারে শ্রবণ করাকে বলা হয় 'চুরি করে শোনা।' অন্যকে না জানিয়ে তাকে দেখা হচ্ছে চুরি করে দেখা। তবে কেড়ে নেওয়া; ছিনিয়ে নেওয়া (Snatching) এবং আত্মসাতকরণ ও গচ্ছিত ধন অপহরণ (Embezzelment) 'চুরি' নয়, হাত কাটা তার শাস্তি নয়। নবী করীম (সা) বলেছেন: لَيْسَ عَلَى الْخَائِنَ وَلَا عَلَى الْمُخْتَلِسِ قِطْعُ (খিয়ানতকারী ও অপহরণকারীর শাস্তি হাত কাটা নয়)। হযরত জাবির (রা) থেকে বর্ণিত, নবী করীম (সা) বলেছেন: لَيْسَ عَلَى الْمُخْتَصِبِ قِطْعُ (জোরপূর্বক অপহরণকারীর শাস্তি হাত কাটা নয়)।
টিকাঃ
১. المغنى الشرح الكبير ج ১০ ص ২৩৯