📄 অবিবাহিতের যিনার শাস্তি
যে নারী বা পুরুষ বিবাহিত নয়, সে যদি যিনার অপরাধ করে, তাহলে তার শাস্তি হচ্ছে একশ'টি দোরা। কেননা আল্লাহ্ তা'আলা বলেছেন: الزَّانِيَةُ وَالزَّانِي فَاجْلِدُوا كُلِّ وَاحِدٍ مِّنْهُمَا مِائَةَ جَلْدَةٍ ব্যভিচারী পুরুষ ও ব্যভিচারী নারী—এদের প্রত্যেককে একশ'টি করে দোরা। এ বিষয়ে শরীয়ত বিশেষজ্ঞদের মধ্যে কোনই মতভেদ নেই, এ ব্যাপারে তাঁরা সম্পূর্ণ একমত। অবশ্য এরপরও শাস্তির অংশ হিসাবে অপরাধীকে এক বছরের জন্য নির্বাসিত করা হবে কিনা, এ বিষয়ে বিরাট মতদ্বৈততা লক্ষ্য করা যায়।
এ পর্যায়ে তিনটি মতের সন্ধান পাওয়া যায়:
প্রথম মত: ব্যভিচারী পুরুষ হোক কি নারী, একশ'টি দোরা মারার পর-ও তাকে এক বছরের জন্য নির্বাসিত করতে হবে। তা করা ওয়াজিব। জমহুর আলিমগণ এই মত প্রকাশ করেছেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন ইমাম শাফেয়ী, ইমাম আহমদ ও ইমাম ইস্হাক ইবনে রাহওয়াইহ্। তাঁরা তাঁদের এই মতের সমর্থনে তিনটি দলীল পেশ করেছেন। প্রথম হচ্ছে হযরত উবাদাহ্ ইবনুস্ সামিত (রা) বর্ণিত, নবী করীম (সা) বলেছেন: خُذُوا عَلَى قَدْ جَعَلَ اللهُ لَهُنَّ سَبِيلاً الْبَكْرُ بِالْبَكْرِ جِلْدُ مِائَةٍ وَ نَفِي سَنَةٍ (মুসলিম আবু দাউদ তিরমিযী)। তোমরা আমার নিকট থেকে গ্রহণ কর, নিঃসন্দেহে আল্লাহ্ তা'আলা ওদের জন্য ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। অবিবাহিত-অবিবাহিতার যিনার একশ' দোরা এবং এক বছরের নির্বাসন দণ্ড দিতে হবে।
দ্বিতীয়, হযরত আবূ হুরায়রা (রা) ও যায়দ ইবনে খালিদ (রা) বলেছেন, এক বেদুইন রাসূলে করীম (সা)-এর খেদমতে হাযির হয়ে বলল, আমি আপনার নিকট প্রার্থনা করছি, আপনি আমার জন্য আল্লাহর কিতাব অনুযায়ী ফয়সালা করবেন। তখন অপর পক্ষ বলে উঠল—সে তার চাইতে অধিক সমঝদার—হ্যা, আপনি আমাদের দুইজনের মধ্যে আল্লাহ্ কিতাব অনুযায়ী ফয়সালা করে দিন এবং আমাকে ঘটনা বলার অনুমতি দিন। রাসূলে করীম (সা) বললেনঃ হ্যা, বল। তখন সে বলল: আমার পুত্র এই ব্যক্তির ঘরে মজুর হিসাবে কাজে নিয়োজিত ছিল। পরে সে এই ব্যক্তির স্ত্রীর সহিত যিনা করেছে। আমাকে জানানো হয়েছে যে, এই অপরাধের দরুন আমার পুত্রের শাস্তি হচ্ছে 'রজম'। তখন আমি এই শাস্তির বিনিময়ে এই লোকটিকে একশ'টি ছাগল ও একটি বাচ্চা দিয়েছি। পরে আমি শরীয়ত বিজ্ঞ লোকদের নিকট জিজ্ঞাসা করলাম। তাঁরা আমাকে জানালেন যে, আমার পুত্রের শাস্তির একশ'টি দোররা ও এক বছরের নির্বাসন। আর এই ব্যক্তির স্ত্রীর উপর 'রজম'-এর শাস্তি। এই কথা শ্রবণের পর নবী করীম (সা) বললেন: وَ الَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ لَأَقْضِيَنَّ بَيْنَكُما بِكِتَابِ اللهِ الوَلِيدَةُ وَ الْغَنَمُ رَدُّ عَلَيْكَ وَ عَلَى ابْنِكَ جُلْدُ مِائَةً وَ تَغْرِيبُ عَامٍ وَاعْدُ يَا أَنَيْسُ لِرَجُلٍ مِنْ أَسْلَمَ إِلَى امْرَأَةِ هَذَا فَإِنْ اعْتَرَفَتْ فَارْجِمْهَا। হ্যা, আল্লাহ্র কসম—যাঁর মুষ্টিতে আমার প্রাণ, আমি অবশ্যই তোমাদের দুই জনের মধ্যে আল্লাহর কিতাব অনুযায়ী বিচার করব। তোমার ছাগল ও বাচ্চা তোমাকে ফেরত দেয়া হলো। তোমার পুত্রের শাস্তি হচ্ছে একশটি দোররা ও এক বছর কালের জন্য নির্বাসন। আর হে উনাইস, তুমি কাল সকালেই এই ব্যক্তির স্ত্রীর নিকট যাবে। সে যিনার অপরাধ স্বীকার করলে তাকে 'রজম' করবে।
তৃতীয়: একথা ঐতিহাসিকভাবে প্রমাণিত যে, হযরত আবূ বকর (রা) দোৱা মারার সাথে সাথে মদীনা থেকে সিরিয়ায় নির্বাসনের দণ্ডও দিয়েছেন। কখনও কখনও অপরাধীকে দোরা মেরে ফিদাক-এর দিকেও নির্বাসিত করেছেন।
দ্বিতীয় মত: দোরার সাথে নির্বাসনের দণ্ড দিতে হবে কেবল পুরুষ যিনাকারীকে, স্ত্রীলোককে নয়। ইমাম মালিক ও ইমাম আওযাঈ এই মত দিয়েছেন। তাঁদের যুক্তি হচ্ছে, স্ত্রীলোককে বিদেশে নির্বাসন দেয়া হলে সে সম্পূর্ণরূপে অরক্ষিত হয়ে যাবে। সে কোথায় থাকবে, কিভাবে দিন কাটাবে, তা একটি কঠিন প্রশ্ন বা সমস্যা হয়ে দেখা দেবে। আর শরীয়তের বিধান মত নির্বাসন দেয়া হলে একজন মুহরিম পুরুষ তার সঙ্গে দিতে হবে। তা না হলে কোন অ-মুহরিম পুরুষের সঙ্গেই তাকে পাঠাতে হবে। তাকে একাকিনী পাঠানোর তো কোন প্রশ্নই উঠে না। কেননা নবী করীম (সা) বলেছেন: রক্তীয় আত্মীয় সঙ্গী ছাড়া কোন মেয়েলোকের পক্ষে একদিন একরাত্রির দূরত্বের বিদেশ সফরে যাওয়া হালাল নয়। এমতাবস্থায় কোন মহিলাকে যদি ব্যভিচারের শাস্তির অংশ হিসাবে নির্বাসন দণ্ডে দণ্ডিত করা হয়, তাহলে এ হাদীস অনুযায়ী তার সাথে এমন এক পুরুষ ব্যক্তিকেও নির্বাসিত করতে হবে, যে ব্যভিচারের অপরাধ করেনি।
তৃতীয় মত: নির্বাসনের দণ্ড দেওয়া ওয়াজিব নয়। না পুরুষকে, না মেয়েলোককে। তবে বিচারক যদি তা প্রয়োজনীয় ও কল্যাণকর মনে করেন, তাহলে তা দেয়া যেতে পারে। এরূপ অবস্থায় নির্বাসনটা হবে তা'যীরী শাস্তি, কোন 'হদ্দ' নয়। ইমাম আবু হানীফা (র) এই মত দিয়েছেন।
tটিকাঃ
১. ইমাম আবূ হায়ান লিখেছেন الزاني والزانية এই শব্দদ্বয়ের শুরুতে 'আলিফ' ও 'লাম' রয়েছে তা নির্দিষ্টকারী যদিও এই দু'টি অক্ষর সাধারণত অনির্দিষ্টকারী অর্থেই ব্যবহৃত হয়।
১. হাদীসটি প্রায় সব কয়খানি হাদীস গ্রন্থে উদ্ধৃত হয়েছে। দেখুন: ২৯৭ جامع الاصول
১. الترغيب ج ٤
১. জামে'উল উসূল জ ৪ পৃ ২৭৭
২. আল-মুগনী ও আশ-শারহুল কবীর জ ১০ পৃ ১৩৪
📄 যিনার অপরাধ প্রমাণের পদ্ধতি
ইসলামে যিনার অপরাধটি অত্যন্ত কদর্য জঘন্য ও বীভৎসরূপে চিহ্নিত। এই কারণে এ অপরাধের শাস্তিও ভয়াবহ। আর ঠিক এ কারণেই এ অপরাধ প্রমাণের জন্য কঠিনতর শর্ত আরোপ করা হয়েছে। দুইটির যে কোন একটি ছাড়া এই অপরাধ কোনক্রমেই প্রমাণিত হতে পারে না।
১. অপরাধী নিজেই স্বীয় অপরাধ স্বীকার করবে এবং এই স্বীকৃতি বা স্বীকারোক্তি হতে হবে স্পষ্ট ভাষায় চারবার। বিপুল সংখ্যক শরীয়ত বিশেষজ্ঞই এই মত প্রকাশ করেছেন। তার এই স্বীকারোক্তি হতে হবে মূল কাজটি করার, যেন এ পর্যায়ে এক বিন্দু শোবাহ-সন্দেহের অবকাশ না থাকে। হযরত ইবনে আব্বাস (রা) বর্ণনা করেছেন, নবী করীম (সা) মায়েজকে বলেছিলেন, সম্ভবত তুমি শুধু চুম্বন করেছ কিংবা হয়ত ইশারা-ইঙ্গিত করেছ মাত্র অথবা দৃষ্টি বিনিময় করেছ, চেয়ে চেয়ে দেখেছ মাত্র। সে বলল, না, শুধু তা নয়। বললেন, তুমি তাকে ব্যবহার করেছ। বললো, 'হ্যাঁ'। অতপর তাকে 'রজম' করার নির্দেশ দেয়া হয়।
অপর একটি বর্ণনায় হযরত আবু হুরায়রা (রা) বলেছেন, বাক্যের শেষ অংশ ছিল এই ইঙ্গিতপূর্ণ কথাটি: তোমার লিঙ্গ তার যৌনাঙ্গের ভিতরে অদৃশ্য হয়ে গেছে কি? বলল, হ্যাঁ, ঠিক যেমন শলাকা সুর্মাদানীর মধ্যে প্রবেশ করে এবং যেমন বালতির রশি কূপের মধ্যে অদৃশ্য হয়ে যায়। জিজ্ঞাসা করলেন, যিনা কাকে বলে, তুমি কি তা জান? বলল, হ্যাঁ আমি স্ত্রীলোকটির সাথে হারামভাবে সেই কাজই করেছি, যা স্বামী তার স্ত্রীর সাথে করে হালালভাবে।
২. যিনার ঘটনার উপর চারজন সাক্ষী প্রত্যক্ষদর্শী হিসাবে সাক্ষ্য দেবে এবং সে সাক্ষ্যদাতাদের বিশ্বাসী ও সত্যবাদী হতে হবে। কুরআন মজীদে বলা হয়েছে: আর যেসব লোক নির্দোষ-সুরক্ষিত চরিত্রবান মহিলাদের উপর মিথ্যা ব্যভিচারের দোষারোপ করে, কিন্তু পরে তা প্রমাণের জন্য তারা চারজন সাক্ষী উপস্থাপিত করে না, তাদের আশিটি দোরা মার। সাক্ষীদের স্পষ্ট ভাষায় বলতে হবে যে, আমরা তার পুরুষাঙ্গকে মেয়েলোকটির স্ত্রী-অঙ্গে প্রবিষ্ট দেখতে পেয়েছি, ঠিক তেমনিভাবে, যেমন করে শলাকা সুর্মাদানীর অভ্যন্তরে এবং রশি কূপের ভেতরে প্রবিষ্ট হয়। উভয়কে শুধু শৃঙ্গাররত, উলঙ্গ, জড়াজড়ি অবস্থায় দেখতে পাওয়াই 'যিনা' প্রমাণের জন্য যথেষ্ট নয়।
অন্য কথায়, যিনার জন্য নির্দিষ্ট শাস্তি কার্যকর হতে পারে কেবলমাত্র তখন, যদি নিম্নোক্ত দুইটি ব্যাপারের কোন একটি ঘটে:
প্রথম, যিনাকার ব্যক্তি এতটা নির্লজ্জ, বে-পরোয়া ও অকুণ্ঠ হয়ে এই পাপ কাজে লিপ্ত হবে যে, সে নৈতিকতা ও মানবিকতার নিম্নতম মূল্যমানকেও বিনষ্ট করবে, নিম্নস্তরের নিতান্ত পশুর পর্যায়ে পৌঁছে যাবে এবং জনতার সম্মুখে, পথে-ঘাটে পার্কে এই কাজ করতে শুরু করে দিবে।
দ্বিতীয়, যিনাকারী ব্যক্তি নিজেই উদ্যোগী হয়ে স্বতঃস্ফূর্তভাবে নিজের এই কাজের স্বীকারোক্তি করবে ও সেজন্য নির্দিষ্ট শাস্তি গ্রহণে আগ্রহী হবে নিজকে গুনাহ্ কলুষতা থেকে পবিত্র করা এবং আল্লাহ্র নিকট ক্ষমা পাওয়ার লক্ষ্যে।
tটিকাঃ
১. বুখারী।
২. আবূ দাউদ।
১. আল মুগনী ও আশ-শারহুল কবীর পৃ ১৭৫
📄 বিবাহিতের যিনার শাস্তি
আমরা কুরআন মজীদে ব্যবহৃত যে শব্দটির অর্থ বলেছি 'বিবাহিত', তা হচ্ছে: المحصنت الا الا حصان কুরআন মজীদে এই শব্দটির অর্থ হলো, যে লোক এ অবস্থায় যে, সে স্বাধীন, শরীয়ত পালনে যোগ্য-বাধ্য, যথার্থভাবে ও বিশুদ্ধ নিয়মে বিয়ে করল এবং একবার হ'লেও স্ত্রীর সঙ্গে সঙ্গম করল। এরূপ একজন مُحْصَن ব্যক্তি—সে পুরুষ হোক বা স্ত্রীলোক—যিনা করলে তার শাস্তি হচ্ছে 'রজম'—প্রস্তর নিক্ষেপে হত্যা করা। কেননা নবী করীম (সা) থেকে এই শাস্তির বর্ণনা অকাট্য ও সন্দেহাতীতভাবে পাওয়া গেছে তাঁর কথা ও কাজ—উভয় দিক দিয়েই।
বিবাহিত, সংরক্ষিত, চরিত্রবান নারী কিংবা পুরুষ যিনা করলে তার শাস্তি যে 'রজম', এ বিষয়ে ইসলামের সকল কালের সকল দেশের সকল মনীষীই সম্পূর্ণ একমত। কেননা খাওয়ারিজরা ছাড়া এই বিষয়ে আর কেউই ভিন্ন মত প্রকাশ করেনি। খাওয়ারিজদের বক্তব্য শুধু এতটুকু যে, 'রজম'-এর কথা যেহেতু কুরআনে নেই এবং তা খুবই কঠোর নিমর্ম শাস্তি, তা যদি বাস্তবিকই শরীয়তের বিধান হতো, তাহলে তার উল্লেখ কুরআনে না হয়ে কিছুতেই পারতো না।
কিন্তু খাওয়ারিজদের এই মত দলীলভিত্তিক নয়, গ্রহণযোগ্যও নয়। সুন্নাতে-ই অকাট্য স্পষ্টভাবে 'রজম'-এর উল্লেখ রয়েছে। তাতে একবিন্দু সন্দেহের অবকাশ নেই। রাসূলে করীম (সা)-এর পর খুলাফায়ে রাশেদিন এই আইন কার্যকর করেছেন। দ্বিতীয় খলীফা হযরত উমর (রা) একদা ভাষণ দান প্রসঙ্গে বলেছিলেন: আল্লাহ্ তা'আলা মুহাম্মদ (সা)-কে পরম সত্যতা সহকারে পাঠিয়েছেন, তাঁর প্রতি কিতাব নাযিল করেছেন। সেই অবতীর্ণ বিষয়াবলীর মধ্যে 'রজম'-এর আয়াতও ছিল। আমরা তা পড়েছি ও তার সংরক্ষণও করেছি। স্বয়ং রাসূলে করীম (সা) 'রজম' করিয়েছেন, তাঁর পরে আমরাও তা করিয়েছি। আমি ভয় পাচ্ছি, সময়ের দীর্ঘতায় লোকেরা হয়ত বলবে, আল্লাহ্ কিতাবে আমরা 'রজম'-এর আয়াত পাচ্ছি না। তাতে তারা আল্লাহ্র ধার্য করা ফরয পরিত্যাগ করার কারণে গুমরাহ্ হয়ে যাবে।
বিবাহিত নারী বা পুরুষ যিনা করলে তার শাস্তি 'রজম' কিন্তু তার পূর্বে তাকে দোৱা মারা হবে কিনা, এ বিষয়ে বিভিন্ন বর্ণনা উদ্ধৃত হয়েছে। অধিকাংশ ফিকাহবিদরা একমত যে, বিবাহিত ব্যভিচারীকে 'রজম' করা হবে, দোৱা মারা হবে না। হানাফী মতের বিশেষজ্ঞরাও এই রায়ই দিয়েছেন। তাঁদের সকলেরই ভিত্তি হচ্ছে হযরত জাবির (রা) বর্ণিত হাদীস। হাদীসটি হচ্ছে: নবী করীম (সা) মায়েযকে 'রজম'-এর দণ্ড দিয়েছেন, দোরা মারেন নি। গামেদীয়াকে 'রজম' দিয়েছেন, দোরা মারেননি। অথচ এ দু'জনই ছিল বিবাহিত।
tটিকাঃ
১. আসসিয়াতুস শরইয়্যাহ্ সং ১০
২. বহু কয়খানা হাদীস গ্রন্থেই এই হাদীস উদ্ধৃত হয়েছে। দেখুন: ২৯৭ جامع الاصول
১. সহীহ মুসলিম বিশরহুন্নবী জ ১১ পৃ ১৯১
২. সুনানু আবী দাউদ ৩ পৃ ৪০
১. আল-বাহরুল মুহীত ৬ পৃ ৪২৮
১. সহীহ মুসলিম বিশরহুন্নবী জ ১১ পৃ ১৯৮; সুনান আবু দাউদ জ ২ পৃ ৪২০
📄 রজম দণ্ড কার্যকর করার প্রক্রিয়া
'রজম' দণ্ডে যে দণ্ডিত হবে, তাকে দাঁড়ানো অবস্থায় রেখে প্রস্তর নিক্ষেপে হত্যা করতে হবে। তাকে কোনো কূপ খুঁড়ে তার মধ্যে দাঁড় করাতে হবে না, শক্ত করে বাঁধতেও হবে না তাকে। জমহুর আলিমগণ এই মতই দিয়েছেন। তার দলীল হচ্ছে হযরত আবূ সায়ীদ খুদরী (রা) বর্ণিত হাদীস। তিনি বলেছেন: রাসূলে করীম (সা) যখন মায়েয ইবনে মালিককে 'রজম' করার জন্য আমাদের নির্দেশ দিলেন, তখন আমরা তাকে নিয়ে বকীর দিকে বের হয়ে গেলাম। তার জন্য আমরা কূপ খুড়লাম না, তাকে বাঁধলামও না। সে দাঁড়িয়ে গেল, আমরা তার উপর পাথর, হাড় ও চাড়া ইত্যাদি নিক্ষেপ করতে লাগলাম। প্রস্তরের আঘাতে সে শক্ত হয়ে গেল। পরিশেষে সে স্তব্ধ হয়ে গেল।
কারোর উপর অকাট্য দলীল-প্রমাণের ভিত্তিতে 'রজম' শাস্তি সাব্যস্ত হওয়ার পর যদি কেউ লোকদের থেকে পালিয়ে যেত, তাহলে তারা তার পশ্চাদ্ধাবন করে তাকে হত্যা করত। আর যদি শুধু স্বীকারোক্তির উপর অবিচল থাকত, তাহলে তার পশ্চাদ্ধাবন করতো না। মায়েয আসলামী প্রস্তরঘাতে জর্জরিত হয়ে মৃত্যুভয়ে পালিয়ে যেতে চেষ্টা করেছিল; কিন্তু লোকেরা তাকে ধরে ফেলে ও প্রস্তরাঘাতে শেষ পর্যন্ত সে মৃত্যুবরণ করে। রাসূলে করীম (সা)-এর নিকট এই সংবাদ পৌছালে তিনি তাদের বলেছিলেন: তোমরা তাকে যেতে দিলে না কেন? সম্ভবত সে তওবা করত এবং আল্লাহ্-ও তার তওবা কবুল করতেন।
মেয়ে অপরাধীকে 'রজম' করা কালে তার জন্য কূপ খনন করা হবে কিনা, তা নিয়ে শরীয়ত বিশেষজ্ঞগণ বিভিন্ন মত দিয়েছেন। কেউ কেউ বলেছেন, 'রজম' কালে তাকে কূপের মধ্যে দাঁড় করানো ভালো। তবে ইমাম মালিক ও ইমাম আহমদ কূপ না খোড়ার কথাই বলেছেন। তাঁদের দলীল হচ্ছে, নবী করীম (সা) গামেদীয়াকে 'রজম' করার নির্দেশ দিয়েছিলেন; কিন্তু তার জন্য কূপ খনন করতে বলেন নি। তবে তার দেহ আবৃত রাখার জন্য শক্ত করে কাপড় বেঁধে দেয়া হয়েছিল। 'রজম' পাথর দ্বারাই সম্পন্ন করতে হবে। মধ্যম আকারের পাথর খণ্ড হতে হবে। এই দণ্ডদান অনুষ্ঠানে বিপুল সংখ্যক মু'মিনের উপস্থিত থাকা একান্ত জরুরী। ফাসিক ফাজের লোকগুলি যেন এই অনুষ্ঠান দর্শনে সন্ত্রস্ত হয়ে উঠে।
tটিকাঃ
১. সহীহ মুসলিম বিশরহুন্নবী জ ১১ পৃ ১৯৮; সুনান আবু দাউদ জ ২ পৃ ৪২০
২. আবু দাউদ জ ২
১. আল মুগনী ও আশ-শারহুল কবীর জ ১০ পৃ ১২৩
২. আল মুগনী ও আশ-শারহুল কবীর জ ১০ পৃ ১২২