📘 অপরাধ প্রতিরোধে ইসলাম 📄 ‘হদ্দ’ হওয়ার অপরাধ ও তার শাস্তি

📄 ‘হদ্দ’ হওয়ার অপরাধ ও তার শাস্তি


যিনার অপরাধ:
যিনা একটি অত্যন্ত জঘন্য অপরাধ যা সমাজ ও পরিবারের ভিত্তি চূর্ণ করে দেয়। অবিবাহিতের যিনার শাস্তি একশ দোরা এবং বিবাহিতের যিনার শাস্তি 'রজম' বা প্রস্তর নিক্ষেপে হত্যা।

যিনায় ইসলামী শাস্তি অভিনব নয়:
রজম বা প্রস্তরাঘাতে মৃত্যুদণ্ড তওরাত কিতাবেও বিদ্যমান ছিল। এটি ইসলামের কোনো নতুন উদ্ভাবন নয়।

চুরির অপরাধ:
চুরির শাস্তি হলো ডান হাত কেটে ফেলা। অভাব-অনটনের কারণে নয় বরং লোভের বশবর্তী হয়ে যারা চুরি করে তাদের জন্যই এই কঠোর দণ্ড।

সশস্ত্র ডাকাত ও লুণ্ঠনকারীর শাস্তি:
যারা অস্ত্র নিয়ে জনজীবনে বিপর্যয় সৃষ্টি করে এবং লুণ্ঠন করে তাদের শাস্তি হলো হত্যা, শূলবিদ্ধকরণ অথবা হাত ও পা বিপরীত দিক থেকে কেটে ফেলা।

তা'যীর পর্যায়ের অপরাধ:
মিথ্যা সাক্ষ্য দান, ঘুষ গ্রহণ, মাপে কম দেওয়া—এগুলো তা'যীরী অপরাধ। পরিস্থিতির আলোকে রাষ্ট্রপ্রধান এসব অপরাধের জন্য কারাদণ্ড, জরিমানা বা অন্য যেকোনো শাস্তি দিতে পারেন।

📘 অপরাধ প্রতিরোধে ইসলাম 📄 তা’যীর পর্যায়ের অপরাধ

📄 তা’যীর পর্যায়ের অপরাধ


সে সব অপরাধ সেগুলি, যেসব অপরাধে কোন সুনির্দিষ্ট শাস্তির বা কোন কাফ্ফারার ব্যবস্থা শরীয়তে করে দেওয়া হয়নি। মিথ্যা সাক্ষ্য দান, ঘুষ গ্রহণ, সুদী কারবার বা লেনদেন করা, আমানতে খিয়ানত করা, পণ্যদ্রব্যে বা ক্রয়-বিক্রয়ে ধোঁকা প্রতারণা করা, অপরাধীদের আত্মগোপনে সাহায্য করা, যিনা ছাড়া অন্য কোন অপরাধ মিথ্যামিথ্যিভাবে কারো উপর আরোপ করা এবং নামায, রোযা, যাকাত প্রভৃতি ফরয কাজ ত্যাগ করা প্রভৃতি অপরাধ এই পর্যায়ে গণ্য। যেসব অপরাধে 'হদ্দ' সুনির্দিষ্ট, কিন্তু তার প্রমাণের জন্য জরুরী শর্তসমূহ পূর্ণমাত্রায় পাওয়া যায়নি, তাও এই পর্যায়েই গণ্য। যেমন নিসাব পরিমাণের কম মূল্যের দ্রব্য চুরি এবং অরক্ষিত অবস্থায় ফেলে রাখা দ্রব্য চুরি করা প্রভৃতি।

📘 অপরাধ প্রতিরোধে ইসলাম 📄 অপরাধ দমনে শরীয়তসম্মত শাস্তি প্রয়োগের প্রতিক্রিয়া

📄 অপরাধ দমনে শরীয়তসম্মত শাস্তি প্রয়োগের প্রতিক্রিয়া


प्रत्यেকটি জিনিসেরই সঠিক মূল্যায়ন সম্ভব হতে পারে তার ফলাফলের দৃষ্টিতে। এ এক স্থায়ী ও শাশ্বত মৌলনীতি। সর্বকালে ও সর্বক্ষেত্রেই তা প্রযোজ্য। আমাদের প্রাচীন ও আধুনিক ইতিহাস অপরাধ প্রতিরোধে শরীয়ত উপস্থাপিত শাস্তিসমূহ বাস্তবায়নের সাফল্যের নির্ভুল সাক্ষী। ইসলাম-পূর্বকালে মানুষ উদ্দেশ্যহীন ও আদর্শহীনভাবে জীবন যাপন করত। জনজীবনে তখন ছিল চরম অশান্তি, উচ্ছৃঙ্খলতা, অরাজকতা। লুটতরাজ, হত্যা ও ছিনতাই ছিল তখন নিত্যনৈমিত্তিক এবং অতি সাধারণ ব্যাপার। একটি গোত্র অপর গোত্রের উপর প্রায় অকারণে ঝাঁপিয়ে পড়ত, তাদের লোকজনকে মারধর করত, হত্যা করত, তাদের জান-প্রাণ ও মান-সম্মান হরণ করত। পরে আল্লাহ্ তা'আলা অনুগ্রহ করে বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (সা)-কে সর্বশেষ জীবন বিধান উপস্থাপকরূপে প্রেরণ করলেন। তাঁর মাধ্যমে জনমনে এক অপূর্ব ঐক্য ও একাত্মতার সঞ্চার করলেন। তাদের বানিয়ে দিলেন এক ঐক্যবদ্ধ ও সুসংগঠিত জাতি-জনসমষ্টি বা উম্মত। লোকেরা পরস্পরের প্রতি পরম ভালোবাসা ও সৌভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ হলো। এই সমাজে ইসলামী শিক্ষার ব্যাপক প্রচার ও বিস্তার এবং উচ্চমানের শরীয়তের আইনসমূহ বাস্তবায়নের মাধ্যমে তাঁরা বিশ্বমানবের অগ্রনেতা ও আস্থাভাজন হয়ে উঠলেন। তারা হয়েছিলেন নৈতিকতা ও বুদ্ধিমত্তার দিক দিয়ে আদর্শ মানুষ। তাদের এই মর্যাদা দীর্ঘদিন ধরে স্থায়ী থাকলো। দুনিয়ার কোথাও তাদের প্রতিদ্বন্দ্বী ছিল না। তাদের দৃষ্টান্ত খুঁজে পাওয়া যেত না কুত্রাপি। তারা সমগ্র সভ্যজগতে তওহীদী আদর্শ ও সুবিচার-ন্যায়পরতার ঝাণ্ডা উন্নত করে ধরেছিলেন। শাস্তি ও নিরাপত্তা ছিল তখনকার জন-জীবনের পরম সত্য। তাঁরা ছিলেন বিপন্ন নিপীড়িত মানবতার আশ্রয়।

সমাজে ও সাধারণভাবে সমগ্র জনমনে তার শুভ প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা যাচ্ছিল। লোকেরা দলে দলে দীন ইসলামে প্রবেশ করতে শুরু করে দিয়েছিল। তাতে ইসলামী শরীয়তেই শ্রেষ্ঠত্ব, বৈশিষ্ট্য ও শুভ কল্যাণ পরিলক্ষিত হচ্ছিল। সত্য কথা, মুসলমানদের বিশ্ব বিজয়ের মূলে ইসলামী শরীয়তের পূর্ণ বাস্তবায়নই অনস্বীকার্য সত্য এবং একমাত্র তত্ত্বরূপে নিহিত। আজও যেখানে-সেখানে শরীয়তের শাসন কার্যকর, সাধারণ শান্তি, নিরাপত্তা ও নিশ্চিন্ততার দিক দিয়ে তা বিকল্পহীন।

ফন্ট সাইজ
15px
17px