📘 অপরাধ প্রতিরোধে ইসলাম 📄 ‘হদ্দ’ কার্যকর করার জন্য দায়িত্বশীল কে?

📄 ‘হদ্দ’ কার্যকর করার জন্য দায়িত্বশীল কে?


রাষ্ট্রপ্রধান অথবা তার প্রতিনিধি স্থানীয় প্রশাসক ও বিচারপতিগণই শরীয়তের 'হদ্দ' কার্যকর করার জন্য দায়িত্বশীল। আসলে এই কাজটি আল্লাহর হক্। আদর্শবাদী সভ্য সমাজের জন্য তা বিধিবদ্ধ। অতএব সমাজের প্রতিনিধিই তা কার্যকর করার জন্য দায়িত্বশীল হবে।

দ্বিতীয়ত: 'হদ্দ' কার্যকর করার জন্য 'ইজতিহাদ' অপরিহার্য। আর তা কার্যকরকরণে অবিচার বা অসাম্য হয়ে যাওয়ার আশংকাও রয়েছে অনেক। তবে এই কাজটি রাষ্ট্রপ্রধানকে নিজেকেই করতে হবে এমন বাধ্যবাধকতা নেই। রাসূলে করীম (সা) নিজে উনাইসকে জনৈকা বিবাহিতা মহিলাকে যিনার অপরাধে রজম করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। মায়েযকে 'রজম' করার জন্য অন্য লোককে হুকুম করেছিলেন। একজন চোরকে তাঁর দরবারে হাযির করা হলে তিনি বললেন:

اِذْهَبُوا بِهِ فَاقْطَعُوهُ

তোমরা একে নিয়ে যাও এবং পরে তার হাত কেটে দাও।

তবে এ থেকে একটি মৌলনীতি নিঃসন্দেহে প্রমাণিত হয় যে, শরীয়ত সিদ্ধ 'হদ্দ' ও শাস্তিসমূহ কার্যকর করার ব্যাপারে রাষ্ট্রপ্রধানের অনুমতি একান্তই প্রয়োজন। রাসূলে করীম (সা)-এর যুগে তাঁর অনুমতি ব্যতিরেকে এবং খুলাফায়ে রাশেদীনের যুগে খলীফা তথা রাষ্ট্রপ্রধানের অনুমতি ছাড়া কখনই কোন 'হদ্দ' কার্যকর করা হয়নি। এই অনুমতি সাময়িকও হতে পারে যা প্রয়োজনে প্রতিটি ঘটনাকালে দেওয়া হবে, অথবা এই অনুমতি স্থায়ী ভাবে দেওয়া হবে। প্রশাসন ও বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাগণ সেই অনুমতির বলে স্থায়ীভাবে নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করতে থাকবেন, যার যার উপর তা কার্যকর করার প্রয়োজন হবে, তা যথারীতি কার্যকর করবেন।

ইমাম কাশানী লিখেছেন:

ইমাম বা রাষ্ট্রপ্রধান শরীয়তের 'হদ্দ' কার্যকর করার জন্য প্রতিনিধি নিযুক্ত করতে পারবেন। কেননা এসব কাজ তিনি ব্যক্তিগতভাবে ও নিজ হাতে সম্পন্ন করতে পারেন না। যেহেতু তা কার্যকর করার বহু কারণ এবং সে কারণসমূহ দারুল-ইসলামের বিভিন্ন দিকে বিস্তৃত। সবখানে তার নিজের গমন বা উপস্থিতি সম্ভব নয় বা সকলকে তার নিকট উপস্থিত করাও অসম্ভব। এমতাবস্থায় প্রতিনিধি নিয়োগ বৈধ না হলে শরীয়তের 'হদ্দ'সমূহ কার্যকর হওয়াই সম্ভব হবে না। এই কারণে খোদ নবী করীম (সা)-ও শরীয়তের আইন ও 'হদ্দ'সমূহ কার্যকর করার জন্য প্রতিনিধি নিযুক্ত করতেন।

এই প্রতিনিধি নিয়োগ দুই ধরনের। একটি, নির্দিষ্টভাবে শুধু 'হদ্দ' কার্যকর করার জন্য নির্দেশ দান, যার দরুন 'প্রতিনিধি' তা কার্যকর করার ক্ষমতাবান হবে। আর দ্বিতীয়টি হচ্ছে, দায়িত্বশীল বানানো। তা-ও আবার দু'প্রকারের। একটি সাধারণ এবং অপরটি বিশেষ। সাধারণ হয় এভাবে যে, এক ব্যক্তিকে সাধারণভাবে অধিকার সম্পন্ন বানিয়ে দেওয়া হলো, যেমন কোন এলাকার বা বড় শহরের প্রশাসনিক দায়িত্বশীল (গভর্নর বা কমিশনার অথবা জিলা প্রশাসক ইত্যাদি) বানিয়ে দেওয়া হলো। সে সেই এলাকায় যাবতীয় 'হদ্দ' কার্যকর করার কাজ সম্পন্ন করবে, যদিও নির্দিষ্টভাবে সেই ঘটনার জন্য কোন আদেশ আসেনি। কেননা তাকে যখন একটা বড় এলাকার প্রশাসনিক দায়িত্বশীল বানিয়ে দেওয়া হয়েছে তখন সে এই কাজের জন্যও দায়িত্বশীল মনে করতে হবে। তাকে যখন এই প্রশাসনিক কর্তৃত্ব দেওয়া হয় তখন মুসলিম জনগণের কল্যাণে প্রয়োজনীয় যে কোন কাজ করার তার অধিকার আছে। আর শরীয়তের 'হদ্দ 'সমূহ কার্যকর করা তাদের কল্যাণের একটা অতিবড় দিক।

আর বিশেষভাবে দায়িত্বশীল বানানোর ব্যাপারটি হচ্ছে এইরূপ, যেমন কাউকে খারাজ সংগ্রহের দায়িত্ব দেওয়া হলো, ইত্যাদি। সে তো নিশ্চয়ই 'হদ্দ' কার্যকর করার অধিকারী হবে না। কেননা সে দায়িত্ব তাকে দেয়াই হয়নি অথবা বলা যায়, তাকে যে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, 'হদ্দ' কার্যকর করার কর্তৃত্ব তার অন্তর্ভুক্ত নয়।

ফন্ট সাইজ
15px
17px