📘 অপরাধ প্রতিরোধে ইসলাম 📄 ‘হদ্দ’ কার্যকর হওয়া অপরিহার্য কর্তব্য

📄 ‘হদ্দ’ কার্যকর হওয়া অপরিহার্য কর্তব্য


যে অপরাধের 'হদ্দ' রয়েছে, তা নিঃসন্দেহে প্রমাণিত হওয়ার পর অপরাধীর উপর তা অবশ্যই কার্যকর করতে হবে। সে শক্তিমান হোক, কি দুর্বল, উঁচু বংশজাত—সম্ভ্রান্ত হোক, কি নীচ জাত অসম্ভ্রান্ত এবং পুরুষ হোক, কি নারী। এই ব্যাপারে কোনরূপ দুর্বলতা দেখানো বা তা বিলম্বিতকরণ অথবা আল্লাহ্র আইন কার্যকরকরণে কোনরূপ দয়া নম্রতার কারণে 'হদ্দ' প্রত্যাহার করার অধিকার কারোর নেই। কেননা 'হদ্দ' কার্যকর করা ইবাদতের মধ্যে গণ্য কাজ। আল্লাহর বান্দাদের প্রতি তাঁর বিশেষ অনুগ্রহও বটে। হযরত আবূ হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত, নবী করীম (সা) বলেছেনঃ

حَدٌّ يَعْمَلُ بِهِ فِي الْأَرْضِ خَيْرٌ لَأَهْلِ الْأَرْضِ مِنْ أَنْ يُمْطَرُوا ارْبَعِينَ صَبَاحًا

যে দেশে শরীয়তের 'হদ্দ' কার্যকর হয়, সে দেশের জনগণের জন্য তা ক্রমাগত চল্লিশ দিনের সকাল বেলায় বৃষ্টির তুলনায় অনেক কল্যাণকর। হযরত আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন:

مَا خُيِّرَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَসَلَّمَ بَيْنَ أَمْرَيْنِ إِلَّا اخْتَارَ أَيْسَرَهُمَا مَا لَمْ يَأْثِمْ فَإِذَا كَانَ الإِثْمُ كَانَ أَبْعَدَهُمَا مِنْهُ وَ اللهُ مَا انْتَقَمَ لِنَفْسِهِ فِي شَيْءٍ يُؤْتَى إِلَيْهِ قَطُّ حَتَّى تُنْتَهَكَ حُرُمَاتِ اللهِ فَيَنْتَقِمُ لِلَّهِ .

নবী করীম (সা)-কে যখনই কোন দুইটি ব্যাপারের মধ্যে যে কোন একটি গ্রহণের ইখতিয়ার দেওয়া হয়েছে, তিনি তন্মধ্যে সহজতম জিনিসটি গ্রহণ করেছেন যদি তাতে গুনাহ্ হওয়ার আশংকা না থাকে। যদি সেটিতে গুনাহ্ হওয়ার আশংকা দেখা দিত, তাহলে তা থেকে অনেক দূরে সরে থাকতেন। আল্লাহ্ নামের শপথ, রাসূলে করীম (সা) নিজের জন্য কোন বিষয়েরই প্রতিশোধ গ্রহণ করেন নি, যা তাঁর সম্মুখবর্তী হয়েছে। তবে আল্লাহ্র মর্যাদা বিনষ্টকারী কিছু হলে তিনি তার প্রতিশোধ অবশ্যই নিয়েছেন।

হযরত নু'মান ইবনে বশীর (রা) নবী করীম (সা)-এর এই কথাটি বর্ণনা করেছেন:

مَثَلُ الْقَائِمِ فِي حُدُودِ اللَّهِ وَ الْوَاقِعِ فِيْهَا كَمَثَلِ قَوْمٍ اسْتَهَمُوا عَلَى سَفِينَةٍ فَصَارَ بَعْضُهُمْ أَعْلَاهَا وَ بَعْضُهُمْ أَسْفَلَهَا فَكَانَ الَّذِينَ فِي اسْفَلِهَا إِذَا اسْتَقَوْا مِنَ الْمَاءِ مَرُّوا مِنْ فَوْقِهِمْ فَقَالُوا : لَوْ أَنَّا خَرَقْنَا فِي نَصِيبِنَا خَرَقًا وَ لَمْ نُؤْذِ مَنْ فَوْقَنَا فَإِنْ تَرَكُوْهُمْ وَ مَا أَرَدُوا هَلَكُوا وَ إِنْ أَخَذُوا عَلَى أَيْدِيهِمْ نَجُوا وَ نَجَوْا جَمِيعًا .

আল্লাহর চিহ্নিত সীমার মধ্যে স্থিতিশীল এবং সীমালংঘনকারীদের দৃষ্টান্ত হচ্ছে এমন কিছু লোকের মত। যারা একটি নৌকায় আরোহী হয়েছে। তাদের কিছু লোক উপর তলায় এবং অপর কিছু লোক নিচের তলায় অবস্থান নিল। যারা নিচের তলায় অবস্থান নিয়েছিল তারা পানির সন্ধানে উপরে উপবিষ্ট লোকদের মধ্যে যাতায়াত শুরু করে দিল। তাতে উপরের লোকেরা বিরক্তি বোধ করল। তখন নিচে অবস্থানকারী লোকেরা বলল, আমরা যদি আমাদের অংশে নৌকার তলা দীর্ণ করে প্রয়োজনীয় পানি নেই, তাহলে উপরের লোকদের কষ্ট দেওয়ার আর কোনই প্রয়োজন থাকবে না। এইরূপ অবস্থায় যদি তাদেরকে ছেড়ে দেয় ও তারা তাদের ইচ্ছামত কাজ করতে থাকে, তাহলে তারা সকলেই ধ্বংস হবে আর তাদের যদি পাকড়াও করে তা থেকে বিরত রাখে, তাহলে তারা নিজেরাও বাঁচবে এবং অন্য সকলকেও বাঁচাবে।

এ হাদীসের আলোকে এ নীতি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে যে, শরীয়ত লংঘনকারীদের সীমার মধ্যে ঠেকিয়ে রাখা, তাদের বিদ্রোহ দমন করা ও পাপ-নাফরমানী প্রতিরোধ করা একান্তই আবশ্যক। অবশ্য পাপ-নাফরমানী যদি গোপন থাকে, তাহলে শুধু সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিই ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কিন্তু তা যদি ব্যাপক প্রকাশ লাভ করে ও তা প্রতিরোধ করা না হয়, তাহলে তা একটা সাধারণ ব্যাধি হয়ে দেখা দেয়। এই কারণেই আল্লাহ্ তা'আলা ইরশাদ করেছেনঃ وَ اتَّقُوْا فِتْنَةً لَا تُصِيبَنَّ الَّذِينَ ظَلَمُوا مِنْكُمْ خَاصَّةً (তোমরা সেই বিপদকে অবশ্যই ভয় করবে, যা তোমাদের মধ্যকার শুধু জালিমদেরই বিপন্ন করবে না বরং সাধারণভাবে সমস্ত মানুষই বিপন্ন হয়ে পড়বে।) -সূরা আনফালঃ ২৫

বস্তুত আল্লাহ্ নির্ধারিত শাস্তি (হদ্দ) কার্যকর করার ক্ষেত্রে তা মামলারূপে কর্তৃপক্ষের গোচরীভূত হওয়ার পর কোনরূপ শাফা'আত বা সুপারিশ করা এবং সেই সুপারিশ গ্রহণ সম্পূর্ণ হারাম বলে সমস্ত শরীয়ত বিশেষজ্ঞ একমত হয়েছেন। হযরত আবদুল্লাহ্ ইবনে আমর ইবনুল আ'স (রা) বর্ণনা করেছেন: রাসূলে করীম (সা) ইরশাদ করেছেনঃ

تَعَافُوا الْحُدُودَ فِيْمَا بَيْنَكُمْ فَمَا بَلَغَنِي مِنْ حَدٌ فَقَدْ وَجَبَ

তোমরা হদ্দ কার্যকর হওয়ার যোগ্য অপরাধ পারস্পরিক পর্যায়ে ক্ষমা করতে পার। কিন্তু এই ধরনের অপরাধের অভিযোগ আমার নিকট পেশ করা হলে তা অবশ্যই কার্যকর হবে।

কিন্তু এই আবদুল্লাহ্ ইবনে আমর (রা) রাসূলে করীম (সা)-এর এই হাদীসটিও বর্ণনা করেছেন:

مَنْ حَالَتْ شَفَاعَتُهُ دُونَ حَدُ مِنْ حُدُودِ اللهِ فَقَدْ ضَادَّ اللَّهُ فِي أَمْرِهِ

আল্লাহ্ নির্ধারিত শাস্তিসমূহরে মধ্যে কোন একটি শাস্তির পথে যদি কারোর সুপারিশ বাধা হয়ে দাঁড়ায়, তাহলে সে আল্লাহ্ বিধান কার্যকর হওয়ার পথে অন্তরায় হয়ে দাঁড়াল।

হযরত উসমান (রা) বলেছেন:

إِذَا بَلَغَتِ الْحُدُودُ السُّلْطَانَ فَلَعَنَ اللَّهُ الشَّافِعَ وَ الْمُشَفْعَ

'হদ্দ' যোগ্য অপরাধের অভিযোগ কর্তৃপক্ষের গোচরীভূত হওয়ার পর তাতে সুপারিশকারী ও যার জন্য সুপারিশ করা হয় উভয়ের উপর আল্লাহ্র অভিশাপ। মাখযুমীয়ার ব্যাপারে হযরত উসামা সুপারিশ করলে নবী করীম (সা) তা প্রত্যাখান করলেন। হযরত আয়েশা (রা) বর্ণনা করেছেন: মাখযুমীয়া নারীটি চুরি করে ধরা পড়লে কুরায়শরা খুব চিন্তিত হয়ে পড়লো। রাসূলের নিকট এই ব্যাপারে কে সুপারিশ করবে তা নিয়ে আলোচনায় স্পষ্ট হলো যে, রাসূলের প্রিয় ব্যক্তি উসামা ছাড়া এই কাজ আর কারোর দ্বারা সম্ভব নয়। তিনি এই ব্যাপারে রাসূলে করীম (সা)-এর সাথে কথা বলায় তিনি ধমকের সুরে বললেন:

اتَشْفَعُ فِي حَدٌ مِّنْ حُدُودِ اللَّهِ ؟

আল্লাহর নির্ধারিত শাস্তি কার্যকরকণের ব্যাপারে 'তুমি সুপারিশ করছ?' পরে তিনি ভাষণ দান প্রসঙ্গে বললেন:

أَيُّهَا النَّاسُ إِنَّمَا ضَلَّ مَنْ كَانَ قَبْلَكُمْ أَنَّهُمْ إِذَا سَرَقَ الشَّرِيفُ تَرَكُوهُ وَ إِذَا سَرَقَ الضَّعِيفُ فِيهِمْ أَقَامُوا عَلَيْهِ الْحَدَّ وَ ايْمُ اللهِ لَوْ أَنَّ فَاطِمَةَ بِنْتُ مُحَمَّدٍ سَرَقَتْ لَقَطَّعَ مُحَمَّدٌ يدها

হে জনগণ! তোমাদের পূর্ববর্তী লোকেরা এই নীতির অনুসারী ছিল যে, তাদের মধ্য থেকে কোন ভদ্র ব্যক্তি চুরি করলে এমনিই তাকে নিষ্কৃতি দিত। আর কোন হীন, দুর্বল ব্যক্তি চুরি করলে তারা তার হাত কেটে দিত। (এই নীতি ন্যায়বাদ পরিপন্থী) আল্লাহ্র কসম! মুহাম্মদ-তনয়া ফাতিমাও যদি চুরি করে, তাহলে মুহাম্মদ তার হাত অবশ্যই কেটে ফেলবে।

হযরত সফওয়ান ইবনে উমাইয়া চাদরমুড়ি দিয়ে মসজিদে নববীতে ঘুমিয়েছিলেন। চোর এসে তাঁর চাদরখানি চুরি করে নিয়ে যায়। পরে সে ধরা পড়লে রাসূলে করীম (সা)-এর দরবারে নীত হয়। তিনি এই অপরাধে তার হাত কাটার হুকুম দেন। তখন সফওয়ান বললেন, ইয়া রাসূল! আমি তো তা চাইনি। আমি চাদরখানি চোরকে দান করে দিলাম। তখন রাসূলে করীম (সা) বললেনঃ

فَهَلَا قَبْلَ لَنْ تَأْتِيْنِي بِهِ

অপরাধীকে আমার নিকট পেশ করার পূর্বে তুমি কেন তাকে ক্ষমা করলে না? আল্লাহ্ বিধিবদ্ধ করা 'হদ্দ' কার্যকর করার ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও যে তা করে না, সে তো আল্লাহ্ ও রাসূলের সহিত লড়াই করে। কুরআন মজীদের আয়াতে এই কথা অত্যন্ত বলিষ্ঠভাবে বলা হয়েছে:

فَلَا وَرَبِّكَ لَا يُؤْمِنُونَ حَتَّى يُحَكِّمُوكَ فِيمَا شَجَرَ بَيْنَهُمْ ثُمَّ لَا يَجِدُوا فِي أَنْفُسِهِمْ حَرَجًا مِّمَّا قَضَيْتَ وَيُسَلِّمُوا تَسْلِيمًا .

না, তোমার প্রভু-প্রতিপালকের কসম! ওরা কেউই ঈমানদার হতে পারবে না, যতক্ষণ না ওরা তোমাকে নিজেদের পারস্পরিক ব্যাপারে চূড়ান্ত ফয়সালাকারী হিসাবে মেনে নেবে এবং পরে তোমার ফয়সালার ব্যাপারে তাদের মনে কোনরূপ দ্বিধা পাবে না ও তোমার ফয়সালাকে অকুণ্ঠিত চিত্তে মেনে নেবে।

টিকাঃ
১. 'রজম' দণ্ডটির উল্লেখ কুরআনের পরিবর্তে 'মুতাওয়াতির' হাদীসে বিধৃত। রাসূলে করীম (সা) ও গোটা মুসলিম উম্মাত এ ব্যাপারে সম্পূর্ণ একমত-ইজমা।

📘 অপরাধ প্রতিরোধে ইসলাম 📄 ‘হদ্দ’ কার্যকর করার জন্য দায়িত্বশীল কে?

📄 ‘হদ্দ’ কার্যকর করার জন্য দায়িত্বশীল কে?


রাষ্ট্রপ্রধান অথবা তার প্রতিনিধি স্থানীয় প্রশাসক ও বিচারপতিগণই শরীয়তের 'হদ্দ' কার্যকর করার জন্য দায়িত্বশীল। আসলে এই কাজটি আল্লাহর হক্। আদর্শবাদী সভ্য সমাজের জন্য তা বিধিবদ্ধ। অতএব সমাজের প্রতিনিধিই তা কার্যকর করার জন্য দায়িত্বশীল হবে।

দ্বিতীয়ত: 'হদ্দ' কার্যকর করার জন্য 'ইজতিহাদ' অপরিহার্য। আর তা কার্যকরকরণে অবিচার বা অসাম্য হয়ে যাওয়ার আশংকাও রয়েছে অনেক। তবে এই কাজটি রাষ্ট্রপ্রধানকে নিজেকেই করতে হবে এমন বাধ্যবাধকতা নেই। রাসূলে করীম (সা) নিজে উনাইসকে জনৈকা বিবাহিতা মহিলাকে যিনার অপরাধে রজম করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। মায়েযকে 'রজম' করার জন্য অন্য লোককে হুকুম করেছিলেন। একজন চোরকে তাঁর দরবারে হাযির করা হলে তিনি বললেন:

اِذْهَبُوا بِهِ فَاقْطَعُوهُ

তোমরা একে নিয়ে যাও এবং পরে তার হাত কেটে দাও।

তবে এ থেকে একটি মৌলনীতি নিঃসন্দেহে প্রমাণিত হয় যে, শরীয়ত সিদ্ধ 'হদ্দ' ও শাস্তিসমূহ কার্যকর করার ব্যাপারে রাষ্ট্রপ্রধানের অনুমতি একান্তই প্রয়োজন। রাসূলে করীম (সা)-এর যুগে তাঁর অনুমতি ব্যতিরেকে এবং খুলাফায়ে রাশেদীনের যুগে খলীফা তথা রাষ্ট্রপ্রধানের অনুমতি ছাড়া কখনই কোন 'হদ্দ' কার্যকর করা হয়নি। এই অনুমতি সাময়িকও হতে পারে যা প্রয়োজনে প্রতিটি ঘটনাকালে দেওয়া হবে, অথবা এই অনুমতি স্থায়ী ভাবে দেওয়া হবে। প্রশাসন ও বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাগণ সেই অনুমতির বলে স্থায়ীভাবে নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করতে থাকবেন, যার যার উপর তা কার্যকর করার প্রয়োজন হবে, তা যথারীতি কার্যকর করবেন।

ইমাম কাশানী লিখেছেন:

ইমাম বা রাষ্ট্রপ্রধান শরীয়তের 'হদ্দ' কার্যকর করার জন্য প্রতিনিধি নিযুক্ত করতে পারবেন। কেননা এসব কাজ তিনি ব্যক্তিগতভাবে ও নিজ হাতে সম্পন্ন করতে পারেন না। যেহেতু তা কার্যকর করার বহু কারণ এবং সে কারণসমূহ দারুল-ইসলামের বিভিন্ন দিকে বিস্তৃত। সবখানে তার নিজের গমন বা উপস্থিতি সম্ভব নয় বা সকলকে তার নিকট উপস্থিত করাও অসম্ভব। এমতাবস্থায় প্রতিনিধি নিয়োগ বৈধ না হলে শরীয়তের 'হদ্দ'সমূহ কার্যকর হওয়াই সম্ভব হবে না। এই কারণে খোদ নবী করীম (সা)-ও শরীয়তের আইন ও 'হদ্দ'সমূহ কার্যকর করার জন্য প্রতিনিধি নিযুক্ত করতেন।

এই প্রতিনিধি নিয়োগ দুই ধরনের। একটি, নির্দিষ্টভাবে শুধু 'হদ্দ' কার্যকর করার জন্য নির্দেশ দান, যার দরুন 'প্রতিনিধি' তা কার্যকর করার ক্ষমতাবান হবে। আর দ্বিতীয়টি হচ্ছে, দায়িত্বশীল বানানো। তা-ও আবার দু'প্রকারের। একটি সাধারণ এবং অপরটি বিশেষ। সাধারণ হয় এভাবে যে, এক ব্যক্তিকে সাধারণভাবে অধিকার সম্পন্ন বানিয়ে দেওয়া হলো, যেমন কোন এলাকার বা বড় শহরের প্রশাসনিক দায়িত্বশীল (গভর্নর বা কমিশনার অথবা জিলা প্রশাসক ইত্যাদি) বানিয়ে দেওয়া হলো। সে সেই এলাকায় যাবতীয় 'হদ্দ' কার্যকর করার কাজ সম্পন্ন করবে, যদিও নির্দিষ্টভাবে সেই ঘটনার জন্য কোন আদেশ আসেনি। কেননা তাকে যখন একটা বড় এলাকার প্রশাসনিক দায়িত্বশীল বানিয়ে দেওয়া হয়েছে তখন সে এই কাজের জন্যও দায়িত্বশীল মনে করতে হবে। তাকে যখন এই প্রশাসনিক কর্তৃত্ব দেওয়া হয় তখন মুসলিম জনগণের কল্যাণে প্রয়োজনীয় যে কোন কাজ করার তার অধিকার আছে। আর শরীয়তের 'হদ্দ 'সমূহ কার্যকর করা তাদের কল্যাণের একটা অতিবড় দিক।

আর বিশেষভাবে দায়িত্বশীল বানানোর ব্যাপারটি হচ্ছে এইরূপ, যেমন কাউকে খারাজ সংগ্রহের দায়িত্ব দেওয়া হলো, ইত্যাদি। সে তো নিশ্চয়ই 'হদ্দ' কার্যকর করার অধিকারী হবে না। কেননা সে দায়িত্ব তাকে দেয়াই হয়নি অথবা বলা যায়, তাকে যে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, 'হদ্দ' কার্যকর করার কর্তৃত্ব তার অন্তর্ভুক্ত নয়।

ফন্ট সাইজ
15px
17px