📄 নিহতের অভিভাবকদের নিকট সুপারিশ
কিসাসে দীয়াতের ব্যবস্থা ইসলামী শরীয়তের একটা বিশেষ ব্যবস্থা। কাজেই কিসাস ক্ষমা করে দীয়াত গ্রহণে নিহতের অভিভাবকদের নিকট সুপারিশ করাও একটা বড় সওয়াবের কাজ, সন্দেহ নেই।
📄 দীয়াত এর পরিমান
মূলত দীয়াতের পরিমাণ হচ্ছে একশতটি উট। শরীয়তের কোন কোন বিশেষজ্ঞ এই মতও দিয়েছেন যে, আসলে রক্ত মূল্যস্বরূপ দিতে হবে স্বর্ণ-যাদের মুদ্রা স্বর্ণ নির্মিত। আর যাদের মুদ্রা রৌপ্য নির্মিত, তাদের রৌপ্য মুদ্রাই দিতে হবে অর্থাৎ প্রচলিত মুদ্রায় নগদ দেয়। স্বর্ণমুদ্রার পরিমাণ এক হাজার দীনার, আর রৌপ্য মুদ্রার পরিমাণ বারো হাজার দিরহাম। যারা গরু পালে, তাদের জন্য দীয়াত হচ্ছে দুইশত গরু। যারা ছাগল পালে তাদের ছাগল দিতে হবে দুই হাজার।
আসল কথা, মৃতের অভিভাবকদের সাথে যত পরিমাণে মীমাংসায় আসা যায়, তা-ই দিতে হবে।
📄 কাফফারা
‘কাফ্ফারা’ শব্দটি ‘কুফর’ থেকে নির্গত। তার অর্থ আবৃত করা, ঢেকে রাখা, কোন অপরাধের শরীয়তসম্মত কাফ্ফারা সেই গুনাহকে আবৃত করে রাখে এবং পুনরায় সেই অপরাধ করা থেকে বিরত রাখে।
এই কাফ্ফারাও ইসলামী শরীয়তের একটি দয়াপূর্ণ ব্যবস্থা, আল্লাহ্র বিশেষ রহমত। মুসলিম ব্যক্তি যদি কখনও ভুলবশত এই হত্যাকাণ্ড করে বসে, তখন সে অপরাধের প্রতিক্রিয়াস্বরূপ স্বাভাবিকভাবে যে জ্বালা ও অনুতাপ হৃদয় মনে জেগে উঠে, তার প্রতিবিধানস্বরূপ এই কাফ্ফারার ব্যবস্থা করা হয়েছে। তা আল্লাহর হক নষ্ট হওয়ার একটা বিশেষ শান্তিও বটে।
আসলে কাফ্ফারার ব্যবস্থা ইসলামী শরীয়তের একটা বিশেষ অবদান। তা যেমন প্রশিক্ষণমূলক, তেমনি সাংগঠনিক পদক্ষেপও বটে। শরীয়তে অনেক প্রকারের কাফফারার ব্যবস্থা রয়েছে। তবে আমরা এখানে শুধু হত্যাকাণ্ডের কাফ্ফারা সম্পর্কেই আলোচনা করব।
টিকাঃ
১. ইসলামী ফিকাহবিদগণ হক-হকুককে কয়েকটি ভাগে বিভক্ত করেছেন। একটি হক খালিসভাবে আল্লাহ্, একটি হক্, খালিস ও পুরাপুরিভাবে বান্দার আর একটি হক্ আল্লাহ্ ও বান্দার মধ্যে মিলিত-যদিও অন্যান্য ফিকাহবিদগণ ভিন্নমত পোষণ করেন। আল্লাহ্র হক্ হচ্ছে খালিস ইবাদতসমূহ। কাফ্ফারাও এই পর্যায়ে গণ্য-যার আলোচনা এখানে করা হয়েছে। বান্দাদের অর্থনৈতিক হক্, রয়েছে, দীয়াত প্রাপ্তি তার একটি। এই কারণেই দীয়াতের যে কোন পরিমাণ নির্ধারণ বা ক্ষমা করে দেয়ারও অধিকার দেয়া হয়েছে দীয়াতের প্রাপকদের। আল্লাহ্ ও বান্দার মিলিত হক্ হচ্ছে কিসাস। কিন্তু বান্দার হক্ তাতে অগ্রাধিকারী প্রাপ্ত। নিহতের অভিভাবকদের কিসাসও ক্ষমা করে দেয়ার অধিকার দেয়া হয়েছে এই কারণেই।
📄 হত্যার ক্ষেত্রে কাফফারা
শরীয়তের বহু আলিমের মতে শুধু ভুলবশত হত্যার ক্ষেত্রেই কাফফারার ব্যবস্থা করা হয়েছে। তার উদ্দেশ্য হচ্ছে গুনাহ্ গোপন করা, গুনাহ্ প্রতিফল ক্ষমা পাওয়া। ইচ্ছাপূর্বক হত্যাকাণ্ডের গুনাহ্ অত্যন্ত বড় ও কঠিন। এই কাজের প্রতিফল খুবই ভয়াবহ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তাই ইচ্ছামূলক হত্যাকাণ্ডে কাফফারার কোন অবকাশ নেই। অপর বিশেষজ্ঞগণের মতে ইচ্ছামূলক হত্যায়ও কাফফারা দেওয়া ওয়াজিব। কেননা ভুলবশত হত্যার তুলনায় ইচ্ছামূলক হত্যায় গুনাহের স্খলন অধিকতর প্রয়োজন, 'আর যে গুনাহ্ গোপন করার লক্ষ্যে কাফফারার ব্যবস্থা করা হয়েছে, সেই গুনাহ্ তো ইচ্ছামূলক হত্যায় অনেক মাত্রায় বেশি। অতএব তাতেও কাফ্ফারা দেয়া ওয়াজিব হওয়াই বাঞ্ছনীয়।