📄 ইসলামী শরীয়তে ‘দীয়াত’ ব্যবস্থা
ইসলামী শরীয়তে কিসাসের সাথে সাথে ‘দীয়াতে’র বিধান এই উম্মতের প্রতি একটি অন্যতম দয়াপূর্ণ ব্যবস্থা হিসাবে বিধিবদ্ধ হয়েছে। পূর্ববর্তী উম্মত ইয়াহুদী শরীয়তে হত্যাকারীর উপর শুধু কিসাসের বিধান দেওয়া হয়েছিল। আর খৃস্টানদের শরীয়তে ছিল শুধু 'দীয়াতের' ব্যবস্থা। কিন্তু ইসলামী শরীয়ত মধ্যমপন্থী দণ্ড বিধান উপস্থাপিত করেছে। আর এই মধ্যম পন্থা অবলম্বনই ইসলামী শরীয়তের চিরন্তন বৈশিষ্ট্য।
ইসলাম একদিকে পূর্ণমাত্রার সুবিচার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কিসাসের বিধান দিয়েছে। তা পাওয়ার ও দাবি করার অধিকার দিয়েছে নিহত ব্যক্তির অভিভাবকদের। সেই সাথে হত্যা অপরাধের ব্যাপারে সাধারণ মানুষের মনে একটা প্রচণ্ড প্রতিরোধকারী ভীতি সৃষ্টির লক্ষ্যে। অবশ্য সেই সাথেই অভিভাবকদের এই স্বাধীনতাও দেয়া হয়েছে যে, তারা ইচ্ছা করলে কিসাস বাস্তবায়নের পরিবর্তে হত্যাকারীর নিকট থেকে রক্তমূল্য বাবদ প্রচুর পরিমাণের অর্থ নিয়ে তাকে ক্ষমা করে দিতেও পারে। কোন নিহত ব্যক্তির অভিভাবকরা তা করলে অবশ্য আল্লাহর নিকট থেকে তাকে বিপুল সওয়াব দেয়ারও সুসংবাদ দেয়া হয়েছে।
তার কারণ হচ্ছে, ইসলামের দৃষ্টিতে নিহত ব্যক্তির রক্তের প্রতিশোধ নেয়ার বাদী বা দাবিদার হচ্ছে তার অভিভাবকরা। আর তাদের জন্যই শরীয়তে এই ইখতিয়ার প্রদান করা হয়েছে।
📄 কিসাসের বদলে দীয়াত গ্রহণের বৈধতার দলীল
আল্লাহ্ তা'আলা ইরশাদ করেছেন:
"যার জন্য তার ভাইয়ের নিকট থেকে কিছু ক্ষমা করা হবে, তার কতব্য হবে সুনীতির অনুসরণ করা এবং তা যথাযথভাবে তার নিকট আদায় করে দেয়া। এ হচ্ছে তোমাদের প্রভু-প্রতিপালকের নিকট থেকে বোঝা হ্রাসকরণ এবং বিশেষ অনুগ্রহ।" -সূরা বাকারা: ১৭৮
"আর যদি তোমরা ক্ষমা করে দাও, তবে এই ক্ষমা তাকওয়ার নিকটবর্তী কাজ।" -সূরা বাকারা: ২৩৭
"যে লোক তা সাদকা স্বরূপ দান করে দেবে, তা তার জন্য কাফ্ফারা হয়ে দাঁড়াবে।" -সূরা মায়িদা: ৪৫
"এবং ক্রোধ হজমকারী ও লোকদের ক্ষমাদানকারী মুত্তাকী লোক।" -সূরা ইমরানঃ ১৩৪
রাসূলে করীম (সা) বলেছেন:
"কোন লোক যদি কারুর যুলুম ক্ষমা করে দেয়, তা'হলে আল্লাহ্ তার ইজ্জত বৃদ্ধি করে দেবেন।"
হযরত আনাস ইবনে মালিক (রা) বলেছেন:
"রাসূলে করীম (সা)-এর নিকট কিসাসের কোন মামলা উত্থাপিত হলেই আমি দেখেছি, তিনি তা ক্ষমা করে দিয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।"
রাসূলে করীম (সা) বলেছেন:
"কেউ যদি তার দেহে কোন আঘাত পায় কারুর দ্বারা এবং সে তা ক্ষমা করে দেয়, তা'হলে আল্লাহ্ তার মর্যাদা উঁচু করে দিবেন এবং তার ভুল খসিয়ে দিবেন।"
📄 নিহতের অভিভাবকদের নিকট সুপারিশ
কিসাসে দীয়াতের ব্যবস্থা ইসলামী শরীয়তের একটা বিশেষ ব্যবস্থা। কাজেই কিসাস ক্ষমা করে দীয়াত গ্রহণে নিহতের অভিভাবকদের নিকট সুপারিশ করাও একটা বড় সওয়াবের কাজ, সন্দেহ নেই।
📄 দীয়াত এর পরিমান
মূলত দীয়াতের পরিমাণ হচ্ছে একশতটি উট। শরীয়তের কোন কোন বিশেষজ্ঞ এই মতও দিয়েছেন যে, আসলে রক্ত মূল্যস্বরূপ দিতে হবে স্বর্ণ-যাদের মুদ্রা স্বর্ণ নির্মিত। আর যাদের মুদ্রা রৌপ্য নির্মিত, তাদের রৌপ্য মুদ্রাই দিতে হবে অর্থাৎ প্রচলিত মুদ্রায় নগদ দেয়। স্বর্ণমুদ্রার পরিমাণ এক হাজার দীনার, আর রৌপ্য মুদ্রার পরিমাণ বারো হাজার দিরহাম। যারা গরু পালে, তাদের জন্য দীয়াত হচ্ছে দুইশত গরু। যারা ছাগল পালে তাদের ছাগল দিতে হবে দুই হাজার।
আসল কথা, মৃতের অভিভাবকদের সাথে যত পরিমাণে মীমাংসায় আসা যায়, তা-ই দিতে হবে।