📘 অপরাধ প্রতিরোধে ইসলাম 📄 শরীয়ত মহান

📄 শরীয়ত মহান


ইসলামী শরীয়ত সমাজ ও জাতি গঠনে একটা অনন্য অবদান রাখতে পারে। এই শরীয়তের একটা উন্নত ও উচ্চতর লক্ষ্য রয়েছে। সেই লক্ষ্যকে বাস্তবায়িত করার জন্য তার চেষ্টা ও তৎপরতা চির অব্যাহত। মহান দৃষ্টান্ত, উচ্চতর মূল্যমান ও উন্নত চরিত্র স্থাপনই হচ্ছে তার লক্ষ্য। শরীয়ত সেই লক্ষ্য সম্মুখে রেখেই সমাজ ও জনসমষ্টি অর্থাৎ জাতিকে ক্রমাগতভাবে গড়ে তুলতে থাকবে।
এ শরীয়ত চিরন্তন ও শাশ্বত। কেননা তা বিশেষ জাতি, শ্রেণী, বর্ণ, বংশ বা কোন ভৌগোলিক অঞ্চলের সহিত সম্পৃক্ত নয়। এ শরীয়ত নির্বিশেষে সমস্ত মানুষের জন্য- বিশেষ একটা সময়ের, দেশের মানুষের সহিত তা সম্পর্কিত নয়, সকল কালের সকল যুগের সকল সময়ের ও সকল দেশের মানুষের সহিতই তার সম্পর্ক এবং তাদেরকে সেই লক্ষ্যের পানে পরিচালিত করতে সর্বতোভাবে সক্ষম। এই শরীয়ত কাল-বর্ণ- বংশ-ভাষা ও স্থানের সংকীর্ণতার অনেক ঊর্ধ্বে, সম্পূর্ণভাবে বিশ্বজনীন।
এ শরীয়ত পূর্ণাঙ্গ। কোনরূপ অসম্পূর্ণতা বা কমতি তাকে স্পর্শ করেনি। তা পূর্ণাঙ্গ তার লক্ষ্যে, তার সামগ্রিক নিয়ম-বিধান ও আইনে। তাই তা কখনই কোন পরিবর্তন বা পরিবর্ধন অথবা সংযোজন গ্রহণ করতে প্রস্তুত নয়। কেননা তা মানুষের রচিত নয়, রচিত স্বয়ং বিশ্ব মালিক মহান আল্লাহ্ কর্তৃক। আর আল্লাহ্ তো শাশ্বত ও চিরন্তন, তাই তাঁর রচিত এই শরীয়তও চিরন্তন এবং শাশ্বত। মানুষ যে বর্ণের, যে বংশের, যে জাতির, যে স্থানের ও দেশের-কালের হোক-না-কেন, যে ভাষা-ভাষীই হোক-না-কেন, তাকেই তা এমন এক উন্নত মানের তুলতে পারে, যেখানে তার ভূমিকা হবে মহান, তার দায়িত্ব-কর্তব্য হবে উচ্চতর। তথায় শান্তি, শৃঙ্খলা, সুবিচার ও ন্যায়পরতা, সাম্য ও অভিন্নতা এবং তারই ফলশ্রুতিতে পারস্পরিক প্রীতি-ভালোবাসা, স্থিতিশীলতা ও পরম সৌভাগ্য প্রত্যেকটি নাগরিকের জন্য সাধারণ লভ্য করে দিতে সক্ষম।

📘 অপরাধ প্রতিরোধে ইসলাম 📄 তওবার দরজা সদা উন্মুক্ত

📄 তওবার দরজা সদা উন্মুক্ত


শরীয়ত অপরাধীকে তার কৃত অপরাধের জন্য-অপরাধ সংঘটিত হওয়ার পর শাস্তিদানের ব্যবস্থা করেছে। সেই সাথে তওবা'র দ্বারও সদা উন্মুক্ত করে রাখা হয়েছে খুব প্রশস্ত করে। তা কখনই বন্ধ হয়ে যায় না। এমনকি জান-কান্দানী শুরু হয়ে যাওয়া বা পশ্চিম থেকে সূর্যোদয় হওয়া পর্যন্ত উন্মুক্তই থাকবে।
এভাবে শরীয়ত মুসলিমকে আত্ম সংশোধনের সুযোগ দিচ্ছে। তা সত্ত্বেও যদি কেউ তার ভুল পৌনপুনিকতার সহিত করতেই থাকে, তা'হলে তার অর্থ এই দাঁড়াবে যে, সে এই ভুল বা পাপকে হালাল মনে করে। কিন্তু ইসলামের দৃষ্টিতে এটাই শির্ক। কেননা হালাল-হারাম নির্ধারণের নিরংকুশ অধিকার একমাত্র আল্লাহ্। কিন্তু উপরোক্ত অবস্থায় সে অধিকার সে নিজের জন্য নির্দিষ্ট করে রাখছে বলে মনে হয় এবং তার মাধ্যমে সে আল্লাহ্র কর্তৃত্ব নিয়ে দ্বন্দ্ব করছে এবং নিজেকে সেই অধিকারের অংশীদার বানিয়ে দিচ্ছে। এ কারণে তার জন্য অপেক্ষা করছে প্রথমে দুনিয়ার শান্তি এবং পরে পরকালীন চিরকালীন কঠিন শাস্তি।

ফন্ট সাইজ
15px
17px