📘 অপরাধ প্রতিরোধে ইসলাম > 📄 কিসাস

📄 কিসাস


'দণ্ড' (Punishment) বলতে বোঝায় এক ব্যক্তির কোন অপরাধ করার পর তার প্রতিফল স্বরূপ যা করা হয় তা।
অপরাধ : ইসলামী শরীয়তে এমন কাজ করাকে অপরাধ বলা হয়, যা শরীয়তের দৃষ্টিতে নিষিদ্ধ বা আপত্তিকর। যে কাজ করতে নিষেধ করা হয়েছে তা করা এবং যে কাজের আদেশ করা হয়েছে তা না করাই হলো অপরাধ।

📘 অপরাধ প্রতিরোধে ইসলাম > 📄 দণ্ড বিধিবদ্ধ হওয়ার কারণ

📄 দণ্ড বিধিবদ্ধ হওয়ার কারণ


ইসলামী শরীয়তে কাউকে আযাব বা কষ্টদানের লক্ষ্যে এই দণ্ডদানের ব্যবস্থা করা হয়নি। এ ব্যবস্থা করা হয়েছে সুচরিত্রবান ব্যক্তি গঠন, সঠিক পথে তাকে প্রতিষ্ঠিতকরণ এবং পরিশুদ্ধ নির্দোষ বানানোর লক্ষ্যে। তা কেবল সেই ব্যক্তির জন্য নয় যে অপরাধ করেছে, বরং তা গোটা ইসলামী সমাজের জন্য। কেউ যেন হীনতা, নীচতা-চরিত্রহীনতার নিম্নতম পংকে ডুবে না যায়, বরং উচ্চতর মান ও মর্যাদার দিকে উন্নত হয়ে উঠে শাস্তি, নিরাপত্তা, পারস্পরিক মানবীয় সম্পর্কের মর্যাদা রক্ষা এবং পরস্পরের মধ্যে ভ্রাতৃত্ববোধ, ভালবাসা-প্রীতি গড়ে তোলার উদ্দেশ্যে।
শরীয়তের ও তার লক্ষ্যের অনবদ্যতার দৃষ্টান্ত : এই পর্যায়ে আমরা এ কথার উল্লেখ করাই যথেষ্ট মনে করি যে, যে ব্যক্তি ব্যভিচার করার স্বীকারোক্তি করেছে, এই স্বীকারোক্তি থেকে ফিরে যায়নি, ফলে তার উপর শরীয়তের নির্দিষ্ট শাস্তি 'হদ্দ' কার্যকর হয়েছে, সেই ব্যক্তির উপর অভিশাপ করতে রাসূলে করীম (সা) নিষেধ করেছেন এবং বলেছেন: এই ব্যক্তি খালিস ও নির্ভেজাল তওবা করেছে এবং সে তার রূহকে নিয়ে উত্তমভাবে তার পথে চলে গেছে।
আমরা এদিকেও ইঙ্গিত করা যথেষ্ট মনে করি যে, ইসলামী শরীয়ত আগে থেকেই জানিয়ে দিয়েছে, অপরাধীর উপর নির্দিষ্ট দণ্ড বা তা'যীরী দণ্ড কার্যকর হওয়ার পর তার উপর থেকে অপরাধের কলুষতা দূরীভূত হয়ে যায়। তার কারণ, ইসলামী শরীয়ত মানুষকে তার বৈশিষ্ট্য-বিশেষত্বসহ পুনর্গঠিত করতে ইচ্ছুক।
আমরা নির্বিশেষে সকল মানুষের কথাই বলছি। কেননা উপরে যে কথাটি বলা হলো তা শুধু মুসলমানদের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য নয়, ইসলামী রাষ্ট্রে বসবাসকারী সকল অমুসলিম নাগরিকদের বেলায়ও তা সত্য। তারা তথায় ইসলামী রাষ্ট্রের পূর্ণ সংরক্ষণ লাভ করে এবং নির্ভেজাল সুবিচার ও নিরপেক্ষ ন্যায়পরায়ণতা পাওয়ার পূর্ণ অধিকার ও সুযোগ-সুবিধা ভোগ করে। ইসলামী রাষ্ট্রবিজ্ঞানের পরিভাষায় এদের 'যিম্মী' বলা হয় এই কারণেই যে, তাদের সর্বাঙ্গীণ নিরাপত্তার দায়িত্ব ইসলামী সরকার গ্রহণ ও পালন করে।

📘 অপরাধ প্রতিরোধে ইসলাম > 📄 শরীয়ত আত্মার লালন ও মন-মানসিকতা সুদৃঢ় করে

📄 শরীয়ত আত্মার লালন ও মন-মানসিকতা সুদৃঢ় করে


অপরাধীর উপর দণ্ড কার্যকর করার পর তাকে অপরাধের দোষ থেকে মুক্ত মনে করে ইসলামী শরীয়ত তাকে মনস্তাত্ত্বিকভাবে-যে পরিবেশের মধ্যে পড়ে সে অপরাধ করেছিল সেখান থেকে বের করে সেই পরিবেশের মধ্যে নিয়ে যেতে চায়, যেখানে সে স্বীয় মর্যাদার ব্যাপারে সচেতন হতে পারবে, মনে করতে পারবে যে, সে মনুষ্যত্বের মান থেকে নীচে নেমে যায়নি, সে সাময়িকভাবে ভুল করেছিল মাত্র এবং সে ভুলটা নিতান্তই মানবিক কারণে। কেননা মানুষ মাত্রই ভুল-ভ্রান্তির অধীন, তা থেকে মুক্ত নয়। ফলে তাৎক্ষণিকভাবে সে এই চেতনার অধিকারী হবে যে, সে তার নিজের সমাজেরই একজন, সেখানে অন্য আরও শত-হাজার-লক্ষ মানুষ রয়েছে। তার উপর যে 'হদ্দ' বা তা'যীর কার্যকর হয়েছে, তাতে বরং সেই সমাজেরই মান-মর্যাদা বৃদ্ধি পেয়েছে, তার কোন মর্যাদা হানি ঘটেনি। এই সমাজ তার সাময়িক পদস্খলনকে ক্ষমা করে দিয়েছে, যে পতিত হয়েছিল, তাকে হাত ধরে উপরে তোলা হয়েছে। সমাজ থেকে সে দণ্ড হিসেবে যা কিছুই পেয়েছে তা তাকে ভুলমুক্ত করার লক্ষ্যেই দেয়া হয়েছে, তার এবং তার সমাজেরই সার্বিক কল্যাণের জন্য-পিতা যেমন সন্তানের প্রতি করে, ঠিক তেমনি। রোগ হলে যেমন তার চিকিৎসা করা হয়, রোগ প্রতিরোধের ব্যবস্থাপনা গ্রহণ করা হয়, গোটা সমাজের জন্য এও ঠিক তেমনি। এতে করে সমাজ এক উচ্চতর দৃষ্টান্ত স্থাপন করে এবং সমাজ গঠনের উন্নত পদ্ধতিকে সর্বসমক্ষে প্রতিভাত করে তোলে। যে ব্যক্তি বাঁকা পথ ধরেছে তাকে এর দ্বারা সোজা করা হয়। যে চেতনা ও মূল্যবোধ সে হারিয়ে ফেলেছে তা এক সুষ্ঠু, পরিশীলিত ও বাস্তব কর্মব্যবস্থার মাধ্যমে পুনরুদ্ধার করা হয়।

📘 অপরাধ প্রতিরোধে ইসলাম > 📄 দণ্ড ইসলামী সমাজ গঠনের একটি উপায়

📄 দণ্ড ইসলামী সমাজ গঠনের একটি উপায়


বস্তুত ইসলামী রাষ্ট্রের উদ্যোগে যখন এভাবে ইসলামী শরীয়তকে বাস্তবায়িত করা হয়, তখন দণ্ড খালিস ও নির্ভেজাল তওবার একটি পন্থা হয়ে দাঁড়ায় এবং তার ফলে সঠিক দৃঢ়তা আসে সমাজ কাঠামোর মধ্যে। কেননা অপরাধীর উপর দণ্ড কার্যকর করার পর মুহূর্তেই সে এমন এক পরিবেশের মধ্যে এসে যায়, যেখানে সে ভয়ে নয়-আত্মতৃপ্তির দরুন এক আদর্শ নীতির অনুসারী হয়ে যায় এবং তাতে তার দীনের প্রকৃত শিক্ষা এবং তার আকীদা-ভিত্তিক আইন-বিধান বাস্তব ও জীবন্ত রূপ পরিগ্রহ করে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00