📄 ইসলামী দৃষ্টিকোণ
উপরোল্লিখিত আদর্শমানের দণ্ডবিধি পর্যায়ে আমাদের জানতে হবে, ইসলাম এই প্রয়োজন কতটা পূরণ করছে। বস্তুত ইসলামী আদর্শের দৃষ্টিতে বিচার সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ও অনাবিল হওয়া বাঞ্ছনীয় এবং এই কাজ সম্পাদনের পদ্ধতি হতে হবে দ্রুত ও বিলম্বহীন। ইসলামী সমাজে স্বাভাবিক ভাবেই আশা করা যায় যে, অভিযোগকারী, অভিযুক্ত, সাক্ষী এবং বিচারক সকলেই দীনদার ও আল্লাহভীরু হবে। তাই ইসলামী আদর্শানুযায়ী সুবিচার করতে হবে, 'বিচার বিক্রয় করা চলবে না'। তাই যত শীঘ্র সম্ভব, অভিযোগকারীর অভিযোগের প্রতিকার করার ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। কেননা বিলম্বের বিচার-বিচার অস্বীকার করার শামিল। 'বিলম্বিত বিচার অবিচারের নামান্তর।'
ইসলামী দণ্ডবিধির দৃষ্টিতে অপরাধসমূহ দু'টি ভাগে বিভক্ত হতে পারে। প্রথম ভাগে সেসব অপরাধ গণ্য, যার কুফল বা ক্ষতি ব্যক্তি পর্যন্তই সীমিত থাকে এবং সামষ্টিক জীবনে সেসব অপরাধের কোন ব্যাপক ও গভীর প্রভাব পড়ে না। যেমন, কাউকে মারধোর বা আঘাত করা, গালাগাল করা। এসব অপরাধের বেলায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিই স্বীয় প্রতিশোধ স্পৃহা চরিতার্থ করার লক্ষ্যে সরকারী প্রশাসনিক শক্তির সাহায্য গ্রহণ করবে এবং তাকে সক্রিয় বানাবে।
এছাড়া অন্যান্য যাবতীয় অপরাধ দ্বিতীয় ভাগে শামিল। সেসব বন্ধ ও তার প্রতিকারের জন্য সরকারকেই সক্রিয় হতে হবে। আর সে জন্য গোটা সরকার যন্ত্র, বিচার বিভাগ এবং বিচার পদ্ধতিকে-সেই সাথে আদালতের কার্যবিধিকেও-কুরআন-সুন্নাহ, খিলাফতে রাশেদার রীতি-নীতি এবং ফিকাহ্ ইমামগণের ইজতিহাদের আলোকে সম্পূর্ণ নতুন করে ঢেলে তৈরি করতে হবে। তা'হলেই আশা করা যায়, ইসলামের দণ্ডবিধান যথাযথভাবে কার্যকর হতে পারবে, জনগণ সুবিচার লাভের সুযোগ পাবে এবং সমাজ সমষ্টি সকল প্রকার দুষ্কৃতি, উচ্ছৃঙ্খলতা ও নিরাপত্তাহীনতা থেকে মুক্তি লাভ করে দুনিয়ায় বেঁচে থাকার আনন্দ অনুভব করতে সক্ষম হবে।