📄 প্রতিশোধ স্পৃহা চরিতার্থকরণ
কারুর অপরাধে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের মনে স্বাভাবিকভাবেই যে প্রতিশোধ স্পৃহা জেগে উঠে, তা প্রশমিত করার ব্যাপারে আধুনিক শাস্তি ও শাস্তিদান পদ্ধতি সম্পূর্ণ ব্যর্থ প্রমাণিত হয়েছে। কোন চোর বা ডাকাতকে কিছুদিনের জন্য কারাগারে আটকে রাখলে সেই চুরি বা ডাকাতিতে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের কি লাভ হতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে তো এ শাস্তিটা এতই হাস্যকর পর্যায়ে হয়, যার দরুণ ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের মনে প্রতিশোধ স্পৃহা প্রশমিত হওয়ার বদলে আরও অধিক তীব্র হয়ে জেগে উঠে এবং সেই স্পৃহার চরিতার্থতার জন্য তারা নিজেরাই পদক্ষেপ গ্রহণ করতে বাধ্য হয়। ফলে অপরাধের মাত্রা ও সংখ্যা অকল্পনীয়ভাবে বৃদ্ধি পেয়ে যায়। তাই অপরাধীকে দেয় শাস্তিতে এই ভাবধারাটির পূর্ণ অবস্থিতি যে একান্তই জরুরী, অন্যথায় শাস্তিটাই অর্থহীন হয়ে যায়, তাতে কোন সন্দেহ থাকতে পারে না।
📄 সফল ও সার্থক শাস্তি
উপরোদ্ধৃত বিশ্লেষণে একথা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে যে, বর্তমান কালের শাস্তি-সংহিতার মৌলিক পরিবর্তন একান্ত আবশ্যক। অন্যথায় অপরাধমুক্ত সমাজ গঠন কোন ক্রমেই সম্ভব হবে না। অপরাধের মাত্রা ও সংখ্যা ক্রমশ বৃদ্ধিই পেয়ে যাবে-পেতে থাকবে, তা নিঃসন্দেহেই বলা যায়।
তাই শাস্তিতে পূর্বোক্ত তিন প্রকারের ভাবধারার এক সাথে ও পুরোমাত্রায়ই উপস্থিতি একান্তই জরুরী। এজন্য নবতর শাস্তি-সংহিতা গ্রহণ করা ছাড়া উপায় নেই। সমাজে অপরাধমুক্ত করা তো দূরের কথা, অপরাধের মাত্রা ও সংখ্যা হ্রাস করার উদ্দেশ্যে অপরাধের অপরাধত্ব, তার জন্য প্রদত্ত শান্তির যথার্থতা এবং অপরাধ চিহ্নিতকরণ ও শাস্তি বিধান কর্তৃপক্ষের প্রতি ব্যক্তির একটা অকৃত্রিম বিশ্বাস ও আস্থা থাকার আবশ্যকতা ও আলোচনা থেকে প্রকট হয়ে উঠে। কেননা যে কাজটিকে অপরাধ বলা হচ্ছে তা যে বাস্তবিকই অপরাধ, সেই বিষয়ে দৃঢ় প্রত্যয় না থাকলে তা পরিহার করে চলার প্রবণতা জেগে উঠতে পারে না। আর তা-ই যদি না জেগে উঠল, তাহলে তা কেউ পরিহার করে চলবে বলে কোনই আশা করা যেতে পারে না।
দ্বিতীয়, কোন অপরাধের জন্য যে শাস্তি নির্দিষ্ট ও ঘোষিত, তা-ই যে উক্ত কাজের (অপরাধের) যথার্থ শাস্তি, তা ছাড়া অন্য কিছু হতে পারে না—হওয়া উচিত নয়, এই বিষয়েও একটা অবিচল বিশ্বাস থাকা একান্তই জরুরী। নতুবা অপরাধী শাস্তিকে শুধু ভয় করবে না তা-ই নয়, তার প্রতি জাগবে একটা বিদ্রুপের ভাবধারা। সে শাস্তিকে যথার্থ বলে মেনে নিতে কোনক্রমেই রাজি হবে না। সেই সাথে তৃতীয় যে ভাবধারাটি সর্বোপরি ও সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ রূপে স্বীকৃত, তা হচ্ছে, কোন কাজকে অপরাধ বলে ঘোষণাকারী এবং তার জন্য শাস্তি বিধানকারী কর্তৃপক্ষের প্রতি মনের গভীরতর প্রদেশে একটি বলিষ্ঠ বিশ্বাস। এই বিশ্বাস না থাকলে কোন কাজকে অপরাধ বলে এবং তার জন্য নির্দিষ্ট শাস্তিকে শাস্তি বলে মেনে নেওয়াই সম্ভবপর হবে না কারুর পক্ষে। আধুনিক কালে প্রচলিত আইনের শাসন এই কারণেই সম্পূর্ণরূপে ব্যর্থ হয়ে গেছে। সাধারণভাবে নাগরিকদের মনে এবং বিশেষভাবে আইন-প্রয়োগকারী সংস্থাসমূহের সহিত জড়িত ব্যক্তিদের মনে—তার যত বড় দায়িত্বপূর্ণ পদেই নিযুক্ত থাক না কেন—প্রচলিত আইনের প্রতি সামান্যতম শ্রদ্ধাবোধও নেই বলেই আইনের শাসনের এই মর্মান্তিক ব্যর্থতা।
সাধারণভাবে অপরাধ বিমুখতা সৃষ্টি এবং সমাজকে অপরাধমুক্ত করার পথে আর একটি বাধা বর্তমানে ব্যাপক ও প্রবল হয়ে দেখা দিয়েছে। তা হচ্ছে, অপরাধের শাস্তি অধিকতর নমনীয় করার চেষ্টা। তথাকথিত 'উন্নত' ও 'সুসভ্য' সমাজে কঠিন ও কঠোর শাস্তিসমূহের বিরুদ্ধে জিহাদ ঘোষিত হয়েছে। এসব দেশের জনমত কঠিন ও কঠোর শাস্তিসমূহকে 'বর্বরতা' ও 'অসভ্যতা' নামে অভিহিত করেছে এবং তা খতম করার জন্য সেখানকার জনগণ অত্যন্ত বেশি সোচ্চার ও সচেষ্ট। কিন্তু এর মূলে নিহিত কারণটি কি?
আসলে পাশ্চাত্য ধর্মহীন দর্শনের মৌল দৃষ্টিকোণই ভুল। এর প্রথম মৌল ধারণা হচ্ছে, এই খোদাহীন বস্তু জগতে মানুষ পশু পরিবারে কতিপয় দুর্ঘটনার সাযুজ্যের ফলে অস্তিত্ব লাভ করেছে। সে কোন ইচ্ছাশক্তি সম্পন্ন ও সুবিজ্ঞানী স্রষ্টার সৃষ্ট নয়। সে নয় কোন আধ্যাত্মিক ও নৈতিক সত্তা। তার উপর 'খিলাফত' নামের কোন আদর্শ বাস্তবায়নের দায়িত্ব অর্পিত নয়, সে তার কার্যকলাপের ব্যাপারে কোন উচ্চতর সত্তার নিকট জবাবদিহি করতেও বাধ্য নয়।
মানবেতিহাস সম্পর্কিত এই মৌল বস্তুবাদী দর্শনের বিশেষ দৃষ্টিকোণ হচ্ছে- মানুষ ইতিহাস-পূর্ব কালে অন্ধকারে নিমজ্জিত ছিল। তা ছিল অন্ধকারাচ্ছন্ন যুগ এবং তখন মানুষ বন্য জন্তু-জানোয়ারের ন্যায় জীবন যাপন করতো আর এভাবেই হয়েছে তাদের জীবনের সূচনা। উত্তরকালে বহু মানুষের একত্রিত জীবন যাপনের কারণে তাদের মধ্যে সভ্যতার সূচনা হয়। এই সময় এমন কিছু কষ্টদায়ক ও অবাঞ্ছিত কার্যকলাপকে 'অপরাধ' বলে চিহ্নিত করা হয়, যা সামষ্টিকভাবে কোন 'সভ্য সমাজ অংশের' সব অংশীদাররা বন্ধ করতে চেয়েছিল। সে সব অপরাধের জন্য তারা নিজেদের 'অর্ধসভ্য' ও 'অর্ধ-অসভ্য যুগের' চাহিদা অনুযায়ী সভ্যতা পরিপন্থী শাস্তিসমূহ নির্ধারণ করে। এ যুগের অপরাধ ও শাস্তি নির্ধারণের উপর সাধারণত ধর্ম বা দেবতাদের প্রচ্ছায়ার প্রভাব লক্ষ্য করা যায়। সেই সাথে পূর্বপুরুষের প্রতি ভক্তি-শ্রদ্ধার কারণে তাতে 'পবিত্রতা'র ভাবধারা সৃষ্টি করা হয়েছে। তখন সে বিষয়ে স্বাধীন বিবেক-বুদ্ধির আলোকে চিন্তা বিবেচনা করার কোন ক্ষমতা বা যোগ্যতাই কারুর মধ্যে ছিল না। এক্ষণে 'সুসভ্য পাশ্চাত্যে'র নেতৃত্বাধীন যে নবতর সভ্যতার উজ্জ্বলতর যুগের আবির্ভাব ঘটেছে, তাতে 'অপরাধ' ও 'শাস্তি' সংক্রান্ত মতাদর্শসমূহকে বিবেক-বুদ্ধির ভিত্তিতে নতুন করে সভ্যতার মানে নিয়ে আসতে হবে। তবেই তা গ্রহণযোগ্য বিবেচিত হতে পারে।
একালে নবতর গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় নীতিগতভাবে জনগণের এবং কার্যত প্রতিনিধিত্বশীল পার্লামেন্টের সংখ্যাগুরু শাসক দলের হাতে অপরাধ নির্ধারণ ও শাস্তি সাব্যস্তকরণের সম্পূর্ণ দায়িত্ব ও কর্তৃত্ব অর্পণ করা হয়েছে। কোন কাজ অপরাধ কিনা, অপরাধ হলে তা কতটা এবং তার জন্য শাস্তি কি হতে পারে, জনমতের আলোকে সেই শাসক দল-ই তা নির্ধারণ করে পার্লামেন্ট বা জাতীয় সংসদের মধ্যে দাঁড়িয়ে। নতুন যুগের এই 'বিধানদাতা শক্তি' যখন ইচ্ছা যে কোন 'অপরাধ'কে 'শুভ কাজ' এবং যে কোন 'শাস্তি'কে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করতে পারে। তা ঠেকানো কারুর পক্ষেই সম্ভব হয় না।
আর ঠিক এই কারণেই দীর্ঘদিন থেকে চলে আসা কঠিন-কঠোর শাস্তিগুলিকে বাতিল করে দিয়ে খুব-ই হাল্কা ধরনের নাম-কা-ওয়াস্তের শাস্তি নির্ধারণের প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে। কিন্তু সমাজ-জীবনে এর প্রতিক্রিয়া যে কি হতে পারে, তা পরবর্তী দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতাই সঠিকভাবে বলতে পারবে। তবে যুক্তির ভিত্তিতে বলতে পারি, অপরাধের শাস্তি যতই নমনীয় হবে, অপরাধের ব্যাপকতা ও প্রসারতা ততবেশি মারাত্মক হয়ে দেখা দিবে। এ তো অতি স্বাভাবিক কথা, কেননা হালকা-শাস্তি অপরাধের উদ্বোধনকে নির্মূল করতে পারে না। পাশ্চাত্য সভ্যতার পদলেহনকারী একালের লোকদের চোখে হত্যাকাণ্ড, চুরি, ডাকাতি, ব্যভিচার ও মদ্যপানজনিত মাঙ্গামীতে কোনরূপ 'বর্বরতা' পরিলক্ষিত হয় না। বরং সমাজ যদি এসব মারাত্মক ধরনের অপরাধ রোধ এবং জনজীবনকে নিরাপত্তাপূর্ণ করার লক্ষ্যে অপরাধের অপরাধীদের কোন শাস্তি দিতে চায়, তা'হলে তাতেই তারা 'বর্বরতা' ও 'অসভ্যতা' দেখতে পায় এবং সাথে সাথে তা বন্ধ করার জন্য চিৎকার করে উঠে। অপরাধীদের জন্য তাদের মনে সীমাহীন প্রীতি ও সহমর্মিতার অমিয় প্রস্রবণ সদা প্রবহমান; কিন্তু সেসব অপরাধে যারা নির্মূল হলো, যথা-সর্বস্ব হারালো এবং ভীষণভাবে আহত ও ক্ষতিগ্রস্ত হলো, তাদের প্রতি এদের মনে এক বিন্দু দয়ারও উদ্রেক হয় না। আধুনিক বস্তুবাদী সভ্যতার এ একটা বিশেষ অবদান বলে মনে করতে হবে।
আসলে প্রকৃত মানবতার সাথেই এদের চিরন্তন শত্রুতা। আর মানবতার মৌল আদর্শের প্রতি চরম অবজ্ঞা ও অনীহাই উপরোক্ত মনোবৃত্তির মূলে নিহিত কারণ। অমানবিকতাকেই তারা সভ্যতা এবং পাশবিকতাকেই তারা আধুনিক সংস্কৃতি বলে মর্যাদা দিচ্ছে। মানবিক মর্যাদা রক্ষার সকল চেষ্টা প্রচেষ্টাকেই তারা বানচাল করে দিতে বদ্ধ পরিকর।
এ কালের আইন দর্শনে যে দ্বন্দ্ব, মূলত তা এই ভ্রান্ত চিন্তাধারারই ফল। অথচ মানবতার মর্যাদাহানিকর কার্যাবলী প্রতিরোধ করার জন্য কঠিন ও কঠোর শাস্তির ব্যবস্থাও প্রয়োগ করা যে একান্তই অপরিহার্য তাতে কোন সুস্থ বিবেক-বুদ্ধির মানুষের একবিন্দু মতবিরোধ থাকতে পারে না। অপরাধের শাস্তি যদি 'ভয়াবহ' ও 'আতংক সৃষ্টিকারী' না হয়, তাহলে মানুষ যে অপরাধ থেকে বিরত থাকবে না, তা যুক্তি দিয়ে বোঝাবার প্রয়োজন পড়ে না। 'যেমন কর্ম তেমন ফল'-'দুষ্টের দমন, শিষ্টের পালন' কথাটি তো সাধারণ সত্যরূপেই প্রচলিত। কিন্তু এক্ষণে তার বিপরীতটাই প্রবল হয়ে দেখা দিয়েছে।
এ দীর্ঘ আলোচনার সারকথা হচ্ছে, শাস্তি যত কঠিন ও কঠোর হবে, যত শিক্ষামূলক ও দৃষ্টান্তস্থানীয় এবং ভয়াবহ ও আতঙ্ক সৃষ্টিকারী হবে এবং যত নিবর্তনমূলক হবে, জনসমাজ ততই অপরাধমুক্ত হবে। পক্ষান্তরে শাস্তি যতই নমনীয় বা হালকা হবে, সমাজে অপরাধের উদ্বোধন ততই তীব্র হয়ে উঠবে। আর অ-যথেষ্ট শাস্তি এবং কঠোর শাস্তির কার্যকরতার অনিশ্চয়তাও অপরাধ দমনে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হতে বাধ্য। ফলে অপরাধের মাত্রা ও সংখ্যা অনেক-অনেক গুণ বৃদ্ধি পেয়ে যাবে। আধুনিক ইউরোপীয় দেশসমূহের আদালতের 'রেকর্ড'ই অকাট্যভাবে প্রমাণ করে যে, সর্বত্র অপরাধের মাত্রা কত ব্যাপক। এরপরও যদি শাস্তি হাল্কা করে দেয়া হয়- কঠিন-কঠোর শাস্তি সমূহ বাতিল করা হয় বা তার কার্যকরতা সুনিশ্চিত না হয়, তাহলে সে সব দেশে সভ্য শান্তিকামী মানুষের জীবন যে সম্পূর্ণ অসম্ভব হবে, তাতে কোনই সন্দেহ থাকতে পারে না। এমন সময় দূরে নয়, যখন অতি সাধারণ ও নগণ্য ব্যাপারেও মানুষ কঠিন-কঠোর মাত্রায় প্রতিশোধ গ্রহণে মেতে উঠবে। বিচারের দণ্ড নিজ হাতে তুলে নেবে। সভ্য সমাজ ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠাকল্পে যে বিচার বিভাগের উদ্ভাবন করেছে, তা নস্যাৎ করে 'স্বহস্তে প্রতিশোধ গ্রহণের' দৈত্য (Evils of voilant self help) নগ্ন নৃত্যে মেতে উঠবে, তা নিশ্চিত করেই বলা যায়। আর তার ফলে মানব সমাজ ধীরে ধীরে সেই ইতিহাস পূর্বকালীন বর্বরতা ও অসভ্যতার শিকার হবে, অন্ধকারাচ্ছন্ন যুগে ফিরে যাবে, যা এর অবধারিত পরিণতি। সে যুগে জৈবশক্তিই ছিল সুবিচারের মানদণ্ড (Might is right) |
কিন্তু আজকের দিনে তার কল্পনা করাও সভ্য মানুষের পক্ষে চরম অবমাননাকর। অপরাধ ও শান্তি পর্যায়ে এ ধরনের 'দার্শনিক চিন্তা-ভাবনা' মানুষের জন্য আদৌ গ্রহণযোগ্য নয়। কেননা প্রকৃতি মানবতার ধ্বংস চায় না, চায় বিকাশ, অগ্রগতি ও ধাপে ধাপে উন্নতি। কিন্তু শাস্তির ক্ষেত্রে নমনীয়তা অপরাধ বৃদ্ধির কারণ ঘটাবে, মানুষকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেবে। তাই এই নমনীয়তার মতাদর্শ অগ্রাহ্য করে শাস্তি কে গ্রহণ করতে হবে। যা যা অপরাধ রূপে চিহ্নিত, তাকে অপরাধ মনে করতে হবে এবং তার জন্য যে, শাস্তি নির্ধারিত তার প্রতিও শ্রদ্ধাবোধ জাগাতে হবে। আর এই অপরাধ ও তার জন্য শাস্তি নির্ধারণকারী হতে হবে এমন এক সত্তাকে, যার প্রতি একটা সাধারণ শ্রদ্ধাবোধ ও সমীহ ভাব সকল মানুষের মনে স্বাভাবিকভাবেই বিদ্যমান। অপরাধমুক্ত সমাজ গঠনে এর বিকল্প কিছু নেই।
আদর্শ শাস্তির শিক্ষামূলক হওয়াটাও একান্তই প্রয়োজনীয়। কেননা সমান অবস্থায় শাস্তি যতই শিক্ষামূলক হবে, অপরাধের উদ্বোধন ততই বাধাগ্রস্ত হবে। এই কারণে শাস্তিসমূহ গোপনে নয়, প্রকাশ্যভাবে ও জনগণের উপস্থিতিতে কার্যকর করার ব্যবস্থা করতে হবে। শাস্তির শিক্ষামূলক হওয়ার বাস্তবতা এটাই। আজ পর্যন্ত দুনিয়ায় এটাই দেখা গেছে যে, জনগণকে যে কাজ থেকে বিরত রাখা কাম্য, তা করার অপরাধের শাস্তি সাধারণত প্রকাশ্যেই কার্যকর করা হয়েছে। রাষ্টদ্রোহীদের মৃত্যুদণ্ড দান প্রকাশ্যভাবে করাই সাধারণ নিয়ম। অপরাধীর উপর কার্যকর শাস্তি যদি জনগণই প্রত্যক্ষ করতে না পাললো, তাহলে সেই অপরাধ থেকে জনগণের বিরত থাকার কোন প্রশ্নই উঠতে পারে না। অতএব শাস্তি শুধু কঠোর-কঠিনই নয়, প্রকাশ্যভাবে কার্যকর করার ব্যবস্থা নেয়াও একান্তই কর্তব্য।
শাস্তিকে নিবর্তনমূলকও হতে হবে অর্থাৎ প্রয়োজনে অপরাধীকে জনসমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন করে কয়েদী জীবন যাপনে বাধ্য করতে হবে। কেননা পরিস্থিতি এরূপ হয়ে দাঁড়াতে পারে যে, অপরাধীকে আটকে না রাখলে তা অপরাধমূলক কার্যকলাপে সাধারণ মানুষের জীবন দুঃসহ হয়ে উঠতে পারে, তারা কঠিনভাবে বিপদগ্রস্ত হয়ে পড়তে পারে। এ ধরনের অপরাধীকে কারাগারে আটকে রাখা হলে অপরাধজনক কার্যকলাপ থেকে তাকে বিরত রাখা সম্ভবপর হতে পারে। সেই সাথে আশা করা যেতে পারে যে, কারাগার থেকে মুক্তির পর সে কারাজীবনের দুঃসহ কষ্টের কথা স্মরণ করে অনুরূপ অপরাধজনক কাজের দিকে পদক্ষেপ গ্রহণ থেকে বিরত থাকবে।
কিন্তু একথা অস্বীকার করার উপায় নেই যে, বর্তমানকালের কারাগারগুলির অবস্থা অত্যন্ত নৈরাশ্যজনক। এখানে কেবলমাত্র রাজবন্দী ছাড়া অন্যান্য সকল অপরাধের কয়েদীরা পরস্পরের সহিত একত্রিত হওয়ার ও কথাবার্তা বলার বিরাট সুযোগ পায় বলে তথায় অভ্যস্ত কয়েদীরা অন্যান্য সরল বা নতুন অপরাধী কয়েদীদের উপর প্রভাব বিস্তার করে এবং তাদের পাক্কা অপরাধী বানিয়ে দেয়। ঘটনাবশত (Accidentally) অপরাধকারী কয়েদীরা ঘাগু অপরাধী হয়ে গড়ে উঠবার প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ লাভ করতে পারে। তাছাড়া সাধারণ কয়েদীরা যেরূপ কষ্টের জীবন কাটাতে বাধ্য হয়, তাতে তাদের মনে গোটা সমাজ ব্যবস্থার প্রতি একটা বীতশ্রদ্ধা একটা প্রতিহিংসা ও প্রতিশোধ গ্রহণের আক্রোশ জেগে উঠাও অসম্ভব নয়। এই কারণে অপরাধীরা অপরাধ করার পর কারারুদ্ধ হয়েও কারাগারের চার প্রাচীরের অভ্যন্তরে অপরিচিতির অস্বস্তি ভোগ করে না। ফলে কারাগারের শাস্তি তাদের জন্য শাস্তিরূপে প্রতিভাতই হয় না। তা হয়ে উঠে উচ্চতর প্রশিক্ষণ লাভের মনোরম কেন্দ্র বিশেষ।
এই কারণে শাস্তিটা অপরাধের বিরুদ্ধে প্রতিবাদমূলক হতে হবে। অপরাধী যখন অপরাধের কারণে এক অপরিচিত পরিবেশের মধ্যে পড়ে ছট্ফট্ করতে থাকবে, তখন পরবর্তী জীবনে এই পরিবেশগত অপরিচিতির ভয়ে অন্তরের উদ্বোধনকে অপরাধের কারণ হতে দেবে না। এ উদ্দেশ্য লাভের জন্য দৈহিক কষ্টদান বা নির্যাতন সর্বাধিক কার্যকর শাস্তি মনে করা যেতে পারে। তার কথা স্মরণ করে মানুষ সব সময় এমন ভীত ও সন্ত্রস্ত থাকতে বাধ্য হবে যে, অনুরূপ অপরাধ করতে সে আর কখনই মানসিকভাবে প্রস্তুত হবে না। অপরাধের শাস্তিস্বরূপ দৈহিক নির্যাতন এ কালের আইনেও সমর্থিত এবং কিছুমাত্র অস্বাভাবিক নয়। কারাগারের অভ্যন্তরেও যেসব অপরাধী অপরাধ করা থেকে বিরত থাকে না, আজও তাদের বেত্রাঘাতের শাস্তি দেয়া হয়। আর এটা যখন 'বর্বরতা' বিবেচিত হচ্ছে না, তখন এ ধরনের শাস্তি প্রথম কৃত অপরাধের দরুন দেয়া হলে তা অবশ্য প্রতিবাদমূলক ভাবধারা সম্পন্ন শাস্তিরূপে সফল হতে পারে এবং অনেক ঝঞ্ঝাট থেকে বেঁচে যাওয়াও সম্ভব।
তবে এখানে একটি প্রশ্ন উঠে। তা হচ্ছে, যেসব সরল অপরাধীদের জন্য শুধু কারাগারে আটকই সংশোধনের কারণ হতে পারে, তাদের এই কঠিন শাস্তি দেয়া হবে কেন?....এই প্রশ্নের জওয়াবে আমাকে আবার বলতে হবে অপরাধীদের প্রতি এতটা দয়া ও সহানুভূতি জেগে উঠার কারণ কি? অথচ এই অপরাধীরা সমাজের লোকদের পক্ষে অত্যন্ত মারাত্মক ক্ষতিকর। তাদের প্রতি এহেন দয়া ও সহানুভূতি পরিণামে তো অপরাধের সংখ্যা ও মাত্রা বৃদ্ধির কারণ হবে এবং মানব জাতিকে কঠিন বিপদের মধ্যে নিক্ষেপ করার সমতুল্য হবে। এমতাবস্থায় অপরাধীদের জন্য-অপরাধ দমনের লক্ষ্যে কঠিন-কঠোর শাস্তির মতাদর্শ কেন গ্রহণ করা হবে না?.... শাস্তি তো শুধু তাকেই দেয়া হবে, যে অপরাধ করেছে। কোন নিরপরাধ বা শান্তিপ্রিয় সুনাগরিকের পক্ষে কঠিন-কঠোর শাস্তি ভয়ের কারণ হয়ে দেখা দেবে কেন? মন রাখা আবশ্যক, শাস্তির প্রকৃত লক্ষ্য হচ্ছে অপরাধীর ব্যক্তিগত সংশোধন। তা তো শাস্তির প্রতিবাদমূলক ভাবধারার দ্বারাই অর্জিত হতে পারে। অন্য কোন প্রক্রিয়ায় অপরাধীকে তো সংশোধন করা যাবে না।
আদর্শ শাস্তির প্রতিশোধমূলক হওয়ার গুরুত্বও কোন ক্রমেই অস্বীকার করা যায় না। কেউ যখন অপর কারুর অধিকার হরণ করে, তখন এই নির্দয়তার বিরুদ্ধে মযলুমের হৃদয়-মনে একটা তীব্র বিদ্বেষ ও ঘৃণার ভাব সঞ্চারিত হয়। তা-ই অধিকার হরণকারী যালিমের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ গ্রহণের একটা বিশেষ উদ্বোধন সৃষ্টির কারণ হয়ে দেখা দেয়। এই বিশেষ ঘৃণা ও বিদ্বেষভাবের তীব্রতায় মযলুম যালিমের বিরুদ্ধে যে পদক্ষেপই গ্রহণ করে, তা-ই প্রতিশোধ নামে অভিহিত। দুনিয়ার অপরাধের রেকর্ডসমূহ প্রমাণ করবে, এই প্রতিশোধ স্পৃহার চরিতার্থতার কারণেই সাধারণত অপরাধীরা বড় বড় অপরাধ করে বসেছে। এই কারণে শাস্তিটাকে অবশ্যই এই প্রতিশোধ স্পৃহার আগুন নির্বাপনক্ষম হতে হবে। তবে ব্যক্তিগত বা পারিবারিক পর্যায়ের অধিকার হরণকারী অপরাধসমূহের ক্ষেত্রে অপরাধের শাস্তি নিরূপণে সেই ব্যক্তি ও পরিবারেরও কিছুটা ইখতিয়ার থাকা আবশ্যক। শাস্তির চূড়ান্ত ফয়সালা আদালতের ইখতিয়ারভুক্ত থাকলেও তার মধ্য থেকে কোন একটা গ্রহণ করার স্বাধীনতা সেই ব্যক্তি বা পরিবারকে দেয়া হলে তাতে প্রতিশোধ স্পৃহার চরিতার্থতা ভিন্নতর একটি রূপে সম্ভব হতে পারে। যেমন হত্যা অপরাধজনিত প্রতিশোধ গ্রহণ স্পৃহার আগুন নির্বাপনের জন্য তিনটি উপায় বা পন্থার মধ্যে যে কোন একটি অবলম্বন করা যেতে পারে। তা হচ্ছে, ক্ষমা, কিসাস ও দীয়াত। এই তিনটির মধ্য থেকেই যে কোন একটি গ্রহণ করে মজলুম বা ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি প্রতিশোধ গ্রহণ স্পৃহা চরিতার্থ করতে ও তদানুযায়ী অভিযুক্তের সহিত মানবিক আচরণ গ্রহণ করতে পারে। ক্ষমার পন্থা গ্রহণ করলে অভিযুক্ত ব্যক্তি নিষ্কৃতি পেতে পারে। দীয়াত গ্রহণ করতে রাযি হলে সেজন্য সুবিচারের মানদণ্ড নির্ধারণ করতে হবে। আর 'কিসাস' চাইলে আদালত 'কিসাসে'র আইন অনুযায়ী কাজ করবে। মোটকথা, প্রতিশোধ-স্পৃহা চরিতার্থ করার একটা উপায় আদালতী কার্যক্রমের মধ্য দিয়েই পাওয়া যাবে।
এ আলোচনার প্রেক্ষিতে আমরা এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারি যে, একটা আর্দশ দণ্ডবিধানের অধীন ব্যক্তিগত অধিকারের সহিত সাংঘর্ষিক অবস্থায় ব্যক্তির এই অধিকার থাক বাঞ্ছনীয় যে, স্বীয় প্রতিশোধ-স্পৃহা চরিতার্থ করার লক্ষ্যে আদালতি কার্যক্রমের অধীন সে যে কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারবে। আর উপরোক্ত তিনটি অবস্থায়ই আদালত মামলার অবস্থা অনুযায়ী শাস্তির মান নির্ধারণে আইনের পরিধির মধ্যে স্বাধীন হবে।
📄 শাস্তি কিরূপ হওয়া উচিত
অপরাধের স্বরূপের উপর শাস্তির মান নির্ভরশীল। আদালতি কার্যবিধি বা নিয়মতন্ত্র (Procedure) প্রত্যেকটি দেশে স্বতন্ত্র ও ভিন্ন। কিন্তু একটি জিনিস সব দেশের নিয়মতন্ত্রে সমানভাবে লক্ষণীয়। তা হচ্ছে, অপরাধসমূহ সাধারণত দুই ভাগে বিভক্ত। এক ভাগে সেসব অপরাধ গণ্য, যা ব্যক্তির অধিকারের সহিত সাংঘর্ষিক হওয়ার দরুন করা হয় এবং যেসব অধিকার সংরক্ষণের দায়িত্ব সরকার গ্রহণ করেছে। আর দ্বিতীয় ভাগে সেসব অপরাধ গণ্য, যা স্বয়ং সরকারেরই বিরুদ্ধে করা হয়। ব্যক্তি হিসাবে ও ব্যক্তিগতভাবে যে কোন জরুরী ও গুরুত্বপূর্ণ অধিকার হরণ করার দরুন যেসব অপরাধ সংঘটিত হয়, তা তৃতীয় এক পর্যায়ে গণ্য। প্রথম ভাগের অপরাধের বেলা দণ্ড-বিধানের জন্য সরকার যন্ত্রস্বতই সক্রিয় ও তৎপর হয়ে উঠে। কিন্তু দ্বিতীয় প্রকারের অপরাধের বেলা সরকার শক্তি ততক্ষণ পর্যন্ত সক্রিয় হয় না- কোন উদ্যোগ গ্রহণ করে না, যতক্ষণ পর্যন্ত মজলুম ব্যক্তি নিজে ফরিয়াদ না করবে। একালে বিভিন্ন দেশে এই উভয় প্রকারের অপরাধের বিভক্তি বিভিন্নভাবে করা হয়েছে। যেমন, কোন কোন দেশে একটি বিশেষ অধিকার সংরক্ষণের দায়িত্ব সরকারের উপর ন্যস্ত করা হয়েছে। অন্য একটি দেশের ব্যবস্থানুযায়ী সেই অধিকারটি ব্যক্তির তহবিলে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। কিন্তু অপরাধের এই বিভক্তির ব্যাপারে ও প্রতিশোধ গ্রহণ স্পৃহা চরিতার্থতার জন্য কি পদক্ষেপ গ্রহণ করা যেতে পারে, সেদিকে বিশেষ লক্ষ্য রাখা একান্তই জরুরী। অপরাধের প্রকৃতি সংক্রামক কি অন্তর্মুখি, এই ব্যাপারটিও কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। যেমন যে অপরাধের প্রতিক্রিয়া সমাজের উপর যত গভীর হয়ে দেখা দেবে, সেই অনুপাতে অপরাধের বিভক্তিতে একটা মান স্থির করা আবশ্যক। কোন অপরাধের খারাপ প্রতিক্রিয়া গোটা সমাজের জন্য দেখা গেলে তার শাস্তি বিধানের জন্য রাষ্ট্র, সরকারের স্বতঃই এগিয়ে আসা ও সক্রিয় হয়ে উঠা জরুরী মনে হবে। অপর দিকে যে অপরাধের প্রতিক্রিয়া বেশির ভাগ মজলুম ব্যক্তি পর্যন্ত সীমাবদ্ধ, অপরাধীকে তার শাস্তি প্রদানের জন্য সরকার যন্ত্র সক্রিয় হবে তখন, যখন মজলুম ব্যক্তি নিজে চিৎকার করবে ও প্রশাসনের বদ্ধ দুয়ারে করাঘাত হানবে।
আমরাও মনে কি, অপরাধসমূহকে উপরোক্ত দুইটি ভাগে বিভক্ত করা আবশ্যক। অবশ্য আমাদের দৃষ্টিতে বিভক্তির মানদণ্ড ভিন্নতর। আমাদের বিবেচনায় ব্যক্তিগত ধরনের অপরাধে ব্যক্তি একটা সিদ্ধান্তকারী মর্যাদার অধিকারী। সে সরকার যন্ত্রকে নিজের সাহায্যের জন্য ডাকবে, কি ডাকবে না, তার সিদ্ধান্ত সে নিজেই গ্রহণ করবে। আর ডাকলেও 'কিসাস' মতাদর্শের ভিত্তিতে ডাকবে, না দীয়াত-এর মতাদর্শের ভিত্তিতে সাহায্য প্রার্থনা করবে, এ বিষয়েও সে-ই সিদ্ধান্ত নেবার অধিকারী। কিন্তু সামষ্টিক পর্যায়ের অপরাধে রাষ্ট্র-যন্ত্রকে অনতিবিলম্বে সক্রিয় হয়ে উঠতে হবে এবং এই ধরনের অপরাধে 'কিসাস' মতাদর্শ-ই চূড়ান্ত হওয়া বাঞ্ছনীয়। কেননা সরকার 'দীয়াত' গ্রহণ করে অপরাধের ব্যবসায়ে নামতে পারে না। তবে ব্যক্তি ইচ্ছা করলে অপরাধীকে কঠিন শাস্তি থেকে বাঁচাতে পারে-এ অধিকার তার আছে।
অপরাধসমূহের বিভক্তিতে ভাবতে হবে, কোন্ কোন্ অপরাধ সমাজসমষ্টির বিরুদ্ধে এবং কোন্ কোন্টি ব্যক্তির বিরুদ্ধে পড়ে। আধুনিক আইন ব্যবস্থা বাঞ্ছনীয় মানের (Standard) বিভক্তি উপস্থাপনে ব্যর্থ হয়েছে। এই কারণে উচ্ছৃঙ্খলতা ও নির্লজ্জতাজনক কার্যাবলী সমাজ থেকে বিলীন হয়ে যায়নি। তাই প্রস্তাবিত বিভক্তিতে সমাজ থেকে নির্লজ্জতাজনক ও উচ্ছৃঙ্খলতাপূর্ণ কার্যাবলী সম্পূর্ণ নির্মূল করার লক্ষ্যকে সম্মুখে রাখতে হবে গুরুত্ব সহকারে। আমাদের মতে নির্লজ্জতাজনক ও উচ্ছৃঙ্খলতার অপরাধসমূহ-যা গোটা সমাজকে বিপর্যস্ত ও কলুষিত করে দেয়-সরকারী তহবিলে সমর্পিত হওয়া আবশ্যক। সরকার এসব অপরাধের জন্য কঠিন ও কঠোর শাস্তি প্রয়োগ করে এসব মারাত্মক ব্যাধির মাত্রা বা সংখ্যা হ্রাস করে আনবে। আর অবশিষ্ট অপরাধসমূহ ব্যক্তির তহবিলেই গণ্য হতে থাকবে।