📘 অপরাধ প্রতিরোধে ইসলাম > 📄 পরিশিষ্ট

📄 পরিশিষ্ট


উপরোক্ত দীর্ঘ আলোচনায় বলা হয়েছে ইসলামী শরীয়তের আইন প্রণয়নকে দু'টি ভাগে বিভক্ত করা হয়েছে:
১. প্রকৃত অপরাধ, এগুলি বড় বড় অপরাধ
২. তা'যীরী অপরাধ
কিন্তু তার অর্থ এ নয় যে, এ পর্যায়ের অপরাধসমূহ বুঝি প্রকৃত অপরাধ নয়। আসলে বক্তব্য হচ্ছে, কতগুলি অপরাধের শাস্তি শরীয়তদাতা আল্লাহ্ নিজেই নির্ধারিত করে দিয়েছেন, অকাট্য দলীলের ভিত্তিতে তা মওজুদ আছে। আর অনেকগুলি অপরাধেরই শাস্তি শরীয়তদাতা নিজে নির্ধারিত করেন নি এবং তা শরীয়তের অকাট্য দলীল পাওয়াও যায় না। এ পর্যায়ের অপরাধের মধ্যে পার্থক্য স্পষ্ট।
এই বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কেননা দলীল-প্রমাণ সীমিত, আর অপরাধ ও অপরাধ পর্যায়ের ঘটনাবলী তো অশেষ। তা গুণে শেষ করা তো সম্ভব নয়। কেননা মানুষের বিবেক-বুদ্ধি ও মন-মানসিকতা যখন বিকৃত ও বিপথগামী হয়ে পড়ে, তখন তা নিত্য নতুন ও রকমারি অপরাধ উদ্ভাবন করে। কোন একটি বিন্দুতে এসে তা শেষ হয় না, থেমেও যায় না। ইসলামী শরীয়ত এ অবস্থার বাস্তবতা ও গুরুত্ব স্বীকার করেছে।
শায়খুল ইসলাম ইমাম ইবনে তায়মিয়া তা'যীরী পর্যায়ের অপরাধের কয়েক শ্রেণীর উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন: যে সমস্ত অপরাধের 'হদ্দ' নেই, সেগুলিরও শাস্তি রয়েছে, তার কোন বিকল্প নেই। আমানতে খিয়ানত, ধোঁকা-প্রতারণা (Cheat-deceive), ওযনে-মাপে কম দেওয়া, ভালো জিনিসের মূল্য নিয়ে মন্দ বা ত্রুটিপূর্ণ জিনিস দেওয়া, ঘুষ-রিশওয়াত ইত্যাদি এই পর্যায়ের অপরাধের মধ্যে গণ্য।
এ পর্যায়ের অপরাধসমূহের শাস্তি আগে থেকেই নির্ধারিত করে দেওয়া হয়নি, যদিও এগুলি বড় বড় তা'যীরী অপরাধ। তার কারণ, সমাজ সমষ্টির কল্যাণের দৃষ্টিতে তাৎক্ষণিক অবস্থা ও পরিবেশে অপরাধসমূহের মাত্রায় যেমন পার্থক্য হতে পারে, তেমনি গুরুত্বেও পার্থক্য হতে পারে। তাই সেসবের প্রতি কড়া দৃষ্টি রেখে তাৎক্ষণিকভাবে এসব অপরাধের শাস্তি নির্ধারণের দায়িত্ব ইসলামী রাষ্ট্রের প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষের (মজলিস শুরার) উপর ন্যস্ত করা হয়েছে। কিন্তু তাই বলে কোন ব্যক্তি বা সংস্থা বা কর্তৃপক্ষের যে কোন অপরাধে যে কোন শাস্তি নির্ধারণের অধিকার দেওয়া হয়নি। সে জন্য কতগুলি শক্ত নিয়ম-নীতি ও শর্ত ধার্য করা হয়েছে, অপরাধ ও শাস্তির মধ্যকার আনুপাতিকতার উপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে এবং শরীয়তের অকাট্য দলীল ও তার সাধারণ মৌল নীতির বিরোধীতা করার কোন অধিকারই কাউকে দেওয়া হয়নি।
তা'যীরী অপরাধসমূহের জন্য এসব শক্ত নিয়ম-কানুনের মধ্য থেকে শাস্তি নির্ধারিত হবে এবং তাতে শরীয়তের অকাট্য দলীলের বিরোধিতা করা হবে না, সমস্ত আইন 'ইসলামী আইন' রূপে বিবেচিত হবে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00