📄 সমুদ্রের তীরে
[৩৫৯] আবু সালমান রাহিমাহুল্লাহু বলেন-জান্নাতীরা বিনোদনের জন্য সমুদ্রের তীরে যাবে। হুরেইনরা সমুদ্রের তীরে বিশাল চেয়ারের উপর বসে থাকবে। অতঃপর তারা সেখানে রোমান্স করতে থাকবে। চারদিকে থাকবে হিমেল হাওয়া। সমুদ্রের তীরে আছড়ে পড়বে সাগরের ঢেউ।
📄 স্বপ্নের সেই রাণী
[৩৬০] আবু সুলাইমান রাহিমাহুল্লাহু বলেন-ইরাকে একজন যুবক ছিল। সে অনেক ইবাদাত করত। একদিন সে তাঁর এক বন্ধুর সাথে মক্কার সফরে গেল। কিন্তু বন্ধুদের আড্ডায় সে তেমন মেতে উঠত না। তারা গল্পগুজব করলে সে সালাতে দাঁড়িয়ে থাকত, সফরসঙ্গীরা আহারে লিপ্ত হলে সে রোজা থাকত। তাঁর বন্ধু তাঁর এই কাজের উপর ধৈর্যধারণ করল। সফর শেষে যখন দু'জন পৃথক হতে লাগল, তখন ঐ বুযুর্গকে তাঁর বন্ধু জিজ্ঞাসা করল, আচ্ছা, আপনাকে তো আমি সবসময় ইবাদাত করতে দেখি। খাবার-দাবারের প্রতি আপনার তেমন গুরুত্ব দেখি না! আল্লাহর বান্দা জবাবে বলল, ভাই, আমি এক রাতে স্বপ্নে জান্নাত দেখেছিলাম। জান্নাতের ইটগুলো ছিল স্বর্ণের ও রূপার। মনোরম পরিবেশে সুন্দর একটি বালাখানা দেখতে পেয়েছি। দু'পাশে ছিল দু'টি বেলকনি। একটি বেলকনি হবারযাদ মুক্তার দ্বারা নির্মাণ করা হয়েছে। আরেকটি ইয়াকুত পাথরের দ্বারা সজ্জিত করা হয়েছে। জান্নাতের ঝুল বারান্দায় দাঁড়িয়ে ছিল একজন হুর। তার চুলগুলো ছিল এলোমেলো। পরনে ছিল রূপার শাড়ি। শাড়ির চুনকিতে ঝলকাচ্ছিল চারদিক। এ যে এক আকৃষ্টকারী নারী। ঐ হুর ঝুল বারান্দায় দাঁড়িয়ে নরমসুরে বলতে লাগল, হে শাহলুইয়াহ, যদি তুমি আমাকে পেতে চাও, তাহলে আল্লাহর কাছ থেকে আমাকে তোমার জন্য মঞ্জুর করিয়ে নাও। চেষ্টা করতে থাকো আমাকে পাওয়ার। জান্নাতের সেই হুর আমাকে পাগল করে দিয়েছে। তাই আমি রাব্বে কারিমের কাছে সেই হুরকে মঞ্জুর করিয়ে নেয়ার চেষ্টা করছি।
বর্ণনাকারী আবু সুলাইমান রাহিমাহুল্লাহু বলেন—যদি একজন হুর তালাশের জন্য এই পরিমাণ চেষ্টা-মুজাহাদাহ করতে হয়, তাহলে এর অধিক পেতে হলে, কী পরিমাণ চেষ্টা-মুজাহাদা এবং ইবাদাহ করতে হবে (!)।
টিকাঃ
[*] প্রাগুক্ত: ৩১৪১
📄 হুর রমণীর মুচকি হাসি
[৩৬১] ইয়াযিদ আর রক্কাশি রাহিমাহুল্লাহ বলেন-হুর রমণী যখন তার স্বামীর চেহারার দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসবে, তখন হুরের নূরের আলোতে পুরো জান্নাত আলোকিত হয়ে যাবে।
সালেহ রাহিমাহুল্লাহু বলেন, সেদিন মজলিসের কোণে বসে এক ব্যক্তি এ কথা শুনে নিঃশ্বাস নিচ্ছিল। দীর্ঘক্ষণ নিঃশ্বাস নেওয়ার পরে একপর্যায়ে লোকটি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে যায়।
📄 হুর রমণীদের থুথু
[৩৬২] বসরার এক সাহাবি বলেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-যদি কোনো হুর সমুদ্রের পানিতে থুথু ফেলে, তাহলে সেই হুরের থুথুতে পুরো সমুদ্রের পানি মিষ্টি হয়ে যাবে।
[৩৬৩] আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন-জান্নাতী ব্যক্তি তাঁর স্ত্রীর সাথে বসে থাকবে। অতঃপর তাদের কাছে একটি শরাবের পেয়ালা আসবে। হুর স্ত্রীর পরনে থাকবে সত্তর জোড়া রঙ-বেরঙের কাপড়। কাপড়গুলো হবে একেবারে মিহিন। এমনকি কাপড়ের উপর দিয়ে হুর রমণীদের পায়ের মগজগুলো দেখা যাবে।
[৩৬৪] মুজাহিদ রাহিমাহুল্লাহু বলেন-জান্নাতী হুরদেরকে যাফরানের সুগন্ধি থেকে সৃষ্টি করা হয়েছে।
[৩৬৫] আবু উমামা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন-নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করা হলো, হে আল্লাহর রাসুল, জান্নাতীরা কি সহবাস করবে? জবাবে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হ্যাঁ, জান্নাতীরা সহবাস করবে। অনেক সহবাস করার শক্তি তাদের থাকবে। তবে তাদের কোনো বীর্য ইত্যাদি হবে না।
[৩৬৬] আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-জান্নাতে এমন নিয়ামত (সুখ-সামগ্রী) বিদ্যমান আছে, যা কোনো চোখ দেখেনি এবং কোনো কানও শ্রবণ করেনি। কোনো হৃদয়ও কল্পনা করেনি।
টিকাঃ
[**] যয়িফ। আত তারগিব ওয়াত তারহিব: ৪/৫৩৫। পূর্বে সহিহ সনদে এই বর্ণনায় বর্ণিত হয়েছে।
[*] সিফাতুল জান্নাত, ইমাম নুআইম: ৩৪৮।
[**] তাবরানি: ৭৪৭৯।
[***] তাবারি: ১/ ১০৬।