📄 জান্নাতের মাটি
[৩৫৩] উবাই ইবনু কাব রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-আমি জান্নাতে প্রবেশ করেছিলাম, তখন দেখলাম তার পার্শ্বগুলো লুলুয়ূ মুক্তার। আর মাটিগুলো মিশক-আম্বরের।
[৩৫৪] সাঈদ ইবনু জুবাইর রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন-জান্নাতের জমিন হবে রূপার।
[৩৫৫] আল্লাহ তাআলার বাণী: যারা নেক কাজ করেছে, তাদের জন্য রয়েছে কল্যাণ এবং তার চেয়েও বেশী। (সুরা ইউনুস: ২৬) আবু মুসা আশআরী রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, অতিরিক্ত নিয়ামত দ্বারা উদ্দেশ্য হলো, বান্দারা আল্লাহ তাআলার প্রতি দৃষ্টি দিবে।
[৩৫৬] খালিদ ইবনু মাদান রাহিমাহুল্লাহু বলেন-হুর স্ত্রীগণ তারা একটি খিমার ভিতরে তাদের স্বামীদের জন্য কাতারবদ্ধ হয়ে বসে থাকবে। দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষার পরে এক হুর স্ত্রী অপর বান্ধবীকে জিজ্ঞেস করবে, আচ্ছা, তুমি কি জানো যে, আমার স্বামী তোমাদের স্বামীদের উপর প্রাধান্য লাভ করবে? (অর্থাৎ-আমার স্বামী-ই সব স্বামীদের থেকে সেরা স্বামী হবে। হুর-রমণী এমনটা আবেগ এবং অহংকার করে বলবে। কারণ প্রত্যেক স্ত্রী-ই মনে করে যে, আমার স্বামী সব স্বামীদের চেয়ে সেরা।)
অতঃপর যখন (হুরে গিলমানরা) তাঁর স্বামীকে নিয়ে আসবে। তখন সে লজ্জায় আঁচলে তার মুখ ঢেকে ফেলবে।
[৩৫৭] মাকহুল রাহিমাহুল্লাহু বলেন-জান্নাতী হুরদের খাট অনেক সুন্দর এবং সুষম হবে। সুতরাং যার মন চায়, সে যেন জান্নাতের জন্য এগিয়ে যায়। এ কথা শোনার পরে আলি ইবনু বাকার রাহিমাহুল্লাহু কেঁদে দিলেন।
টিকাঃ
৩২৮ [**] সিফাতুল জান্নাহ, ইমাম আবু নুআইম: ১৫৭১।
৩২৯ [*] আল ইতহাফ: ১০/৫৩১।
৩৩০ [] সুরা ইউনুস: ২৬।
📄 জান্নাতু নাঈম
[৩৫৮] মালেক ইবনু দিনার রাহিমাহুল্লাহু বলেন-জান্নাতুল ফেরদাউসের মাঝে জান্নাতুন নাঈম থাকবে। জান্নাতু আদনান, সেখানে থাকবে অনেক ছোট শিশুরা। তারা জান্নাতের ফুল থেকে সৃষ্টি হয়েছে। বলা হলো, সেখানে কারা বসবাস করবে? তিনি বললেন, ঐ সমস্ত লোকেরা বাস করবে, যারা দুনিয়াতে পাপ থেকে দূরে থাকত। দুনিয়াতে আমার কথা স্মরণ করা হলে, তারা আমার নামকে সম্মান করত। আমার ভয়ে তাদের পাঁজরের হাড় কেঁপে উঠত।
📄 সমুদ্রের তীরে
[৩৫৯] আবু সালমান রাহিমাহুল্লাহু বলেন-জান্নাতীরা বিনোদনের জন্য সমুদ্রের তীরে যাবে। হুরেইনরা সমুদ্রের তীরে বিশাল চেয়ারের উপর বসে থাকবে। অতঃপর তারা সেখানে রোমান্স করতে থাকবে। চারদিকে থাকবে হিমেল হাওয়া। সমুদ্রের তীরে আছড়ে পড়বে সাগরের ঢেউ।
📄 স্বপ্নের সেই রাণী
[৩৬০] আবু সুলাইমান রাহিমাহুল্লাহু বলেন-ইরাকে একজন যুবক ছিল। সে অনেক ইবাদাত করত। একদিন সে তাঁর এক বন্ধুর সাথে মক্কার সফরে গেল। কিন্তু বন্ধুদের আড্ডায় সে তেমন মেতে উঠত না। তারা গল্পগুজব করলে সে সালাতে দাঁড়িয়ে থাকত, সফরসঙ্গীরা আহারে লিপ্ত হলে সে রোজা থাকত। তাঁর বন্ধু তাঁর এই কাজের উপর ধৈর্যধারণ করল। সফর শেষে যখন দু'জন পৃথক হতে লাগল, তখন ঐ বুযুর্গকে তাঁর বন্ধু জিজ্ঞাসা করল, আচ্ছা, আপনাকে তো আমি সবসময় ইবাদাত করতে দেখি। খাবার-দাবারের প্রতি আপনার তেমন গুরুত্ব দেখি না! আল্লাহর বান্দা জবাবে বলল, ভাই, আমি এক রাতে স্বপ্নে জান্নাত দেখেছিলাম। জান্নাতের ইটগুলো ছিল স্বর্ণের ও রূপার। মনোরম পরিবেশে সুন্দর একটি বালাখানা দেখতে পেয়েছি। দু'পাশে ছিল দু'টি বেলকনি। একটি বেলকনি হবারযাদ মুক্তার দ্বারা নির্মাণ করা হয়েছে। আরেকটি ইয়াকুত পাথরের দ্বারা সজ্জিত করা হয়েছে। জান্নাতের ঝুল বারান্দায় দাঁড়িয়ে ছিল একজন হুর। তার চুলগুলো ছিল এলোমেলো। পরনে ছিল রূপার শাড়ি। শাড়ির চুনকিতে ঝলকাচ্ছিল চারদিক। এ যে এক আকৃষ্টকারী নারী। ঐ হুর ঝুল বারান্দায় দাঁড়িয়ে নরমসুরে বলতে লাগল, হে শাহলুইয়াহ, যদি তুমি আমাকে পেতে চাও, তাহলে আল্লাহর কাছ থেকে আমাকে তোমার জন্য মঞ্জুর করিয়ে নাও। চেষ্টা করতে থাকো আমাকে পাওয়ার। জান্নাতের সেই হুর আমাকে পাগল করে দিয়েছে। তাই আমি রাব্বে কারিমের কাছে সেই হুরকে মঞ্জুর করিয়ে নেয়ার চেষ্টা করছি।
বর্ণনাকারী আবু সুলাইমান রাহিমাহুল্লাহু বলেন—যদি একজন হুর তালাশের জন্য এই পরিমাণ চেষ্টা-মুজাহাদাহ করতে হয়, তাহলে এর অধিক পেতে হলে, কী পরিমাণ চেষ্টা-মুজাহাদা এবং ইবাদাহ করতে হবে (!)।
টিকাঃ
[*] প্রাগুক্ত: ৩১৪১