📄 রাব্বে কারিমের দিদার হলো সবচে’ বড় নিয়ামাহ
[৩৪৭] আল্লাহ তাআলার বাণী: যারা নেক কাজ করেছে, তাদের জন্য রয়েছে কল্যাণ এবং তার চেয়েও বেশী। (সুরা ইউনুস: ২৬) উপরোক্ত আয়াতের ব্যাখ্যাতে আবদুর রহমান ইবনু আবি লাইলা রাহিমাহুল্লাহু বলেন, যখন জান্নাতীরা জান্নাতে প্রবেশ করবে, তখন তারা যা চাইবে তাদেরকে তা-ই দেওয়া হবে। এরপরে আল্লাহ তাআলা জান্নাতীদেরকে বলবেন-জান্নাতে তোমাদের জন্য একটি নিয়ামাহ আছে যা তোমাদেরকে এখনো দেয়া হয়নি। অতঃপর আল্লাহ তাআলা তাদের সামনে আসবেন। আর আল্লাহ তাআলা দিদার লাভ করার চেয়ে উত্তম আর কোনো নিয়ামাহ জান্নাতে নেই।
[৩৪৮] আবদুল্লাহ ইবনু উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আমি নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, আমি কি জান্নাতের সর্বনিম্ন স্তরের কথা বলে দিব? সাহাবায়ে কেরাম রাদিয়াল্লাহু আনহুম বলল, ইয়া রাসুলুল্লাহ, জি। আপনি আমাদেরকে বলে তা দিন। নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন-সর্বনিম্ন জান্নাতী ব্যক্তি জান্নাতের দরজা দিয়ে প্রবেশের সময়কালে ছোট ছোট শিশুরা বলতে থাকবে, স্বাগতম হে অতিথি, হে মুনিব। এখন আপনার সাথে সাক্ষাত করার সময় হয়ে এসেছে। অতঃপর তার জন্য চল্লিশ বছর মখমলের গালিচা বিছানো হবে। অতঃপর সে ডানে-বামে তাকিয়ে দু'টি জান্নাত দেখতে পাবে। সে বলবে-এই জান্নাত দু'টি কার জন্য? তাকে বলা হবে এগুলো তোমার জন্য। যখন সে তার শেষ প্রান্তে পৌঁছবে তখন সবুজ, ইয়াকুত ও যাবারযাদের নির্মিত বসতবাড়ি দেখতে পাবে। প্রতিটি বাড়িতে সত্তরটি করে ঘর থাকবে, প্রত্যেক ঘরে সত্তরটি করে কামরা থাকবে। প্রত্যেক কামরায় সত্তরটি করে দরজা থাকবে। তারা তাকে বলবে-তুমি উপরে উঠো। ফলে সে উপরে উঠতে থাকবে। যখন সে সর্বোচ্চ সিংহাসনে হেলান দিয়ে বসবে। সেই সিংহাসনটির প্রস্থ হবে দুই মাইল দূরত্ব পরিমাণ। সেখানে তার জন্য বিশেষ কামরা থাকবে। তখন তার নিকট বিভিন্ন রঙের স্বর্ণের সত্তরটি পাত্রে খাবার পরিবেশন করা হবে। সে সব খাবারের স্বাদ উপভোগ করতে থাকবে। এরপর তার নিকট বিভিন্ন রঙের পাত্রে পানীয় পরিবেশন করা হবে। সে সেখান থেকে মন ভরে পান করবে। এরপরে (ফেরেশতারা) বালকদেরকে বলতে থাকব- (হে বালকরা) তোমরা তাকে (জান্নাতী)-কে এবং তার স্ত্রীকে নির্জনে রেখে এখান থেকে চলে যাও। ফলে বালকরা সেখান থেকে চলে যাবে।
এরপরে সে দেখতে পাবে তার খাটে অনেক হুর স্ত্রীরা বসে আছে। তাদের পরনে সত্তর জোড়া কাপড় থাকবে। যাদের কারো কাপর কারো কাপড়ের সাথে মিল থাকবে না। জামার ভিতর গোস্ত ভেদ করে অস্থিমজ্জা, হাড়, রক্ত চলাচল পর্যন্ত দেখা যাবে। জান্নাতী ব্যক্তি হুরেইনের দিকে তাকিয়ে বলবে, তুমি কে? জবাবে হুরেইন বলবে-তোমরা কি আমাদের কপালে জুটবে না? তারা সেখানে চল্লিশ বছর পর্যন্ত অবস্থান করবে। কোনো দিকে তাকাবে না। সেখানে অনেক সুখ এবং নিয়ামাহ থাকবে, ফলে তারা ধারণা করবে যে, এর চেয়ে আর কোনো বড় সুখ নেই। অতঃপর মহান রব তাদের সামনে প্রকাশিত হবেন। জান্নাতীরা সবাই আল্লাহর দর্শন লাভ করবে। তখন আল্লাহ তাআলা বলবেন-হে জান্নাতবাসীগণ, তোমরা আমার প্রশংসা করো। ফলে তারা রহমানের প্রশংসায় মেতে উঠবে। অতঃপর আল্লাহ তাআলা দাউদ আলাইহিস সালামকে বলবেন-হে দাউদ, তুমি দাঁড়াও এবং আমার প্রশংসা করো-যেভাবে তুমি দুনিয়াতে প্রশংসা করতে। ফলে দাউদ আলাইহিস সালাম আল্লাহর তাআলার প্রশংসা করতে থাকবে।
[৩৪৯] মালেক ইবনু দিনার রাহিমাহুল্লাহু বলেন, কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাআলা ফেরেশতাদেরকে উঁচু একটি মিম্বার তৈরী করার জন্য আদেশ করবেন। ফেরেশতারা আল্লাহর আদেশ পেয়ে বিশাল উঁচু একটি মিম্বর নির্মাণ করবে। অতঃপর আল্লাহ তাআলা দাউদ আলাইহিস সালামকে ডেকে বলবেন, হে দাউদ, তুমি এই উঁচু মিম্বারের উপর বসে তোমার নরম সুর দিয়ে আমার প্রশংসা করতে থাকো। যেভাবে তুমি দুনিয়াতে দরদ দিয়ে আমার প্রশংসা করতে। দাউদ আলাইহিস সালাম আল্লাহ তাআলার আদেশ পেয়ে মিনারের উপর বসে আল্লাহর প্রশংসনীয় গান গাইতে থাকবে। তাঁর কণ্ঠ শুনে জান্নাতবাসীরা পাগলপারা হয়ে যাবে। পবিত্র কুরআনুল কারীমে ইরশাদ হয়েছে: وَإِنَّ لَهُ عِنْدَنَا لَزُلْفَى وَحُسْنَ مَآبٍ নিশ্চয় তার জন্য আমার কাছে রয়েছে উচ্চ মর্যাদা এবং উত্তম আবাসস্থল।
টিকাঃ
[**] সুরা ইউনুস: ২৬।
[***] তাফসিরে তাবারি: ১১/১০৬।
[*] যয়িফ। আত তারগিব ওয়াত তারহিব: ৪/৫০৬।
[৩২৫] সুরা সাদ: ২৫।
📄 জান্নাতের গান
[৩৫০] শাহর ইবনু হাওশাব রাহিমাহুল্লাহু বলেন, আল্লাহ তাআলা ফেরেশতাদেরকে বলবেন-আমার বান্দাগুলো দুনিয়াতে গান খুব পছন্দ করত, সুরেলা কন্ঠে গান শোনার জন্য তারা তারা সুন্দর সুন্দর গায়িকাদের ডেকে আনতো। হে ফেরেশতারা, আজ তোমরা আমার বান্দাদেরকে তোমার নরম সুরে গান শুনিয়ে দাও। ফলে ফেরেশতারা অনেক মধুর কন্ঠে আল্লাহর তাসবিহ, তাহলিলের গান শোনাতে থাকবে। যে গান মানুষ ইতিপূর্বে কোনোদিন শোনেনি।
টিকাঃ
[৩২৬] হাদিউল আরওয়াহ, ইবনুল কায়্যিম জাওযি: ১৮৪।
📄 জান্নাতের বড় নিয়ামাহ
[৩৫১] আবু বকর সিদ্দিক রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন-জান্নাতীদের সব রকমের নিয়ামাহ দান করার পরে আল্লাহ তাআলা তাদেরকে অতিরিক্ত একটি নিয়ামাহ দান করবেন, আর তা হলো-আল্লাহ তাআলার দিকে দৃষ্টিপাত করা।
[৩৫২] নুআইম ইবনু হাম্মাদ রাহিমাহুল্লাহু বলেন—আমি আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারক রাহিমাহুল্লাহুকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন, আল্লাহ তাআলার শাস্তি থেকে খুব কম বান্দারাই মুক্তি পাবে।
টিকাঃ
[৩২৭] হাদিউল আরওয়াহ, ইবনুল কায়্যিম জাওযি: ১৮৫।
[৩২৮] তাফসিরে তাবারি: ১১/১০৪।
📄 জান্নাতের মাটি
[৩৫৩] উবাই ইবনু কাব রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-আমি জান্নাতে প্রবেশ করেছিলাম, তখন দেখলাম তার পার্শ্বগুলো লুলুয়ূ মুক্তার। আর মাটিগুলো মিশক-আম্বরের।
[৩৫৪] সাঈদ ইবনু জুবাইর রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন-জান্নাতের জমিন হবে রূপার।
[৩৫৫] আল্লাহ তাআলার বাণী: যারা নেক কাজ করেছে, তাদের জন্য রয়েছে কল্যাণ এবং তার চেয়েও বেশী। (সুরা ইউনুস: ২৬) আবু মুসা আশআরী রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, অতিরিক্ত নিয়ামত দ্বারা উদ্দেশ্য হলো, বান্দারা আল্লাহ তাআলার প্রতি দৃষ্টি দিবে।
[৩৫৬] খালিদ ইবনু মাদান রাহিমাহুল্লাহু বলেন-হুর স্ত্রীগণ তারা একটি খিমার ভিতরে তাদের স্বামীদের জন্য কাতারবদ্ধ হয়ে বসে থাকবে। দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষার পরে এক হুর স্ত্রী অপর বান্ধবীকে জিজ্ঞেস করবে, আচ্ছা, তুমি কি জানো যে, আমার স্বামী তোমাদের স্বামীদের উপর প্রাধান্য লাভ করবে? (অর্থাৎ-আমার স্বামী-ই সব স্বামীদের থেকে সেরা স্বামী হবে। হুর-রমণী এমনটা আবেগ এবং অহংকার করে বলবে। কারণ প্রত্যেক স্ত্রী-ই মনে করে যে, আমার স্বামী সব স্বামীদের চেয়ে সেরা।)
অতঃপর যখন (হুরে গিলমানরা) তাঁর স্বামীকে নিয়ে আসবে। তখন সে লজ্জায় আঁচলে তার মুখ ঢেকে ফেলবে।
[৩৫৭] মাকহুল রাহিমাহুল্লাহু বলেন-জান্নাতী হুরদের খাট অনেক সুন্দর এবং সুষম হবে। সুতরাং যার মন চায়, সে যেন জান্নাতের জন্য এগিয়ে যায়। এ কথা শোনার পরে আলি ইবনু বাকার রাহিমাহুল্লাহু কেঁদে দিলেন।
টিকাঃ
৩২৮ [**] সিফাতুল জান্নাহ, ইমাম আবু নুআইম: ১৫৭১।
৩২৯ [*] আল ইতহাফ: ১০/৫৩১।
৩৩০ [] সুরা ইউনুস: ২৬।