📄 স্বপ্নের মাঝে হুর রমণী
[৩২৬] ইয়াকুব ইবনু ইসহাক রাহিমাহুল্লাহু বলেন—আমি এবং আবু হামজা আল কুব্বানি একদিন ছাদের উপর শুয়ে ছিলাম। রাতে আমি তাকে দেখলাম, সে সারারাত বিছানাতে গড়াগড়ি করছে। সকাল হলে আমি তাকে জিজ্ঞাসা করলাম, হে আবু হামযা, গত রাতে আপনি এমন করলেন কেন? জবাবে তিনি বললেন, আমি যখন গত রাতে ঘুমিয়েছিলাম, তখন ঘুমের ঘোরে আমার কাছে জান্নাতের হুর এসেছিল, হুর ছিল অনেক সুন্দর। তাদের চোখে ছিল অনেক জাদু। আমি তাকে স্পর্শ করার জন্য পাগলপারা হচ্ছিলাম। সে কারণে হয়ত সারারাত এভাবে গড়াগড়ি করছিলাম।
[৩২৭] আবি সুলাইমান রাহিমাহুল্লাহু বলেন—আমার ছেলে ছিল অনেক বুযুর্গ। সে আল্লাহ তাআলার অনেক ইবাদাত করত। একদিন আমাকে বলল, বাবা, আমি গত রাতে স্বপ্নে জান্নাতের হুরের মাথা দেখেছি। হুরের মাথাটি অনেক সুন্দর ছিল। আমার জীবনেও এত সুন্দর আর কোনো মাথা দেখিনি। আমি তাকে বললাম, বৎস, শোনো, তুমি আবার ঘুমাও। তাহলে হয়ত পুরো হুরকে তুমি দেখতে পাবে।
টিকাঃ
[***] হাদিউল আরওয়াহ, ইবনুল কায়্যিম জাওযি: ১৭২।
📄 হুরেরা এখন পর্দায় আবৃত আছে
[৩২৮] আবু সুলাইমান রাহিমাহুল্লাহু বলেন—আল্লাহ তাআলা যখন জান্নাতী হুরকে পরিপূর্ণ সৃষ্টি করেলেন, তখন ফেরেশতাদেরকে আদেশ করলেন, তারা যেন হুরদের উপর পর্দা রেখে দিলেন। অতঃপর ফেরেশতারা তাদেরকে পর্দা দিয়ে ঢেকে দিল।
📄 রোমান্সের একটি জায়গা থাকবে
[৩২৯] আবদুল্লাহ রাহিমাহুল্লাহু বলেন—জান্নাতীদের (বিনোদনের জন্য) একটি মনোমুগ্ধকর জায়গা থাকবে। সেই জায়গাটি একটি তাঁবু দ্বারা বেষ্টিত থাকবে। প্রতিটি তাঁবুর চারটি করে দরজা থাকবে। প্রত্যেক দরজা দিয়ে সকাল-বিকাল বিভিন্ন রকমের হাদিয়া-তোহফা, খাবার-দাবার আসতে থাকবে; যা ইতিপূর্বে জান্নাতী ব্যক্তি কখনো দেখেনি। সেখানে কোনো হৈচৈ, চিৎকার-চেঁচামেচি থাকবে না। চারদিকে থাকবে নিলুয়া বাতাস। হিমেল হাওয়া। জান্নাতের বাতাসে শান্ত হবে জান্নাতীদের মন-অন্তর। খুব কাছে থাকবে হুরেইন। যারা হবে অনেক সুন্দর। যেন তারা লুকায়িত কোনো মনিমুক্তা।
[৩৩০] মাসরুক রাহিমাহুল্লাহু বলেন, আবদুল্লাহ রাহিমাহুল্লাহু বলেছেন-জান্নাতের শ্রেষ্ঠ জায়গাতে একটি খিমা থাকবে। প্রত্যেক খিমায় চারটি করে দরজা থাকবে। প্রত্যেক দরজা দিয়ে সকাল-বিকাল হাদিয়া-তোহফা আসতে থাকবে। যা ইতিপূর্বে কখনো জান্নাতীরা দেখেনি। সেখানে কোনো অহমিকা, দূর্গন্ধ, দুর্যোগ থাকবে না। সেখানে থাকবে ডাগর-ডাগর চক্ষুবিশিষ্ট হুর। যেন তারা সুরক্ষিত ডিম।
[৩৩১] আল্লাহ তাআলার বাণী: كَأَنَّهُنَّ بَيْضٌ مَكْنُونٌ যেন তারা সুরক্ষিত ডিম। (সুরা সাফফাত : ৪৯) এই আয়াতের ব্যাখ্যাতে সাঈদ ইবনু জুবাইর রাহিমাহুল্লাহু বলেন, হুরেইনরা ডিমের কুসুমের মত স্বচ্ছ এবং পরিস্কার হবে।
[৩৩২] আল্লাহ তাআলার বাণী: كَأَنَّهُنَّ الْيَاقُوتُ وَالْمَرْجَانُ (জান্নাতে থাকবে) প্রবাল ও পদ্মরাগ সদৃশ রমণীগণ। হাসান বসরি রাহিমাহুল্লাহু এই আয়াতের ব্যাখ্যাতে বলেন-হুরেইনরা ইয়াকুত মুক্তার মত স্বচ্ছ হবে এবং মারজানা মুক্তার মত শুভ্র হবে।
[৩৩৩] হাসান বসরি রাহিমাহুল্লাহু বলেন-ছোট জান্নাতীদের জন্য লুলুয়ূ মনিমুক্তার মতো হুর হবে। আর বড় জান্নাতীদের জন্য মারজান মনিমুক্তার মতো হুর হবে।
টিকাঃ
[৩০০] হাদিউল আরওয়াহ, ইবনুল কায়্যিম জাওযি: ১৭২।
[৩০১] হাদিউল আরওয়াহ, ইবনুল কায়্যিম জাওযি: ১৬৪।
[৩০২] সুরা আর রহমান: ৫৮। তাফসিরে তাবারি: ২৭/১৫২।
📄 জান্নাতীদের খিমা
[৩৩৪] আবু মুসা আশআরি রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেছেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, فِي الْجَنَّةِ خَيْمَةٌ مِنْ لُؤْلُؤًةٍ مُجَوَّفَةٍ عَرْضُهَا سِتُونَ مِيْلًا فِي كُلِّ زَاوِيَةٍ مِنْهَا أَهْلُ مَا يَرَوْنَ الْآخَرِينَ يَطُوفُ عَلَيْهِمُ الْمُؤْمِنُ . জান্নাতে উজ্জ্বল মুক্তার তৈরি এমন তাঁবু থাকবে-যার প্রস্থ হবে ষাট মাইল, তার চারদিকে মুমিনের পরিবার থাকবে, যারা অন্যদেরকে দেখতে পারবে না। মুমিন তাদের কাছ দিয়ে ঘুরে বেড়াবে।
আরেক বর্ণনায় আছে-তিনি বলেন, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, জান্নাতের তাঁবুগুলো মণি-মুক্তার তৈরি হবে। এর দৈর্ঘ্য হবে ঊর্ধ্বাকাশের দিকে ষাট মাইল। এর প্রত্যেক কোণে মুমিনদের সহধর্মিণীগণ থাকবে। তবে পরস্পর একে অপরকে দেখতে পাবে না।
[৩৩৫] আবদুল্লাহ ইবনু কায়স রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-জান্নাতে (মুমিনদের জন্য) মাঝে ফাঁকা এরূপ মুক্তার একটি বিশাল তাঁবু থাকবে, যার বিস্তৃতি হবে ষাট মাইল। এর প্রত্যেক প্রান্তেই স্ত্রীগণ থাকবে। তারা পরস্পর একে অপরকে দেখতে পাবে না। মুমিনেরা ঘুরে ঘুরে সকল রমণীর নিকট যাবে।
[৩৩৬] আবু মুসা তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করে বলেন-জান্নাতে লুলুয়ূ মনিমুক্তার তাঁবু থাকবে। যার প্রতিটি কোণে থাকবে পবিত্রময় স্ত্রীগণ। যারা মুমিনদের চারদিকে ঘুরতে থাকবে।
[৩৩৭] আল্লাহ তাআলার বাণী: حُورٌ مَقْصُورَاتٌ فِي الْخِيَامِ তাঁবুতে অবস্থানকারীনি হুরগণ। এই আয়াতের ব্যাপারে আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, তারা থাকবে লুকায়িত মুক্তার মত।
[৩৩৮] আবু দারদা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, জান্নাতে সত্তর দরজা বিশিষ্ট লুলুয়ূ হীরার একটি খিমা (তাঁবু) আছে, যার প্রতিটি দরজা হলো মুক্তার।
[৩৩৯] আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা বলেন-জান্নাতের খিমাগুলো মুক্তার হবে। যার দুরত্ব হবে এক ফারসাখ। খিমাটির চার হাজার স্বর্ণের দরজা থাকবে।
[৩৪০] আল্লাহ তাআলার বাণী: حُورٌ مَقْصُورَاتٌ فِي الْخِيَامِ তাঁবুতে অবস্থানকারিণী হুরগণ। মুজাহিদ রাহিমাহুল্লাহু এই আয়াতের তাফসিরে বলেন—হুরেইনরা যে তাঁবুতে অবস্থান করবে, সেটি হবে খাঁটি মুক্তার।
টিকাঃ
[৩০৬] সহিহ মুসলিম: ৫০৭১।
[৩০৭] সহিহ বুখারি: ৩০০৪; সহিহ মুসলিম: ৫০৭২।
[৩০৮] সহিহ মুসলিম: ৭০৫১।
[৩০৯] সহিহ মুসলিম: ৪/২১২২।
৩১০ [*] প্রাগুক্ত: ৮৪।
৩১১ [*] সুরা আর রহমান: ৭২।
৩১২ [*] তাফসিরে তাবারি: ২৭/১৬১।
৩১৩ [*] হাদিউল আরওয়াহ, ইবনুল কায়্যিম জাওযি: ১৫৫।
৩১৪ [*] সুরা আর রহমান: ৭২। তাফসিরে কুরতুবি: ১৭/১৯৮।