📘 ওপারের সুখগুলো 📄 লাবা নামক হুর

📄 লাবা নামক হুর


[৩২৩] আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন-জান্নাতে 'লাবা' নামক কিছু হুর থাকবে। (যারা অন্যান্য হুরদের থেকে অনেক সুন্দর ও রূপবতী হবে) যাকে দেখে অন্যান্য হুরেরা ঈর্ষাবোধ করবে। সাধারণ হুরেরা তার কাঁধে হাত রেখে বলবে, হে লাবা! সুখ ও সুসংবাদ তোমার জন্য হোক। যদি দুনিয়ার মানুষগুলো তোমার সম্পর্কে জানতো, তাহলে তারা অবশ্যই তোমার জন্য দিন-রাত চেষ্টা চালিয়ে যেত। লাবা নামক হুরের দু'চোখের মাঝে লিখা থাকবে-যে ব্যক্তি চায় আমার মত সুন্দরী তার কপালে জুটুক, তাহলে সে যেন আমার রবের সন্তুষ্টিমূলক আমল করে।
[৩২৪] আতা আস সুলামী মালেক ইবনু দিনার রাহিমাহুল্লাহুকে বললেন-হে আবু ইয়াহইয়া, আপনি আমাদেরকে জান্নাতের নিয়ামাহ সম্পর্কে বলুন। মালেক ইবনু দিনার রাহিমাহুল্লাহু বলতে লাগলেন, হে আতা, জান্নাতে এমন সুন্দরী সুন্দরী হুর থাকবে, যা দেখে জান্নাতীরা পেরশোন হয়ে যাবে। যদি আল্লাহ তাআলা জান্নাতীদের উপর মৃত্যু নির্ধারণ করত, তাহলে জান্নাতীরা হুরদের সৌন্দর্যের কারণে কোনো এক কালে মৃত্যুবরণ করত। (সুবহানাল্লাহ)
[৩২৫] জাফর ইবনু মুহাম্মাদ বলেন-মুআসসাল নামক স্থানে আবদুল হাকিম বুযুর্গ হাকিমের সাথে সাক্ষাত করল, তখন আবদুল হাকিম হাকিমকে জিজ্ঞাসা করল, তুমি হুরেইনকে পাওয়ার ইচ্ছা করো? উত্তরে হাকিম বলল, না। অতঃপর আবদুল হাকিম হাকিমকে বলল, তুমি জান্নাতে হুরকে পাওয়ার ইচ্ছা করো, কেননা হুরদের চেহারার জ্যোতি আল্লাহর নূর থেকেই। একথা শোনার পরে হাকিম বেহুশ হয়ে গেল। অতঃপর আমরা তাকে তার বাড়ির দিকে নিয়ে গেলাম। তিনি এর কারণে প্রায় এক মাস অসুস্থ হয়েছিলেন। আমরা এক মাস পর্যন্ত তার সেবা করেছিলাম।

টিকাঃ
[৩০১] হাদিউল আরওয়াহ, ইবনুল কায়্যিম জাওযি:১৭২।
[৩০২] হাদিউল আরওয়াহ, ইবনুল কায়্যিম: ১৭২।

📘 ওপারের সুখগুলো 📄 স্বপ্নের মাঝে হুর রমণী

📄 স্বপ্নের মাঝে হুর রমণী


[৩২৬] ইয়াকুব ইবনু ইসহাক রাহিমাহুল্লাহু বলেন—আমি এবং আবু হামজা আল কুব্বানি একদিন ছাদের উপর শুয়ে ছিলাম। রাতে আমি তাকে দেখলাম, সে সারারাত বিছানাতে গড়াগড়ি করছে। সকাল হলে আমি তাকে জিজ্ঞাসা করলাম, হে আবু হামযা, গত রাতে আপনি এমন করলেন কেন? জবাবে তিনি বললেন, আমি যখন গত রাতে ঘুমিয়েছিলাম, তখন ঘুমের ঘোরে আমার কাছে জান্নাতের হুর এসেছিল, হুর ছিল অনেক সুন্দর। তাদের চোখে ছিল অনেক জাদু। আমি তাকে স্পর্শ করার জন্য পাগলপারা হচ্ছিলাম। সে কারণে হয়ত সারারাত এভাবে গড়াগড়ি করছিলাম।
[৩২৭] আবি সুলাইমান রাহিমাহুল্লাহু বলেন—আমার ছেলে ছিল অনেক বুযুর্গ। সে আল্লাহ তাআলার অনেক ইবাদাত করত। একদিন আমাকে বলল, বাবা, আমি গত রাতে স্বপ্নে জান্নাতের হুরের মাথা দেখেছি। হুরের মাথাটি অনেক সুন্দর ছিল। আমার জীবনেও এত সুন্দর আর কোনো মাথা দেখিনি। আমি তাকে বললাম, বৎস, শোনো, তুমি আবার ঘুমাও। তাহলে হয়ত পুরো হুরকে তুমি দেখতে পাবে।

টিকাঃ
[***] হাদিউল আরওয়াহ, ইবনুল কায়্যিম জাওযি: ১৭২।

📘 ওপারের সুখগুলো 📄 হুরেরা এখন পর্দায় আবৃত আছে

📄 হুরেরা এখন পর্দায় আবৃত আছে


[৩২৮] আবু সুলাইমান রাহিমাহুল্লাহু বলেন—আল্লাহ তাআলা যখন জান্নাতী হুরকে পরিপূর্ণ সৃষ্টি করেলেন, তখন ফেরেশতাদেরকে আদেশ করলেন, তারা যেন হুরদের উপর পর্দা রেখে দিলেন। অতঃপর ফেরেশতারা তাদেরকে পর্দা দিয়ে ঢেকে দিল।

📘 ওপারের সুখগুলো 📄 রোমান্সের একটি জায়গা থাকবে

📄 রোমান্সের একটি জায়গা থাকবে


[৩২৯] আবদুল্লাহ রাহিমাহুল্লাহু বলেন—জান্নাতীদের (বিনোদনের জন্য) একটি মনোমুগ্ধকর জায়গা থাকবে। সেই জায়গাটি একটি তাঁবু দ্বারা বেষ্টিত থাকবে। প্রতিটি তাঁবুর চারটি করে দরজা থাকবে। প্রত্যেক দরজা দিয়ে সকাল-বিকাল বিভিন্ন রকমের হাদিয়া-তোহফা, খাবার-দাবার আসতে থাকবে; যা ইতিপূর্বে জান্নাতী ব্যক্তি কখনো দেখেনি। সেখানে কোনো হৈচৈ, চিৎকার-চেঁচামেচি থাকবে না। চারদিকে থাকবে নিলুয়া বাতাস। হিমেল হাওয়া। জান্নাতের বাতাসে শান্ত হবে জান্নাতীদের মন-অন্তর। খুব কাছে থাকবে হুরেইন। যারা হবে অনেক সুন্দর। যেন তারা লুকায়িত কোনো মনিমুক্তা।

[৩৩০] মাসরুক রাহিমাহুল্লাহু বলেন, আবদুল্লাহ রাহিমাহুল্লাহু বলেছেন-জান্নাতের শ্রেষ্ঠ জায়গাতে একটি খিমা থাকবে। প্রত্যেক খিমায় চারটি করে দরজা থাকবে। প্রত্যেক দরজা দিয়ে সকাল-বিকাল হাদিয়া-তোহফা আসতে থাকবে। যা ইতিপূর্বে কখনো জান্নাতীরা দেখেনি। সেখানে কোনো অহমিকা, দূর্গন্ধ, দুর্যোগ থাকবে না। সেখানে থাকবে ডাগর-ডাগর চক্ষুবিশিষ্ট হুর। যেন তারা সুরক্ষিত ডিম।

[৩৩১] আল্লাহ তাআলার বাণী: كَأَنَّهُنَّ بَيْضٌ مَكْنُونٌ যেন তারা সুরক্ষিত ডিম। (সুরা সাফফাত : ৪৯) এই আয়াতের ব্যাখ্যাতে সাঈদ ইবনু জুবাইর রাহিমাহুল্লাহু বলেন, হুরেইনরা ডিমের কুসুমের মত স্বচ্ছ এবং পরিস্কার হবে।

[৩৩২] আল্লাহ তাআলার বাণী: كَأَنَّهُنَّ الْيَاقُوتُ وَالْمَرْجَانُ (জান্নাতে থাকবে) প্রবাল ও পদ্মরাগ সদৃশ রমণীগণ। হাসান বসরি রাহিমাহুল্লাহু এই আয়াতের ব্যাখ্যাতে বলেন-হুরেইনরা ইয়াকুত মুক্তার মত স্বচ্ছ হবে এবং মারজানা মুক্তার মত শুভ্র হবে।

[৩৩৩] হাসান বসরি রাহিমাহুল্লাহু বলেন-ছোট জান্নাতীদের জন্য লুলুয়ূ মনিমুক্তার মতো হুর হবে। আর বড় জান্নাতীদের জন্য মারজান মনিমুক্তার মতো হুর হবে।

টিকাঃ
[৩০০] হাদিউল আরওয়াহ, ইবনুল কায়্যিম জাওযি: ১৭২।
[৩০১] হাদিউল আরওয়াহ, ইবনুল কায়্যিম জাওযি: ১৬৪।
[৩০২] সুরা আর রহমান: ৫৮। তাফসিরে তাবারি: ২৭/১৫২।

ফন্ট সাইজ
15px
17px