📄 হুরেইনের উজ্জ্বলতা
[৩১৯] আবি গিয়াছ রাহিমাহুল্লাহ বলেন—একদিন আমি কাব রাহিমাহুল্লাহকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছিলেন, যদি হুরেইনের কোনো একটি হাত দুনিয়াতে রাখা হত, তাহলে হুরের হাতের সৌন্দর্যে এই সমগ্র দুনিয়া আলোকিত হয়ে যেত। যেমন সকাল বেলা সূর্য পূবাকাশে উদিত হওয়ার সাথে-সাথে পুরো পৃথিবী আলোকিত হয়ে যায়। যদি তার হাতের আলোকচ্ছটায় সমগ্র পৃথিবী আলোকিত হয়ে যায়, তাহলে চেহারা এবং অন্যান্য শরীর দ্বারা কী পরিমাণ আলোকিত হয়ে যাবে! ভাবার বিষয়।
[৩২০] কাছির ইবনু মুররা রাহিমাহুল্লাহু বলেন—জান্নাতীদের উপর দিয়ে মেঘমালারা উড়ে যেতে যেতে বলবে, হে জান্নাতবাসী! আমরা কি তোমাদের উপর রহমতের বারি বর্ষণ করবো? জান্নাতবাসীদের কোনো প্রয়োজন না থাকায়, তারা বলবে, না, তবে কিছু বৃষ্টি বর্ষণ করতে পারো।
বর্ণনাকারী কাছির ইবনু মুররা রাহিমাহুল্লাহু বলেন—আমি যদি সেখানে থাকি, তাহলে বলবো, হে মেঘের দল, তোমরা আমাদের উপর সুন্দর সুন্দর হুর রমণীদেরকে বর্ষণ করো।
টিকাঃ
১৫৪] আয যুহদ, ইমাম ইবনুল মুবারক: ২৫৬।
২১৮ [*] আউলিয়া, আয যুহদ, ইমাম ইবনুল মুবারক: ২৪০।
📄 হুর স্ত্রীদের অভিযোগ
[৩২১] মুআজ ইবনু জাবাল রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, لَا تُؤْذِي امْرَأَةٌ زَوْجَهَا فِي الدُّنْيَا إِلَّا قَالَتْ زَوْجَتُهُ مِنَ الْحُورِ الْعِينِ: لَا تُؤْذِيهِ قَاتَلَكِ اللَّهُ فَإِنَّمَا هُوَ عِنْدَكِ دَخِيلٌ يُوشِكُ أَنْ يُفَارِقَكِ
যখনই কোনো স্ত্রীলোক দুনিয়াতে তার স্বামীকে কষ্ট দেয়, তখনই জান্নাতে ঐ স্বামীর জন্য নির্ধারিত হুর বলতে থাকে, হে নারী! তুমি তাকে কষ্ট দিয়ো না। আল্লাহ তোমার ধ্বংস করুক। তিনি তো তোমার কাছে (কয়েক দিনের) জন্য মেহমান। অচিরেই তিনি তোমাকে ছেড়ে আমাদের কাছে চলে আসবেন।
[৩২২] ইকরিমা রাহিমাহুল্লাহু বলেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-হুরেইন সংখ্যার দিক থেকে তোমাদের থেকে অনেক বেশী থাকবে। তারা তাদের স্বামীদের জন্য দুআ করে বলে-হে আল্লাহ! আপনি তাকে আপনার দ্বীনের পথে চলার উপর সাহায্য করুন। এবং আপনার আনুগত্যের দিকে তার হৃদয়কে কবুল করে নিন। আর আপনার সম্মানের উসিলায় আপনি তাদেরকে আমাদের নিকট পৌঁছে দিন ইয়া আরহামার রাহিমীন।
টিকাঃ
২৯৯ [*] সহিহ। আস সুনান, ইবনু মাজাহ: ২০১৪। আস সুনান, ইমাম তিরমিযি: ১১৭৪।
২৯৮ [*] আউলিয়া, আয যুহদ, ইমাম ইবনুল মুবারক: ২৪০।
০০০ [***] আত তারগিব ওয়াত তারহিব: ৪/৫৩৫।
📄 লাবা নামক হুর
[৩২৩] আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন-জান্নাতে 'লাবা' নামক কিছু হুর থাকবে। (যারা অন্যান্য হুরদের থেকে অনেক সুন্দর ও রূপবতী হবে) যাকে দেখে অন্যান্য হুরেরা ঈর্ষাবোধ করবে। সাধারণ হুরেরা তার কাঁধে হাত রেখে বলবে, হে লাবা! সুখ ও সুসংবাদ তোমার জন্য হোক। যদি দুনিয়ার মানুষগুলো তোমার সম্পর্কে জানতো, তাহলে তারা অবশ্যই তোমার জন্য দিন-রাত চেষ্টা চালিয়ে যেত। লাবা নামক হুরের দু'চোখের মাঝে লিখা থাকবে-যে ব্যক্তি চায় আমার মত সুন্দরী তার কপালে জুটুক, তাহলে সে যেন আমার রবের সন্তুষ্টিমূলক আমল করে।
[৩২৪] আতা আস সুলামী মালেক ইবনু দিনার রাহিমাহুল্লাহুকে বললেন-হে আবু ইয়াহইয়া, আপনি আমাদেরকে জান্নাতের নিয়ামাহ সম্পর্কে বলুন। মালেক ইবনু দিনার রাহিমাহুল্লাহু বলতে লাগলেন, হে আতা, জান্নাতে এমন সুন্দরী সুন্দরী হুর থাকবে, যা দেখে জান্নাতীরা পেরশোন হয়ে যাবে। যদি আল্লাহ তাআলা জান্নাতীদের উপর মৃত্যু নির্ধারণ করত, তাহলে জান্নাতীরা হুরদের সৌন্দর্যের কারণে কোনো এক কালে মৃত্যুবরণ করত। (সুবহানাল্লাহ)
[৩২৫] জাফর ইবনু মুহাম্মাদ বলেন-মুআসসাল নামক স্থানে আবদুল হাকিম বুযুর্গ হাকিমের সাথে সাক্ষাত করল, তখন আবদুল হাকিম হাকিমকে জিজ্ঞাসা করল, তুমি হুরেইনকে পাওয়ার ইচ্ছা করো? উত্তরে হাকিম বলল, না। অতঃপর আবদুল হাকিম হাকিমকে বলল, তুমি জান্নাতে হুরকে পাওয়ার ইচ্ছা করো, কেননা হুরদের চেহারার জ্যোতি আল্লাহর নূর থেকেই। একথা শোনার পরে হাকিম বেহুশ হয়ে গেল। অতঃপর আমরা তাকে তার বাড়ির দিকে নিয়ে গেলাম। তিনি এর কারণে প্রায় এক মাস অসুস্থ হয়েছিলেন। আমরা এক মাস পর্যন্ত তার সেবা করেছিলাম।
টিকাঃ
[৩০১] হাদিউল আরওয়াহ, ইবনুল কায়্যিম জাওযি:১৭২।
[৩০২] হাদিউল আরওয়াহ, ইবনুল কায়্যিম: ১৭২।
📄 স্বপ্নের মাঝে হুর রমণী
[৩২৬] ইয়াকুব ইবনু ইসহাক রাহিমাহুল্লাহু বলেন—আমি এবং আবু হামজা আল কুব্বানি একদিন ছাদের উপর শুয়ে ছিলাম। রাতে আমি তাকে দেখলাম, সে সারারাত বিছানাতে গড়াগড়ি করছে। সকাল হলে আমি তাকে জিজ্ঞাসা করলাম, হে আবু হামযা, গত রাতে আপনি এমন করলেন কেন? জবাবে তিনি বললেন, আমি যখন গত রাতে ঘুমিয়েছিলাম, তখন ঘুমের ঘোরে আমার কাছে জান্নাতের হুর এসেছিল, হুর ছিল অনেক সুন্দর। তাদের চোখে ছিল অনেক জাদু। আমি তাকে স্পর্শ করার জন্য পাগলপারা হচ্ছিলাম। সে কারণে হয়ত সারারাত এভাবে গড়াগড়ি করছিলাম।
[৩২৭] আবি সুলাইমান রাহিমাহুল্লাহু বলেন—আমার ছেলে ছিল অনেক বুযুর্গ। সে আল্লাহ তাআলার অনেক ইবাদাত করত। একদিন আমাকে বলল, বাবা, আমি গত রাতে স্বপ্নে জান্নাতের হুরের মাথা দেখেছি। হুরের মাথাটি অনেক সুন্দর ছিল। আমার জীবনেও এত সুন্দর আর কোনো মাথা দেখিনি। আমি তাকে বললাম, বৎস, শোনো, তুমি আবার ঘুমাও। তাহলে হয়ত পুরো হুরকে তুমি দেখতে পাবে।
টিকাঃ
[***] হাদিউল আরওয়াহ, ইবনুল কায়্যিম জাওযি: ১৭২।