📘 ওপারের সুখগুলো 📄 চক্ষু দু’টো কাজল কালো

📄 চক্ষু দু’টো কাজল কালো


[৩১৩] ওয়ালিদ ইবনু আবদাতা রাহিমাহুল্লাহু বলেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিবরিল আলাইহিস সালামকে বললেন—তুমি আমাকে হুরেইনদের কাছে নিয়ে চলো। জিবরিল আলাইহিস সালাম নবিজিকে নিয়ে হুরদের কাছে নিয়ে গেল। নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন বললেন—তোমরা কারা? তারা বলল, আমরা হলাম এমন পুরুষদের কুমারী স্ত্রী, যারা আমাদের আমাদের কাছে অবস্থান করবে। আমাদের থেকে কখনো দূরে সরে যাবে না। (সে সমস্ত পুরুষেরা) পূর্ণ যুবক থাকবে, তারা কখনো বয়োবৃদ্ধ হবে না। যারা সর্বদা পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন থাকবে, কখনো ধুলোমলিন হবে না।
[৩১৪] মুজাহিদ রাহিমাহুল্লাহু বলেন—হুরেইনদেরকে যাফরান থেকে সৃষ্টি করা হয়েছে।
[৩১৫] আবি সালামাতা ইবনু আবদুর রহমান রাহিমাহুল্লাহুকে জিজ্ঞাসা করা হলো, জান্নাতে কি সকাল নেই? জবাবে তিনি বললেন, হ্যাঁ, তবে জান্নাতীরা বাসর করতে থাকবে। তখন তো কোনো সকাল-ই হবে না। জান্নাতীদের কোনো সন্তানাদিও হবে না। জান্নাতী হুরেরা সৃষ্টি হয়েছে সুগন্ধিময় যাফরান থেকে। তাদের চক্ষুগুলো হবে কাজল কালো।

টিকাঃ
[২৯৩] আদ দুররুল মানসুর: ৬/৩৩।
[২৯৪] তাফসিরে তাবারি: ২৭/১৭৮।

📘 ওপারের সুখগুলো 📄 ডাগর ডাগর চোখ

📄 ডাগর ডাগর চোখ


[৩১৬] মুজাহিদ রাহিমাহুল্লাহ বলেন, হুরেইন তো তাদেরকে বলা হয়, যাদের শরীরের স্বচ্ছতা দেখে মানুষ হতবুদ্ধি হয়ে যায়। যাদের ডাগর ডাগর চোখ দেখলে হৃদয় আকৃষ্ট হয়ে যায়।

📘 ওপারের সুখগুলো 📄 চেড় মায়াবী মুখ

📄 চেড় মায়াবী মুখ


[৩১৭] হাসান বসরি রাহিমাহুল্লাহ বলেন, হুরেইন—যাদের চক্ষুগুলো হবে ডাগর ডাগর। ঢেড় মায়াবী হবে ঐ মুখ। শুভ্রতার কারণে পুরো শরীর থেকে আলো ছড়াতে থাকবে। মেঘ কালো হবে কেশ। ঠোঁটে থাকবে লাজুক লাজুক হাসি। চোখের মণিকোঠায় থাকবে রাশি রাশি মায়া।
[৩১৮] আমর ইবনুল আস রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন—হুরেইনের চোখের একটি প্রান্ত ঈগলের ডানা থেকেও অনেক লম্বা হবে।

টিকাঃ
১৫২] তাফসিরে তাবারি: ২৭/১৭৭।
১৫৩] আল ইতহাফ: ১০/৪৫৪।

📘 ওপারের সুখগুলো 📄 হুরেইনের উজ্জ্বলতা

📄 হুরেইনের উজ্জ্বলতা


[৩১৯] আবি গিয়াছ রাহিমাহুল্লাহ বলেন—একদিন আমি কাব রাহিমাহুল্লাহকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছিলেন, যদি হুরেইনের কোনো একটি হাত দুনিয়াতে রাখা হত, তাহলে হুরের হাতের সৌন্দর্যে এই সমগ্র দুনিয়া আলোকিত হয়ে যেত। যেমন সকাল বেলা সূর্য পূবাকাশে উদিত হওয়ার সাথে-সাথে পুরো পৃথিবী আলোকিত হয়ে যায়। যদি তার হাতের আলোকচ্ছটায় সমগ্র পৃথিবী আলোকিত হয়ে যায়, তাহলে চেহারা এবং অন্যান্য শরীর দ্বারা কী পরিমাণ আলোকিত হয়ে যাবে! ভাবার বিষয়।
[৩২০] কাছির ইবনু মুররা রাহিমাহুল্লাহু বলেন—জান্নাতীদের উপর দিয়ে মেঘমালারা উড়ে যেতে যেতে বলবে, হে জান্নাতবাসী! আমরা কি তোমাদের উপর রহমতের বারি বর্ষণ করবো? জান্নাতবাসীদের কোনো প্রয়োজন না থাকায়, তারা বলবে, না, তবে কিছু বৃষ্টি বর্ষণ করতে পারো।
বর্ণনাকারী কাছির ইবনু মুররা রাহিমাহুল্লাহু বলেন—আমি যদি সেখানে থাকি, তাহলে বলবো, হে মেঘের দল, তোমরা আমাদের উপর সুন্দর সুন্দর হুর রমণীদেরকে বর্ষণ করো।

টিকাঃ
১৫৪] আয যুহদ, ইমাম ইবনুল মুবারক: ২৫৬।
২১৮ [*] আউলিয়া, আয যুহদ, ইমাম ইবনুল মুবারক: ২৪০।

ফন্ট সাইজ
15px
17px