📄 জান্নাতে কেউ বৃদ্ধা থাকবে না
[২৯৮] আনাস ইবনু মালেক রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন-রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আল্লাহর বাণী: আমি তাদের বিশেষভাবে সৃষ্টি করেছি। প্রসঙ্গে বলেন—যেসব নারী পৃথিবীতে বৃদ্ধা, ছানি পড়া চোখ বা দুর্বল দৃষ্টিসম্পন্ন তারা (জান্নাতে) বাড়ন্ত বয়সের তরুণীদের অন্তর্ভুক্ত হবে।
[২৯৯] আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেছেন, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, أَهْلُ الْجَنَّةِ جُرْدُ مُرْدُ كُحْلُ لَا يَفْنَى شَبَابُهُمْ وَلَا تَبْلَى ثِيَابُهُمْ জান্নাতীরা হবে লোমমুক্ত নবযুবক, সুরমামাখা। তাদের যৌবন শেষ হবে না এবং তাদের পোশাক পুরাতন হবে না।
[৩০০] মুআজ ইবনু জাবাল রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, يَدْخُلُ أَهْلُ الْجَنَّةِ الْجَنَّةَ جُرْدًا مُرْدًا مُكَحَّلِينَ أَبْنَاءَ ثَلَاثِينَ أَوْ ثَلَاثٍ وَثَلاثِينَ سَنَةً জান্নাতীরা সেখানে লোমহীন, নবযুবক ও সুরমামাখা হয়ে প্রবেশ করবে। তারা হবে ত্রিশ বছর বা তেত্রিশ বছরের যুবক।
টিকাঃ
[২৭৭] সুরা ওয়াকিয়া: ৩৫।
[*] আবু ঈসা বলেন, এ হাদিসটি হাসান গরিব... [দুর্বল। আস সুনান, ইমাম তিরমিযি: ৩২৯৬।] অন্য হাদিসে বর্ণিত আছে... হাসান রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন-একবার এক বৃদ্ধা মহিলা নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এসে বলল, হে আল্লাহর রাসুল! আল্লাহর কাছে দুআ করুন যেন আমি জান্নাতে প্রবেশ করতে পারি। তিনি বললেন, ওহে! কোন বৃদ্ধা জান্নাতে প্রবেশ করবে না। বর্ণনাকারী বলেন, (তা শুনে) সে কাঁদতে কাঁদতে চলে গেল। তখন নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তাকে এ মর্মে খবর দাও যে, তুমি বৃদ্ধাবস্থায় জান্নাতে প্রবেশ করবে না। কারণ, আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, আমি তাদেরকে বিশেষভাবে সৃষ্টি করেছি। আর তাদেরকে করেছি কুমারী। [(সুরা ওয়াকিয়া: ৩৬)। শারহুস সুন্নাহ: ৩৬০৬। শামায়েলে তিরমিযি: ১৭৯। হাদিসের মান: সহিহ।]
[২৭৯] আস-সুনান, ইমাম তিরমিযি: ৮৭৪৭।
[২৮০] আস-সুনান, ইমাম তিরমিযি: ২৪৬৮।
📄 হুর রমণীর সৌন্দর্য
[৩০১] আনাস ইবনু মালেক রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-যদি জান্নাতী কোনো নারী দুনিয়াতে উঁকি মেরে তাকাত, তাহলে হুরের আলো দ্বারা সুর্যের কিরণ ম্লান হয়ে যেত। এবং জান্নাতী হুরের সুগন্ধি দুনিয়া এবং আখিরাতের থেকেও পাওয়া যেত। জান্নাতী হুরের একটি উড়না দুনিয়া এবং আখিরাতে যা কিছু আছে, তার থেকেও অনেক উত্তম।
[৩০২] সাদ ইবনু আবি ওয়াক্কাস রাহিমাহুল্লাহু বলেন, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, لَوْ أَنَّ مَا يُقِلُّ ظُফুর মুম্মি ফিল জান্নাতি বাদা লাতাযাররাফাত লাহূ মা বাইনা খাওয়াফিকিস সামাওয়াতি ওয়াল আরযি ওয়ালাউ আন্না রাজুলান মিন আহলিল জান্নাতি আতলাআ ফাবাদা আসাবিরুহু লাতামাসা যাউয়াশ শামসি কামা তাতমিসুশ শামসু যাউয়ান নুজূম. যদি জান্নাতের কোন জিনিসের এক চিমটি পরিমাণও (পৃথিবীতে) আসতে পারতো তাহলে আসমান-জমিন সকল স্থান আলোকিত ও সৌন্দর্যমন্ডিত হয়ে যেতো। কোন জান্নাতী যদি দুনিয়াতে উঁকি দিত এবং তার হস্তালংকার প্রকাশিত হয়ে পড়তো তাহলে তা সূর্যের আলোকে নিস্তেজ করে দিত যেভাবে সূর্যের আলো নক্ষত্রসমূহের আলোকে নিস্তেজ করে দেয়।
[৩০৩] ইকরিমা রাহিমাহুল্লাহু বলেন-জান্নাতীরা অনেক শুভ্র এবং স্বচ্ছ হবে। ফলে জান্নাতী পুরুষের চেহারা তার সঙ্গী (হুর রমণীর) চেহারাতে দেখা যাবে। এমনিভাবে নারীর চেহারাও পুরুষের চেহারাতে দেখা যাবে। নারীর চেহারা পুরুষের গলায় এবং পুরুষের গলায় নারীর চেহারা দেখা যাবে। জান্নাতী পুরুষের চেহারা নারীর কব্জির মধ্যে এবং নারীর চেহারা পুরষের বাহুতে দেখা যাবে। নারীদের পরনে থাকবে পোষাক। যা প্রতিটি ঘন্টায় সত্তর রঙে রাঙায়িত হবে।
[৩০৪] আল্লাহ তাআলার বাণী: وَلَهُمْ فِيهَا أَزْوَاجٌ مُطَهَّرَةٌ জান্নাতে তাদের জন্য থাকবে পবিত্র স্ত্রীগণ। উপরোক্ত আয়াতের ব্যাখ্যায় মুজাহিদ রাহিমাহুল্লাহু বলেন, জান্নাতী হুরদের কোনো মাসিক, পেশাব-পায়খানা, সন্তান-সন্ততি, শ্লেষমা কিছুই হবে না। জান্নাতী হুরেরা এসব থেকে থাকবে মুক্ত।
টিকাঃ
[২৮১] সহিহ। সনদ যয়িফ। আস সুনান, ইমাম তিরমিযি: ১৬৫১।
[২৮২] সহিহ। মিশকাতুল মাসাবিহ: ৫৬৩৭।
[*] আয যুহদ, ইমাম ইবনুল মুবারক: ২৫৯।
[২৮৪] সুরা বাকারা: ৩৫।
[২৮৫] আয যুহদ, ইমাম ইবনুল মুবারক: ২৪৩।