📄 জান্নাতীদের স্ত্রী
[২৯১] আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, লোকজন যখন আলোচনা করতে লাগল যে, জান্নাতে পুরুষ বেশি নাকি নারী? তখন নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, لِكُلِّ امْرِئٍ مِنْهُمْ زَوْجَتَانِ اثْنَتَانِ يُرَى مُخُ سُوقِهِمَا مِنْ وَرَاءِ اللَّহْمِ وَمَا فِي الْجَنَّةِ أَعْزَبُ . প্রত্যেক পুরুষ পাবে দুজন স্ত্রী, যাদের মাংসের নিচ দিয়ে পায়ের অস্থিমজ্জা দেখা যাবে। জান্নাতে কোনো অবিবাহিত মানুষ থাকবে না।
[২৯২] ইবরাহিম আন নাখঈ রাহিমাহুল্লাহু বলেন-জান্নাতীদের বিয়ে-শাদী হবে তাদের চাহিদানুপাতে। যে যেমন স্বামী চাইবে, তাকে তেমন স্বামী দেয়া হবে। আবার যেমন স্ত্রী কামনা করবে, তাকে তেমন স্ত্রী-ই দান করা হবে। তাদের কোনো সন্তানাদির টেনশন থাকবে না। যখনই স্বামী-স্ত্রী পরস্পরের দিকে তাকাবে, তাদের মাঝে নতুন করে উদ্যমতা সৃষ্টি হবে।
টিকাঃ
[২৭০] সহিহ মুসলিম: ৫০৬২।
[২৭১] আয যুহদ, ইমাম হান্নাদ: ১১০।
📄 জান্নাতীদের উপহার
[২৯৩] আবদুর রহমান ইবনু সাবিত রাহিমাহুল্লাহু বলেন—জান্নাতীদের নিকট আল্লাহর পক্ষ একজন ফেরেশতা উপঢৌকন নিয়ে আসবে। ঐ ফেরেশতার কাছে একশ জোড়া কাপড় থাকবে। জান্নাতী ব্যক্তি ফেরেশতাকে বলবে, আমার আল্লাহর পক্ষ থেকে এর পূর্বে এত উত্তম কোনো জিনিষ আর আসেনি। তখন ফেরেশতা বলবে, এই সামান্য উপটৌকনেই কি তুমি মুগ্ধ হয়ে গেলে? জান্নাতী বলবে, হ্যাঁ। এরপরে ফেরেশতারা তার নিকটতম বৃক্ষকে বলবে-হে বৃক্ষ, তুমি তাকে তার চাহিদানুযায়ী দিতে থাকো।
[২৯৪] আবু সাঈদ খুদরি রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-জান্নাতী ব্যক্তি হেলান দিয়ে জান্নাতে বসে প্রায় সত্তর বছর কাটিয়ে দিবে। এর আগে সে স্থান ত্যাগ করবে না। তখন সেখানে একজন নারী এসে জান্নাতী ব্যক্তির কাঁধে হাত রাখবে। হুরের হাতের কোমল স্পর্শ পেয়ে হুরের গালের দিকে তাকাবে। তখন সে দেখবে তার গালে লুলু মনিমুক্তা ঝলঝল করছে, যা পৃথিবীর পূর্ব থেকে পশ্চিম পর্যন্ত আলোকিত হয়ে যাবে। হুর রমণী মৃদুসুরে এসে জান্নাতী পুরুষকে সালাম করবে। সালামের জবাব দিয়ে জান্নাতী ব্যক্তি জিজ্ঞাসা করবে তুমি কে গো? জবাবে হুর বলবে, আমি হলাম তোমার জন্য নিয়ামত। হুরের পরনে প্রায় সত্তর ডিজাইনের কাপড় থাকবে। তার সর্বনিম্ন কাপড় হলো নোমান (সুতীর এক প্রকার) কাপড়। তখন জান্নাতী ব্যক্তি ঐ হুরের দিকে তাকালে কাপড়ের নিচ থেকে পায়ের ভিতরের মগজগুলোও দেখা যাবে। হুরের শরীরে থাকবে বিভিন্ন মুনিমুক্তা। সেই মুনিমুক্তার সবচে' নিম্নমানের যেটা, সেটার আলো এত বেশী যে, পূর্ব থেকে পশ্চিম পর্যন্ত সবকিছু দেখা যাবে।
[২৯৫] আনাস ইবনু মালেক রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ لَوْ طَلَعَتِ امْرَأَةٌ مِنْ نِسَاءِ أَهْلِ الْجَنَّةِ عَلَى أَهْلِ الْأَرْضِ لَأَضَاءَتْ مَا بَيْنَهُمَا وَمَلَأَتْ مَا بَيْنَهُمَا بِرِيحِهَا وَلَنَصِيفُهَا عَلَى رَأْسِهَا خَيْرٌ مِنَ الدُّنْيَا وَمَا فِيهَا ঐ সত্তার শপথ, যার হাতে আমি মুহাম্মাদের প্রাণ! যদি দুনিয়াতে জান্নাতী কোনো নারী উঁকি মেরে তাকাতো, তাহলে জান্নাত ও জমিনের মাঝে যা কিছু আছে, সবই দেখা যেত। এবং তার সুগন্ধির মাধ্যমে দুনিয়া এবং আখিরাত পূর্ণ হয়ে যাবে। জান্নাতী হুরের মাথার একটি উড়না দুনিয়া এবং আখিরাতে যা কিছু আছে তার থেকেও অনেক উত্তম।
[২৯৬] আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বর্ণনা করেছেন, وَلَوْ أَنَّ امْرَأَةٌ مِنْ أَهْلِ الْجَنَّةِ اطَّلَعَتْ إِلَى أَهْلِ الْأَرْضِ لَأَضَاءَتْ مَا بَيْنَهُمَا وَلَمَلَأَتْهُ رِيحًا وَلَنَصِيفُهَا عَلَى رَأْسِهَا خَيْرٌ مِنْ الدُّنْيَا وَمَا فِيهَا . যদি জান্নাতী কোনো নারী জমিনবাসীর প্রতি উঁকি দেয়, তাহলে আকাশ ও জমিনের মাঝে সম্পূর্ণটা আলোকিত হয়ে যাবে, সুগন্ধিতে ভরে যাবে, তাদের মাথার ওড়না দুনিয়া ও তার মাঝের সমস্ত কিছুর চেয়ে উত্তম।
টিকাঃ
[*] প্রাগুক্ত: ২১১।
[*] আত তারগিব ওয়াত তারহিব: ৪/৫২৯।
[২৭৪] সহিহ। আস সুনান, ইমাম তিরমিযি: ১৬৫১।
[২৭৫] সহিহ বুখারি: ২৫৮৭।
📄 দুনিয়ার নারীদের শ্রেষ্ঠত্ব
[২৯৭] হিব্বান ইবনু আবি হাবালাহ রাহিমাহুল্লাহু বলেন—জান্নাতী নারীদেরকে জান্নাতী হুরদের উপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করা হবে।
টিকাঃ
[২৭৬] আয যুহদ, আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারক: ২৫৫।
📄 জান্নাতে কেউ বৃদ্ধা থাকবে না
[২৯৮] আনাস ইবনু মালেক রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন-রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আল্লাহর বাণী: আমি তাদের বিশেষভাবে সৃষ্টি করেছি। প্রসঙ্গে বলেন—যেসব নারী পৃথিবীতে বৃদ্ধা, ছানি পড়া চোখ বা দুর্বল দৃষ্টিসম্পন্ন তারা (জান্নাতে) বাড়ন্ত বয়সের তরুণীদের অন্তর্ভুক্ত হবে।
[২৯৯] আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেছেন, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, أَهْلُ الْجَنَّةِ جُرْدُ مُرْدُ كُحْلُ لَا يَفْنَى شَبَابُهُمْ وَلَا تَبْلَى ثِيَابُهُمْ জান্নাতীরা হবে লোমমুক্ত নবযুবক, সুরমামাখা। তাদের যৌবন শেষ হবে না এবং তাদের পোশাক পুরাতন হবে না।
[৩০০] মুআজ ইবনু জাবাল রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, يَدْخُلُ أَهْلُ الْجَنَّةِ الْجَنَّةَ جُرْدًا مُرْدًا مُكَحَّلِينَ أَبْنَاءَ ثَلَاثِينَ أَوْ ثَلَاثٍ وَثَلاثِينَ سَنَةً জান্নাতীরা সেখানে লোমহীন, নবযুবক ও সুরমামাখা হয়ে প্রবেশ করবে। তারা হবে ত্রিশ বছর বা তেত্রিশ বছরের যুবক।
টিকাঃ
[২৭৭] সুরা ওয়াকিয়া: ৩৫।
[*] আবু ঈসা বলেন, এ হাদিসটি হাসান গরিব... [দুর্বল। আস সুনান, ইমাম তিরমিযি: ৩২৯৬।] অন্য হাদিসে বর্ণিত আছে... হাসান রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন-একবার এক বৃদ্ধা মহিলা নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এসে বলল, হে আল্লাহর রাসুল! আল্লাহর কাছে দুআ করুন যেন আমি জান্নাতে প্রবেশ করতে পারি। তিনি বললেন, ওহে! কোন বৃদ্ধা জান্নাতে প্রবেশ করবে না। বর্ণনাকারী বলেন, (তা শুনে) সে কাঁদতে কাঁদতে চলে গেল। তখন নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তাকে এ মর্মে খবর দাও যে, তুমি বৃদ্ধাবস্থায় জান্নাতে প্রবেশ করবে না। কারণ, আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, আমি তাদেরকে বিশেষভাবে সৃষ্টি করেছি। আর তাদেরকে করেছি কুমারী। [(সুরা ওয়াকিয়া: ৩৬)। শারহুস সুন্নাহ: ৩৬০৬। শামায়েলে তিরমিযি: ১৭৯। হাদিসের মান: সহিহ।]
[২৭৯] আস-সুনান, ইমাম তিরমিযি: ৮৭৪৭।
[২৮০] আস-সুনান, ইমাম তিরমিযি: ২৪৬৮।