📄 জান্নাতীদের কোনো পেশাব-পায়খানা হবে না
[২৮৪] সালাম আল আসওয়াদ বলেন, আমি আবু উমামাকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন—এক ব্যক্তি নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করলেন, জান্নাতীরা কি বিবাহ করবে? জান্নাতীরা কি আহার করবে? উত্তরে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, সেই আল্লাহর হাতে আমার হৃদয়, তার শপথ করে বলছি—জান্নাতীরা জান্নাতে আহার এবং সহবাস সবকিছু করবে। লোকেরা তখন জিজ্ঞেস করল, তাহলে তাদের খাবারগুলো কোথায় যাবে? (তাদেরে কি পায়খানা হবে না?) জবাবে নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন—জান্নাতীরা কখনো বয়োবৃদ্ধ হবে না এবং পায়খানা-পেশাবও করবে না। তবে তাদের চামড়া দিয়ে সুগন্ধিময় ঘাম ঝরতে থাকবে।
[২৮৫] আনাস ইবনু মালেক রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন—কোনো একজন ব্যক্তিকে জান্নাতে ঐটা দেওয়া হবে। এই এই জিনিষ দেওয়া হবে। সাহাবায়ে কেরাম জিজ্ঞাসা করলেন, ইয়া রাসুলুল্লাহ! আমাদের জন্য কি তা সম্ভব হবে? জবাবে নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, একশ জনের শক্তি একজন পুরুষকে দেওয়া হবে।
[২৮৬] আবু উমামা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন—এক ব্যক্তি নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করলেন, জান্নাতীরা কি বিবাহ করবে? জান্নাতীরা কি আহার করবে? উত্তরে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, সেই আল্লাহর হাতে আমার হৃদয়, তার শপথ করে বলছি—জান্নাতীরা জান্নাতে আহার এবং সহবাস সবকিছু করবে। লোকেরা তখন জিজ্ঞেস করল, তাহলে তাদের খাবারগুলো কোথায় যাবে? (তাদেরে কি পায়খানা হবে না?) জবাবে নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন-জান্নাতীরা কখনো বয়োবৃদ্ধ হবে না এবং পায়খানা-পেশাবও করবে না। তবে তাদের চামড়া দিয়ে সুগন্ধিময় ঘাম ঝরতে থাকবে।
[২৮৭] আল্লাহ তাআলার বাণী: إِنَّ أَصْحَابَ الْجَنَّةِ الْيَوْمَ فِي شُغُلٍ فَاكِهُونَ নিশ্চয় জান্নাতীরা সেদিন আপন ব্যস্ততায় মগ্ন থাকবে। এই আয়াতের ব্যাখ্যাতে আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা বলেন- জান্নাতীরা কুমারী নারীদের সাথে আমোদ-প্রমোদে ব্যস্ত থাকবে।
[২৮৮] সাইদ ইবনু জুবাইর রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন-জান্নাতী পুরুষেরা প্রায় সত্তর গজ লম্বা হবে এবং নারীরা হবে ত্রিশ গজ লম্বা। তাদের বসার স্থান হবে বড় উঠোনের ন্যায়। জান্নাতীদের কাম-উত্তেজনা তার দেহে সত্তর বছর পর্যন্ত অবশিষ্ট থাকবে।
টিকাঃ
[***] হাসান। প্রাগুক্ত: ৯৯।
[***] গরিব হাদিস। আস সুনান, ইমাম তিরমিযি: ২৫৩৬।
[*] হাসান। প্রাগুক্ত: ৯৯।
[**] সুরা ইয়াসিন: ৫৫।
[***] হিলইয়াতুল আউলিয়া: ৪/২৭৮।
[****] সহিহ। সিফাতুল জান্নাহ, আবু নুআইম: ৩২৭।
📄 জান্নাতীর বিয়ে
[২৮৯] আবদুর রহমান ইবনু সাবিত রাহিমাহুল্লাহু বলেন-জান্নাতী ব্যক্তি পাঁচ শত হুর, চার হাজার কুমারী নারী, আট হাজার অকুমারী নারীদেরকে বিয়ে করবে। তাদের প্রত্যেকের সাথে দুনিয়ার বয়সের পরিমান সহবাস করতে থাকবে। তবুও তার কাম-উত্তেজনা শেষ হবে না। জান্নাতীদের কাছে (খাবারের) একটি পিয়ালা দেওয়া হবে, সে তার থেকে দুনিয়ার বয়সের সমপরিমান স্বাদ ভোগ করতে থাকবে। তবুও তার স্বাদ শেষ হবে না।
[২৯০] আবু সাঈদ খুদরি রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, الْمُؤْمِنُ إِذَا اشْتَهَى الْوَلَد فِي الْجَنَّةِ كَانَ حَمْلُهُ وَوَضْعُهُ وَسِنُّهُ فِي سَاعَةٍ كَمَا يَشْتَهِي. মুমিন ব্যক্তি জান্নাতে যখন সন্তান চাইবে, তখন তার চাওয়া মাফিক মুহূর্তেই গর্ভসঞ্চার হবে, সন্তান প্রসব হবে এবং বয়স্ক হবে।
টিকাঃ
[২৬১] আস-সুনান, ইমাম তিরমিযি : ২৪৮৭।
📄 জান্নাতীদের স্ত্রী
[২৯১] আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, লোকজন যখন আলোচনা করতে লাগল যে, জান্নাতে পুরুষ বেশি নাকি নারী? তখন নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, لِكُلِّ امْرِئٍ مِنْهُمْ زَوْجَتَانِ اثْنَتَانِ يُرَى مُخُ سُوقِهِمَا مِنْ وَرَاءِ اللَّহْمِ وَمَا فِي الْجَنَّةِ أَعْزَبُ . প্রত্যেক পুরুষ পাবে দুজন স্ত্রী, যাদের মাংসের নিচ দিয়ে পায়ের অস্থিমজ্জা দেখা যাবে। জান্নাতে কোনো অবিবাহিত মানুষ থাকবে না।
[২৯২] ইবরাহিম আন নাখঈ রাহিমাহুল্লাহু বলেন-জান্নাতীদের বিয়ে-শাদী হবে তাদের চাহিদানুপাতে। যে যেমন স্বামী চাইবে, তাকে তেমন স্বামী দেয়া হবে। আবার যেমন স্ত্রী কামনা করবে, তাকে তেমন স্ত্রী-ই দান করা হবে। তাদের কোনো সন্তানাদির টেনশন থাকবে না। যখনই স্বামী-স্ত্রী পরস্পরের দিকে তাকাবে, তাদের মাঝে নতুন করে উদ্যমতা সৃষ্টি হবে।
টিকাঃ
[২৭০] সহিহ মুসলিম: ৫০৬২।
[২৭১] আয যুহদ, ইমাম হান্নাদ: ১১০।
📄 জান্নাতীদের উপহার
[২৯৩] আবদুর রহমান ইবনু সাবিত রাহিমাহুল্লাহু বলেন—জান্নাতীদের নিকট আল্লাহর পক্ষ একজন ফেরেশতা উপঢৌকন নিয়ে আসবে। ঐ ফেরেশতার কাছে একশ জোড়া কাপড় থাকবে। জান্নাতী ব্যক্তি ফেরেশতাকে বলবে, আমার আল্লাহর পক্ষ থেকে এর পূর্বে এত উত্তম কোনো জিনিষ আর আসেনি। তখন ফেরেশতা বলবে, এই সামান্য উপটৌকনেই কি তুমি মুগ্ধ হয়ে গেলে? জান্নাতী বলবে, হ্যাঁ। এরপরে ফেরেশতারা তার নিকটতম বৃক্ষকে বলবে-হে বৃক্ষ, তুমি তাকে তার চাহিদানুযায়ী দিতে থাকো।
[২৯৪] আবু সাঈদ খুদরি রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-জান্নাতী ব্যক্তি হেলান দিয়ে জান্নাতে বসে প্রায় সত্তর বছর কাটিয়ে দিবে। এর আগে সে স্থান ত্যাগ করবে না। তখন সেখানে একজন নারী এসে জান্নাতী ব্যক্তির কাঁধে হাত রাখবে। হুরের হাতের কোমল স্পর্শ পেয়ে হুরের গালের দিকে তাকাবে। তখন সে দেখবে তার গালে লুলু মনিমুক্তা ঝলঝল করছে, যা পৃথিবীর পূর্ব থেকে পশ্চিম পর্যন্ত আলোকিত হয়ে যাবে। হুর রমণী মৃদুসুরে এসে জান্নাতী পুরুষকে সালাম করবে। সালামের জবাব দিয়ে জান্নাতী ব্যক্তি জিজ্ঞাসা করবে তুমি কে গো? জবাবে হুর বলবে, আমি হলাম তোমার জন্য নিয়ামত। হুরের পরনে প্রায় সত্তর ডিজাইনের কাপড় থাকবে। তার সর্বনিম্ন কাপড় হলো নোমান (সুতীর এক প্রকার) কাপড়। তখন জান্নাতী ব্যক্তি ঐ হুরের দিকে তাকালে কাপড়ের নিচ থেকে পায়ের ভিতরের মগজগুলোও দেখা যাবে। হুরের শরীরে থাকবে বিভিন্ন মুনিমুক্তা। সেই মুনিমুক্তার সবচে' নিম্নমানের যেটা, সেটার আলো এত বেশী যে, পূর্ব থেকে পশ্চিম পর্যন্ত সবকিছু দেখা যাবে।
[২৯৫] আনাস ইবনু মালেক রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ لَوْ طَلَعَتِ امْرَأَةٌ مِنْ نِسَاءِ أَهْلِ الْجَنَّةِ عَلَى أَهْلِ الْأَرْضِ لَأَضَاءَتْ مَا بَيْنَهُمَا وَمَلَأَتْ مَا بَيْنَهُمَا بِرِيحِهَا وَلَنَصِيفُهَا عَلَى رَأْسِهَا خَيْرٌ مِنَ الدُّنْيَا وَمَا فِيهَا ঐ সত্তার শপথ, যার হাতে আমি মুহাম্মাদের প্রাণ! যদি দুনিয়াতে জান্নাতী কোনো নারী উঁকি মেরে তাকাতো, তাহলে জান্নাত ও জমিনের মাঝে যা কিছু আছে, সবই দেখা যেত। এবং তার সুগন্ধির মাধ্যমে দুনিয়া এবং আখিরাত পূর্ণ হয়ে যাবে। জান্নাতী হুরের মাথার একটি উড়না দুনিয়া এবং আখিরাতে যা কিছু আছে তার থেকেও অনেক উত্তম।
[২৯৬] আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বর্ণনা করেছেন, وَلَوْ أَنَّ امْرَأَةٌ مِنْ أَهْلِ الْجَنَّةِ اطَّلَعَتْ إِلَى أَهْلِ الْأَرْضِ لَأَضَاءَتْ مَا بَيْنَهُمَا وَلَمَلَأَتْهُ رِيحًا وَلَنَصِيفُهَا عَلَى رَأْسِهَا خَيْرٌ مِنْ الدُّنْيَا وَمَا فِيهَا . যদি জান্নাতী কোনো নারী জমিনবাসীর প্রতি উঁকি দেয়, তাহলে আকাশ ও জমিনের মাঝে সম্পূর্ণটা আলোকিত হয়ে যাবে, সুগন্ধিতে ভরে যাবে, তাদের মাথার ওড়না দুনিয়া ও তার মাঝের সমস্ত কিছুর চেয়ে উত্তম।
টিকাঃ
[*] প্রাগুক্ত: ২১১।
[*] আত তারগিব ওয়াত তারহিব: ৪/৫২৯।
[২৭৪] সহিহ। আস সুনান, ইমাম তিরমিযি: ১৬৫১।
[২৭৫] সহিহ বুখারি: ২৫৮৭।