📘 ওপারের সুখগুলো 📄 জান্নাতীদের সহবাস

📄 জান্নাতীদের সহবাস


[২৭৯] আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন-নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করা হলো, হে আল্লাহর রাসুল! জান্নাতীরা কি তাদের স্ত্রীদের সাথে সহবাস করবে?' উত্তরে নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, 'হ্যাঁ, জান্নাতীরা পরস্পর সহবাস করবে, তাদের পুরুষাঙ্গ বিরক্ত হবে না এবং মহিলাদের লজ্জাস্থানও লুকায়িত হবে না। জান্নাতীরা অনেক খাহেশাতের সাথে সহবাস করবে। তাদের শক্তি কখনো দূর হবে না।
[২৮০] আবি উমামা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন—নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করা হলো, জান্নাতীরা কি সহবাস করবে? উত্তরে নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন-হ্যাঁ। তাদের সহবাসের অনেক শক্তি থাকবে। কিন্তু তাদের কোনো বীর্য থাকবে না।
[২৮১] আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, يُعْطَى الْمُؤْمِنُ فِي الْجَنَّةِ قُوَّةَ كَذَا وَكَذَا مِنْ الْجِمَاعِ قِيلَ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَوَ يُطِيقُ ذَلِكَ قَالَ يُعْطَى قُوَّةَ مِائَةٍ . জান্নাতে মুমিনকে সঙ্গমের এমন এমন শক্তি প্রদান করা হবে। বলা হলো, হে আল্লাহর রাসুল, জান্নাতীরা কি এমন শক্তি পাবে? নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন-একশো পুরুষের শক্তি পাবে।
[২৮২] ইবনু আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা বলেন-নবিজিকে জিজ্ঞাসা করা হলো, হে আল্লাহর রাসুল! আমি কি জান্নাতে আমাদের স্ত্রীদের সাথে সহবাস করতে পারবো?' জবাবে নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন- সেই আল্লাহর হাতে আমার হৃদয়, তার শপথ করে বলছি, জান্নাতীরা এক সকালে প্রায় একশ অবিবাহিত নারীদের সাথে সহবাস করতে পারবে।
[২৮৩] আবু সাঈদ খুদরি রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, الْمُؤْمِنُ إِذَا اشْتَهَى الْوَلَدَ فِي الْجَنَّةِ كَانَ حَمْلُهُ وَوَضْعُهُ وَسِنُّهُ فِي سَاعَةٍ كَمَا يَشْتَهِي কোন মুমিন লোক যদি জান্নাতে সন্তানের আকাঙ্ক্ষা করে তাহলে সঙ্গে সঙ্গে তার স্ত্রী গর্ভধারণ করবে ও সন্তান প্রসব করবে এবং সন্তানটি হবে বয়সে যুবক। তার ইচ্ছা অনুযায়ী মুহুর্তের মধ্যেই এসব হয়ে যাবে।

টিকাঃ
[২৫৮] গরিব হাদিস। মাহজমাউয যাওয়াদে: ১০/৪১৬।
[২৫৯] যয়িফ। মাজমাউয যাওয়ায়েদ: ১০/৪১৬।
২৬০. [***] আস-সুনান, ইমাম তিরমিযি: ২৪৫৯।
[*] যয়িফ। আল ইতহাফ: ১০/৫৪৫৫। সহিহ সনদে বর্ণিত আছে। আবু সাঈদ খুদরি এবং আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহুমা বলেন, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, يُنَادِي مُنَادٍ إِنَّ لَكُمْ أَنْ تَصِحُوا فَلَا تَسْقَمُوا أَبَدًا... একজন আহ্বান করবে-তোমাদের জন্য সুস্থতার ফায়সালা করা হয়েছে, সুতরাং কখনো অসুস্থ হবে না। তোমাদের জন্য জীবনের ফায়সালা করা হয়েছে, সুতরাং কখনো মৃত্যুবরণ করবে না। তোমাদের জন্য যৌবনের ফায়সালা করা হয়েছে, সুতরাং কখনো বৃদ্ধ হবে না। তোমাদের জন্য ধনাঢ্যতার ফায়সালা করা হয়েছে, সুতরাং কখনো দুঃস্থ হবে না। এটাই আল্লাহ তাআলা বলেছেন, وَ نُوْدُوْا أَنْ تِلْكُمُ الْجَنَّةُ أُوْرِثْتُمُوهَا بِمَا كُنْتُمْ تَعْمَلُوْনَ আওয়াজ আসবে-এটি জান্নাত। তোমরা এর উত্তরাধিকারী হলে তোমাদের কর্মের প্রতিদানে। [সুরা আরাফ: ৪৩]
[২] প্রাগুক্ত।

📘 ওপারের সুখগুলো 📄 জান্নাতীদের কোনো পেশাব-পায়খানা হবে না

📄 জান্নাতীদের কোনো পেশাব-পায়খানা হবে না


[২৮৪] সালাম আল আসওয়াদ বলেন, আমি আবু উমামাকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন—এক ব্যক্তি নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করলেন, জান্নাতীরা কি বিবাহ করবে? জান্নাতীরা কি আহার করবে? উত্তরে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, সেই আল্লাহর হাতে আমার হৃদয়, তার শপথ করে বলছি—জান্নাতীরা জান্নাতে আহার এবং সহবাস সবকিছু করবে। লোকেরা তখন জিজ্ঞেস করল, তাহলে তাদের খাবারগুলো কোথায় যাবে? (তাদেরে কি পায়খানা হবে না?) জবাবে নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন—জান্নাতীরা কখনো বয়োবৃদ্ধ হবে না এবং পায়খানা-পেশাবও করবে না। তবে তাদের চামড়া দিয়ে সুগন্ধিময় ঘাম ঝরতে থাকবে।
[২৮৫] আনাস ইবনু মালেক রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন—কোনো একজন ব্যক্তিকে জান্নাতে ঐটা দেওয়া হবে। এই এই জিনিষ দেওয়া হবে। সাহাবায়ে কেরাম জিজ্ঞাসা করলেন, ইয়া রাসুলুল্লাহ! আমাদের জন্য কি তা সম্ভব হবে? জবাবে নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, একশ জনের শক্তি একজন পুরুষকে দেওয়া হবে।
[২৮৬] আবু উমামা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন—এক ব্যক্তি নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করলেন, জান্নাতীরা কি বিবাহ করবে? জান্নাতীরা কি আহার করবে? উত্তরে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, সেই আল্লাহর হাতে আমার হৃদয়, তার শপথ করে বলছি—জান্নাতীরা জান্নাতে আহার এবং সহবাস সবকিছু করবে। লোকেরা তখন জিজ্ঞেস করল, তাহলে তাদের খাবারগুলো কোথায় যাবে? (তাদেরে কি পায়খানা হবে না?) জবাবে নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন-জান্নাতীরা কখনো বয়োবৃদ্ধ হবে না এবং পায়খানা-পেশাবও করবে না। তবে তাদের চামড়া দিয়ে সুগন্ধিময় ঘাম ঝরতে থাকবে।
[২৮৭] আল্লাহ তাআলার বাণী: إِنَّ أَصْحَابَ الْجَنَّةِ الْيَوْمَ فِي شُغُلٍ فَاكِهُونَ নিশ্চয় জান্নাতীরা সেদিন আপন ব্যস্ততায় মগ্ন থাকবে। এই আয়াতের ব্যাখ্যাতে আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা বলেন- জান্নাতীরা কুমারী নারীদের সাথে আমোদ-প্রমোদে ব্যস্ত থাকবে।
[২৮৮] সাইদ ইবনু জুবাইর রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন-জান্নাতী পুরুষেরা প্রায় সত্তর গজ লম্বা হবে এবং নারীরা হবে ত্রিশ গজ লম্বা। তাদের বসার স্থান হবে বড় উঠোনের ন্যায়। জান্নাতীদের কাম-উত্তেজনা তার দেহে সত্তর বছর পর্যন্ত অবশিষ্ট থাকবে।

টিকাঃ
[***] হাসান। প্রাগুক্ত: ৯৯।
[***] গরিব হাদিস। আস সুনান, ইমাম তিরমিযি: ২৫৩৬।
[*] হাসান। প্রাগুক্ত: ৯৯।
[**] সুরা ইয়াসিন: ৫৫।
[***] হিলইয়াতুল আউলিয়া: ৪/২৭৮।
[****] সহিহ। সিফাতুল জান্নাহ, আবু নুআইম: ৩২৭।

📘 ওপারের সুখগুলো 📄 জান্নাতীর বিয়ে

📄 জান্নাতীর বিয়ে


[২৮৯] আবদুর রহমান ইবনু সাবিত রাহিমাহুল্লাহু বলেন-জান্নাতী ব্যক্তি পাঁচ শত হুর, চার হাজার কুমারী নারী, আট হাজার অকুমারী নারীদেরকে বিয়ে করবে। তাদের প্রত্যেকের সাথে দুনিয়ার বয়সের পরিমান সহবাস করতে থাকবে। তবুও তার কাম-উত্তেজনা শেষ হবে না। জান্নাতীদের কাছে (খাবারের) একটি পিয়ালা দেওয়া হবে, সে তার থেকে দুনিয়ার বয়সের সমপরিমান স্বাদ ভোগ করতে থাকবে। তবুও তার স্বাদ শেষ হবে না।
[২৯০] আবু সাঈদ খুদরি রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, الْمُؤْمِنُ إِذَا اشْتَهَى الْوَلَد فِي الْجَنَّةِ كَانَ حَمْلُهُ وَوَضْعُهُ وَسِنُّهُ فِي سَاعَةٍ كَمَا يَشْتَهِي. মুমিন ব্যক্তি জান্নাতে যখন সন্তান চাইবে, তখন তার চাওয়া মাফিক মুহূর্তেই গর্ভসঞ্চার হবে, সন্তান প্রসব হবে এবং বয়স্ক হবে।

টিকাঃ
[২৬১] আস-সুনান, ইমাম তিরমিযি : ২৪৮৭।

📘 ওপারের সুখগুলো 📄 জান্নাতীদের স্ত্রী

📄 জান্নাতীদের স্ত্রী


[২৯১] আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, লোকজন যখন আলোচনা করতে লাগল যে, জান্নাতে পুরুষ বেশি নাকি নারী? তখন নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, لِكُلِّ امْرِئٍ مِنْهُمْ زَوْجَتَانِ اثْنَتَانِ يُرَى مُخُ سُوقِهِمَا مِنْ وَرَاءِ اللَّহْمِ وَمَا فِي الْجَنَّةِ أَعْزَبُ . প্রত্যেক পুরুষ পাবে দুজন স্ত্রী, যাদের মাংসের নিচ দিয়ে পায়ের অস্থিমজ্জা দেখা যাবে। জান্নাতে কোনো অবিবাহিত মানুষ থাকবে না।
[২৯২] ইবরাহিম আন নাখঈ রাহিমাহুল্লাহু বলেন-জান্নাতীদের বিয়ে-শাদী হবে তাদের চাহিদানুপাতে। যে যেমন স্বামী চাইবে, তাকে তেমন স্বামী দেয়া হবে। আবার যেমন স্ত্রী কামনা করবে, তাকে তেমন স্ত্রী-ই দান করা হবে। তাদের কোনো সন্তানাদির টেনশন থাকবে না। যখনই স্বামী-স্ত্রী পরস্পরের দিকে তাকাবে, তাদের মাঝে নতুন করে উদ্যমতা সৃষ্টি হবে।

টিকাঃ
[২৭০] সহিহ মুসলিম: ৫০৬২।
[২৭১] আয যুহদ, ইমাম হান্নাদ: ১১০।

ফন্ট সাইজ
15px
17px