📘 ওপারের সুখগুলো 📄 হুর রমণীদের গান

📄 হুর রমণীদের গান


[২৬৮] আলি রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, إِنَّ فِي الْجَنَّةِ لَمُجْتَمَعًا لِلْحُورِ الْعِينِ يُرَفِّعْنَ بِأَصْوَاتٍ لَمْ يَسْمَعِ الْخَلائِقُ مِثْلَهَا قَالَ يَقُلْنَ نَحْنُ الْخَالِدَاتُ فَلَا نَبِيدُ وَنَحْنُ النَّاعِمَاتُ فَلَا نَبْأَسُ وَنَحْنُ الرَّاضِيَاتُ فَلَا نَسْخَطُ طُوبَى لِمَنْ كَانَ لَنَا وَكُنَّا لَهُ জান্নাতে আয়াতলোচনা হুরদের সমবেত হওয়ার একটি জায়গা রয়েছে। তারা সেখানে এমন সুরেলা আওয়াজে গান গাইবে, যেমন আওয়াজ কোন মাখলুক ইতিপূর্বে কখনো শুনেনি। তারা এই বলে গান গাইবে-আমরা তো চিরসঙ্গিনী, আমাদের ধ্বংস নেই। আমরা তো আনন্দ-উল্লাসের জন্যই, দুঃখ-কষ্ট নেই আমাদের। আমরা চির সন্তুষ্ট, আমরা কখনো অসন্তুষ্ট হব না। তাদের কতই না সৌভাগ্য যাদের জন্য আমরা এবং আমাদের জন্য যারা।

[২৬৯] আনাস ইবনু মালেক রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-জান্নাতের হুর রমণীরা খুব সুন্দর এবং মৃদু কণ্ঠে গান গাইতে থাকবে। তারা বলবে, আমরা সুন্দরী এবং ভালো নারী। আমাদের সম্মানিত স্বামীদের জন্য লুকিয়ে রাখা হয়েছিল।

টিকাঃ
২৫২ [*২২] মিশকাতুল মাসাবিহ: ৫৬৪৯।
২৫৩ [***] তারিখে কাবির, ইমাম বুখারি, তারগিব: ৪/৫৩৮।

📘 ওপারের সুখগুলো 📄 গাছ এবং গায়িকাদের গান

📄 গাছ এবং গায়িকাদের গান


[২৭০] সাইদ ইবনু আবি আইয়ুব বলেন, একজন কুরাঈশী ইবনু শিহাব রাহিমাহুল্লাহুকে জিজ্ঞেস করলেন-আচ্ছা, জান্নাতে কি গায়ক-গায়িকা থাকবে? আমার তো গান খুব প্রিয়। জবাবে তিনি বললেন, ঐ সত্তার শপথ করে বলছি, যার হাতে আমি ইবনু শিহাবের জীবন! জান্নাতে একটি গাছ থাকবে। তার ফলগুলো হবে লুলুয়ূ এবং যাবারযাদের। সেই গাছের নিচে সুন্দরী কুমারীরা বসে বসে হৃদয়ছোঁয়া গান গাইতে থাকবে। গানের সুরে সুরে বলতে থাকবে-আমরা হলাম সচ্চরিত্র ও সুন্দরীর দল, সম্মানিত সম্প্রদায়ের স্ত্রী। যে স্ত্রীরা শীতল নজরে দৃষ্টিপাত করে। তারা গানে গানে আরো বলবে, আমরা চিরদিনই থাকবো, কখনো ধ্বংস হবো না। আমরা সন্তুষ্টচিত্ত থাকবো, কখনো রাগান্বিত হবো না। যখন সেই বৃক্ষ গায়িকাদের গান শুনবে, তখন বৃক্ষটির একটি ডাল অপরটির সাথে সংমিশ্রণ হয়ে অনেক সুন্দর আওয়াজ করতে থাকবে। সে সময় কুমারীরা বলবে-গাছের আওয়াজ অনেক সুন্দর নারী কুমারীদের গান অনেক সুন্দর হবে। (মাতাল হয়ে যাওয়ার মত।)

[২৭১] খালিদ ইবনু ইয়াযিদ রাহিমাহুল্লাহু বলেন-জান্নাতে খুব সুন্দর হুর রমণী থাকবে, যারা মৃদু কণ্ঠে স্বামীদেরকে গান গেয়ে শোনাবে। তারা গাইতে থাকবে, আমরা হলাম সুন্দর নারী, সুখে রাখি প্রিয়তমদেরকে। আলতো সোহাগে জয় করে রাখবো স্বামীদের মন। আমাদেরকে নির্ধারণ করা হয়েছে নবযুবক স্বামীদের জন্য। আমরা চিরস্থায়ী, কখনো হারিয়ে যাবার নয়। আমরা নিয়ামতপ্রাপ্তা, কখনো নিরাশ হবার নয়। আমরা সন্তুষ্ট হবার, কখনো অসন্তুষ্ট হবার নয়। আমরা হলাম সর্বদা অবস্থানকারী, কখনো দূরে থাকার নয়। তাদের সিনায় লিখা থাকবে, তুমি জীবিত। আমি তোমার ভালোবাসার প্রিয়তমা। আমাকে আমি তোমার কাছে সঁপে দিলাম। আমার সমস্ত ভালোবাসা একমাত্র তোমার জন্য। আমার চোখ তোমার মত আর কাউকে খুঁজবে না। আমি তোমারই হয়ে রবো জনম-জনম।

[২৭২] আল্লাহ তাআলার বাণী: যারা বিশ্বাস স্থাপন করেছে ও নেক আমল করেছে, তারা জান্নাতে সমাদৃত হবে। (সুরা রূম : ১৫) এই আয়াতের ব্যাখ্যাতে ইবনু কাছির রাহিমাহুল্লাহু বলেন—এখানে জান্নাতের গান এবং মজা-মাস্তি উদ্দেশ্য।

টিকাঃ
২৫৪ [***] তাফসিরে তাবারি: ২১/১৮।

📘 ওপারের সুখগুলো 📄 জান্নাতীদেরকে ইসরাফিল আ. গান গেয়ে শোনাবে

📄 জান্নাতীদেরকে ইসরাফিল আ. গান গেয়ে শোনাবে


[২৭৩] আওযাঈ রাহিমাহুল্লাহু বলেন-মহান আল্লাহ তাআলা ইসরাফিল আলাইহিস সালাম থেকে সুন্দর আওয়াজকে অনেক সুন্দর করে সৃষ্টি করেছেন। তাঁর কণ্ঠে এক ধরণের মায়া লুকায়িত আছে। তাঁর আওয়াজের মত এত সুন্দর আর কোনো আওয়াজ সৃষ্টি করেননি। আল্লাহ তাআলা ইসরাফিল আলাইহিস সালামকে জান্নাতীদেরকে গান গেয়ে শোনাতে আদেশ করবেন। তিনি জান্নাতীদেরকে মধুর কণ্ঠে গান গেয়ে শোনাবেন।

📘 ওপারের সুখগুলো 📄 হৃদয়কাড়া মৃদু আওয়াজ

📄 হৃদয়কাড়া মৃদু আওয়াজ


[২৭৪] আবি লুবাবাহ রাহিমাহুল্লাহু বলেন—জান্নাতের মধ্যে কিছু গাছ আছে, যার ফল হবে ইয়াকুত এবং লুলুয়ূ ও যাবারযাদের। এরপরে সেখানে আল্লাহ তাআলা একটি বাতাস প্রেরণ করবেন, যে বাতাস জান্নাতের ফলের সাথে মিলে একাকার হয়ে একটি আওয়াজ সৃষ্টি হবে। যে আওয়াজটা অনেক মধুর এবং আরামদায়ক হবে। জান্নাতীরা এমন আওয়াজ শুনে অস্থির হয়ে যাবে। কারণ এর মত এত সুন্দর আওয়াজ পৃথিবীতে মানুষ কোনোদিন শোনেনি।

[২৭৫] ইবনু আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা বলেন-জান্নাতে একটি গাছের ছায়া এত দীর্ঘ হবে যে, একজন আরোহী একশ বছর পর্যন্ত সাওয়ারী চালাতে পারবে (তবুও ছায়া অতিক্রম করতে সক্ষম হবে না)। গাছের ছায়াতে জান্নাতীরা চলার সময়ে দুনিয়ার বিভিন্ন আনন্দের কথা মনে পড়ে যাবে। ফলে একজন অন্যজনকে দুনিয়ার বিভিন্ন খেলাধুলা ও দুষ্টুমির কথা বলতে থাকবে। তখন আল্লাহ তাআলা একটি মৃদু বাতাসকে প্রেরণ করবেন, সে বাতাস গাছের ফলের সাথে সংমিশ্রণ হয়ে দুনিয়ার সব খেলাধুলা স্মরণ হয়ে যাবে।

[২৭৬] সাইদ আল হারেসী রাহিমাহুল্লাহু বলেন-জান্নাতে একটি বৃক্ষ থাকবে, যার ডালপালা হবে স্বর্ণের। এবং ফলগুলো হবে লুলুয়ূ মুক্তার। যখন-ই জান্নাতীরা গান শুনতে ইচ্ছে করবে, তখন আল্লাহ তাআলা সেখানে একটি নির্মল বাতাস প্রেরণ করবেন, যে বাতাসে অনেক সুন্দর আওয়াজ হবে। জান্নাতীরা তা বসে বসে উপভোগ করতে থাকবে।

টিকাঃ
২৫৫. [] আদ-দুররুল মানসুর: ৫/১৫৩।

ফন্ট সাইজ
15px
17px