📘 ওপারের সুখগুলো 📄 জান্নাতের বাজার

📄 জান্নাতের বাজার


[২৬৩] আলি ইবনু আবি তালিব রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, নবিজি সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-জান্নাতে বাজার থাকবে, তবে তাতে কোনো ধরণের ক্রয়-বিক্রয় হবে না। তবে সেই বাজারে পুরুষ-নারীদের আকৃতিতে বিভিন্ন লোক থাকবে, যদি কোনো পুরুষ কোনো হুরেইনকে কামনা করে, তাহলে সে সেখানে প্রবেশ করবে। জান্নাতে বিভিন্ন হুর রমণীরা থাকবে। হুর রমীনরা এমন আওয়াজ করবে, যা পৃথিবীর কেউ কোনোদিন শোনেনি। হুর রমণীরা বলতে থাকবে, আমরা চিরস্থায়ী। কথনো হারিয়ে যাবার নয়। আমরা সন্তুষ্টকারী, কখনো অসন্তুষ্টকারী নয়। আমরা হলাম সুখী নারী, কখনো নিরাশ কিংবা দুঃখ পাওয়ার নয়। সুসংবাদ ঐ সমস্ত পুরুষের জন্য, যে আমাদের জন্য। এবং আমরা তার জন্য।

[২৬৪] আনাস ইবনু মালেক রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেছেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, إِنَّ فِي الْجَنَّةِ لَسُوقًا يَأْتُونَهَا كُلَّ جُمُعَةٍ فَتَهُبُّ رِيحُ الشَّمَالِ فَتَحْتُو فِي وُجُوهِهِمْ وَثِيَابِهِمْ فَيَزْدَادُونَ حُسْنًا وَجَمَالًا فَيَرْجِعُونَ إِلَى أَهْلِيهِمْ وَقَدْ ازْدَادُوا حُسْنًا وَجَمَالًا فَيَقُولُ لَهُمْ أَهْلُوهُمْ وَاللَّهِ لَقَدْ ازْدَدْتُمْ بَعْدَنَا حُسْنًا وَجَمَالًا فَيَقُولُونَ وَأَنْتُمْ وَاللَّهِ لَقَدْ ازْدَدْتُمْ بَعْدَنَا حُسْنًا وَجَمَالًا জান্নাতে একটি বাজার রয়েছে। প্রত্যেক জুমাবার জান্নাতীরা সেখানে জমায়েত হবে। তখন প্রবল বেগে উত্তরাবায়ু প্রবাহিত হবে। সেই বাতাস সকলের চেহারা ও পোশাকে লাগবে। যার কারণে তাদের সৌন্দর্য ও লাবণ্য বেড়ে যাবে। অতঃপর তারা এমন অবস্থায় পরিবারের কাছে ফিরে যাবে যে, তাদের সৌন্দর্য ও লাবণ্য থাকবে (পূর্বের চেয়ে) অনেকগুণ বেশি। যার কারণে তাদের পরিবার তাদেরকে বলবে, আল্লাহর কসম! আমাদের কাছ থেকে যাওয়ার পর তোমাদের সৌন্দর্য ও লাবণ্য বৃদ্ধি পেয়েছে। তখন জান্নাতীরা বলবে, আল্লাহর কসম, আমাদের অবর্তমানে তোমাদের সৌন্দর্য ও লাবণ্যও অনেকগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।

[২৬৫] আনাস ইবনু মালেক রাদিয়াল্লাহু বলেন-জান্নাতীরা বলবে, আমাদেরকে বাজারের দিকে নিয়ে চলো। তাদেরকে জান্নাতে অবস্থিত একটি বালুর টিলার দিকে নিয়ে যাওয়া হবে। তারা সেই বাজার থেকে ফিরে এসে তাদের স্ত্রীদের কাছে বলবে, যেই সুগন্ধি নিয়ে আমরা তোমাদের কাছ থেকে বাজারের দিকে গিয়েছিলাম, সেই সুগন্ধি কি এখানো আমাদের মাঝে আছে? তখন তাদের স্ত্রীরা জবাব দিবে, তোমরা আমাদের থেকে যে সুঘ্রাণ নিয়ে বাজারে গিয়েছিলে, সেই সুঘ্রাণ এখানো তোমাদের মাঝে বিদ্যমান রয়েছে। বরং আরো বৃদ্ধি পেয়েছে।

[২৬৬] আনাস ইবনু মালেক থেকে বর্ণিত, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন-জান্নাতে মিশকের ঘ্রাণের মত একটি বাজার আছে, যে বাজারে জান্নাতীরা ঘুরতে যাবে। অতঃপর আল্লাহ তাআলা সে বাজারে সুগন্ধিময় বাতাস প্রেরণ করবেন। ঘুরাফেরা শেষ করে যখন জান্নাতীরা বাসায় ফিরবে, তখন তাদের স্ত্রীরা বলবে-আহা! তোমরা কী অপূর্ব সুগন্ধিময় নিয়ে এসেছো! এখন তোমরা আমাদের কাছে আরো সুন্দর হয়ে গেলে। পুরুষেরাও হুর রমণীদেরকে বলতে থাকবে, তোমাদেরকেও আরো বেশ সুন্দরী লাগছে।

অন্য সনদে আছে-আনাস ইবনু মালেক রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-জান্নাতে একটি বাজার থাকবে। প্রত্যেক জুমআয় জান্নাতী লোকেরা এতে একত্রিত হবে। তারপর উত্তরদিকের বায়ু প্রবাহিত হয়ে সেখানকার ধুলোবালি তাদের মুখমণ্ডল ও পোশাক-পরিচ্ছদে গিয়ে লাগবে। এতে তাদের সৌন্দর্য এবং শরীরের রং আরো বেড়ে যাবে। তারপর তারা স্ব স্ব পরিবারের কাছে ফিরে আসবে। এসে দেখবে, তাদের শরীরের রং এবং সৌন্দর্যও বহু বৃদ্ধি পেয়েছে। এরপর তাদের পরিবারের লোকেরা বলবে, আল্লাহর শপথ! আমাদের নিকট হতে যাবার পর তোমাদের সৌন্দর্য বৃদ্ধি পেয়েছে। উত্তরে তারাও বলবে, আল্লাহ শপথ! তোমাদের শরীরের সৌন্দর্য তোমাদের নিকট থেকে যাবার পর বহুগুণে বেড়ে গেছে।

[২৬৭] যুহরী রাহিমাহুল্লাহু বলেন-জান্নাতের বাজার কাপুরের সুগন্ধিময় একটি টিলাতে থাকবে।

টিকাঃ
২৪৭ [***] দুর্বল। আল মুসনাদ, ইমাম আহমাদ: ১০/১৫৬।
২৪৮ [***] সহিহ মুসলিম: ৫০৬১।
২৪৯ [***] আয যুহদ, ইবনুল মুবারক: ২৪১।
[***] সহিহ মুসলিম: ৭০৩৮।
[***] সাঈদ ইবনুল মুসাইয়্যিব রাহিমাহুল্লাহু বলেন-তিনি আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহুর সাথে দেখা করলে তিনি বললেন, আমি আল্লাহ তাআলার নিকটে প্রার্থনা করছি তিনি যেন আমাকে ও তোমাকে জান্নাতের বাজারে একত্র করেন। সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিব রাহিমাহুল্লাহু প্রশ্ন করেন, জান্নাতে কি বাজারও আছে? তিনি বললেন, হ্যাঁ। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে জানিয়েছেন যে, জান্নাতীরা জান্নাতে গিয়ে নিজ নিজ আমলের পরিমাণ ও মর্যাদা অনুযায়ী সেখানে জায়গা (মর্যাদা) পাবে। তারপর দুনিয়ার সময় অনুসারে জুমআর দিন তাদেরকে (তাদের রবের দর্শনের) অনুমতি দেয়া হবে এবং তারা তাদের রবকে দেখতে আসবে। তাদের জন্য তাঁর আরশ প্রকাশিত হবে। জান্নাতের কোন এক বাগানে তাদের সামনে তাদের প্রভুর প্রকাশ ঘটবে। তাদের জন্য নূর, মণিমুক্তা, পদ্মরাগ মণি, যমরূদ ও সোনা-রূপা ইত্যাদির মিম্বারসমূহ রাখা হবে। তাদের মধ্যকার সবচাইতে নিম্নস্তরের জান্নাতীও মিশক ও কর্পরের স্তুপের উপর আসন গ্রহণ করবে। তবে সেখানে কেউ হীন-নীচ হবে না। মিম্বারে আসীন ব্যক্তিগণকে তারা তাদের চাইতে শ্রেষ্ঠ বা উৎকৃষ্ট ভাববে না। আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আমি প্রশ্ন করলাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমরা কি আমাদের রবকে দেখতে পাব? তিনি বললেন, হ্যাঁ। সূর্য বা পূর্ণিমার চাঁদ দেখতে তোমাদের কি কোন সন্দেহ হয়? আমরা বললাম, না। তিনি বললেনঃ ঠিক সে রকম তোমাদের রবের দেখাতেও কোন সন্দেহ থাকবে না। আর সে মজলিসের প্রত্যেক লোক আল্লাহ তাআলা সাথে কথা বলবে। এমনকি তিনি একে একে তাদের নাম ধরে ডেকে বলবেন, হে অমুকের পুত্র অমুক! অমুক দিন তুমি এমন কথা বলেছিলে, মনে আছে কি? এভাবে তিনি তাকে দুনিয়ার কিছু নাফরমানী ও বিদ্রোহের কথা মনে করিয়ে দিবেন। লোকটি তখন বলবে, হে আমার রব! আপনি কি আমাকে মাফ করেননি? তিনি বলবেনঃ, হ্যাঁ, আমার ক্ষমার বদৌলতেই তুমি এ জায়গাতে পৌঁছেছ। এই অবস্থায় হঠাৎ তাদের উপর এক খন্ড মেঘ এসে তাদেরকে ছেয়ে ফেলবে এবং তা হতে তাদের উপর সুগন্ধি (বৃষ্টি) বর্ষিত হবে, যেরূপ সুগন্ধ তারা ইতিপূর্বে কখনো কিছুতে পায়নি। আমাদের রব বলবেন, উঠো! আমি তোমাদের সম্মানে যে মেহমানদারি প্রস্তুত করেছি সেদিকে অগ্রসর হও এবং যা কিছু পছন্দ হয় তা গ্রহণ কর। তখন আমরা একটি বাজারে এসে হাযির হব, যা ফেরেশতারা ঘিরে রাখবে। সেখানে এরূপ পণ্যসামগ্রী থাকবে, যা না কোন চোখ দেখেছে, না কোন কান শুনেছে এবং না কখনো অন্তরের কল্পনায় ভেসেছে। আমরা সেখানে যা চাইব, তাই তুলে দেয়া হবে। তবে বেচা-কেনা হবে না। আর সে বাজারেই জান্নাতীরা একে অপরের সাথে দেখা করবে। উচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন জান্নাতী সামনে এগিয়ে তাঁর চাইতে অল্প মর্যাদাবান জান্নাতীর সাথে দেখা করবে। তবে সেখানে তাদের মধ্যে উঁচু-নীচু বলতে কিছু থাকবে না। তিনি তার পোশাক দেখে অস্থির হয়ে যাবেন। এ কথা শেষ হতে না হতেই তিনি মনে করতে থাকবেন যে, তার গায়ে আগের চাইতে উত্তম পোশাক দেখা যাচ্ছে। আর এরূপ এজন্যই হবে যে, সেখানে কারো দুঃখ-কষ্ট বা দুশ্চিন্তা স্পর্শ করবে না। তারপর আমরা নিজেদের স্থানে ফিরে আসব এবং নিজ নিজ স্ত্রীদের দেখা পাব। তারা তখন বলবে, মারহাবা, স্বাগতম! কি ব্যাপার! যে রূপ-সৌন্দর্য নিয়ে বিচ্ছিন্ন হয়েছিলে, তার চাইতে উত্তম সৌন্দর্য নিয়ে ফিরে এসেছ। আমরা বলব, আজ আমরা আমাদের আল্লাহ তাআলার সাথে মাজলিসে বসেছিলাম। কাজেই এ পরিবর্তন সংঘটিত হয়েছে। আর এটাই ছিল স্বাভাবিক। [আস সুনান, ইবনু মাজাহ: ৪৩৩৬।; আস সুনান, ইমাম তিরমিযি: ২৫৪৯।]

ফন্ট সাইজ
15px
17px