📘 ওপারের সুখগুলো 📄 ওপারে গিয়ে আবার দেখা হবে

📄 ওপারে গিয়ে আবার দেখা হবে


[২৫৩] আনাস ইবনু মালেক রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন-যখন জান্নাতীরা জান্নাতে প্রবেশ করবে, তখন কতক কতকের সাথে সাক্ষাতের ইচ্ছা করবে। সাক্ষাতের পরে একজন অন্যজনকে জিজ্ঞাসা করবে, তুমি কি জানো যে, আল্লাহ তাআলা আমাদের অমুক অন্যায়কে ক্ষমা করে দিয়েছেন? উত্তরে তার সাথী বলবে, হ্যাঁ, অমুক দিন আমরা অমুক স্থানে এই এই গুনাহ করেছিলাম, কিন্তু পরবর্তীতে আল্লাহ তাআলাকে ডেকেছিলাম, ফলে আল্লাহ তাআলা আমাদের ক্ষমা করে দিয়েছেন।

[২৫৪] শুফাই ইবনু মানে রাহিমাহুল্লাহ বলেন, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-জান্নাতীরা মাতায়া এবং বখতি উটের উপর সাওয়ারী হয়ে পরস্পর সাক্ষাত করবে। প্রতি শুক্রবারে তাদের নিকট লাগাম এবং জীন পরহিত ঘোড়া নিয়ে আসা হবে। যে ঘোড়া পেশাব-পায়খানা করবে না। তারা তাতে আরোহন করে আল্লাহর ইচ্ছানুযায়ী জান্নাতের বিভিন্ন জায়গায় ঘুরা-ফেরা করবে।

অতঃপর মেঘমালার ন্যায় তাদের নিকট বিভিন্ন নিয়ামাহ আসতে থাকবে, যা কোনো চোখ অবলোকন করেনি এবং কোনো কানও শোনেনি। তখন জান্নাতীরা বলবে-তোমরা আমাদের বৃষ্টি বর্ষণ করো। ফলে তাদের আশা অনুযায়ী অনেক বৃষ্টি বর্ষণ হতে থাকবে। অতঃপর আল্লাহ তাআলা তাদের মৃদু বাতাস প্রেরণ করবেন। সে বাতাসে মিশকের বিভিন্ন অংশ ঘোড়ার চুল এবং লেজে, মাথায় ঝুলে থাকবে। জান্নাতের প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য বিভিন্ন রকম গদি থাকবে। জান্নাতী ব্যক্তির কাপড়েও মিশকের বিভিন্ন অংশ লেগে তোদের সমস্ত দেহ সুগন্ধিময় হয়ে যাবে।

অতঃপর তারা তাদের নিজ বাসস্থানের দিকে যাবে। তখন হুর স্ত্রীরা ডেকে ডেকে বলবে-হে আল্লাহর বান্দা, আমার প্রতি তোমার কোনো চাহিদা নেই? জান্নাতী ব্যক্তি বলবে-তুমি কে? আর আমি কে? হুর স্ত্রী তখন তাকে বলবে, তুমি আমার প্রাণের স্বামী। তুমি আমার ভালোবাসা। জান্নাতী ব্যক্তি তখন বলবে, তোমার অবস্থান সর্ম্পকে তো আমাকে জানানো হয়নি (!) তখন হুর স্ত্রী বলবে, তুমি কি আল্লাহর সেই বাণী শোনোনি! যেখানে তিনি বলেছেন,

فَلَا تَعْلَمُ نَفْسٌ مَا أُخْفِيَ لَهُمْ مِنْ قُرَّةِ أَعْيُنٍ جَزَاءً بِمَا كَانُوا يَعْمَلُونَ

কেউ জানে না তার জন্য কৃতকর্মের কি কি নয়ন-প্রীতিকর প্রতিদান লুক্কায়িত আছে। (সুরা সাজদা : ১৭)

তখন জান্নাতী বলবে, হ্যাঁ, অবশ্যই আমি তো শুনেছি। অতঃপর তারা দু'জন সেখানে প্রায় চল্লিশ বছর পর্যন্ত আনন্দে লিপ্ত থাকবে।

টিকাঃ
২৪০ [*] যয়িফ। আত তারগিব: ৪/৫৪৩।

📘 ওপারের সুখগুলো 📄 পরস্পরের সাক্ষাতের বিবরণ

📄 পরস্পরের সাক্ষাতের বিবরণ


[২৫৫] আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন-জান্নাতীরা 'ঈছ এবং জাওন’ নামক উটে আরোহন করে পরস্পরের সাথে সাক্ষাত করবে। সেই উটের উপর 'মিছ' নামক গাছের হাওদা থাকবে। মিশকের ধুলোবালি উটের নাক থেকে বিচ্ছুরিত হতে থাকবে। সেই উটের একটি জীন কিংবা লাগাম দুনিয়া এবং এতে যা কিছু আছে তার থেকেও অনেক দামী ও উত্তম।

📘 ওপারের সুখগুলো 📄 শহিদগণের মর্যাদা

📄 শহিদগণের মর্যাদা


[২৫৬] আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিবরিল আলাইহিস সালামকে

فَصَعِقَ مَنْ فِي السَّমَاوَاتِ وَمَنْ فِي الْأَرْضِ إِلَّا مَنْ شَاءَ اللَّهُ

(শিঙ্গায় ফুঁক দেওয়া হবে) ফলে আসমান এবং জমিনে যারা আছে, সবাই বেহুঁশ হয়ে যাবে। তবে আল্লাহ যাকে ইচ্ছা করেন। (সুরা যুমার: ৬৮)

এই আয়াত সম্পকে জিজ্ঞাসা করেন-হে জিবরিল, তারা কারা যারা আল্লাহর ইচ্ছায় কিয়ামতের বেহুশ হবে না? জবাবে জিবরিল আলাইহিস সালাম বললেন, তারা হলো শহিদগণ। যারা কিয়ামতের দিন তরবারি ঝুলন্ত অবস্থায় আরশের চারপাশে অবস্থান করবে। এই শহিদগণের সাথে হাশরের ময়দানে মুক্তাতুল্য ফেরেশতারা ঘোড়া নিয়ে সাক্ষাত করবে। যার দাত হবে শুভ্র এবং জীন হবে স্বর্ণের। হাওদা হবে রেশমের। তার লাগাম হবে রেশমের থেকেও অনেক নরম। তার লাগাম হবে চোখের দৃষ্টি পরিমান লম্বা।

অতঃপর (শহিদরা) জান্নাতে ঘোড়ার উপর আনন্দ-ফূর্তিতে ঘুড়তে থাকবে। তারা একসময় বলবে, আমাদেরকে আমাদের রবের কাছে নিয়ে চলো। আমরা আল্লাহর বিচার কার্য দেখবো। আল্লাহ তাদের (শহিদদের) দিকে দেখে হেসে দিবেন। তখন তাদের আর কোনো হিসেব-নিকাশ হবে না।

📘 ওপারের সুখগুলো 📄 উড়ন্ত ঘোড়া

📄 উড়ন্ত ঘোড়া


[২৫৭] হুসাইন ইবনু আলি রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আমি নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন-জান্নাতে একটি গাছ থাকবে, যার উপর থেকে জোড়ায়-জোড়ায় বিভিন্ন রকমের কাপড় বের হবে। এবং তার (গাছের) নিচ থেকে স্বর্ণের অনেক ঘোড়া বের হবে। যার জীন এবং লাগাম হবে ইয়াকুত পাথরের। ঘোড়াগুলো কোনো রকম পেশাব-পায়খানা করবে না। তার থাকবে অনেক সুন্দর ডানা। চলার গতি হবে-চোখের দৃষ্টি সমপরিমান।

জান্নাতীরা সেই ঘোড়াতে আরোহন করবে। ঘোড়াগুলো তাদেরকে নিয়ে জান্নাতের বিভিন্ন জায়গায় উড়তে থাকবে। তখন নিম্নস্তরের জান্নাতী ব্যক্তিরা আল্লাহ তাআলাকে প্রশ্ন করবে-হে আমার রব, আমার ঐ ভাইয়েরা অত মহান মর্যাদা পেল কীভাবে? তখন তাদেরকে বলা হবে-তারা দুনিয়াতে আল্লাহকে বেশী স্মরণ করেছে। তোমরা যখন নিদ্রাতে মগ্ন ছিল, তারা সালাত আদায়রত ছিল। আর তোমরা যখন আহারে মগ্ন ছিলে, তারা তখন রোজাদার ছিল। তারা যখন আল্লাহর রাস্তায় ব্যয় করেছিল, তখন তোমরা কৃপণতা করেছিলে। আর তারা যখন আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য শত্রুর বিরুদ্ধে জিহাদ করেছিল, তখন তোমরা কাপুরুষতা দেখিয়েছিলে।

টিকাঃ
২৪১ [*] যয়িফ। হাদিউল আরওয়াহ, ইবনুল কায়্যিম: ১৯০।

ফন্ট সাইজ
15px
17px
🎤 ভাষা বেছে নিন
🇧🇩
বাংলা
Bengali
🕌
আরবি
العربية