📄 মুজাহিদদের দরজা
[২৪৫] আবদুল্লাহ ইবনু উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন-আমি স্বপ্নে জান্নাতের আটটি দরজা দেখতে পেয়েছি। সবগুলোকে আমি খোলা পেয়েছি। তবে একটি দরজা আমি বন্ধ দেখলাম। দরজাটি বন্ধ দেখে আমি জিজ্ঞাসা করলাম, এই দরজাটি বন্ধ কেন? জবাবে আমাকে বলা হলো, এই দরজাটি হলো জিহাদকারীদের দরজা। যারা দুনিয়াতে রবের জন্য জিহাদ করবে, তারা এই দরজা দিয়ে জান্নাতে প্রবেশ করবে। এরপরে আমি সকালে ঘুম থেকে জাগ্রত হয়ে যুদ্ধের জন্য বাহন ক্রয় করতে লাগলাম।
[২৪৬] ইউসুফ ইবনু হাব্বাব রাহিমাহুল্লাহু বলেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-জান্নাতে আটটি দরজা থাকবে। কিছু থাকবে সালাত আদায়কারীদের জন্য। কিছু দরজা থাকবে সিয়াম পালনকারীর জন্য। কিছু দরজা থাকবে জিহাদকারীদের জন্য। কিছু দরজা থাকবে সদকা আদায়কারীদের জন্য। আবার কিছু দরজা থাকবে আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষাকারীদের জন্য।
টিকাঃ
[২৩৪] কানযুল উম্মাল: ৩২৫৫১।
[২৩৫] সিফাতুল জান্নাত: আবু নুআইম: ১৬৫।
📄 অজানা অনেক নিয়ামাহ থাকবে জান্নাতে
[২৪৭] আনাস ইবনু মালেক রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-কিয়ামতের দিন যারা দুনিয়াতে অনেক কষ্ট এবং বালা-মুসিবতে পড়েছিল, তাদেরকে উপস্থিত করে আল্লাহ তাআলা ফেরেশতাদেরকে বলবেন, তোমরা তাদেরকে জান্নাতের রঙে রঙিন করে দাও।
[২৪৮] সাহল ইবনু সাদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
فِيهَا مَالَا عَيْنُ رَأَتْ وَلَا أُذُنٌ سَمِعَتْ وَلَا خَطَرَ عَلَى قَلْبِ بَشَرٍ
(জান্নাতে এত অনেক অনেক নিয়ামাত থাকবে) যা কোনো চক্ষু দেখেনি। যা কোনো কানে শ্রবন করেনি। এবং কোনো মানুষের অন্তর এত নিয়ামতের কল্পনাও কখনো করেনি।
টিকাঃ
[২০৬] সহিহ। আস সুনান, ইবনু মাজাহ: ৪৩৩৮।
📄 জান্নাতের একটুখানি জায়গা
[২৪৯] সাহল ইবনু সাদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-জান্নাতে চাবুক রাখার পরিমান জায়গা দুনিয়া এবং তাতে যা কিছু আছে তার থেকেও উত্তম।
টিকাঃ
[২৩৭] সহিহ তাবরানি: ৬/১৬২।
📄 জান্নাতীদের চেহারা পূর্ণিমার চাঁদের মত হবে
[২৫০] সাহল ইবনু সাদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-আমার উম্মতের মধ্য থেকে সত্তর হাজার লোকেরা জান্নাতে প্রবেশ করবে। তাদের চেহারা পূর্ণিমা রাতের মতো জ্বলজ্বল করবে।
[২৫১] সাহল রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন-সর্বশেষ যে ব্যক্তি জান্নাতে প্রবেশ করবে তার মর্যাদা থাকবে অনেক। সর্বশেষ জান্নাতীকে বলা হবে, যা ইচ্ছে তুমি আবেদন করতে পারো। তখন লোকটি মুচকি হাসি দিয়ে বলবে, (হে আমার রব) আপনি আমাকে এই এই জিনিষ দান করুন। তখন তাকে বলা হবে, তুমি যা আবেদন করেছ, তা তোমাকে দেওয়া হলো এবং তার সাথে আরো দিগুণ দেওয়া হলো।
[২৫২] আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন-আল্লাহ তাআলা যখন জান্নাত ও জাহান্নামকে সৃষ্টি করলেন, জিবরিলকে জান্নাতের দিকে প্রেরণ করে বললেন-জান্নাত দেখে এসো এবং জান্নাতীদের জন্য তাতে আমার তৈরি ব্যবস্থাপনাও দেখে এসো। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন-সুতরাং তিনি জান্নাতে আসলেন, জান্নাত এবং জান্নাতীদের জন্য তৈরি ব্যবস্থাপনাও দেখলেন। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তারপর আল্লাহ তাআলার কাছে ফিরে এসে বললেন, তোমার ইজ্জতের কসম, যে ব্যক্তিই জান্নাতের কথা শুনবে-সেই তাতে প্রবেশ করবে। সুতরাং নির্দেশ দিয়ে জান্নাতকে অপছন্দনীয় বস্তুর মাধ্যমে আচ্ছাদিত করা হলো। তারপর জিবরিলকে বললেন, আবার দেখে এসো-আমি জান্নাতীদের জন্য কী প্রস্তুত করেছি! রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, জিবরিল ফিরে আবার জান্নাতে গিয়ে দেখলেন-জান্নাত অপছন্দনীয় বস্তুর দ্বারা আবরিত। এবার তিনি ফিরে গিয়ে আল্লাহকে বললেন-তোমার ইজ্জতের শপথ, আমি তো এখন ভয় করছি, কেউ হয়তো তাতে প্রবেশ করবে না। এবার আল্লাহ তাআলা বললেন-জাহান্নামে যাও, তা দেখো এবং জাহান্নামিদের জন্য প্রস্তুতকৃত বস্তুগুলোও দেখো। তিনি দেখলেন, একটি আরেকটির ওপর চড়ার চেষ্টা করছে। সুতরাং তিনি আল্লাহর কাছে ফিরে গিয়ে বললেন-তোমার ইজ্জতের শপথ, জাহান্নামের কথা শুনে কেউ তাতে প্রবেশ করবে না। অতঃপর নির্দেশ দেওয়া হলে জাহান্নামকে কামনীয় বস্তুর মাধ্যমে ঢেকে দেওয়া হলো। তারপর বললেন-জিবরিল, এবার গিয়ে জাহান্নাম দেখে এসো। জিবরিল আবার গেলেন। তারপর ফিরে এসে আল্লাহকে বললেন-আপনার ইজ্জতের কসম, আশঙ্কা করছি, হয়তো কেউ জাহান্নামে প্রবেশ করা থেকে বাঁচতে পারবে না।
টিকাঃ
[২৩৮] সহিহ তাবরানি: ৬/১৭৫।
[**] আস-সুনান, ইমাম তিরমিযি : ২৪৮৩।