📄 জান্নাতুর রাইয়্যান
[২৪০] সাহল ইবনু সাদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, لِلصَّائِمِينَ بَابُ يُقَالُ لَهُ: الرَّيَّانُ لَا يَدْخُلُ أَحَدُ مِنْهُ غَيْرُهُمْ فَإِذَا دَخَلَ آخِرُهُمْ أُغْلِقَ ফামান দাখালা মিনহু শারিবা ওয়ামান শারিবা লাম ইয়াযমাউ আবাদান. রোজাদাররা যে দরজা দিয়ে জান্নাতে প্রবেশ করবে তার নাম থাকবে-জান্নাতুর রাইয়্যান। সে দরজা দিয়েই কেবল রোজাদাররা-ই প্রবেশ করবে। অন্য কেউ-ই সে দরজা দিয়ে প্রবেশ করবে না। যখন রোজাদারদের থেকে শেষ ব্যক্তি তাতে প্রবেশ করবে, তখন সে দরজাকে বন্ধ করে দেওয়া হবে। যে সেই জান্নাতে প্রবেশ করবে, সে সুপানীয় পান করবে। আর যে রাইয়্যান নামক জান্নাতের সুপানীয় পান করবে, সে কোনোদিন আর পিপাসিত হবে না।
[২৪১] সাহাল ইবনু সাআদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, إِنَّ فِي الْجَنَّةِ بَابًا يُقَالُ لَهُ الرَّيَّانُ يَدْخُلُ مِنْهُ الصَّائِمُونَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ لَا يَدْخُلُ مِنْهُ أَحَدٌ غَيْرُهُمْ يُقَالُ أَيْنَ الصَّائِمُونَ فَيَقُومُونَ لَا يَدْخُلُ مِنْهُ أَحَدٌ غَيْرُهُمْ فَإِذَا دَخَلُوا أُغْلِقَ فَلَمْ يَدْخُلْ مِنْهُ أَحَدٌ
জান্নাতের একটি দরজা আছে, যার নাম বলা হয় রাইয়্যান; কিয়ামতের দিন এই দরজা দিয়ে রোজাদার ছাড়া কেউ প্রবেশ করতে পারবে না। বলা হবে-রোজাদাররা কোথায়? তখন রোজাদাররা দাঁড়াবে, তারা ছাড়া কেউ প্রবেশ করতে পারবে না। রোজাদাররা প্রবেশ করলেই বন্ধ করে দেওয়া হবে, সুতরাং অন্য কেউ প্রবেশ করতে পারবে না।
টিকাঃ
[২৯৯] সহিহ মুসলিম: ২/৮০৮।
[৩০০] সহিহ বুখারি: ১৭৬৩; সহিহ মুসলিম: ১৯৪৭।
📄 সর্বপ্রথম জান্নাতের বৃত্ত নবিজি ধরবেন
[২৪২] আনাস ইবনু মালেক রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-কিয়ামতের দিন সর্বপ্রথম আমি-ই জান্নাতের বৃত্তকে ধরবো। অতঃপর তা খটখট আওয়াজ করতে থাকবে।
[২৪৩] আনাস ইবনু মালেক রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
آتِي بَابَ الْجَنَّةِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ فَأَسْتَفْتِحُ، فَيَقُولُ الْخَازِنُ: مَنْ أَنْتَاهِ فَأَقُولُ: مُحَمَّدُ، فَيَقُولُ: بِكَ أُمِرْتُ أَنْ لَا أَفْتَحَ لِأَحَدٍ قَبْلَكَ
কিয়ামতের দিন আমি জান্নাতের দরজার নিকটে এসে জান্নাতের দরজা খোলার জন্য যাবো। তখন জান্নাতের প্রহরী আমাকে বলবে- আপনি কে? আমি বলব, আমি মুহাম্মাদ। জবাবে প্রহরী বলবে- আমি আপনার জন্য জান্নাতের দরজা খুলে দেওয়ার জন্য আদিষ্ট হয়েছি। আপনার পূর্বে এই দরজা আর কারো জন্য খুলে দেইনি।
[২৪৪] আনাস ইবনু মালেক রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আমি নবিজির হাতকে যেন এখানেও দেখতেছি। নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছিলেন- আমি জান্নাতের বৃত্তকে ধরে (খোলার জন্য) খটখট আওয়াজ করবো।
টিকাঃ
[২০১] সুনান, ইমাম দারেমি; আল ইতহাফ: ১০/৪৯৭।
[২৩২] সহিহ মুসলিম: ১/১৮৮।
[২৩৩] যয়িক। আল মুসনাদ, ইমাম হুমাইদি রাহিমাহুল্লাহু: ১২০৮।
📄 মুজাহিদদের দরজা
[২৪৫] আবদুল্লাহ ইবনু উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন-আমি স্বপ্নে জান্নাতের আটটি দরজা দেখতে পেয়েছি। সবগুলোকে আমি খোলা পেয়েছি। তবে একটি দরজা আমি বন্ধ দেখলাম। দরজাটি বন্ধ দেখে আমি জিজ্ঞাসা করলাম, এই দরজাটি বন্ধ কেন? জবাবে আমাকে বলা হলো, এই দরজাটি হলো জিহাদকারীদের দরজা। যারা দুনিয়াতে রবের জন্য জিহাদ করবে, তারা এই দরজা দিয়ে জান্নাতে প্রবেশ করবে। এরপরে আমি সকালে ঘুম থেকে জাগ্রত হয়ে যুদ্ধের জন্য বাহন ক্রয় করতে লাগলাম।
[২৪৬] ইউসুফ ইবনু হাব্বাব রাহিমাহুল্লাহু বলেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-জান্নাতে আটটি দরজা থাকবে। কিছু থাকবে সালাত আদায়কারীদের জন্য। কিছু দরজা থাকবে সিয়াম পালনকারীর জন্য। কিছু দরজা থাকবে জিহাদকারীদের জন্য। কিছু দরজা থাকবে সদকা আদায়কারীদের জন্য। আবার কিছু দরজা থাকবে আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষাকারীদের জন্য।
টিকাঃ
[২৩৪] কানযুল উম্মাল: ৩২৫৫১।
[২৩৫] সিফাতুল জান্নাত: আবু নুআইম: ১৬৫।
📄 অজানা অনেক নিয়ামাহ থাকবে জান্নাতে
[২৪৭] আনাস ইবনু মালেক রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-কিয়ামতের দিন যারা দুনিয়াতে অনেক কষ্ট এবং বালা-মুসিবতে পড়েছিল, তাদেরকে উপস্থিত করে আল্লাহ তাআলা ফেরেশতাদেরকে বলবেন, তোমরা তাদেরকে জান্নাতের রঙে রঙিন করে দাও।
[২৪৮] সাহল ইবনু সাদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
فِيهَا مَالَا عَيْنُ رَأَتْ وَلَا أُذُنٌ سَمِعَتْ وَلَا خَطَرَ عَلَى قَلْبِ بَشَرٍ
(জান্নাতে এত অনেক অনেক নিয়ামাত থাকবে) যা কোনো চক্ষু দেখেনি। যা কোনো কানে শ্রবন করেনি। এবং কোনো মানুষের অন্তর এত নিয়ামতের কল্পনাও কখনো করেনি।
টিকাঃ
[২০৬] সহিহ। আস সুনান, ইবনু মাজাহ: ৪৩৩৮।