📘 ওপারের সুখগুলো 📄 জান্নাতের দরজার প্রস্থ

📄 জান্নাতের দরজার প্রস্থ


[২৩৬] সালিম ইবনু আবদুল্লাহ রাহিমাহুল্লাহু তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
بَابُ أُمَّتِي الَّذِي يَدْخُلُونَ مِنْهُ الْجَنَّةَ عَرْضُهُ مَسِيرَةُ الرَّاکِبِ الْجَوَادَ ثَلَاثًا ثُمَّ إِنَّهُمْ لَيُضْغَطُونَ عَلَيْهِ حَتَّى تَكَادُ مَنَاكِبُهُمْ تَزُولُ আমার উম্মতগণ যে দরজা দিয়ে জান্নাতে যাবে, তার প্রস্থ হবে অত্যন্ত দ্রুতগামী অশ্বারোহীর তিন দিনের পথ। তা সত্ত্বেও এতো ভীড় হবে যে, তাদের কাঁধ ঢলে পড়ার উপক্রম হবে।

টিকাঃ
[২২৪] যয়িফ। আস সুনান, ইমাম তিরমিযি: ২৫৪৪।

📘 ওপারের সুখগুলো 📄 জান্নাতের এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্তের দূরত্ব

📄 জান্নাতের এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্তের দূরত্ব


[২৩৭] মুআবিয়া আল কুশাইরি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করে বলেন, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
يْنَ كُلِّ مِصْرَاعَيْنِ مِنْ مَصَارِيعِ الْجَنَّةِ مَسِيرَةُ سَبْعِ سِنِينَ
জান্নাতের এক প্রান্ত হতে অপর প্রান্ত পর্যন্ত সাত বছরের পথ।

[২৩৮] আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
أَتَانِي جِبْرِيلُ فَأَخَذَ بِيَدِي فَأَرَانِي بَابَ الْجَنَّةِ الَّذِي يَدْخُلُ مِنْهُ أُمَّتِي» قَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ: وَدِدْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَنِّي مَعَكَ، فَقَالَ: «أَمَا إِنَّكَ يَا أَبَا بَكْرٍ أَوَّلُ مَنْ يَدْخُلُ الْجَنَّةَ مِنْ أُمَّتِي
জিবরিল আলাইহিস সালাম আমার কাছে এসে আমার হাত ধরে আমাকে জান্নাতে নিয়ে আমার উম্মত যেই দরজা দিয়ে প্রবেশ করবে, তা দেখাল। সাহাবি আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমি জান্নাতে আপনার সাথে থাকতে চাই। জবাবে তখন নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হে আবু বকর! অবশ্যই আমার উম্মতের মধ্যে থেকে সর্বপ্রথম তুমিই জান্নাতে প্রবেশ করবে।

[২৩৯] আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন,
مَنْ أَنْفَقَ زَوْجَيْنِ فِي سَبِيلِ اللَّهِ نُودِيَ فِي الْجَنَّةِ يَا عَبْدَ اللَّهِ هَذَا خَيْرٌ فَمَنْ كَانَ مِنْ أَهْلِ الصَّلَاةِ دُعِيَ مِنْ بَابِ الصَّلَاةِ وَمَنْ كَانَ مِنْ أَهْلِ الْجِهَادِ دُعِيَ مِنْ بَابِ الْجِهَادِ وَمَنْ كَانَ مِنْ أَهْلِ الصَّدَقَةِ دُعِيَ مِنْ بَابِ الصَّদাকাহ ওয়া মান কানা মিন আহলিস সিয়ামি দুয়িয়া মিন বাবির রাইয়্যান. কাল আবু বাকরিন সিদ্দীকু ইয়া রসূলাল্লাহ মা আলা আহাদিন ইয়ুদআ মিন তিলকাল আবওয়াবি মিন যরূরাতিন ফাহাল ইয়ুদআ আহাদুন মিন তিলকাল আবওয়াবি কুল্লাহু কল রাসূলুল্লাহি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নায়াম ওয়া আরজু আন তাকুনা মিনহুম.
যে ব্যক্তি এক জোড়া আল্লাহর রাস্তায় ব্যয় করল, তাকে জান্নাতে ডাকা হবে-হে আল্লাহর বান্দা, এটা কল্যাণকর। নামাজিকে বাবুস সালাত দিয়ে ডাকা হবে, মুজাহিদকে বাবুল জিহাদ দিয়ে ডাকা হবে, দানকারীকে বাবুস সাদাকাহ দিয়ে ডাকা হবে, রোজাদারকে বাবুর রাইয়্যান দিয়ে ডাকা হবে। আবু বকর সিদ্দিক রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, হে আল্লাহর রাসুল, (আপনার কথা থেকে বুঝতে পারলাম) এই দরজাগুলোর কোনো একটি দিয়ে ডাকা জরুরি নয়। তবে এমন কোনো ব্যক্তি কি আছে-যাকে প্রত্যেক দরজা থেকেই ডাকা হবে? রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন-হাঁ, আশা করছি, তুমিও তাদের মধ্য গণ্য হবে।

টিকাঃ
[২২৫] আস সুনান, ইমাম তিরমিযি।
[২২৬] কানযুল উম্মাল: ৩২৫৫১, মিশকাতুল মাসাবিহ: ৬০২৪।
[**] যেকোনো মূল্যবান বস্তু। হোক সেটা জীব বা জড় যেকোনো ধরনের। তবে উট ও ঘোড়ার প্রতি অধিক মতামত পাওয়া যায়। -অনুবাদক।
[**] সহিহ মুসলিম: ২/৭১১। মুসনাদে আহমাদ: ২/২৬৭।

📘 ওপারের সুখগুলো 📄 জান্নাতুর রাইয়্যান

📄 জান্নাতুর রাইয়্যান


[২৪০] সাহল ইবনু সাদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, لِلصَّائِمِينَ بَابُ يُقَالُ لَهُ: الرَّيَّانُ لَا يَدْخُلُ أَحَدُ مِنْهُ غَيْرُهُمْ فَإِذَا دَخَلَ آخِرُهُمْ أُغْلِقَ ফামান দাখালা মিনহু শারিবা ওয়ামান শারিবা লাম ইয়াযমাউ আবাদান. রোজাদাররা যে দরজা দিয়ে জান্নাতে প্রবেশ করবে তার নাম থাকবে-জান্নাতুর রাইয়্যান। সে দরজা দিয়েই কেবল রোজাদাররা-ই প্রবেশ করবে। অন্য কেউ-ই সে দরজা দিয়ে প্রবেশ করবে না। যখন রোজাদারদের থেকে শেষ ব্যক্তি তাতে প্রবেশ করবে, তখন সে দরজাকে বন্ধ করে দেওয়া হবে। যে সেই জান্নাতে প্রবেশ করবে, সে সুপানীয় পান করবে। আর যে রাইয়্যান নামক জান্নাতের সুপানীয় পান করবে, সে কোনোদিন আর পিপাসিত হবে না।

[২৪১] সাহাল ইবনু সাআদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, إِنَّ فِي الْجَنَّةِ بَابًا يُقَالُ لَهُ الرَّيَّانُ يَدْخُلُ مِنْهُ الصَّائِمُونَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ لَا يَدْخُلُ مِنْهُ أَحَدٌ غَيْرُهُمْ يُقَالُ أَيْنَ الصَّائِمُونَ فَيَقُومُونَ لَا يَدْخُلُ مِنْهُ أَحَدٌ غَيْرُهُمْ فَإِذَا دَخَلُوا أُغْلِقَ فَلَمْ يَدْخُلْ مِنْهُ أَحَدٌ
জান্নাতের একটি দরজা আছে, যার নাম বলা হয় রাইয়্যান; কিয়ামতের দিন এই দরজা দিয়ে রোজাদার ছাড়া কেউ প্রবেশ করতে পারবে না। বলা হবে-রোজাদাররা কোথায়? তখন রোজাদাররা দাঁড়াবে, তারা ছাড়া কেউ প্রবেশ করতে পারবে না। রোজাদাররা প্রবেশ করলেই বন্ধ করে দেওয়া হবে, সুতরাং অন্য কেউ প্রবেশ করতে পারবে না।

টিকাঃ
[২৯৯] সহিহ মুসলিম: ২/৮০৮।
[৩০০] সহিহ বুখারি: ১৭৬৩; সহিহ মুসলিম: ১৯৪৭।

📘 ওপারের সুখগুলো 📄 সর্বপ্রথম জান্নাতের বৃত্ত নবিজি ধরবেন

📄 সর্বপ্রথম জান্নাতের বৃত্ত নবিজি ধরবেন


[২৪২] আনাস ইবনু মালেক রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-কিয়ামতের দিন সর্বপ্রথম আমি-ই জান্নাতের বৃত্তকে ধরবো। অতঃপর তা খটখট আওয়াজ করতে থাকবে।

[২৪৩] আনাস ইবনু মালেক রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
آتِي بَابَ الْجَنَّةِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ فَأَسْتَفْتِحُ، فَيَقُولُ الْخَازِنُ: مَنْ أَنْتَاهِ فَأَقُولُ: مُحَمَّدُ، فَيَقُولُ: بِكَ أُمِرْتُ أَنْ لَا أَفْتَحَ لِأَحَدٍ قَبْلَكَ
কিয়ামতের দিন আমি জান্নাতের দরজার নিকটে এসে জান্নাতের দরজা খোলার জন্য যাবো। তখন জান্নাতের প্রহরী আমাকে বলবে- আপনি কে? আমি বলব, আমি মুহাম্মাদ। জবাবে প্রহরী বলবে- আমি আপনার জন্য জান্নাতের দরজা খুলে দেওয়ার জন্য আদিষ্ট হয়েছি। আপনার পূর্বে এই দরজা আর কারো জন্য খুলে দেইনি।

[২৪৪] আনাস ইবনু মালেক রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আমি নবিজির হাতকে যেন এখানেও দেখতেছি। নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছিলেন- আমি জান্নাতের বৃত্তকে ধরে (খোলার জন্য) খটখট আওয়াজ করবো।

টিকাঃ
[২০১] সুনান, ইমাম দারেমি; আল ইতহাফ: ১০/৪৯৭।
[২৩২] সহিহ মুসলিম: ১/১৮৮।
[২৩৩] যয়িক। আল মুসনাদ, ইমাম হুমাইদি রাহিমাহুল্লাহু: ১২০৮।

ফন্ট সাইজ
15px
17px