📄 জান্নাতের সেবক
[২১৯] আনাস ইবনু মালেক রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন—সর্বনিম্ন জান্নাতবাসীরা অনেক সম্মান এবং মর্যাদায় থাকবে। তাদের একজনের মাথার কাছে থাকবে দশ হাজার সেবক।
[২২০] আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন—সর্বনিম্ন জান্নাতীদের জন্য একটি স্থান থাকবে, তাদের খেদমতের জন্য প্রতিদিন পনের হাজার সেবক আসবে। প্রত্যেক সেবকের কাছে অবাক করার মত বিভিন্ন জিনিষ থাকবে, যা অপর সেবকের সাথে থাকবে না।
[২২১] হুমাইদ ইবনু হিলাল রাহিমাহুল্লাহু বলেন-প্রত্যেক জান্নাতীর সাথে এক হাজার প্রহরী থাকবে। প্রত্যেক প্রহরীরাই বিভিন্ন কাজে ব্যস্ত থাকবে। আরো থাকবে অনেক খাদিম।
টিকাঃ
[*] আত তারগিব: ৪/৫০৮/
[*] আয যুহদ, ইবনুল মুবারক: ৪১৪১
[*] আয যুহদ, ইবনুল মুবারক: ৪২৭।
📄 খাদিমের বর্ণনা
[২২২] আবদুর রহমান আল হুবলী রাহিমাহুল্লাহু বলেন—জান্নাতে যে ব্যক্তি সর্বপ্রথম প্রবেশ করবে, তার খিদমতের জন্য সত্তর হাজার সেবক থাকবে। সেবকদের আকৃতি লুলুয়ূ মুক্তার মত ঝকঝক করতে থাকবে।
[২২৩] আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন-সর্বনিম্ন জান্নাতীদের জন্য একটি স্থান থাকবে, তাদের খেদমতের জন্য প্রতিদিন পনের হাজার সেবক আসবে। প্রত্যেক সেবকের কাছে অবাক করার মত বিভিন্ন জিনিষ থাকবে, যা অপর সেবকের কাছে থাকবে না।
[২২৪] আবু আবদুর রহমান রাহিমাহুল্লাহু বলেন-জান্নাতী ব্যক্তি যখন কোথাও দাঁড়াবে, তখন তার সাথে খাদিমরাও সারিবদ্ধভাবে দাঁড়াবে। জান্নাতী ব্যক্তি যখন কোথাও চলতে শুরু করবে, তখন তার পিছনে-পিছনে খাদেমরাও চলতে থাকবে।
[২২৫] আবু সাঈদ খুদরি রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-জান্নাতের সবচে' নিম্নমানের মর্যাদাবান ব্যক্তির নিকট আশি হাজার খাদেম থাকবে। জান্নাতীদের জন্য ৭২ জন স্ত্রী থাকবে। এই জান্নাতী ব্যক্তির জন্য ইয়াকুত, লুলুয়ূ এবং যাবারযাদের একটি গম্বুজ নির্মাণ করা হবে, যার দুরুত্ব হবে জাবিয়া থেকে সানআ পর্যন্ত।
[২২৬] আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, يَخْرُجُ قَوْمُ مِنْ النَّارِ بَعْدَ مَا مَسَّهُمْ مِنْهَا سَفْعُ فَيَدْখُلُونَ الْجَنَّةَ فَيُসَمِّيهِمْ أَهْلُ الْجَنَّةِ الْجَهَنَّمِيِّينَ . জাহান্নামের লালচে কালো দাগ লাগার পর একদল জাহান্নামি জাহান্নাম থেকে বের হয়ে জান্নাতে প্রবেশ করবে। জান্নাতীরা তাদেরকে বলবে-জাহান্নামিয়্যুন।
টিকাঃ
[*] আয যুহদ, ইবনুল মুবারক: ৪২৭।
[২১৩] আয যুহদ, ইবনুল মুবারক: ৪১৪।
[২১৪] আয যুহদ, ইবনুল মুবারক: ৪১৫।
[২১৫] গরিব। আত তারগিব ওয়াত তারহিব: ৪/৫০৮।
[২১৬] সহিহ বুখারি: ৬০৭৪। অন্য হাদিসে বর্ণিত আছে-আবু সাঈদ খুদরি রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, أَمَّا أَهْلُ النَّارِ الَّذِينَ هُمْ أَهْلُهَا فَإِنَّهُمْ لَا يَمُوتُونَ فِيهَا وَلَا يَحْيَوْنَ وَلَكِنْ نَাসُ أَصَابَتْهُمُ النَّارُ بِذُنُوبِهِمْ أَوْ قَالَ بِخْطَايَاهُمْ فَأَمَاتَهُمْ إِمَاتَةٌ حَتَّى إِذَا كَانُوا فَحْمًا أُذِنَ بِالشَّفَاعَةِ فَجِيءَ بِهِمْ ضَبَائِرَ ضَبَائِرَ فَبُثُّوا عَلَى أَنْهَارِ الْجَنَّةِ ثُمَّ قِيلَ يَا أَهْلَ الْجَنَّةِ أَفِيضُوا عَلَيْهِمْ فَيَنْبُتُونَ نَبَاتَ الْحِبَّةِ تَكُونُ فِي حَمِيلِ السَّيْلِ যারা প্রকৃতভাবেই (স্থায়ী) জাহান্নামী, তারা সেখানে মারাও যাবে না, আবার জীবিতও থাকবে না। কিন্তু যেসকল (মুমিন) মানুষ গুনাহের কারণে জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হয়েছে, জাহান্নাম তাদেরকে হত্যা করবে। এমনকি যখন তারা কয়লা হয়ে যাবে, তখন তাদের জন্য শাফাআতের অনুমতি প্রদান করা হবে। সুতরাং তাদেরকে ভিন্ন ভিন্ন দলে নিয়ে এসে জান্নাতের নদীতে ফেলে দেওয়া হবে। তারপর বলা হবে-হে জান্নাতীরা! তাদের ওপর পানি ঢালো। যার ফলে তারা এমন শস্যবৃক্ষের মতো উদগত হবে, যেগুলো প্রবাহিত পানির ওপর ভাসতে থাকে। সহিহ মুসলিম: ২৭১।—অনুবাদক।