📄 ফেরেশতাদের আকৃতি
[২১১] আল্লাহ তাআলার বাণী: وَإِذَا رَأَيْتَ ثَمَّ رَأَيْتَ نَعِيمًا وَمُلْكًا كَبِيرًا আপনি যখন সেখানে দেখবেন, তখন নিয়ামাতরাজি ও বিশাল রাজ্য দেখতে পাবেন। (সুরা দাহর : ২০) এই আয়াতের ব্যাখ্যাতে মুজাহিদ রাহিমাহুল্লাহু বলেন-জান্নাতের ফেরেশতারা হবে বিশাল আকৃতির। তারা অনুমতি ছাড়া জান্নাতীদের নিকট প্রবেশ করতে পারবে না।
[২১২] আবু উমামা রদিয়াল্লাহু আনহু বলেন—মুমিন বান্দা জান্নাতে প্রবেশ করবে, তারা একটি সিংহাসনে হেলান দিয়ে বসবে। আর তার নিকট সেবকদের দু'টি সারি থাকবে। উভয় সারির প্রান্তে দু'টি বিন্যস্ত দরজা থাকবে। আল্লাহর ফেরেশতাগণ থেকে একজন ফেরেশতা দরজার নিকটতম সেবকের নিকট সাক্ষাত করার জন্য অনুমতি চাইবে। মুমিন বান্দা বলবে, তোমরা তাকে আসতে দরজা খুলে দাও। অনুমতি পেয়ে ফেরেশতা প্রবেশ করবে। অতঃপর জান্নাতীকে বিনীত সুরে সালাম দিয়ে কথা-বার্তা বলে ফিরে আসবে।
[২১৩] আল্লাহ তাআলার বাণী: وَإِذَا رَأَيْتَ ثَمَّ رَأَيْتَ نَعِيمًا وَمُلْكًا كَبِيرًا আপনি যখন সেখানে দেখবেন, তখন নিয়ামাতরাজি ও বিশাল রাজ্য দেখতে পাবেন। (সুরা দাহর : ২০) এই আয়াতের ব্যাখ্যাতে ইবনু আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা বলেন- জান্নাতীদের যানবাহন হবে অনেক সুন্দর।
[২১৪] আল্লাহ তাআলার বাণী: وَإِذَا رَأَيْتَ ثُمَّ رَأَيْتَ نَعِيمًا وَمُلْكًا كَبِيرًا আপনি যখন সেখানে দেখবেন, তখন নিয়ামাতরাজি ও বিশাল রাজ্য দেখতে পাবেন। (সুরা দাহর: ২০) এই আয়াতের ব্যাখ্যাতে কা’ব রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন-আল্লাহ তাআলা জান্নাতীদের সম্মানার্থে তাদের কাছে ফেরেশতাদেরকে পাঠাবেন। ফেরেশতারা সরাসরি তাদের নিকট প্রবেশ না করে, তাদের সম্মানার্থে জান্নাতীদের নিকট অনুমতি কামনা করবে।
[২১৫] আল্লাহ তাআলার বাণী: وَكَانَ عَرْشُهُ عَلَى الْمَاءِ তাঁর আরশ থাকবে পানির উপরে। (সুরা হুদ : ৭) এই আয়াতের ব্যাখ্যাতে ইবনু আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন—আল্লাহ তাআলা নিজের জন্য একটি জান্নাত গ্রহণ করবেন এবং তার নিচেও আরেকটি জান্নাত গ্রহণ করবেন। অতঃপর তিনি একটি লুলুয়ূ মুক্তা দিয়ে সেটিকে আবৃত করে রাখবেন। এরপরে ইবনু আব্বাস এই আয়াত তিলাওয়াত করলেন, وَمِنْ دُونَهُمَا جَنَّتَانِ এ দু'টি ছাড়া আরো দু'টি উদ্যান রয়েছে। (সুরা আর রহমান : ৬২) এই বিষয়টিকে আল্লাহ তাআলা অপর আয়াতে বলেন, ফালা তালামু নাফসাম মা উখফিয়া লাহুম মিন কুররাতি আইয়ুন কেউ জানে না তার জন্য কৃতকর্মের কি কি নয়ন-প্রীতিকর প্রতিদান লুক্কায়িত আছে। (সুরা সাজদা : ১৭) এটাই হলো সেই জান্নাত, যার সম্পর্কে সৃষ্টি জগতের কেউ জানে না। সেখান থেকেই জান্নাতীদের নিকট শান্তি, সালাম, হাদিয়া-তোহফা আসতে থাকবে।
টিকাঃ
[২০৪] আদ-দুররুল মানসুর: ৬/৩০১।
[২০৫] আয-যুহদ, ইবনুল মুবারক: ২/৬৮।
[২০৬] হাদিউল আরওয়াহ, ইবনুল কায়্যিম: ১৯৭।
[২০৭] তাফসিরে তাবারি: ২৮/১৫৪।
📄 জান্নাতু আদন : সর্বসুখের স্থান
[২১৬] আবু মুসা আল আশআরী রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন- 'আদন' নামক জান্নাত থেকে একটি নালা প্রবাহিত হবে, এরপর তার থেকে আরো একটি নালা প্রবাহিত হবে। জান্নাতে মুমিনের জন্য তাঁবু থাকবে, যা সত্তর মাইল পর্যন্ত লম্বা হবে। সেখানকার অধিবাসীরা একজন অপরজনকে দেখতে পাবে না।
[২১৭] আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-জাহান্নামের একটি দল আল্লাহ তাআলার মর্জি অনুযায়ী জাহান্নামে কিছুদিন অবস্থান করবে। অতঃপর তাদেরকে জাহান্নাম থেকে বের করা হবে। তারা হলো সর্বনিম্নস্তরের জান্নাতী। এরপরে তাদেরকে 'নাহরুল হায়াত' নামক ঝর্ণায় তাদেরকে গোসল দেওয়া হবে। যদি তাদের কেউ দুনিয়াবাসীর কারো নিকট মেহমান হতো, তাহলে তারা তাদেরকে পানাহার করাতো, বিছানার ব্যবস্থা করে দিতো।
[২১৮] আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, يَخْرُجُ قَوْمٌ مِنْ النَّارِ بَعْدَ مَا মَسَّهُمْ مِنْهَا سَفْعٌ فَيَدْخُلُونَ الْجَنَّةَ فَيُسَمِّيهِمْ أَهْلُ الْجَنَّةِ الْجَهَنَّمِيِّينَ . জাহান্নামের লালচে কালো দাগ লাগার পর একদল জাহান্নামি জাহান্নাম থেকে বের হয়ে জান্নাতে প্রবেশ করবে। জান্নাতীরা তাদেরকে বলবে-জাহান্নামিয়্যুন।
টিকাঃ
[**] সহিহ মুসলিম: ৪/২১২১।
[২০৯] সহিহ বুখারি: ৬০৭৪।