📘 ওপারের সুখগুলো 📄 জান্নাতীদের সেরা স্তরে অবস্থান

📄 জান্নাতীদের সেরা স্তরে অবস্থান


[২০০] আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, إِنَّ أَهْلَ الْجَنَّةِ لَيَتَرَاءَوْنَ فِي الْغُرَفِ كَمَا تَتَرَاءَوْنَ الْكَوْكَبَ الشَّرْقِيَّ وَالْكَوْكَبَ الْغَرْبِيَّ فِي الْأُفُقِ قَالُوا: يَا رَسُولَ اللَّهِ أُولَئِكَ النَّبِيُّونَ، قَالَ: «بَلَى وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ، وَأَقْوَامُ آمَنُوا بِاللَّهِ وَرَسُولِهِ وَصَدَّقُوا الْمُرْسَلِينَ জান্নাতীদেরকে বালাখানার (ভেতর থেকেও) দেখা যাবে, যেমন তোমরা আকাশের এক প্রান্ত থেকে উজ্জল নক্ষত্রকে দেখতে পাও। সাহাবারা জিজ্ঞাসা করল, হে আল্লাহর রাসুল, এ স্তরগুলো ত নবিদের জন্য নির্ধারিত। (তাদের ছাড়া এ স্তরে তো মনে আর কেউ পৌঁছতে পারবে না।) তখন নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, সেই সত্তার শপথ, যার হাতে আমি মুহাম্মাদের জীবন, যে সব মানুষ আল্লাহর উপর ঈমান আনবে এবং তাঁর রাসুলের প্রতি আস্থা স্থাপন করবে, তারা সবাই মর্যাদাসম্পন্ন স্তরগুলোতে প্রবেশ করতে সক্ষম হবে।
[২০১] আলি রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, إِنَّ فِي الْجَنَّةِ لَغُرَفًا يُরَى ظُهُورُهَا مِنْ بُطُونِهَا وَبُطُونُهَا مِنْ ظُهُورِهَا فَقَامَ إِلَيْهِ أَعْرَابِيٌّ فَقَالَ لِمَنْ هِيَ يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ هِيَ لِمَنْ أَطَابَ الكَلامَ وَأَطْعَمَ الطَّعَامَ وَأَدَامَ الصِّيَامَ وَصَلَّى لِلَّهِ بِاللَّيْلِ وَالنَّاسُ نِيَامُ জান্নাতে এমন অনেক প্রাসাদ আছে যেগুলোর ভেতর থেকে বাইরে এবং বাহির থেকে ভেতরে দেখা যাবে। তখন জনৈক গ্রাম্য লোক দাঁড়িয়ে বলল, হে আল্লাহর রাসুল! এমন প্রাসাদ কারা পাবে? নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন—যে সুন্দরভাবে কথা বলে, অসহায়কে খানা খাওয়ায়, নিয়মিত রোজা রাখে এবং রাতে নামাজ পড়ে—যখন মানুষ ঘুমিয়ে থাকে।
[২০২] আবু সাঈদ খুদরি রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন—জান্নাতে একশ'টি স্তর রয়েছে। এমনকি যদি জান্নাতের একটি স্তরে পৃথিবীর সব মানুষকে জমা করা হয়, তাহলেও তা যথেষ্ট হবে।
[২০৩] আবু সাঈদ খুদরি রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, مِائَةُ دَرَجَةٍ فِي الْجَنَّةِ مَا بَيْنَ الدَّرَجَتَيْنِ مَا بَيْنَ السَّمَاءِ وَالْأَرْضِ وَأَبْعَدُ مِمَّا بَيْنَ السَّمَاءِ وَالْأَرْضِ» قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ لِمَنْ? قَالَ: «لِلْمُجَاهِدِينَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ» জান্নাতে শত স্তর রয়েছে। প্রত্যেক স্তরের মাঝে দুরুত্ব হলো—আকাশ ও জমিনের দুরুত্ব সমান। এমনকি আকাশ ও জমিনের থেকেও অনেক দূরে হবে। আমি জিজ্ঞাসা করলাম, হে আল্লাহর রাসুল, এমন জান্নাত কার জন্য হবে? নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, যারা আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করে তাদের জন্য হবে।
[২০৪] ইবনু মুহাইরিজ রাহিমাহুল্লাহু বলেন—আল্লাহ তাআলা মুজাহিদরেকে অন্যান্য লোকদের উপর সত্তর স্তর মর্যাদা বৃদ্ধি করে দিবেন। দু'টি স্তরের মাঝে দূরত্ব হবে দ্রুতগামী ঘোড়া সত্তর বছর অবদি চলার পরিমান।
[২০৫] হুমাইদ ইবনু হিলাল রাহিমাহুল্লাহু বলেন, জান্নাতবাসীরা সর্বোচ্চ জান্নাতীদেরকে দেখতে যাবে। কিন্তু প্রথম স্তরের কাছে তারা যাবে না।
[২০৬] ইয়াহইয়া ইবনু কাছির রাহিমাহুল্লাহু বলেন—যারা আল্লাহর সাক্ষাত করবে, তারা জান্নাতের যে কোনো জায়গায় যেতে পারবে।

টিকাঃ
[**] সহিহ মুসলিম: ৬৮৮১।
[***] আস-সুনান, ইমাম তিরমিযি: ২৪৫০।
[***] গরিব। আস সুনান, ইমাম তিরমিযি: ২৫৩২।
[***] সহিহ। আস সুনান, ইমাম তিরমিযি: ২৫৩১।
২০০ [***] আয যুহদ, ইমাম ইবনুল মুবারক: ২৩৫।
২০১ [**] সিফাতুল জান্নাত, ইমাম নুআইম: ৪২২।
২০২ [***] সিফাতুল জান্নাত, ইমাম নুআইম: ২১৩।

📘 ওপারের সুখগুলো 📄 জান্নাতের সাওয়ারী

📄 জান্নাতের সাওয়ারী


[২০৭] মুহাম্মাদ ইবনু কাব রাহিমাহুল্লাহু বলেন, জান্নাতের সাওয়ারীগুলোকে বোরাকের মত দেখা যাবে। তখন তাকে জিজ্ঞাসা করা হলো, জান্নাতে কি বোরাক থাকবে? জবাবে তিনি বললেন, না। তবে ইল্যিয়িনবাসীদের থেকে কেউ এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যেতে পারবে। এবং অধিক দ্রুতগামী সাওয়ারী হবে।

📘 ওপারের সুখগুলো 📄 জান্নাতের বালাখানা

📄 জান্নাতের বালাখানা


[২০৮] আবু আবদুর রহমান আল হুবালি রাহিমাহুল্লাহু বলেন-মুমিন ব্যক্তি যখন জান্নাতে প্রবেশ করবে। তখন তাকে অভিবাধন জানানোর জন্য এক হাজার সেবক তার সাথে সাক্ষাতের জন্য এগিয়ে আসবে। অতঃপর সে যাবারযাদ এবং সবুজ পাথর দিয়ে নির্মিত একটি সুন্দর বালাখানায় অবস্থান করবে। এই ঘরের চারদিক থেকে হুর স্ত্রীরা দেখতে থাকবে। জান্নাতী ব্যক্তি হুরদেরকে দেখতে পাগলপাড়া হয়ে যাবে। (এমনকি সে যাবারযাদ অতিক্রম করে কাছে যেতে চাবে) তখন হুর স্ত্রী স্বামীকে ভালোবাসার সুরে বলতে থাকবে-হে আমার প্রিয়, আমরা এখনো তোমার কাছেই আসিনি। (এমনটি হবে বালাখানার দেয়ালের স্বচ্ছতার কারণে)
[২০৯] আবু সাঈদ খুদরি রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন—জান্নাতীদের সর্বোচ্চ স্তরের লোকদেরকে সর্বনিম্ন স্তরের জান্নাতীরা দেখতে পাবে, যেমন তোমরা আকাশের এক প্রান্ত থেকে উজ্জ্বল নক্ষত্রকে দেখতে পাও। আর জেনে রাখো, আবু বকর এবং উমর হবে সর্বোচ্চস্তরের জান্নাতী। এবং তারা (অধিক নিয়ামতপ্রাপ্তদের কাতারে হবে)।

টিকাঃ
[***] সহিহ। সুনান, সুনান তিরমিযি: ২৫৫৬।

📘 ওপারের সুখগুলো 📄 ওসিলা নামক স্তর

📄 ওসিলা নামক স্তর


[২১০] আবু সাঈদ খুদরি রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন—জান্নাতে ‘ওসিলা’ নামক একটি স্তর থাকবে। যার উপর আর কোনো স্তর থাকবে না।

ফন্ট সাইজ
15px
17px