📄 জান্নাতের সাদা প্রাসাদ
[১৮৫] আনাস ইবনু মালেক রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন—আমি একবার জান্নাতে প্রবেশ করে সাদা একটি প্রাসাদ দেখতে পেয়েছিলাম। আমি তখন জিবরিল আলাইহিস সালামকে জিজ্ঞেস করলাম, (হে জিবরিল) এই প্রাসাদটি কার জন্য? জিবরিল আলাইহিস সালাম জবাবে বলল, কুরাইশ গোত্রের একজন যুবকের জন্য। আমি (নবিজি) জিজ্ঞেস করলাম, 'কুরাইশের কোন যুবকের জন্য?' জিবরিল আলাইহিস সালাম বলল, উমর ইবনুল খাত্তাবের জন্য।
[১৮৬] জাবের ইবনু আবদুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন—“একবার আমি স্বপ্নে জান্নাত দেখেছিলাম। তাতে শুভ্র একটি প্রাসাদ দেখেছি। যার চারদিকে ছিল কুমারী নারী। আমি জিজ্ঞেস করলাম, এই প্রাসাদটি কার জন্য? বলা হলো—উমর ইবনুল খাত্তাবের জন্য। আমার খুব ইচ্ছে হলো, সেই প্রাসাদের ভেতরে প্রবেশ করে তার ভেতরের অংশ দেখবো। (পরবর্তীতে নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুকে স্বপ্নের কথা বললে) উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন—হে আল্লাহর রাসুল, আপনার উপর আমার মা-বাবা কুরবান হোক, আমি আপনার উপর অনেক গায়রাত (ঈর্ষা) করি।
[১৮৭] মুজাহিদ রাহিমাহুল্লাহু বলেন, উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু ‘জান্নাতু আদন’ সম্পর্কে বলেন-জান্নাতু আদন হলো অনেক সুন্দর একটি জান্নাত। যাতে রয়েছে স্বর্গের সুখ। তা চার হাজার গজ পরিমান লম্বা হবে। যার প্রতিটি দরজায় পঁচিশ হাজার হুরেইন থাকবে। সেখানে কেবল নবিরাই প্রবেশ করবে।
টিকাঃ
১৮৪] সহিহ। আল মুসনাদ, ইমাম আহমাদ: ৩/৩৩৩।
১৮৫] আল মুসনাদ, ইমাম আহমাদ: ৩/৩৭২, ফাতহুল বারী: ৭/৪০।
📄 জান্নাতের স্বর্ণের অট্টালিকা
[১৮৮] হাসান বসরি রাহিমাহুল্লাহু বলেন-জান্নাতে স্বর্ণের একটি অট্টালিকা রয়েছে। যেখানে কেবল নবি, সিদ্দিক ও ন্যায়বিচারক বাদশাহ-ই প্রবেশ করবে।
[১৮৯] মালেক ইবনুল হারিস রাহিমাহুল্লাহু বলেন, জান্নাতে স্বর্ণের একটি প্রাসাদ থাকবে, রূপার একটি প্রাসাদ থাকবে এবং যাবারযাদেরও আরেকটি প্রাসাদ থাকবে। সেখানের পাহাড় হবে মিশক-আম্বরের। আর মাটি হবে ওয়ারাস এবং যাফরান সুগন্ধির।
[১৯০] উবাইদ ইবনু উমায়ের রাহিমাহুল্লাহু বলেন, সর্বনিম্ন জান্নাতবাসীর জন্য লুলুয়ূ মুক্তার একটি অট্টালিকা থাকবে। যার অনেকগুলো প্রাসাদ থাকবে। প্রাসাদগুলোও হবে মুক্তার। মুক্তাগুলোর উজ্জলতায় প্রাসাদগুলো আরো সুন্দর দেখাবে।
টিকাঃ
[**] হিলইয়াতুল আউলিয়া: ৬/৬৮।
[***] অন্য বর্ণনায় আছে- মুগিরা ইবনু শুবা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন-মুসা আলাইহিস সালাম তার রবকে জিজ্ঞেস করলেন, হে আমার রব! সর্বনিম্ন শ্রেণীর জান্নাতী কে? আল্লাহ তাআলা বললেন, ওই ব্যক্তি-যে সকল জান্নাতীর জান্নাতে প্রবেশ করার পর আসবে। তাকে বলা হবে জান্নাতে প্রবেশ করো! সে বলবে-কীভাবে যাব, সকলেই তো নিজ-নিজ মর্যাদায় অধিষ্ঠিত হয়েছে এবং তাদের বস্তুগুলো হস্তগত করে নিয়েছে। তখন তাকে বলা হবে-তুমি কি এতে সন্তুষ্ট হবে যে, তোমাকে দুনিয়ার রাজাদের সমান একটি রাজ্য প্রদান করা হবে? সে বলবে, আমার রব, আমি রাজি। তখন আল্লাহ তাআলা বলবেন-তুমি তো এতবড় রাজত্ব পাবেই, সাথে তার মতো আরেকটি, আরেকটি, আরেকটি এবং আরেকটি দেওয়া হলো। পঞ্চমবারে সে বলবে, হে আমার রব! আমি রাজি। তখন আবার আল্লাহ তাআলা বলবেন, এগুলো তো তোমার জন্য রয়েছেই, সাথে তার দশগুণ তোমাকে প্রদান করা হলো। এমনকি তোমার মন যা, কামনা করবে তাই পাবে এবং তোমার চোখ শীতল হয় এমন সবকিছু দেওয়া হবে। তখন সে আবারো বলবে, হে আমার রব! আমি রাজি। এবার মুসা আলাইহিস সালাম জিজ্ঞেস করলেন, তাহলে সর্বোচ্চ শ্রেণির জান্নাতী কী পাবে? আল্লাহ তাআলা বললেন, তারা এমন যে-তাদের সম্মানজনক বিষয়গুলো আমি নিজ হাতে স্থাপন করে সেগুলোর ওপর মোহরাঙ্কিত করে দিয়েছি। সুতরাং কোনো চোখ তা দেখেনি, কোনো কান তা শোনেনি এবং কোনো মানুষের হৃদয় তা কল্পনাও করেনি। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, কুরআন কারিমে এর মর্ম বর্ণিত হয়েছে এভাবে, ফালা তালামু নাফসুম মা উখফিয়া লাহুম মিন কুররাতি আইয়ুন কেউ জানে না তার জন্য কৃতকর্মের কী কী নয়ন-প্রীতিকর প্রতিদান লুকায়িত আছে।' [সুরা সিজদাহ, আয়াত: ১৭] সহিহ মুসলিম: ২৭৬১।
১৮৭] ১৮৭-এর পাদটিকা মূল টেক্সট হতে প্রাপ্ত।
📄 জান্নাতু আদন
[১৯১] উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুকে কাব রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, হে আমিরুল মুমিনীন, আপনি আমাকে জান্নাতু আদন সম্পর্কে একটু বলুন। জবাবে কাব রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, জান্নাতু আদন স্বর্ণ দ্বারা নির্মিত হবে। প্রাসাদগুলো অনেক সুন্দর হবে। বেলকনি ইয়াকুত মুক্তা দ্বারা খচিত হবে। সেখানে কেবল নবি, শহিদ, সিদ্দিক এবং ন্যায় বিচারক বাদশাহই প্রবেশ করবে।
টিকাঃ
[১৮৮] হাসান। আয যুহদ, ইবনুল মুবারক: ১৫২৭।
📄 জান্নাতের সামান্য জায়গার মূল্য
[১৯২] আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-জান্নাতে একটি চাবুক পরিমিত জায়গা সমস্ত দুনিয়ায় যা কিছু আছে তার থেকেও উত্তম। এবং জান্নাতের হুরের একটি উড়না সমস্ত দুনিয়া এবং তাতে যা কিছু আছে, তার থেকেও উত্তম ও অনেক দামী।
টিকাঃ
[১৮৯] হাসান। আল মুসনাদ, ইমাম আহমাদ, আত তারগিব ওয়াত তারহিব: ৪/৫৫৯।