📄 বিশাল প্রাসাদের বিবরণ
[১৮০] আবি রাওয়াহ আস শামী রাহিমাহুল্লাহু বলেন—একবার মুআবিয়া রাদিয়াল্লাহু আনহু কাব রাদিয়াল্লাহু আনহুর পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন এবং জান্নাতের ব্যাপারে আলোচনা করছিলেন। কাব রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, জান্নাতে একটি বিশাল প্রাসাদ থাকবে। তাতে সত্তর হাজার ঘর থাকবে। এই প্রাসাদটি একটি ইয়াকুতের খুঁটির উপর থাকবে। সেখানে কোনো ফাটল এবং ত্রুটি থাকবে না। সেখানে পাঁচ শ্রেণীর লোক থাকবে। (তারা হলো) নবি, সিদ্দিক, শহীদ, ন্যায়পরায়ণ বাদশাহ ও প্রজ্ঞাময় ব্যক্তি। এগুলো বলে মুআবিয়া রাদিয়াল্লাহু আনহু কাঁদতে লাগলেন। চোখের অশ্রুগুলো তাঁর গাল বেয়ে বেয়ে পড়ছিল।
টিকাঃ
[১৭৯] হিলইয়াতুল আউলিয়া: ৫/৩৮০।
📄 জান্নাতীদের পোষাকের বিবরণ
[১৮১] আবদুল্লাহ ইবনু উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, একদা একজন গ্রাম্য ব্যক্তি নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দরবারে এসে বললেন, হে আল্লাহর রাসুল, জান্নাতীদের পোষাক কেমন হবে? জান্নাতের পোষাক কি সৃষ্টি করা হবে; নাকি পোষাককে বুনা হবে? গ্রাম্য ব্যক্তির এ কথা শুনে মজলিসে থাকা অনেকে হেসে দিল। তখন নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমরা হাসলে কেন? কোনো মূর্খ আলিমকে প্রশ্ন করেছে—তাই তোমরা এভাবে হাসছ? কিছু সময় নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাথা নিচু করে হয়ে বসে থাকলেন। এর কিছুক্ষণ পরে বললেন, জান্নাতীদের পোষাকের ব্যাপারে প্রশ্নকারী কোথায়? তখন সে বলল, ইয়া রাসুলাল্লাহ, এই যে, আমি। বলুন তো, জান্নাতীদের পোষাক কেমন হবে? জান্নাতীদের পোষাক কি বুনন করা হবে? জবাবে নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন—না জান্নাতীদের পোষাক বুনন করা হবে না বরং জান্নাতের ফল থেকে তা তৈরী হবে।
[১৮২] জাবের ইবনু আবদুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, একজন গ্রাম্য নবিজির দরবারে এসে জিজ্ঞেস করে বললেন-ইয়া রাসুলাল্লাহ, জান্নাতে আমাদের পোষাক-পরিচ্ছদ কেমন হবে? আমরা কি জান্নাতে নিজ হাতে কাজ করতে পারবো? গ্রাম্য ব্যক্তির একথা শুনে মজলিসে থাকা অনেকে হেসে দিল। তখন গ্রাম্য ব্যক্তি আবার বলল, কি হল, আপনারা হাসছেন কেন? একজন মূর্খ ব্যক্তির প্রশ্নে তোমরা কি এভাবে হাসছো? নবিজি এসব চিত্রই দেখছিলেন এবং বললেন, সে সত্য বলেছে। জান্নাতে অনেক ফল হবে। (সেই ফল থেকে পোষাক তৈরী হবে)।
টিকাঃ
[১৮০] দুর্বল। হাদিসটি গরিব। মাজমাউয যাওয়ায়েদ: ১/৪১৫।
[১৮১] হাসান লি-গাইরিহি। প্রাগুক্ত: ১৩৯।
📄 জান্নাতী নারীদের পোষাকের জোড়া হবে অনেক
[১৮৩] খালিদ ইবনু মাআদ রাহিমাহুল্লাহু বলেন, জান্নাতী নারীরা বাহাত্তর জোড়া কাপড় পরিধান করবে। সেগুলোর বাহাত্তর রঙের ডিজাইন থাকবে। তাতে সর্বনিম্ম ডিজাইনের রঙটা হবে বন্য ফুলের রঙের মত। যা দেখতে খুব খুব ভালো লাগবে। এই আনত নয়না নারীগুলো তোমার সামনেই থাকবে। সে তার স্বামীর বুকের লিখা পড়তে পারবে। তার স্বামীর বুকের মাঝে লিখা থাকবে, তুমি আমার প্রেম। তুমি আমার ভালোবাসা। স্বামীও হুরের বুকের উপর অংকিত লিখা পড়তে পারবে, সেখানে লিখা থাকবে—তুমি আমারে প্রেম, তুমি আমার ভালোবাসা। আমি তোমার সাথী। জনম জনমের সঙ্গী।
টিকাঃ
[১৮২] আদ দুররুল মানসুর: ২/৩৩০।