📄 ইবনু আব্বাসের বর্ণনায় জান্নাতের মাটি ও পোষাক
[১৬৫] সাম্মাক রাহিমাহুল্লাহু বলেন, আব্দুল্লাহ ইবনু আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুর দৃষ্টি শক্তি হারিয়ে যাবার পর তার সাথে মদিনায় সাক্ষাত হলে তাকে জিজ্ঞেস করলাম-হে ইবনু আব্বাস, জান্নাতের মাটি কেমন হবে? জবাবে ইবনু আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা বললেন-জান্নাতের মাটিগুলো শুভ্র রূপার- মরমর পাথরের মত হবে।
আমি আবার জিজ্ঞেস করলাম-তার আলো কেমন হবে?
তিনি বললেন-তুমি কি সূর্য উদয় হওয়ার পূর্ব মূহুর্তটি দেখেছো? ঠিক তেমনি জান্নাতের আলো হবে। তবে সেখানে সূর্য ও তীব্র ঠাণ্ডা কোনটাই থাকবে না।
আমি আবার জিজ্ঞেস করলাম, জান্নাতের পোষাক-পরিচ্ছদ কেমন হবে?
তিনি বললেন-জান্নাতে সুগন্ধিময় গাছ থাকবে, যাতে আনারের ন্যায় ফল থাকবে। যখন আল্লাহ তাআলার কোন বন্ধু তা থেকে পোষাকের ইচ্ছা করবে, তখন গাছের ডালাপালা তার দিকে ঝুঁকে যাবে, অতঃপর তা বিদীর্ণ হয়ে সত্তর জোড়া কাপড় প্রস্তুত হবে। সেখানে হরেক রঙের কাপড় থাকবে। জান্নাতী ব্যক্তি যেমন কাপড় পরিধান করার ইচ্ছা করবে, পড়তে পারবে। অতঃপর গাছটি আবার পূর্বের অবস্থায় ফিরে যাবে।
টিকাঃ
[**] আত-তারগিব, আল-মুনযিরী: ৪/৫১৭।
📄 হাউযে কাউসারের বর্ণনা
[১৬৬] আল্লাহ তাআলার বাণী: إِنَّا أَعْطَيْنَاكَ الْكَوْثَرَ নিশ্চয় আমি আপনাকে কাওসার দান করেছি। এ আয়াতের ব্যাখ্যায় ইবনু আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা বলেন—তা হল জান্নাতের একটি নহর, যার গভীরতা হবে সত্তর হাজার ফরসাখ। তার পানি দুধের চেয়েও অধিক শুভ্র, মধুর চেয়েও অধিক মিষ্ট। তার উভয় পাশ মণিমুক্তা, হবারযাদ ও ইয়াকুত পাথর দিয়ে নির্মিত থাকবে। যা আল্লাহ তাআলা শুধু রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বিশেষভাবে দান করেছেন, এমন অধিকার অন্য কোনো নবি আলাইহিমুস সালামগণকে দান করেননি।
টিকাঃ
[**] আত-তাফসির, তাবারি: ৩০/৩২০।