📘 ওপারের সুখগুলো 📄 শরাবের পানপাত্র

📄 শরাবের পানপাত্র


[১৫৬] আল্লাহ তাআলার বাণী: كَأْسًا دِهَاقًا এবং পূর্ণ পানপাত্র। এ আয়াত প্রসঙ্গে আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন- 'দিহাকা' অর্থাৎ সে পাত্রটি শরাবে কানায় কানায় টইটম্বুর থাকবে।
[১৫৭] আল্লাহ তাআলার বাণী: كَأْسًا دِهَاقًا এবং পূর্ণ পানপাত্র। এ আয়াত প্রসঙ্গে আবু নুযাইহ রাহিমাহুল্লাহু বলেন—সে পাত্রগুলো পর্যায়ক্রমে একের পর এক বিন্যস্তভাবে সজ্জিত থাকবে।
[১৫৮] আব্দুল্লাহ ইবনু আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন-জান্নাতবাসীদের নিকট শরাবের পানপাত্র আনা হবে, তারা সেখান থেকে পান করবে। পান করার পরে জান্নাতীরা স্ত্রীর নিকট যেয়ে বলবে-তুমি তো অবশ্যই আমার চোখে সত্তর গুণ আলো ও সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে দিয়েছো।
[১৫৯] আল্লাহ তাআলার বাণী: كَانَتْ قَوَارِيرًا. قَوَارِيرَ مِنْ فِضَّةٍ এবং স্ফটিকের মত পানপাত্রে। রূপালী স্ফটিক পাত্রে। এ আয়াত প্রসঙ্গে মুজাহিদ রাহিমাহুল্লাহু বলেন, এখানে রূপার শুভ্রতা ও কাঁচ পাত্রের স্বচ্ছতা বুঝানো উদ্দেশ্য করা হয়েছে।
[১৬০] আল্লাহ তাআলার বাণী: كَانَتْ قَوَارِيرًا. قَوَارِيرَ مِنْ فِضَّةٍ এবং স্ফটিকের মত পানপাত্রে। রূপালী স্ফটিক পাত্রে। এ প্রসঙ্গে আবু সালিহ রাহিমাহুল্লাহু বলেন—জান্নাতের মাটি হবে রূপার। এবং তা হবে অনেক শুভ্র।
[১৬১] আব্দুল্লাহ ইবনু মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন-ডাগর চক্ষুবিশিষ্ট হুর স্ত্রী জান্নাতের পানপাত্র থেকে পান করবে। তখন হুরের দিকে তার স্বামী আনমনে তাকিয়ে থাকবে, ফলে তার চোখে সত্তরগুণ সৌন্দর্য বৃদ্ধি পাবে। তার স্বামীও পান পাত্র থেকে পান করবে, সেও তার দিকে তাকিয়ে থাকবে, ফলে তার চোখেও সত্তরগুণ সৌন্দর্য বৃদ্ধি পাবে। [উভয়ের মুখাবয়বে সত্তরগুণ সৌন্দর্যতা বৃদ্ধি পাবে।]
[১৬২] আনাস ইবনু মালেক রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন-রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞেস করা হলো, কাউসার কী? তিনি বললেন- সেটি একটি নদী, যা আল্লাহ আমাকে জান্নাতে দান করেছেন। যার পানি হবে দুধের চেয়ে শুভ্র, মধুর চেয়ে মিষ্ট। সেখানে এমন পাখি থাকবে, যার গর্দানগুলো হবে উটের মতো। উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, এটা তো অবশ্যই উটপাখি। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন-এটা খাওয়ার জন্য, যা জান্নাতের অনেক সুন্দর নিয়ামত।
[১৬৩] আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন-একদিন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের মাঝেই ছিলেন। হঠাৎ তিনি তন্দ্রাচ্ছন্ন হলেন। তারপর মুচকি হেসে মাথা উত্তোলন করলেন। আমরা জানতে চাইলাম, আপনি হাসলেন কেন? নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আমার ওপর এই মুহূর্তে একটি সুরা অবতীর্ণ হয়েছে। সুতরাং তিনি পড়লেন, শুরু করছি অতিশয় দয়ালু পরম করুণাময় আল্লাহর নামে। আমি তোমাকে কাউসার দান করেছি। অতএব, তুমি তোমার রবের জন্য নামাজ পড়ো এবং কুরবানি করো। নিশ্চয় তোমার শত্রুই নির্বংশ হবে। তারপর বললেন-তোমরা কি জানো কাউসার কী? আমরা বললাম, আল্লাহ এবং তাঁর রাসুলই ভালো জানেন। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, সেটি একটি নদী। যার প্রতিশ্রুতি আমার রব আমাকে দিয়েছেন। তাতে রয়েছে অনেক কল্যাণ। সেটি এমন একটি হাউজ, যার পাত্রসংখ্যা তারকারাজির সমান। কিয়ামতের দিন আমার উম্মত সেখান থেকে পান করার জন্য আসবে। তাদের মধ্য থেকে কিছু বান্দাকে ছোঁ মেরে নিয়ে যাওয়া হবে। আমি বলব-হে আমার রব! সে তো আমার উম্মত। তখন আল্লাহ বলবেন-তুমি জানো না, তোমার অবর্তমানে তারা (দীনের মধ্যে) নতুন কী আবিষ্কার করেছে।
[১৬৪] আবদুল্লাহ ইবনু আমর ইবনুল আস রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, حَوْضِي مَسِيرَةُ شَهْرٍ وَزَوَايَاهُ সওয়ায়ু ওয়া মাউহু আবইয়াযু মিনাল ওয়ারিকি ওয়া রীহুহু আতইয়াবু মিনাল মিসকি ওয়া কীযানুহু কানুজুমিস সামায়ি ফামান শারিবা মিনহু ফালা ইয়াযমাউ বাদাহু আবাদান. আমার হাউজের আয়তন হবে একমাসের দূরত্বের সমপরিমাণ। তার কোণগুলো সমান। তার পানি রূপার চেয়ে সাদা, তার গন্ধ মিশকের চেয়ে বেশি সুঘ্রাণযুক্ত, তার পাত্রগুলো আকাশের তারকারাজিসম। যে ব্যক্তি সেখান থেকে পান করবে, সে পরবর্তী সময়ে কখনো পিপাসার্ত হবে না।

টিকাঃ
১৯. সুরা আন নাবা: ৩৪।
[১৬০] সুরা আল ইনসান: ১৫/১৬।
[১৬১] সুরা আল ইনসান: ১৫/১৬
[১৬২] হাসান।
[১৬৩] আস-সুনান, ইমাম তিরমিযি: ২৪৬৫।
[১৬৪] সহিহ মুসলিম: ৬০৭। ইমাম তিরমিযি রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন-হাদিসটি হাসান।
১৬৫ [১] সহিহ বুখারি: ৪২৪৪।

📘 ওপারের সুখগুলো 📄 ইবনু আব্বাসের বর্ণনায় জান্নাতের মাটি ও পোষাক

📄 ইবনু আব্বাসের বর্ণনায় জান্নাতের মাটি ও পোষাক


[১৬৫] সাম্মাক রাহিমাহুল্লাহু বলেন, আব্দুল্লাহ ইবনু আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুর দৃষ্টি শক্তি হারিয়ে যাবার পর তার সাথে মদিনায় সাক্ষাত হলে তাকে জিজ্ঞেস করলাম-হে ইবনু আব্বাস, জান্নাতের মাটি কেমন হবে? জবাবে ইবনু আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা বললেন-জান্নাতের মাটিগুলো শুভ্র রূপার- মরমর পাথরের মত হবে।
আমি আবার জিজ্ঞেস করলাম-তার আলো কেমন হবে?
তিনি বললেন-তুমি কি সূর্য উদয় হওয়ার পূর্ব মূহুর্তটি দেখেছো? ঠিক তেমনি জান্নাতের আলো হবে। তবে সেখানে সূর্য ও তীব্র ঠাণ্ডা কোনটাই থাকবে না।
আমি আবার জিজ্ঞেস করলাম, জান্নাতের পোষাক-পরিচ্ছদ কেমন হবে?
তিনি বললেন-জান্নাতে সুগন্ধিময় গাছ থাকবে, যাতে আনারের ন্যায় ফল থাকবে। যখন আল্লাহ তাআলার কোন বন্ধু তা থেকে পোষাকের ইচ্ছা করবে, তখন গাছের ডালাপালা তার দিকে ঝুঁকে যাবে, অতঃপর তা বিদীর্ণ হয়ে সত্তর জোড়া কাপড় প্রস্তুত হবে। সেখানে হরেক রঙের কাপড় থাকবে। জান্নাতী ব্যক্তি যেমন কাপড় পরিধান করার ইচ্ছা করবে, পড়তে পারবে। অতঃপর গাছটি আবার পূর্বের অবস্থায় ফিরে যাবে।

টিকাঃ
[**] আত-তারগিব, আল-মুনযিরী: ৪/৫১৭।

📘 ওপারের সুখগুলো 📄 হাউযে কাউসারের বর্ণনা

📄 হাউযে কাউসারের বর্ণনা


[১৬৬] আল্লাহ তাআলার বাণী: إِنَّا أَعْطَيْنَاكَ الْكَوْثَرَ নিশ্চয় আমি আপনাকে কাওসার দান করেছি। এ আয়াতের ব্যাখ্যায় ইবনু আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা বলেন—তা হল জান্নাতের একটি নহর, যার গভীরতা হবে সত্তর হাজার ফরসাখ। তার পানি দুধের চেয়েও অধিক শুভ্র, মধুর চেয়েও অধিক মিষ্ট। তার উভয় পাশ মণিমুক্তা, হবারযাদ ও ইয়াকুত পাথর দিয়ে নির্মিত থাকবে। যা আল্লাহ তাআলা শুধু রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বিশেষভাবে দান করেছেন, এমন অধিকার অন্য কোনো নবি আলাইহিমুস সালামগণকে দান করেননি।

টিকাঃ
[**] আত-তাফসির, তাবারি: ৩০/৩২০।

ফন্ট সাইজ
15px
17px