📘 ওপারের সুখগুলো 📄 জান্নাতীদের পানাহারের বর্ণনা

📄 জান্নাতীদের পানাহারের বর্ণনা


[১৩৯] জাবির রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন—জান্নাতবাসীরা জান্নাতে পানাহার করবে; কিন্তু মলমূত্র ত্যাগ করবে না, নাকও ঝাড়বে না, পেশাবও করবে না। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, তাহলে তাদের খাবার কি হবে?

তিনি বললেন, তাদের ঐ খাবার ঢেকুর ও কস্তুরীবৎ সুগন্ধময় ঘাম (হয়ে দেহ থেকে বের হয়ে যাবে)। তাদের মধ্যে তাসবিহ ও তাকবির পড়ার স্বয়ংক্রিয় শক্তি প্রক্ষিপ্ত হবে, যেমন শ্বাসক্রিয়ার শক্তি স্বয়ংক্রিয় করা হয়েছে।
[১৪০] জাবির ইবনু আবদুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, إِنَّ أَهْلَ الْجَنَّةِ يَأْكُلُونَ فِيهَا وَيَشْرَبُونَ وَلَا يَتْفُلُونَ وَلَا يَبُولُونَ وَلَا يَتَغَوَّطُونَ وَلَا يَمْتَخِطُونَ قَالُوا فَمَا بَالُ الطَّعَامِ قَالَ جُشَاءُ وَرَشْحُ كَرَشْحِ الْمِسْكِ يُلْهَمُونَ التَّسْبِيحَ وَالتَّحْمِيدَ كَمَا تُلْهَمُونَ النَّفْسَ. জান্নাতীরা সেখানে পানাহার করবে কিন্তু তারা থুতু ফেলবে না, পেশাব করবে না, পায়খানা করবে না এবং নাক হতে শ্লেষ্মাও ফেলবে না। সাহাবায়ে কেরাম বললেন, তাহলে খাবারগুলো কী হবে? নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন—ঢেকুর ও ঘাম হবে। যা হবে মিশকের সুঘ্রাণের মতো। তাদেরকে আল্লাহর তাসবিহ এবং তাহমিদ দান করা হবে, যেমন তোমাদেরকে শ্বাস-প্রশ্বাস প্রদান করা হয়।

টিকাঃ
১৪১ [১] সহিহ মুসলিম: ২১৮০।
১৪২ [১১] সহিহ মুসলিম: ৫০৬৬।

📘 ওপারের সুখগুলো 📄 জান্নাতের ফলের বর্ণনা

📄 জান্নাতের ফলের বর্ণনা


[১৪১] ইবনু আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা বলেন-জান্নাতের আনারসমূহ থেকে একটি আনারের পাশে অনেক লোকের সমাগম হবে। তারা তা থেকে আহার করবে। যদি তারা মনে-মনে কোনো জিনিস খাওয়ার আকাঙ্ক্ষা করে, সাথে-সাথে কাঙ্ক্ষিত ফল তার হাতে চলে আসবে।
[১৪২] ইবনু আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা বলেন—জান্নাতের ফলসমূহ থেকে একটি ফলের দৈর্ঘ্য হবে বারো গজ, তাতে কোন আঁটি থাকবে না।
[১৪৩] খালিদ ইবনু মাদান রাহিমাহুল্লাহু বলেন—জান্নাতী ব্যক্তি যখন ফল খেতে চাবে, তখন বৃক্ষ এসে তার জন্য নত হয়ে যাবে। সে তার মনঃপুতভাবে সেখান থেকে খেতে পারবে।
[১৪৪] মায়মুনা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-জান্নাতী ব্যক্তি যখন পাখি খাওয়ার ইচ্ছা করবে, তখন তা খুরাসানী উটের ন্যায় তার দস্তরখানে এসে যাবে। তাতে কোনো ধোঁয়া এবং আগুন স্পর্শ করবে না। জান্নাতী ব্যক্তি সেখান থেকে পরিতৃপ্ত না হওয়া পর্যন্ত আহার করতে থাকবে। আবার শেষ হওয়ার পর পাখিগুলো আবার উড়ে চলে যাবে।

টিকাঃ
১৪৩ [*] আদ দুররুল মানসুর, সুয়ূতী: ৬/১৫০।
১৪৪ [১] যয়িফ।

📘 ওপারের সুখগুলো 📄 বিশুদ্ধ শরাবের বর্ণনা

📄 বিশুদ্ধ শরাবের বর্ণনা


[১৪৫] সাঈদ ইবনু যুবায়ের রাহিমাহুল্লাহু বলেন, 'মায়িন' দ্বারা খাঁটি মদ তথা বিশুদ্ধ শরাব উদ্দেশ্য। আল্লাহ তাআলার বাণী: لَا فِيهَا غُولُ তাতে ব্যথার উপাদান নেই। অর্থাৎ, তাতে কোন কষ্টদায়ক জিনিস থাকবে না।
[১৪৬] আল্লাহ তাআলার বাণী: وَمِزَاجُهُ مِنْ تَسْنِيمٍ، عَيْنًا يَشْرَبُ بِهَا الْمُقَرَّبُونَ তার মিশ্রণ হবে তাসনিমের পানি। এটা একটা ঝরণা, যার পানি পান করবে নৈকট্যশীলগণ। এই আয়াত প্রসঙ্গে আবু সালিহ রাহিমাহুল্লাহু বলেন-নৈকট্যশীল বান্দাগণ বিশুদ্ধ পানীয় পান করবে। তার মিশ্রণ জান্নাতের সকল অধিবাসীদের জন্যই হবে।
[১৪৭] আল্লাহ তাআলার বাণী: وَمِزَاجُهُ مِنْ تَسْنِيمٍ عَيْنًا يَشْرَبُ بِهَا الْمُقَرَّبُونَ তার মিশ্রণ হবে তাসনিমের পানি। এটা একটা ঝর্ণা, যার পানি পান করবে নৈকট্যশীলগণ। এই আয়াত প্রসঙ্গে মালিক ইবনু হারিস রাহিমাহুল্লাহু বলেন-তা এমন একটি ঝর্ণা, যা থেকে নৈকট্যশীলগণ পান করবে। তার মিশ্রণ ডান পার্শ্বস্থদের জন্য হবে।
[১৪৮] আল্লাহ তাআলা বাণী: خِتَامُهُ مِسْكُ তার মোহর হবে কস্তুরী। এ আয়াত প্রসঙ্গে ইমাম দাহহাক রাহিমাহুল্লাহু বলেন-জান্নাতের পানীয় হবে রূপার ন্যায় শুভ্র এবং অনেক ঘ্রাণ। যদি দুনিয়াবাসীদের কেউ তাতে একবার হাত প্রবেশ করিয়ে বের করে ফেলে, এতে সৃষ্টিজগতের কেউ তার উত্তম সুঘ্রাণ পাওয়া থেকে অবশিষ্ট থাকবে না।
[১৪৯] আল্লাহ তাআলার বাণী: خِتَامُهُ مِسْكُ তার মোহর হবে কস্তুরী। এই আয়াত প্রসঙ্গে ইবনু মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন-এখানে মিশক দ্বারা মিশ্রিতকরণ উদ্দেশ্য, কোনো আংটি দিয়ে তার মোহর মেরে দেয়া উদ্দেশ্য নয়।

টিকাঃ
১৪৫ [**] সুরা সাফফাত: ৪৭।
১৪৬ [* সূরা আল মুতাফফিফীন: ২৭-২৮]
১৪৭. [* সূরা আল মুতাফফিফীন: ২৭-২৮]
১৪৮. [* আয যুহদ, ইবনুল মুবারক: ২৭৫]
১৪৯. [* সূরা আল মুতাফফিফীন: ২৬]

📘 ওপারের সুখগুলো 📄 শারাবান তাহূরা

📄 শারাবান তাহূরা


[১৫০] আবু কিলাবা রাহিমাহুল্লাহু বলেন-জান্নাতবাসীদের জন্য পানাহার বস্তু নিয়ে আসা হবে, এরপরে বিশুদ্ধ শরাব নিয়ে আসা হবে। জান্নাতীরা সেখান থেকে পান করবে, এতে তাদের পেট শুকিয়ে যাবে ও দেহের লোমকূপ থেকে কস্তুরীর সুঘ্রাণের ন্যায় ঘাম ঝরে পড়বে। পবিত্র কুরআনুল কারিমে ইরশাদ হয়েছে, وَسَقَاهُمْ رَبُّهُمْ شَرَابًا طَهُورًا এবং তাদের পালনকর্তা তাদেরকে পান করাবেন 'শরাবান-তহুরা'।
[১৫১] আল্লাহ তাআলার বাণী: كُلُوا وَاشْرَبُوا هَنِيئًا তোমরা তৃপ্ত হয়ে পানাহার করো। এই আয়াত প্রসঙ্গে নযর ইবনু শুমাইল রাহিমাহুল্লাহু বলেন-তারা সেখানে মৃত্যুবরণ করবে না।

টিকাঃ
[*] আয যুহদ, ইবনুল মুবারক: ২৭৬১।
[*] সুরা আল মুতাফফিফীন: ২৬।
[***] সুরা আল ইনসান: ২, আয যুহদ, ইবনুল মুবারক: ২৭৪।

ফন্ট সাইজ
15px
17px