📄 বৃক্ষগুলো জান্নাতীদের নিকট ঝুঁকে থাকবে
[১৩৪] আল্লাহ তাআলার বাণী: وَذُلِّلَتْ قُطُوفُهَا تَذْلِيلًا এবং তার ফলসমূহ তাদের আয়ত্তাধীন রাখা হবে। এ আয়াতের ব্যাখ্যায় মুজাহিদ রাহিমাহুল্লাহু বলেন-যখন দাঁড়াবে তা উঁচু হয়ে যাবে, যখন বসবে তা এতটুকু ঝুঁকে যাবে যে, জান্নাতীরা তা ধরতে পারবে। যখন শয়ন করবে সেটাও ঝুঁকে যাবে। এটাই সেই তাযলিল, অর্থাৎ তখন তাও অবনত হবে।
[১৩৫] আল্লাহ তাআলার বাণী: وَدَانِيَةٌ عَلَيْهِمْ ظِلَالُهَا وَذُلِّلَتْ قُطُوفُهَا تَذْلِيلًا তার বৃক্ষছায়া তাদের উপর ঝুঁকে থাকবে এবং তার ফলসমূহ তাদের আয়ত্তাধীন রাখা হবে। এ আয়াতের ব্যাখ্যায় বারা ইবনু আযিব রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন— জান্নাতবাসীগণ জান্নাত বৃক্ষের ফলসমূহ বসে শয়ন করে দাঁড়িয়ে যেভাবেই ইচ্ছা সেভাবেই ভক্ষণ করতে পারবে।
[১৩৬] আল্লাহ তাআলার বাণী: وَجَنَى الْجَنَّتَيْنِ دَانِ উভয় উদ্যানের ফল তাদের নিকট ঝুলবে। এ আয়াতের ব্যাখ্যায় দাহহাক রাহিমাহুল্লাহু বলেন—জান্নাতের ফলগুলো ঝুলে তাদের নিকটেই থাকবে। তারা সেখান থেকে যত ইচ্ছে ফলমূল আহার করতে পারবে।
টিকাঃ
[১০০] সুরা ইনসান: ১৪।
[১৩৬] সুরা ইনসান: ১৪।
[১৩৭] আত তাফসির, মুজাহিদ: ২/৭১২।
[১৩৮] সুরা আর রহমান: ৫৪।
[১৩৯] আত তাফসির, তাবারানি: ২৭/১৫০।
📄 জান্নাতীদের আহারের অবস্থা
[১৩৭] রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আযাদকৃত গোলাম সাওবান রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন-আমি একদিন রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট ছিলাম, এমন সময় একজন ইহুদি ধর্মযাজক রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট এসে বলল-হে মুহাম্মাদ, জান্নাতীগণ যেদিন জান্নাতে প্রবেশ করবে, তাদেরকে কোন জিনিষ দ্বারা আহার করানো হবে?
নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন-মাছের কলিজার টুকরো দিয়ে।
সে বলল-এর পরবর্তী খাবার কি হবে?
তিনি বললেন-তাদের জন্য জান্নাতের ষাঁড় যবেহ করা হবে, যা জান্নাতের আশ-পাশে চড়ে বেড়িয়েছে।
সে বলল-এরপর তাদের পানীয় কি হবে?
তিনি বললেন-জান্নাতের একটি ঝর্ণা থেকে পান করবে, যার নাম সালসাবিল।
সে বলল-আপনি সত্য বলেছেন।
[১৩৮] মুকাতিল ইবনু হায়্যান রাহিমাহুল্লাহু বলেন—জান্নাতবাসীদেরকে যখন খাবার আহারের জন্য আহ্বান করা হবে, তখন তারা বলবে- 'সুবহানাকাল্লাহুম্মা' পবিত্র তোমার সত্তা হে আল্লাহ!'
বর্ণনাকারী বলেন, প্রতিজনের দায়িত্বে দশ হাজার খাদেম নিয়োজিত থাকবে, প্রতি খাদেমের সাথেই স্বর্ণের পাত্র থাকবে। প্রত্যেক পাত্রে বিভিন্ন রকমের খাবার থাকবে।
টিকাঃ
[১৪০] সহিহ মুসলিম: ২৫২।
📄 জান্নাতীদের পানাহারের বর্ণনা
[১৩৯] জাবির রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন—জান্নাতবাসীরা জান্নাতে পানাহার করবে; কিন্তু মলমূত্র ত্যাগ করবে না, নাকও ঝাড়বে না, পেশাবও করবে না। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, তাহলে তাদের খাবার কি হবে?
তিনি বললেন, তাদের ঐ খাবার ঢেকুর ও কস্তুরীবৎ সুগন্ধময় ঘাম (হয়ে দেহ থেকে বের হয়ে যাবে)। তাদের মধ্যে তাসবিহ ও তাকবির পড়ার স্বয়ংক্রিয় শক্তি প্রক্ষিপ্ত হবে, যেমন শ্বাসক্রিয়ার শক্তি স্বয়ংক্রিয় করা হয়েছে।
[১৪০] জাবির ইবনু আবদুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, إِنَّ أَهْلَ الْجَنَّةِ يَأْكُلُونَ فِيهَا وَيَشْرَبُونَ وَلَا يَتْفُلُونَ وَلَا يَبُولُونَ وَلَا يَتَغَوَّطُونَ وَلَا يَمْتَخِطُونَ قَالُوا فَمَا بَالُ الطَّعَامِ قَالَ جُشَاءُ وَرَشْحُ كَرَشْحِ الْمِسْكِ يُلْهَمُونَ التَّسْبِيحَ وَالتَّحْمِيدَ كَمَا تُلْهَمُونَ النَّفْسَ. জান্নাতীরা সেখানে পানাহার করবে কিন্তু তারা থুতু ফেলবে না, পেশাব করবে না, পায়খানা করবে না এবং নাক হতে শ্লেষ্মাও ফেলবে না। সাহাবায়ে কেরাম বললেন, তাহলে খাবারগুলো কী হবে? নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন—ঢেকুর ও ঘাম হবে। যা হবে মিশকের সুঘ্রাণের মতো। তাদেরকে আল্লাহর তাসবিহ এবং তাহমিদ দান করা হবে, যেমন তোমাদেরকে শ্বাস-প্রশ্বাস প্রদান করা হয়।
টিকাঃ
১৪১ [১] সহিহ মুসলিম: ২১৮০।
১৪২ [১১] সহিহ মুসলিম: ৫০৬৬।
📄 জান্নাতের ফলের বর্ণনা
[১৪১] ইবনু আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা বলেন-জান্নাতের আনারসমূহ থেকে একটি আনারের পাশে অনেক লোকের সমাগম হবে। তারা তা থেকে আহার করবে। যদি তারা মনে-মনে কোনো জিনিস খাওয়ার আকাঙ্ক্ষা করে, সাথে-সাথে কাঙ্ক্ষিত ফল তার হাতে চলে আসবে।
[১৪২] ইবনু আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা বলেন—জান্নাতের ফলসমূহ থেকে একটি ফলের দৈর্ঘ্য হবে বারো গজ, তাতে কোন আঁটি থাকবে না।
[১৪৩] খালিদ ইবনু মাদান রাহিমাহুল্লাহু বলেন—জান্নাতী ব্যক্তি যখন ফল খেতে চাবে, তখন বৃক্ষ এসে তার জন্য নত হয়ে যাবে। সে তার মনঃপুতভাবে সেখান থেকে খেতে পারবে।
[১৪৪] মায়মুনা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-জান্নাতী ব্যক্তি যখন পাখি খাওয়ার ইচ্ছা করবে, তখন তা খুরাসানী উটের ন্যায় তার দস্তরখানে এসে যাবে। তাতে কোনো ধোঁয়া এবং আগুন স্পর্শ করবে না। জান্নাতী ব্যক্তি সেখান থেকে পরিতৃপ্ত না হওয়া পর্যন্ত আহার করতে থাকবে। আবার শেষ হওয়ার পর পাখিগুলো আবার উড়ে চলে যাবে।
টিকাঃ
১৪৩ [*] আদ দুররুল মানসুর, সুয়ূতী: ৬/১৫০।
১৪৪ [১] যয়িফ।