📘 ওপারের সুখগুলো 📄 মাছের কলিজা সর্বপ্রথম আহার করবে

📄 মাছের কলিজা সর্বপ্রথম আহার করবে


[১১৯] আনাস ইবনু মালেক বলেন-রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করা হলো, জান্নাত অধিবাসীগণ সর্বপ্রথম কোন জিনিস আহার করবে? উত্তরে তিনি বলেছিলেন, জান্নাতবাসীগণ সর্বপ্রথম মাছের কলিজার টুকরো আহার করবে।
[১২০] সাওবান রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন—আমি নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দরবারে উপবিষ্ট ছিলাম। ইত্যবসরে জনৈক ইহুদি পাদ্রী তার কাছে এসে বলল, আসসালামু আলাইকা ইয়া মুহাম্মদ! তৎক্ষণাৎ আমি তাকে এত জোরে ধাক্কা দিলাম যে, সে আঁছড়ে পড়ল। পাদ্রী আমাকে বলল, আমাকে ধাক্কা দিলে কেন? আমি বললাম, তুমি বলতে পারলে না-ইয়া রাসুলাল্লাহ? ইহুদি জবাব দিল, আমি তাকে সেই নামেই ডেকেছি, তার পরিবারের লোকজন তাকে যে নামে ডাকে। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, إِنَّ اسْمِي مُحَمَّدُ الَّذِي سَمَّانِي بِهِ أَهْلِي নিশ্চয় আমার নাম মুহাম্মদ। আমার পরিবার আমার এই নামই রেখেছে।

তখন ইহুদি বলল, আমি আপনার কাছে একটি বিষয় জিজ্ঞেস করতে এসেছি। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, أَيَنْফَعُكَ شَيْءٌ إِنْ حَدَّثْتُكَ আমি তোমার সাথে কথা বললে কি তোমার কোনো উপকার হবে?

পাদ্রী বলল, আমি মনোযোগসহ শুনব। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার হাতে থাকা একটি কাঠি দিয়ে আঁক দিলেন। তারপর বললেন-জিজ্ঞেস করো! এরপরে প্রশ্নোত্তর আরম্ভ হলো :
ইহুদি : যেদিন আকাশ ও জমিনগুলোকে অন্য আকাশ ও জমিনের দ্বারা পরিবর্তন করা হবে, সেদিন মানুষ কোথায় অবস্থা করবে?
নবিজি : পুলসিরাতের কাছে আঁধারের মাঝে।
ইহুদি : সর্বাগ্রে কাদেরকে জান্নাতে প্রবেশের অনুমতি প্রদান করা হবে?
নবিজি : গরিব মুহাজিরদেরকে।
ইহুদি : জান্নাতে প্রবেশ করার সময় তাদের উপঢৌকন কী হবে?
নবিজি : মাছের কলিজার ভূনা।
ইহুদি : এরপর তাদের খাবার কী হবে?
নবিজি : তাদের সৌজন্যে আশপাশে আহাররত জান্নাতী গরুগুলো তাদের জন্য জবাই করা হবে।
ইহুদি : এগুলোর শুরবা-ঝোল কী হবে?
নবিজি : সালসাবিল নামক সেখানকার ঝরনার পানি।
ইহুদি : আপনি সত্য বলেছেন।
[১২১] আবু সাঈদ খুদরি রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-সমস্ত ভূখণ্ড কিয়ামতের দিন একটি রুটির মতো হয়ে যাবে। আল্লাহ সেটি নিজ হাতে এপাশ-ওপাশ করবেন, যেমন তোমাদের মাঝে কেউ সফরের সময় নিজ রুটি এপাশ-ওপাশ করে। এ দিয়ে হবে জান্নাতবাসীর জন্য আতিথেয়তা।

এমন সময় এক ইহুদি লোক এসে বলল, হে আবুল কাসিম! রব আপনার প্রতি বারাকাহ দান করুন। কিয়ামতের দিন জান্নাতবাসীদের আতিথেয়তা সম্পর্কে আপনাকে জানাব কী?

তিনি বললেন, হ্যাঁ। ইহুদি বলল, এ পৃথিবীটি একটি রুটির রূপ ধারণ করবে, যেমন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছিলেন।

রাবী বলেন, তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের দিকে লক্ষ্য করে এমনভাবে হেসে দিলেন যে, তাঁর মাড়ির মুবারক দাঁত প্রকাশিত হয়ে পড়েছিল। ইহুদি বলল, তাদের তরকারি কি হবে তা কি আপনাকে বলল? তিনি বললেন, হ্যাঁ। সে বলল, বালাম এবং নুন। সহাবাগণ প্রশ্ন করলেন, তা কি? সে বলল ষাঁড় এবং মাছ-যাদের কলিজার বাড়তি অংশ থেকে সত্তর হাজার লোক আহার করতে পারবে।

টিকাঃ
২০ [৯] সহিহ মুসলিম: ১/২৫২।
[১২১] (পাদটিকা নেই, পাঠের অংশ)
[১২২] সহিহ মুসলিম: ৪৭৩।

📘 ওপারের সুখগুলো 📄 জান্নাতীদের খাবার-দাবারের অবস্থা

📄 জান্নাতীদের খাবার-দাবারের অবস্থা


[১২২] উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, কয়েকজন ইহুদি রাসুল ল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট এসে বলল, হে মুহাম্মাদ! জান্নাতে কী ফল থাকবে? জবাবে নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, فِيهَا فَاكِهَةٌ وَنَخْلُ وَرُمَّانٌ সেখানে আছে ফল-মূল, খেজুর ও আনার।
সাহাবিরা জিজ্ঞেস করল, জান্নাতবাসীগণ কি দুনিয়ার ন্যায় আহার করবে? জবাবে নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন-হ্যাঁ, অবশ্যই। বরং এর চেয়েও দ্বীগুণ আহার করবে। সাহাবিরা আবার জিজ্ঞেস করল-তাদের কি প্রাকৃতিক প্রয়োজন হবে?

জবাবে নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তারা ঢেকুর দিবে ও লোমকূপ থেকে হালকা ঘাম নির্গত হবে। এর মাধ্যমেই আল্লাহ তাআলা তাদের পেট থেকে কষ্টজাতীয় জিনিস দূর করে দিবেন।

টিকাঃ
[*] সহিহ মুসলিম: ৬৯৫০।
[**] সুরা আর রহমান: ১১।

📘 ওপারের সুখগুলো 📄 পাখির ভূনা গোস্ত

📄 পাখির ভূনা গোস্ত


[১২৩] আব্দুল্লাহ ইবনু মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন—জান্নাতে তুমি উড়ন্ত পাখির দিকে তাকিয়ে যদি তা খাওয়ার ইচ্ছা করো, তাহলে সাথে সাথে তা ভূনা হয়ে তোমার সামনে এসে যাবে (তুমি ইচ্ছে মত সেখান থেকে আহার করতে পারবে)।

📘 ওপারের সুখগুলো 📄 পাখির গোস্ত হবে অনেক সু-স্বাদু

📄 পাখির গোস্ত হবে অনেক সু-স্বাদু


[১২৪] মুগিস ইবনু সুমাই রাহিমাহুল্লাহু বলেন—ঝাঁকে-ঝাঁকে পাখি উড়ে এসে জান্নাতের গাছে বসবে। ফলে ফলযুক্ত গাছগুলো জান্নাতীদের সম্মুখে চলে আসবে। তারা তার এক পাশ থেকে ভূনা গোশত আহার করবে, আর অন্য পাশ থেকে টুকরো টুকরো গোশত আহার করবে। পরবর্তীতে তারা সুস্বাদু ফল আহার করবে। (আহা!)
[১২৫] বাকর ইবনু আব্দিল্লাহ আল-মুযানি রাহিমাহুল্লাহু বলেন—বান্দা যখন জান্নাতে গোশত আহারের আকাঙ্খা করবে, তখন একটি পাখি তার সম্মুখে এসে বলবে-হে আল্লাহর বন্ধু! আমি যানজাবিল থেকে আহার করে এবং সালসাবিল থেকে পান করে হৃষ্টপুষ্ট হয়েছি; আরশ ও কুরসীর মধ্যবর্তী স্থানে চরে বেড়িয়েছি, সুতরাং তুমি আমাকে আহার করো। আমরা তোমার জন্য সৃষ্টি হয়েছি।
[১২৬] আবু সাঈদ খুদরি রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, জান্নাতে একটি পাখি রয়েছে তার সত্তর হাজার পালক থাকবে। পাখিটি এসে জান্নাতবাসীদের সম্মুখে পড়বে। অতঃপর সে পাখি নিজ শরীর নাড়া দিবে, ফলে প্রতিপালক থেকে বিভিন্ন রংয়ের গোশত খসে পড়বে, যা বরফের চেয়েও অধিক শুভ্র, মাখনের চেয়েও অধিক নরম, মধুর চেয়েও অধিক মিষ্টি হবে। তার কোনোটি অপরটির সাথে সাদৃশ্য থাকবে না। অতঃপর সে পাখিটি দিগন্তে আবার উড়ে যাবে।
[১২৭] সালিহ ইবনু মালিক রাহিমাহুমাল্লাহু বলেন-নিম্নস্তরের সকল জান্নাতীদের জন্য একটি সম্মাননা এই হবে যে, প্রতিজনের দায়িত্বে দশ হাজার খাদেম নিয়োজিত থাকবে, প্রতি খাদেমের সাথে দু'টি পাত্র থাকবে, একটি স্বর্ণের অপরটি রূপার। প্রতি পাত্রেই এমন জিনিস থাকবে যার সদৃশ অন্যটিতে নেই। তারা তার শুরু অংশ থেকে যেভাবে আহার করবে শেষ অংশ থেকেও সেভাবেই আহার করবে। শেষ অংশের স্বাদ উপভোগ শুরু অংশের ন্যায় হবে না [প্রতি স্থানের স্বাদ হবে ভিন্ন ভিন্ন।] অতঃপর তা কস্তুরীর ঘাম ও কস্তুরীর ঢেকুর হবে।
[১২৮] সালিম ইবনু আমের রাহিমাহুল্লাহু বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবাগণ বলতেন—আল্লাহ তাআলা আরবের বেদুঈন ও তাদের জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে আমাদেরকে অনেক উপকৃত করেছেন। তিনি বলেন, একদিন এক বেদুঈন এসে বলল-ইয়া রাসুলুল্লাহ! আল্লাহ তাআলা জান্নাতে কষ্টদায়ক বৃক্ষের কথা আলোচনা করেছেন আর আমি তো জান্নাতে এমন কোনো বৃক্ষ দেখছি না, যা জান্নাতবাসীদেরকে কষ্ট দিবে, তাহলে সে কষ্টদায়ক জিনিসটি কী?

জবাবে তিনি বললেন-তা হল বদরিকা বৃক্ষ, যাতে কষ্টদায়ক কাঁটা রয়েছে। তিনি আরো বলেন, তুমি কি শোননি আল্লাহ তাআলার বাণী: فِي سِدْرٍ مَّخْضُودٍ তারা থাকবে কাঁটাবিহীন বদরিকা বৃক্ষে। আল্লাহ তাআলা সে বৃক্ষের কাঁটা দূর করে প্রতি কাঁটার স্থলে ফল দিবেন। সে ফলে বাহাত্তর ধরণের রং ও স্বাদ হবে; যার একটির স্বাদ অন্যটির সদৃশ হবে না।
[১২৯] আবু উমামা আল-বাহিলী বলেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন—সাহাবাগণ বলতেন, আল্লাহ তাআলা আরবের বেদুঈন ও তাদের জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে আমাদেরকে অনেক উপকৃত করেছেন। তিনি বলেন, একদিন এক বেদুঈন এসে বলল-ইয়া রাসুলুল্লাহ! আল্লাহ তাআলা জান্নাতে কষ্টদায়ক বৃক্ষের কথা আলোচনা করেছেন আর আমি তো জান্নাতে এমন কোন বৃক্ষ দেখছি না, যা জান্নাতবাসীদেরকে কষ্ট দিবে, তাহলে সে কষ্টদায়ক জিনিসটি কী?

জবাবে তিনি বললেন—তা হল বদরিকা বৃক্ষ, যাতে কষ্টদায়ক কাঁটা রয়েছে। তিনি আরো বলেন, তুমি কি শোননি আল্লাহ তাআলার বাণী: فِي سِدْرٍ مَّخْضُودٍ তারা থাকবে কাঁটাবিহীন বদরিকা বৃক্ষে। আল্লাহ তাআলা সে বৃক্ষের কাঁটা দূর করে প্রতি কাঁটার স্থলে ফল দিবেন। সে ফলে বাহাত্তর ধরণের রং ও স্বাদ হবে; যার একটির স্বাদ অন্যটির সদৃশ হবে না।

টিকাঃ
[১২৫] সিফাতুল জান্নাহ, আবু নুআইম: ৩৩৫।
[১২৬] সিফাতুল জান্নাহ, আবু নুআইম: ৩৪১
[১২৭] আয যুহদ, ইবনুল মুবারক: ২৬৮।
[১২৮] সিফাতুল জান্নাহ, আবু নুআইম: ৫৭৬
[১২৯] আয যুহদ, হান্নাদ: ১১৯১।
[**] এ হাদিসের সনদটি হাসান।
[***] সুরা আল ওয়াকিয়া: ২৮।

ফন্ট সাইজ
15px
17px