📘 ওপারের সুখগুলো 📄 রবের সাথে বান্দারা জান্নাতে খুব কাছ থেকে কথা বলবে

📄 রবের সাথে বান্দারা জান্নাতে খুব কাছ থেকে কথা বলবে


[১০১] জাবির ইবনু আবদুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আমরা এক পূর্ণিমার রাতে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছেই ছিলাম, তিনি হঠাৎ চাঁদের দিকে তাকালেন, ফَقَالَ إِنَّكُمْ سَتَرَوْنَ رَبَّكُمْ كَمَا تَرَوْنَ هَذَا الْقَمَرَ لَا تُضَامُّونَ فِي رُؤْيَتِهِ فَإِنْ اسْتَطَعْتُمْ أَنْ لَا تُغْلَبُوا عَلَى صَلَاةٍ قَبْلَ طُلُوعِ الشَّمْسِ وَقَبْلَ غُرُوبِهَا فَافْعَلُوا ثُمَّ قَرَأَ { وَسَبِّحْ بِحَمْدِ رَبِّكَ قَبْلَ طُلُوعِ الشَّمْسِ وَقَبْلَ الْغُرُুবী } তারপর বললেন-তোমরা যেভাবে চাঁদ দেখছ এবং দেখতে কোনো সমস্যা হচ্ছে না, ঠিক এমনিভাবে তোমরা তোমাদের রবকে দেখতে পারবে। যদি তোমরা এই নিয়ামত থেকে বঞ্চিত না হতে চাও, তাহলে ফজর এবং আসরের নামাজ পড়ো। তারপর এই আয়াত তিলাওয়াত করলেন 'এবং সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের পূর্বে আপনার পালনকর্তার প্রশংসা ও পবিত্রতা ঘোষণা করুন (ফজর ও আসরের নামাজ পড়ুন)।' [সুরা কফ : ৩৯]১০৩
[১০২] আবু সাঈদ খুদরি রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-আল্লাহ জান্নাতবাসীদেরকে লক্ষ্য করে বলবেন-হে জান্নাতবাসীগণ, তারা বলবে, হে রব! আমরা হাযির, আপনার দরবারে উপস্থিত। আল্লাহ তাআলা বলবেন, তোমরা কি সন্তুষ্ট হয়েছ? তারা বলবে, কেন সন্তুষ্ট হব না, আপনি আমাদেরকে এমন বস্তু দান করেছেন; যা আপনার সৃষ্টি জগতের কাউকেই দান করেননি। তিনি বলবেন, আমি এর চেয়ে উত্তম বস্তু তোমাদেরকে দান করব। তারা বলবে-হে রব, এর চেয়েও উত্তম সেটি কোন বস্তু? আল্লাহ বলবেন-তোমাদের উপর আমি আমার সন্তুষ্ট অবধারিত করব। অতঃপর আমি আর কখনো তোমাদের উপর অসন্তুষ্ট হব না। ১০৪
[১০৩] জাবির ইবনু আব্দিল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আল্লাহ তাআলা জান্নাতবাসীদের নিকট একজন ঘোষক প্রেরণ করবেন, সে জান্নাতবাসীদেরকে উঁচু আওয়াজে বলবে-হে স্থায়ী রাজ্যের অধিকারী, সুখ স্বাচ্ছন্দ্যে অবস্থানকারী, চিরস্থায়ী জীবনের অধিকারী! তোমরা সকলে সমবেত হও। সকলে সমবেত হলে সে বলবে-তোমাদের রব জিজ্ঞাসা করেছেন, তোমরা কি তার প্রতি সন্তুষ্ট? তারা সকলে বলবে, হে রব, আপনি পুত পবিত্র; আমরা আমাদের রবের প্রতি পূর্ণরূপে সন্তুষ্ট। সে ঘোষক বলবে, হে জান্নাতবাসী! তোমাদের রব জিজ্ঞাসা করেছেন-তোমাদের কোন প্রয়োজন আছে কি না? তারা বলবে, হে রব, আপনি অতি পুত-পবিত্র, আমাদের রব আমাদেরকে সকল বস্তুই দান করেছেন। সে আবার বলবে, হে জান্নাতবাসী, তোমাদের রব বলেছেন, অচিরেই এর চেয়ে উত্তম বস্তু তিনি তোমাদেরকে দান করবেন। তারা বলবে, আমাদের রব পুত-পবিত্র। তিনি আমাদেরকে যা দিয়েছেন এর চেয়ে উত্তম বস্তু আর কি হতে পারে? সে বলবে, তোমাদের রব বলেছেন-তোমাদের উপর আমি আমার সন্তুষ্ট অবধারিত করব; আর আমার সন্তুষ্টই অতি উৎকৃষ্ট ও উত্তম বস্তু। জান্নাতবাসীরা এটাকে অনেক বড় পুরস্কার মনে করবে। অতঃপর প্রত্যেক বস্তুকেই বহুগুণে বৃদ্ধি করে দেয়া হবে।
[১০৪] সুহাইব রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বর্ণনা করেছেন, إِذَا دَخَلَ أَهْلُ الْجَنَّةِ الْجَنَّةَ قَالَ يَقُولُ اللَّهُ تَبَارَكَ وَتَعَالَى تُرِيدُونَ شَيْئًا أَزِيدُكُمْ فَيَقُولُونَ أَلَمْ تُبَيِّضُ وُجُوهَنَا أَلَمْ تُدْخِلْنَا الْجَنَّةَ وَتُنَجِّنَا مِنَ النَّارِ قَالَ فَيَكْشِفُ الْحِجَابَ فَمَا অুয়াতু আশয়আন আহাব্বা ইলাইহিম মিনান নাযারি ইলা রব্বিহিম আয্যা ওয়া জাল্লা. যখন জান্নাতীরা জান্নাতে প্রবেশ করবে, আল্লাহ তাআলা বলবেন, তোমরা কিছু চাও-যা আমি বাড়িয়ে দেব? তারা বলবে, আপনি কি আমাদের মুখাবয়ব শুভ্র করে দেননি? আমাদেরকে কি জান্নাতে প্রবেশ করাননি? জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেননি? রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন-তখন আল্লাহ তাআলা (নিজের ও জান্নাতীদের মাঝ থেকে) পর্দা সরিয়ে দেবেন। (তখন তারা আল্লাহর দিদার লাভে ধন্য হবে।) জান্নাতীদেরকে আল্লাহর দিদারের চেয়ে প্রিয় কোনো বস্তু প্রদান করা হয়নি।১০৫

টিকাঃ
[১০৩] সহিহ বুখারি: ৫২১; সহিহ মুসলিম: ১০০২।
[১০৪] সহিহ বুখারি: ৬০৬৭১।
[১০৫] সহিহ মুসলিম: ২৬৬১।

📘 ওপারের সুখগুলো 📄 সেদিন জান্নাতীদের জন্য রবের পক্ষ থেকে সালাম দেওয়া হবে

📄 সেদিন জান্নাতীদের জন্য রবের পক্ষ থেকে সালাম দেওয়া হবে


[১০৫] নযর ইবনু আরাবি রাহিমাহুল্লাহু বলেন, জিবরিল আলাইহিস সালাম জান্নাতবাসীদের নিকট এসে ইয়াকুত পাথরসমূহ থেকে একটি পাথরে দাঁড়িয়ে বলবেন-হে জান্নাতবাসীগণ! তোমাদের রব তোমাদেরকে সালাম জানিয়েছেন এবং তোমাদেরকে স্বাধীনতা দিয়েছেন তোমরা যে কোন অলংকার ও কাপড় দিয়ে সজ্জিত হতে পার। তারা তাকে বলবে, আমাদের রবকেও আমাদের পক্ষ থেকে সালাম পৌঁছিয়ে দিও এবং আল্লাহ তাআলাকে জানিয়ে দিও, আমরা তার পুরস্কারের উপর সন্তুষ্ট; আর আমরা একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টই কামনা করি।১০৬
[১০৬] শাকিক ইবনু সাউর রাহিমাহুল্লাহু বলেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, أَيُّ نَعِيمِ أَهْلِ الْجَنَّةِ أَفْضَلُ؟ قَالُوا: اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَمُ، قَالَ: النَّظَرُ إِلَى ذِي الْعِزَّةِ জান্নাতবাসীদের নিয়ামতসমূহ থেকে কোন নিয়ামতটি অধিক উত্তম? সাহাবারা রাদিয়াল্লাহু আনহুম বলল-আল্লাহ ও তার রাসুলই অধিক ভাল জানেন। তিনি বললেন-সম্মানের অধিকারী আল্লাহ তাআলার দর্শন লাভ করা।১০৭

টিকাঃ
[১০৬] মুরসাল, হাসান।
[১০৭] মুরসাল। মাযমাউয যাওয়ায়েদ।

📘 ওপারের সুখগুলো 📄 দিদারে রাব্ব

📄 দিদারে রাব্ব


[১০৭] আবু সাঈদ খুদরি রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-'জান্নাতী লোকদেরকে লক্ষ্য করে আল্লাহ তাআলা বলবেন, হে জান্নাতীগণ! তারা বলবে, হে আমাদের পালনকর্তা! আমরা আপনার আনুগত্যের জন্য উপস্থিত আছি। যাবতীয় কল্যাণ আপনারই হাতে। তারপর তিনি বলবেন, তোমরা কি সন্তুষ্ট হয়েছো? তারা জবাব দিবে, হে আমাদের রব! কেন আমরা সন্তুষ্ট হব না? অথচ আপনি আমাদেরকে এমন বস্তু দান করেছেন যা আপনার সৃষ্টিজগতের অন্য কাউকে দান করেননি। তিনি বলবেন, আমি কি তোমাদেরকে এর থেকে উত্তম বস্তু দান করব না? তারা বলবে, হে পালনকর্তা! এর চাইতে উত্তম বস্তু আর কি হতে পারে? এরপর আল্লাহ বলবেন, আমি তোমাদের উপর আমার সন্তুষ্টি নাযিল করব। অতঃপর তোমাদের উপর আমি আর কক্ষনো অসন্তুষ্ট হব না।'১০৮
[১০৮] আনাস ইবনু মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আমি রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন-একদিন জিবরিল তার হাতে শুভ্র আয়নার ন্যায় একটি সাদা আয়না নিয়ে আমার নিকট এসেছিল, তাতে কালো একটি ফোঁটা ছিল। আমি জিজ্ঞাসা করলাম, আপনার হাতে এটা কি? সে বলল, জুমআ। আমি বললাম, জুমআ কি? সে বলল, তাতে তোমাদের কল্যাণ রয়েছে। আমি বললাম, তাতে আমাদের কি কল্যাণ রয়েছে? সে বলল, এটা আপনার জন্য ঈদের দিন এবং আপনার পরবর্তীতে আপনার উম্মতের জন্যও ঈদের দিন। ইহুদি নাসারাগণও আপনার অনুগত হবে। (অর্থাৎ ইহুদি খ্রিষ্টানদের সাপ্তাহিক ঈদের দিন আপনার ঈদের দিনের পরে) তোমাদের জন্য তাতে এমন একটি মুহূর্ত রয়েছে সে সময়ে বান্দা আল্লাহ তাআলার নিকট যে কোন কল্যাণ প্রার্থনা করবে, তবে অবশ্যই তিনি তা দান করবেন। এর মাধ্যমে যে পানাহ চাইবে, যে অনিষ্ট তার ভাগ্যে লিখা রয়েছে তার চেয়েও বড় অনিষ্ট ও বিপদাপদ থেকে তিনি তাকে নিষ্কৃতি দান করবেন। তিনি বললেন, এ দিনটি আমাদের নিকট সকল দিনের সরদার; আমরা তার নাম রেখেছি, 'ইয়াওমুল মাযিদ ও ইয়াওমুল কিয়ামাহ।'
তিনি বলেন, (ইয়াওমুল মাযিদ) এটি কেন জানো? কেননা পবিত্র ও মহিমান্বিত রব জান্নাতে একটি উপত্যকা বানিয়েছেন। (অর্থাৎ প্রশস্ত ময়দান তৈরী করেছেন) সেখানে তিনি সাদা মশকের স্তুপ রেখেছেন, যখন জুমআর দিন হয়, তিনি তাঁর কুরসী অথবা ইল্লিয়্যিন থেকে তাঁর কুরসীতে অবতরণ করেন। কুরসীটিকে স্বর্ণের মিম্বার দিয়ে বেষ্টন করে দেয়া হয়, যাতে মণিমুক্তা খচিত থাকে। সেখানে নবিদের জন্যও স্বর্ণের মিম্বার রাখা হবে, তারা এসে সেখানে উপবেশন করবেন, তাদের আসনগুলোও নূর দিয়ে বেষ্টন করে দেয়া হবে। এরপরে সিদ্দিক ও শহীদগণও এসে তাদের আসনে উপবেশন করবেন। অতঃপর বালাখানার অধিবাসীগণও মিশকের স্তুপের উপর আসন গ্রহণ করবেন।
এর কিছুক্ষণ পর তাদের সামনে নিজের নূরের তাজাল্লি প্রকাশ করে বলবেন- আমিই সেই যে তোমাদের প্রতি দেয়া অঙ্গিকার সত্যে পরিণত করেছি ও তোমাদের প্রতি আমার অবদান সম্পূর্ণ করে দিয়েছি। এটা আমার মহানুভবতার স্থান সুতরাং তোমাদের যা ইচ্ছা আমার কাছে চাও। তারা আল্লাহর কাছে তাঁর সন্তুষ্ট চাইবে। তিনি তাদেরকে সাক্ষ্য রেখে বলবেন, নিশ্চয় আমি তোমাদের উপর সন্তুষ্ট হয়েছি। অতঃপর তারা তাদের সবকিছু চেয়ে ফেলবে; চাওয়ার মত আর কোন জিনিস খুঁজে পাবে না। এরপরে আল্লাহ তাআলা তাদের জন্য জান্নাতে যা প্রস্তুত করে রেখেছে, তাদেরকে তা দেখাবেন। জান্নাতের সুখ এবং বিভিন্ন রকম শান্তি দেখে তারা অবাক হয়ে যাবে। জান্নাত তো এমন, যা কোন মানুষের কল্পানাতে আসেনি, কোন কানও শ্রবণ করেনি, কোন চোখও তার দর্শন লাভ করেনি। আল্লাহ তাআলা জান্নাতীদের মনকে খুশি করার পর তাঁর করসী থেকে উঠবেন এবং তাঁর সাথে নবিগণ সিদ্দিকগণ ও শহীদগণও উঠবেন। বালাখানার অধিবাসীরাও তাদের বালাখানায় ফিরে যাবে। ১০৯

টিকাঃ
[১০৮] সহিহ মুসলিম: ৭০৩২।
[১০৯] আল মুসান্নাফ, ইবনু আবি শায়বা: ২/২৫০।

📘 ওপারের সুখগুলো 📄 জুমআর ফযিলত

📄 জুমআর ফযিলত


[১০৯] আনাস ইবনু মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-একদিন জিবরিল তার হাতে শুভ্র আয়নার ন্যায় একটি সাদা আয়না নিয়ে আমার নিকট এসেছিল, তাতে কালো একটি ফোঁটা ছিল।১১০
[১১০] আব্দুল্লাহ ইবনু মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, তোমরা দ্রুত জুমআর দিকে ছুটে যাও, কেননা আল্লাহ তাআলা প্রতি জুমআয় জান্নাতবাসীদেরকে কর্পূরের সাদা (বস্তুটি) একটি উঁচু স্থানে প্রকাশ করেন। তাদের মর্যাদা বৃদ্ধি করে দিবেন যা ইতিপূর্বে কখনো হয়নি।১১১
[১১১] আল্লাহ তাআলার বাণী: وَلَدَيْنَا مَزِيدٌ আর আমার কাছে রয়েছে আরও অধিক।১১২ এ আয়াত প্রসঙ্গে আনাস ইবনু মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আল্লাহ তাআলা জান্নাতবাসীদের সামনে প্রতি জুমআয় নিজ নুরের তাজাল্লি প্রকাশ করবেন।

টিকাঃ
[১১০] আল মুসান্নাফ, ইবনু আবি শায়বা: ২/২৫১।
[১১১] আয যুহদ, ইবনুল মুবারক: ৫৪।
[১১২] সুরা কফ: ৩৫।

ফন্ট সাইজ
15px
17px